📄 মানুষকে তার উপকারী জিনিস ভুলিয়ে দেওয়া
শয়তানের এটি একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সে আদম-সন্তানের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করে থাকে। কুমন্ত্রণার এমন প্রলেপ মানুষের মন ও মস্তিষ্কে লাগিয়ে থাকে, যার ফলে অনেক উপকারী জিনিস সে বিস্মৃত হয়। আদি পিতা আদম (আঃ) এর সাথে সে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিল। তার ফলে তিনি প্রতিপালকের নির্দেশ ভুলে গিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِن قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا
"আমি তো ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দান করেছিলাম। কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল; আমি তাকে দৃঢ়সংকল্প পাইনি।”²⁴⁶
মূসা (আঃ) ইল্ম অনুসন্ধানের সফর-সঙ্গী জরুরী কথা তাঁকে বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। তার পিছনে ছিল ঐ শয়তান। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءنَا لَقَدْ لَقِينَا مِن سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا - قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنسَانِيهُ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا
"যখন তারা আরো অগ্রসর হল, তখন মূসা তার সঙ্গীকে বলল, 'আমাদের নাস্তা আনো, আমরা তো আমাদের এই সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।' সে বলল, 'আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই ওর কথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল; মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।"²⁴⁷
ইউসুফ নবী কারাগারে ছিলেন। তাঁর কারাসঙ্গীদ্বয়ের একজন মুক্তি পেয়ে বাদশার খিদমত করবেন জানতে পেরে তিনি তাকে তাঁর কথা বাদশার কাছে উল্লেখ করতে বলেছিলেন। কিন্তু সে মুক্তি পেয়ে তাঁর কথা বলতেই ভুলে গেলেন। ফলে তিনি আরো অনেক বছর কারাগারেই থেকে গেলেন। এই বিস্মৃতির মূলে ছিল শয়তানের হাত। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَقَالَ لِلَّذِي ظَنَّ أَنَّهُ نَاجٍ مِّنْهُمَا اذْكُرْنِي عِندَ رَبِّكَ فَأَنسَاهُ الشَّيْطَانُ ذِكْرَ رَبِّهِ فَلَبِثَ فِي السِّجْنِ بِضْعَ سِنِينَ
"(ইউসুফ) তাদের মধ্যে যে মুক্তি পাবে মনে করল, তাকে বলল, 'তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলো।' কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে তার বিষয় বলবার কথা ভুলিয়ে দিল; সুতরাং (ইউসুফ) কয়েক বছর কারাগারে থেকে গেল।"²⁴⁸
মহান আল্লাহর নির্দেশ ভুলিয়ে দেয় শয়তান। শরীয়তের নির্দেশ ভুলে যায় মানুষ। তার পশ্চাতেও শয়তানের হাত থাকে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلاَ تَقْعُدُ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
"তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে সরে পড়; যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না।"²⁴⁹
পরন্তু শয়তান যখন কোন মানুষের মন ও মস্তিষ্কে পুরোপুরি আধিপত্য কায়েম করে নেয়, তখন সেখান হতে তার সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালকের স্মরণও মুছে ফেলে। মহান আল্লাহ মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেন,
اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَأَنسَاهُمْ ذِكْرَ اللَّهِ أُوْلَئِكَ حِزْبُ الشَّيْطَانِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُونَ
“শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করেছে, ফলে তাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে আল্লাহর স্মরণ। তারা হল শয়তানের দল। জেনে রেখো যে, নিশ্চয় শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।” ²⁵⁰
বিস্মৃতির ওষুধ হল স্মরণ হওয়ামাত্র আল্লাহর যিক্র করা। তিনি বলেছেন,
وَاذْكُر رَّبَّكَ إِذَا نَسِيتَ
“যখন ভুলে যাও, তখন তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করো।” ²⁵¹
টিকাঃ
২৪৬. সূরা ত্বহা-২০:১১৫
২৪৭. সূরা আল কাহাফ-১৮:৬২-৬৩
২৪৮. সূরা ইউসুফ-১২:৪২
২৪৯. সূরা আল আন'আম-৬:৬৮
২৫০. সূরা আল মুজাদালাহ-৫৮:১৯
২৫১. সূরা আল কাহাফ-১৮:২৪
📄 মু'মিনদেরকে তার বন্ধুবান্ধবের ভীতি-প্রদর্শন
শয়তানের বিভ্রান্ত করার একটি অসীলা হল, সে মু’মিনদেরকে তার বন্ধুবান্ধবের ভয় দেখায়। ফলে মু’মিনরা তাদের বিরুদ্ধে কোন সংগ্রাম করে না, তাদেরকে কোন সৎকার্যের আদেশ দেয় না এবং অসৎকার্যে নিষেধ করে না। হক কথা বলে না, সত্যের সমর্থন ও সাহায্য করে না। আর এ হল ঈমানদারদের প্রতি তার বিশাল চক্রান্ত। মহান আল্লাহ এ বিষয়ে মু’মিনদেরকে সতর্ক করে বলেছেন,
إِنَّمَا ذَلِكُمُ الشَّيْطَانُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءهُ فَلا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
“ঐ তো শয়তান; যে (তোমাদেরকে) তার (কাফের) বন্ধুদের ভয় দেখায়; সুতরাং যদি তোমরা মু’মিন হও, তাহলে তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় কর।” ²⁵²
অর্থাৎ, সে তার বন্ধুবান্ধবদের দ্বারা ভয় দেখায়। কাতাদাহ বলেছেন, ‘সে তার বন্ধুবান্ধবকে তোমাদের হৃদয়ে বড় করে দেখায়। এই জন্য মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
“সুতরাং যদি তোমরা মু’মিন হও, তাহলে তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় কর।" বলা বাহুল্য, বান্দার ঈমান যত শক্তিশালী হবে, তত তার বুক থেকে শয়তানের বন্ধুবান্ধবদের ভয় দূর হবে। আর তার ঈমান যত দুর্বল হবে, তাদের ভয় তত সবল হবে।
টিকাঃ
২৫২. সূরা আলে ইমরান-৩:১৭৫
📄 বান্দার মনে শয়তান সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করে, যাতে তার প্রীতি ও প্রবৃত্তি আছে
এ মর্মে ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, "শয়তান আদম সন্তানের রক্ত-শিরায় প্রবাহিত হয়। পরিশেষে তার মনে উপস্থিত হয়ে তাতে মিলিত হয় এবং তা কী ভালোবাসে ও প্রাধান্য দেয়, সে কথা জেনে নেয়। অতঃপর যদি সে জানতে পারে, তাহলে বান্দার বিরুদ্ধে তার সাহায্য নেয়। তার অভ্যন্তরে তার দরজা দিয়ে প্রবেশ করে। অনুরূপই সে তার মানুষরূপী ভাই-বন্ধুদেরকে শিখিয়ে দেয়। তাই যখন তারা একে অন্যের নিকট কোন অসৎ অভিপ্রায় হাসিল করতে চায়, তাহলে সে তার সেই দরজা দিয়েই প্রবেশ করে, যাতে সে দুর্বল, যা সে অত্যধিক ভালোবাসে এবং যাতে তার নেশা আছে। কারণ সেটা এমন এক দরজা, যা দিয়ে কেউ প্রবেশ করলে নিজের প্রয়োজন অপূরণ থাকে না। পক্ষান্তরে যে অন্য দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে, সে তা বন্ধ পাবে এবং অভীষ্টলাভে ব্যর্থ হবে।”²⁵³
এই দরজা দিয়েই শয়তান আদি পিতামাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِن سَوْءَاتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَا كُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلا أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ
"অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল, তা প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল, 'পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হও, এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।”²⁵⁴ ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) বলেন, "আল্লাহর দুশমন পিতামাতার গতিবিধি লক্ষ্য করল এবং অনুভব করল যে, তাঁদের মধ্যে জান্নাতের গৃহে অনন্ত সুখসামগ্রীতে আকর্ষণ ও প্রীতি রয়েছে। তাই সে জেনে নিল যে, ঐ দরজাই তার একমাত্র প্রবেশপথ। সুতরাং সে তাঁদেরকে কসম খেয়ে বলল, সে তাঁদের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। অতঃপর বলল, 'পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হও, এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।'
টিকাঃ
২৫৩. ইগাষাতুল লাহফান ১/১৩২
২৫৪. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:২০
📄 সন্দেহ ও সংশয় प्रक्षेপ
শয়তানের বিভ্রান্তকারী পদ্ধতিসমূহের একটি এই যে, সে মানুষের মনে নানা সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি করে এবং তাকে আকীদা সম্বন্ধে সন্দিহান করে তোলে। আর আকীদা হল মানুষের প্রধান বিষয়, যা নষ্ট হলে তার আমল-আখলাকও বিফল। নবী এই শ্রেণীর শয়তানী সন্দেহ থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন,
يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ كَذَا مَنْ خَلَقَ كَذَا حَتَّى يَقُولَ مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ
“তোমাদের কারো কাছে শয়তান এসে বলে, 'এটা কে সৃষ্টি করেছে, ওটা কে সৃষ্টি করেছে?' পরিশেষে সে তাকে বলে, 'তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে?' সুতরাং এ পর্যন্ত পৌঁছলে সে যেন আল্লাহর কাছে (শয়তান থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং (এমন কুচিন্তা থেকে) বিরত হয়।”²⁵⁵
সাহাবাগণও এমন সন্দেহ ও সংশয় থেকে রেহাই পাননি। তাঁদের অনেকেই এই শ্রেণীর সংশয়ের অভিযোগ নিয়ে নবী এর কাছে এসেছেন। তাঁরা বলেছেন, 'আমরা আমাদের মনে এমন কথা অনুভব করি, যা আমাদের কেউ তা মুখে উচ্চারণ করতে বিশাল মনে করে! তিনি বললেন, "তোমরা কি সত্যই তা অনুভব কর?" তাঁরা বললেন, 'জী হ্যাঁ।' তিনি বললেন,
ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ
“এটা তো স্পষ্ট ঈমান।”²⁵⁶
অর্থাৎ, তাদের শয়তানী কুমন্ত্রণা প্রতিহত করা এবং তা মনে বিশাল জানাই হল স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ ঈমানের পরিচায়ক।
অনুরূপ এক সাহাবী এসে অভিযোগ করলেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ তার মনে এমন জঘন্য কল্পনা পায়, যা মুখে উচ্চারণ করার চাইতে কয়লা হয়ে যাওয়া তার নিকট অধিক পছন্দনীয়।' তিনি বললেন,
اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ اللهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ للهِ الَّذِي رَدَّ كَيْدَهُ إِلَى الْوَسْوَسَةِ
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা যিনি তার (শয়তানের) চক্রান্তকে কুমন্ত্রণায় পরিণত করে প্রতিহত করেছেন। ²⁵⁷
এই শ্রেণীর সংশয় প্রক্ষেপ নবীদের মনেও ঘটেছে। কিন্তু মহান আল্লাহ তা প্রতিহত করেছেন। তিনি বলেছেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ وَلَا نَبِيَّ إِلَّا إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ فَيَنسَخُ اللهُ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ ثُمَّ يُحْكِمُ اللَّهُ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ - لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً لِّلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ - وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
"আমি তোমার পূর্বে যে সব রসূল কিংবা নবী প্রেরণ করেছি তাদের কেউ যখনই আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় কিছু প্রক্ষিপ্ত করেছে। কিন্তু শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে আল্লাহ তা বিদূরিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুদৃঢ় করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। এটা এ জন্য যে, শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি তা পরীক্ষা স্বরূপ করেন তাদের জন্য যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যারা পাষাণ-হৃদয়। নিশ্চয় অত্যাচারীরা চরম বিরোধিতায় রয়েছে। আর এ জন্যেও যে, যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা যেন জানতে পারে যে, এটা তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত সত্য; অতঃপর তারা যেন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর যেন তার প্রতি অনুগত হয়। যারা বিশ্বাস করেছে তাদেরকে আল্লাহ অবশ্যই সরল পথে পরিচালিত করেন। "²⁵⁸
এখানে আকাঙ্ক্ষা বলতে মনের কথা। উদ্দেশ্য, নবী যখন মনে মনে কোন কথা বলতেন, তখন শয়তান ছলনার সাথে তাঁর কথায় কিছু প্রক্ষেপ করত। যেমন, 'যদি আল্লাহর কাছে চাইতে, তিনি তোমাকে গনীমতের মাল দান করতেন, ফলে মুসলিমরা সচ্ছল হতো।' অথবা 'যদি পৃথিবীর সকল লোক ঈমান আনয়ন করত।' কিন্তু শয়তান কুমন্ত্রণা দ্বারা যা তাঁর আকাঙ্ক্ষায় প্রক্ষিপ্ত করত, মহান আল্লাহ তাঁকে হকের প্রতি সতর্ক করে এবং নিজ উদ্দেশ্যের প্রতি অবহিত করে তা বিদূরিত করতেন।
পক্ষান্তরে যারা বলেছে যে, শয়তান কুরআনের মধ্যে তা ভরে দিয়েছে, যা তার অংশ নয়, তারা সত্য ও বাস্তবতা থেকে বহু দূরে। সে ধারণা খন্ডন করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, নবী আল্লাহর অহীর প্রচারে নির্ভুল ছিলেন।
মানুষের মনে শয়তান কোন্ শ্রেণীর সংশয় প্রক্ষেপ করে, তার ব্যাপারে শাক্বীক্ব বালখী বলেছেন, 'প্রত্যহ সকালে শয়তান আমার জন্য চারটি ঘাঁটিতে বসে থাকে; আমার সামনে, পিছনে, ডানে ও বামে।
সুতরাং সে যখন আমার সামনের দিকে এসে বলে, 'ভয় করো না। আল্লাহ তো মহা ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।' তখন আমি পড়ি,
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى
অর্থাৎ, নিশ্চয় আমি তার জন্য বড় ক্ষমাশীল যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে, সৎকাজ করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে। ²⁵⁹
সে যখন আমার পিছন দিক থেকে এসে আমার ছেড়ে যাওয়া পরিবার- পরিজনের (না খেতে পেয়ে) নষ্ট হওয়ার ভয় দেখায়, তখন আমি পড়ি,
وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا
অর্থাৎ, আর ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী কোন এমন প্রাণী নেই যে, তার রুযী আল্লাহর দায়িত্বে নেই। ²⁶⁰
সে যখন আমার ডান দিকে এসে নারী (অথবা সুনাম) এর মাধ্যমে ফিতনায় ফেলতে চায়, তখন আমি পড়ি,
وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থাৎ, পরহেযগারদের জন্যই তো শুভ পরিণাম!' ²⁶¹
আর সে যখন আমার বাম দিকে এসে ইন্দ্রিয় বাসনার মাধ্যমে আমার পদস্খলন ঘটাতে চায়, তখন আমি পড়ি,
وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ
অর্থাৎ, এদের এবং এদের কামনার মধ্যে অন্তরাল সৃষ্টি করা হয়েছে। ²⁶²
টিকাঃ
২৫৫. বুখারী ইফা, হা/৩০৪৩, আপ্র. হা/৩০৩৪, তাও. হা/৩২৭৬, মুসলিম মাশা. হা/৩৬২
২৫৬. মুসলিম মাশা. হা/৩৫৭
২৫৭. আবু দাউদ আলএ. হা/৫১১৪
২৫৮. সূরা হাজ্জ-২২: ৫২-৫৪
২৫৯. সূরা ত্বহা-২০:৮২
২৬০. সূরা হুদ-১১:৬
২৬১. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:১২৮
২৬২. সূরা সাবা-৩৪:৫৪, ইগাষাতুল লাহফান ১/১০৪