📄 বান্দার মনে শয়তান সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে, যাতে তার প্রীতি ও প্রবৃত্তি আছে
এ মর্মে ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, "শয়তান আদম সন্তানের রক্ত-শিরায় প্রবাহিত হয়। পরিশেষে তার মনে উপস্থিত হয়ে তাতে মিলিত হয় এবং তা কী ভালোবাসে ও প্রাধান্য দেয়, সে কথা জেনে নেয়। অতঃপর যদি সে জানতে পারে, তাহলে বান্দার বিরুদ্ধে তার সাহায্য নেয়। তার অভ্যন্তরে তার দরজা দিয়ে প্রবেশ করে। অনুরূপই সে তার মানুষরূপী ভাই-বন্ধুদেরকে শিখিয়ে দেয়। তাই যখন তারা একে অন্যের নিকট কোন অসৎ অভিপ্রায় হাসিল করতে চায়, তাহলে সে তার সেই দরজা দিয়েই প্রবেশ করে, যাতে সে দুর্বল, যা সে অত্যধিক ভালোবাসে এবং যাতে তার নেশা আছে। কারণ সেটা এমন এক দরজা, যা দিয়ে কেউ প্রবেশ করলে নিজের প্রয়োজন অপূরণ থাকে না। পক্ষান্তরে যে অন্য দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে, সে তা বন্ধ পাবে এবং অভীষ্টলাভে ব্যর্থ হবে।”²⁵³
এই দরজা দিয়েই শয়তান আদি পিতামাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِن سَوْءَاتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَا كُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلا أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ
"অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল, তা প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল, 'পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হও, এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।”²⁵⁴ ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) বলেন, "আল্লাহর দুশমন পিতামাতার গতিবিধি লক্ষ্য করল এবং অনুভব করল যে, তাঁদের মধ্যে জান্নাতের গৃহে অনন্ত সুখসামগ্রীতে আকর্ষণ ও প্রীতি রয়েছে। তাই সে জেনে নিল যে, ঐ দরজাই তার একমাত্র প্রবেশপথ। সুতরাং সে তাঁদেরকে কসম খেয়ে বলল, সে তাঁদের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। অতঃপর বলল, 'পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হও, এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।'
টিকাঃ
২৫৩. ইগাষাতুল লাহফান ১/১৩২
২৫৪. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:২০
📄 সন্দেহ ও সংশয় प्रक्षेপ
শয়তানের বিভ্রান্তকারী পদ্ধতিসমূহের একটি এই যে, সে মানুষের মনে নানা সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি করে এবং তাকে আকীদা সম্বন্ধে সন্দিহান করে তোলে। আর আকীদা হল মানুষের প্রধান বিষয়, যা নষ্ট হলে তার আমল-আখলাকও বিফল। নবী এই শ্রেণীর শয়তানী সন্দেহ থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন,
يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ كَذَا مَنْ خَلَقَ كَذَا حَتَّى يَقُولَ مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ
“তোমাদের কারো কাছে শয়তান এসে বলে, 'এটা কে সৃষ্টি করেছে, ওটা কে সৃষ্টি করেছে?' পরিশেষে সে তাকে বলে, 'তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে?' সুতরাং এ পর্যন্ত পৌঁছলে সে যেন আল্লাহর কাছে (শয়তান থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং (এমন কুচিন্তা থেকে) বিরত হয়।”²⁵⁵
সাহাবাগণও এমন সন্দেহ ও সংশয় থেকে রেহাই পাননি। তাঁদের অনেকেই এই শ্রেণীর সংশয়ের অভিযোগ নিয়ে নবী এর কাছে এসেছেন। তাঁরা বলেছেন, 'আমরা আমাদের মনে এমন কথা অনুভব করি, যা আমাদের কেউ তা মুখে উচ্চারণ করতে বিশাল মনে করে! তিনি বললেন, "তোমরা কি সত্যই তা অনুভব কর?" তাঁরা বললেন, 'জী হ্যাঁ।' তিনি বললেন,
ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ
“এটা তো স্পষ্ট ঈমান।”²⁵⁶
অর্থাৎ, তাদের শয়তানী কুমন্ত্রণা প্রতিহত করা এবং তা মনে বিশাল জানাই হল স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ ঈমানের পরিচায়ক।
অনুরূপ এক সাহাবী এসে অভিযোগ করলেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ তার মনে এমন জঘন্য কল্পনা পায়, যা মুখে উচ্চারণ করার চাইতে কয়লা হয়ে যাওয়া তার নিকট অধিক পছন্দনীয়।' তিনি বললেন,
اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ للهِ الَّذِي رَدَّ كَيْدَهُ إِلَى الْوَسْوَسَةِ
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি তার (শয়তানের) চক্রান্তকে কুমন্ত্রণায় পরিণত করে প্রতিহত করেছেন। ²⁵⁷
এই শ্রেণীর সংশয় প্রক্ষেপ নবীদের মনেও ঘটেছে। কিন্তু মহান আল্লাহ তা প্রতিহত করেছেন। তিনি বলেছেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيَّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنسَخُ اللهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ - لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً لِّلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ - وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
"আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। এটা এ জন্য যে, শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি তা পরীক্ষা স্বরূপ করেন তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা পাষাণ-হৃদয়। নিশ্চয় অত্যাচারীরা চরম বিরোধিতায় রয়েছে। আর এ জন্যেও যে, যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা যেন জানতে পারে যে, এটা তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত সত্য; অতঃপর তারা যেন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর যেন তার প্রতি অনুগত হয়। যারা বিশ্বাস করেছে তাদেরকে আল্লাহ অবশ্যই সরল পথে পরিচালিত করেন। "²⁵⁸
এখানে আকাঙ্ক্ষা বলতে মনের কথা। উদ্দেশ্য, নবী যখন মনে মনে কোন কথা বলতেন, তখন শয়তান ছলনার সাথে তাঁর কথায় কিছু প্রক্ষেপ করত। যেমন, 'যদি আল্লাহর কাছে চাইতে, তিনি তোমাকে গনীমতের মাল দান করতেন, ফলে মুসলিমরা সচ্ছল হতো।' অথবা 'যদি পৃথিবীর সকল লোক ঈমান আনয়ন করত।' কিন্তু শয়তান কুমন্ত্রণা দ্বারা যা তাঁর আকাঙ্ক্ষায় প্রক্ষিপ্ত করত, মহান আল্লাহ তাঁকে হকের প্রতি সতর্ক করে এবং নিজ উদ্দেশ্যের প্রতি অবহিত করে তা বিদূরিত করতেন।
পক্ষান্তরে যারা বলেছে যে, শয়তান কুরআনের মধ্যে তা ভরে দিয়েছে, যা তার অংশ নয়, তারা সত্য ও বাস্তবতা থেকে বহু দূরে। সে ধারণা খন্ডন করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, নবী আল্লাহর অহীর প্রচারে নির্ভুল ছিলেন।
মানুষের মনে শয়তান কোন্ শ্রেণীর সংশয় প্রক্ষেপ করে, তার ব্যাপারে শাক্বীক্ব বালখী বলেছেন, 'প্রত্যহ সকালে শয়তান আমার জন্য চারটি ঘাঁটিতে বসে থাকে; আমার সামনে, পিছনে, ডানে ও বামে।
সুতরাং সে যখন আমার সামনের দিকে এসে বলে, 'ভয় করো না। আল্লাহ তো মহা ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।' তখন আমি পড়ি,
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى
অর্থাৎ, নিশ্চয় আমি তার জন্য বড় ক্ষমাশীল যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকাজ করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে। ²⁵⁹
সে যখন আমার পিছন দিক থেকে এসে আমার ছেড়ে যাওয়া পরিবার- পরিজনের (না খেতে পেয়ে) নষ্ট হওয়ার ভয় দেখায়, তখন আমি পড়ি,
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا
অর্থাৎ, আর ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী কোন এমন প্রাণী নেই যে, তার রুযী আল্লাহর দায়িত্বে নেই। ²⁶⁰
সে যখন আমার ডান দিকে এসে নারী (অথবা সুনাম) এর মাধ্যমে ফিতনায় ফেলতে চায়, তখন আমি পড়ি,
وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থাৎ, পরহেযগারদের জন্যই তো শুভ পরিণাম!' ²⁶¹
আর সে যখন আমার বাম দিকে এসে ইন্দ্রিয় বাসনার মাধ্যমে আমার পদস্খলন ঘটাতে চায়, তখন আমি পড়ি,
وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ
অর্থাৎ, এদের এবং এদের কামনার মধ্যে অন্তরাল সৃষ্টি করা হয়েছে। ²⁶²
টিকাঃ
২৫৫. বুখারী ইফা, হা/৩০৪৩, আপ্র. হা/৩০৩৪, তাও. হা/৩২৭৬, মুসলিম মাশা. হা/৩৬২
২৫৬. মুসলিম মাশা. হা/৩৫৭
২৫৭. আবু দাউদ আলএ. হা/৫১১৪
২৫৮. সূরা হাজ্জ-২২: ৫২-৫৪
২৫৯. সূরা ত্বহা-২০:৮২
২৬০. সূরা হুদ-১১:৬
২৬১. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:১২৮
২৬২. সূরা সাবা-৩৪:৫৪, ইগাষাতুল লাহফান ১/১০৪
📄 মদ
মানুষকে ভ্রষ্ট করার শয়তানের অসীলাসমূহের মধ্যে উক্ত চারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ খবর দিয়েছেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা। তিনি বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلٍ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ - إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ
“হে মু'মিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাযে বাধা দিতে চায়! অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না?”²⁶³
* মদ : প্রত্যেক মাদকদ্রব্য, যার ব্যবহারে মাদকতা ও নেশা সৃষ্টি হয়।
* জুয়া: বাজি, যাতে এক পক্ষের লাভ ও অপর পক্ষের ক্ষতি থাকে।
মূর্তিপূজার বেদী: সে মূর্তি মাটির উপরে থাক অথবা ভিতরে। যা আল্লাহ ব্যতিরেকে তার ইবাদত, উপাসনা বা পূজার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; চাহে তা পাথর হোক অথবা গাছ, প্রতিমা, কবর বা পতাকা।
ভাগ্যনির্ণায়ক শর: যে তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা হয়; ফালকাঠি, ফালনামা ইত্যাদি।
শয়তান উক্ত চার প্রকার জিনিসের মাধ্যমে মানুষকে ভ্রষ্ট করে থাকে। পরন্তু এ জিনিসগুলি এমনিতেই ভ্রষ্টকারী। যেহেতু এগুলির পরিণাম বড় অশুভ ও ক্ষতিকর, এগুলির প্রভাব বড় মন্দ।
মাদকদ্রব্য সেবন করলে মানুষ জ্ঞানশূন্য হয়। আর জ্ঞানশূন্য হলে মহাপাপ ঘটে, নিষিদ্ধ কর্ম কৃত হয়, সৎকর্ম বর্জিত হয় এবং আল্লাহর বান্দাগণকে কষ্ট দেওয়া হয়। এ কথা নবী বলেছেন-
الخَمْرُ أُمُّ الخَبَائِثِ
"মাদকদ্রব্য সকল জঘন্য কর্মের মা।”²⁶⁴
তিনি আরো বলেছেন, “তোমরা মদ পান করো না, কারণ মদ হল প্রত্যেক অমঙ্গলের (পাপাচারের) চাবিকাঠি।”²⁶⁵
উষমান বিন আফফান (রাঃ) বলেছেন, “তোমরা মদ থেকে দূরে থাকো। কারণ তা হল সকল নোংরা কাজের প্রধান। তোমাদের পূর্বযুগে একটি লোক ছিল, যে সর্বদা আল্লাহর ইবাদত করত এবং লোকজন থেকে দূরে থাকত। এক ভ্রষ্ট মেয়ে তাকে ভালোবেসে ফেলল। সে এক সময় তার দাসী দ্বারা কোন ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়ার নাম করে তাকে ডেকে পাঠাল। সে দাসীর সাথে এসে তার বাড়িতে প্রবেশ করল। এক একটা দরজা পার হতে তা বন্ধ করা হল। অবশেষে এক সুন্দরী মহিলার নিকট পৌঁছল। তার সাথে ছিল একটি কিশোর ও মদের পাত্র।
মেয়েটি বলল, 'আমি আসলে তোমাকে কোন সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠাইনি। আমি তোমাকে ডেকেছি আমার সাথে মিলন করার জন্য অথবা এই কিশোরকে খুন করার জন্য অথবা এই মদ পান করার জন্য। তাতে যদি তুমি অস্বীকার কর, তাহলে আমি চিৎকার করে তোমার নামে অপবাদ দিয়ে তোমাকে লাঞ্ছিত করব।'
সুতরাং সে যখন নিরুপায় অবস্থা দেখল, তখন মদপানকে হাল্কা মনে করল। বলল, 'ঠিক আছে, আমাকে এক গ্লাস মদ দাও।' সে তা পান করল। কিন্তু সে দ্বিতীয় গ্লাস চাইল। অতঃপর নেশায় চুর হলে সে মেয়েটির সাথে ব্যভিচার করল এবং সবশেষে কিশোরটিকেও খুন করে বসল।
সুতরাং তোমরা মদপান থেকে দূরে থাকো। যেহেতু বান্দার মধ্যে মদ ও ঈমান কখনই একত্র হতে পারে না। আর হলে অদূর ভবিষ্যতে একটি তার সঙ্গীকে বহিষ্কার করে দেয়।”²⁶⁶
এক আনসারী কিছু সাহাবীর জন্য খাবার প্রস্তুত করলেন। মদ হারাম হওয়ার আগে তাদেরকে মদও খেতে দিলেন। সুতরাং তাঁরা মদ খেয়ে আপোসে গর্ব করতে লাগলেন। পরিশেষে মারামারিও শুরু হয়ে গেল। তাঁদের একজন সা'দ বিন আবী অক্কাস নাকে আঘাতপ্রাপ্ত হলেন। ²⁶⁷
এক সাহাবী মদ হারাম হওয়ার পূর্বে মদ পান করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ইমামতি করছিলেন। সূরা পড়ার সময় পড়লেন,
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
অর্থাৎ, বল হে কাফেরদল! আমি তার পূজা করি, যার পূজা তোমরা কর! এরই প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হল,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশার অবস্থায় স্বলাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা কী বলছ, তা বুঝতে পার।”²⁶⁸
ব্যক্তি, সাংসারিক ও সামাজিক জীবনে মদের অপকারিতা কারো অজানা নয়। শয়তানের কারসাজিতেই তার বাজার বড় রমরমা। ছোটলোক থেকে ভদ্রলোক পর্যন্ত নারী-পুরুষ তার বাজারে ভিড় জমিয়ে থাকে।
জুয়াও মদের মতো নেশাদার কর্ম। তাতে একবার কেউ নেশাগ্রস্ত হলে তাকে ছাড়ানো দুষ্কর। তাতে মানুষের সময় ও অর্থ লুঠ হয়। সৃষ্টি হয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঝে হিংসা, বিদ্বেষ ও হানাহানি।
টিকাঃ
২৬৩. সূরা মায়িদাহ-৫:৯০-৯১
২৬৪. ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৩৬৬৭, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা. হা/৩৩৪৪
২৬৫. ইবনে মাজাহ তাও. হা/৩০৪৩, ইবনে মাজাহ তাও. হা/৩২৫৯
২৬৬. নাসাঈ মাথ, হা/৫৬৬৬, বাইহাক্বী ১৭১১৬
২৬৭. আদ-দুরুল মানসূর ৩/১৫৮
২৬৮. সূরা আন নিসা-৪:৪৩
📄 জুয়া
জুয়াও মদের মতো নেশাদার কর্ম। তাতে একবার কেউ নেশাগ্রস্ত হলে তাকে ছাড়ানো দুষ্কর। তাতে মানুষের সময় ও অর্থ লুঠ হয়। সৃষ্টি হয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঝে হিংসা, বিদ্বেষ ও হানাহানি।