📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 বাতিলকে সুশোভিত করে প্রদর্শন

📄 বাতিলকে সুশোভিত করে প্রদর্শন


মানুষকে ভ্রষ্ট করার শয়তানের একটি সুন্দর উপায়, তার সামনে বাতিলকে সুশোভিত করে প্রদর্শন করা। সুতরাং সে বাতিলকে হক এবং হককে বাতিলরূপে সুসজ্জিত করে। বাতিলকে সুন্দর করে উপস্থাপিত করে এবং হককে অসুন্দর করে অপ্রিয় করে তোলে। আর তার ফলে মানুষ বাতিল ও অসৎ কর্মের দিকে দ্রুত ধাবিত হয় এবং হক ও সৎকর্ম হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর এমন পদ্ধতিতে ভ্রষ্ট করার প্রতিজ্ঞা সে আদিকালেই মহান আল্লাহর নিকট প্রকাশ করেছিল। সে বলেছিল,

رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ - إِلَّا عِبَادَكَ مِنْהُمُ الْمُخْلَصِينَ

“হে আমার প্রতিপালক! তুমি যে আমাকে বিপদগামী করলে তার জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপ কর্মকে অবশ্যই শোভনীয় করে তুলব এবং আমি তাদের সকলকে অবশ্যই বিপথগামী করে ছাড়ব। তবে তাদের মধ্যে তোমার একনিষ্ঠ বান্দাগণ ছাড়া।”²²³

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, “শয়তানের কুচক্রান্তসমূহের একটি এই যে, সে সর্বদা মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে যাদু করে। যাতে তাকে তার চক্রান্তে আবদ্ধ করতে পারে। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তার সে যাদুর প্রতিক্রিয়া থেকে কেউ রেহাই পায় না। সুতরাং সে মানুষের কাছে সেই জিনিসকে সুন্দর রূপে প্রদর্শন করে, যা তার জন্য ক্ষতিকর। সে তার কাছে এমন ধারণা প্রক্ষেপ করে যে, সে ভাবে ঐ জিনিস তার জন্য সবচেয়ে বড় উপকারী। আর যে কাজ তার জন্য সবচেয়ে বড় উপকারী, সে জিনিসকে তার নিকট অপ্রিয় করে তোলে। এমনকি তাকে এই ধারণা দেয় যে, তা তার জন্য অতীব অনিষ্টকর।

সুতরাং ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’! শয়তান তার এই যাদু দিয়ে কত মানুষকে ফিতনাগ্রস্ত করেছে! তার মাধ্যমে কত মানুষের মনে ইসলাম, ঈমান ও ইহসান থেকে অন্তরাল সৃষ্টি করেছে! কত বাতিলকে সে চমৎকার রূপে পেশ করে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে! কত হককে সে কুৎসিতরূপে পেশ করে মানুষের নিকট ঘৃণ্য ও অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে! কত নকল মুদ্রা মুদ্রা-পরিক্ষকের নিকটেও সে আসল বলে চালিয়ে দেয়! কত ভেজালকে সে খাঁটি বলে অভিজ্ঞদের মাঝেও প্রচলিত করে!

সে-ই তো মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে যাদুগ্রস্ত করে নানা কুপ্রবৃত্তিতে প্রবৃত্ত করে এবং বহুধাবিভক্ত মত ও পথে দ্বিধাগ্রস্ত করে। প্রত্যেক ভ্রষ্ট পথে মানুষকে পরিচালিত করে। একের পর এক নানা মরণ-ফাঁদে তাকে নিক্ষেপ করে। তার সুশোভন করার ফলে মানুষ মূর্তিপূজাতে লিপ্ত হয়, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে, কন্যা জীবন্ত-প্রোথিত করে, মাতৃতুল্য মহিলার সাথে ব্যভিচার করে।

মহান আল্লাহ সৃষ্টির সর্বোর্ধ্বে আছেন, তিনি কথা বলেন, সকল আসমানী কিতাবের বাণী তাঁরই, কিন্তু শয়তান মহান আল্লাহকে মানবীয় গুণ থেকে পবিত্র ঘোষণার কাঠামোতে ঢেলে মানুষকে তা অস্বীকার করতে শিখিয়েছে এবং এমন কুফরী করাতে তাদেরকে জান্নাতের ওয়াদা প্রদান করেছে!

মানুষকে ভালোবাসার নামে, (পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা করার নামে,) মানুষের সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহারের নামে সৎকার্যে আদেশ ও মন্দ কার্যে বাধাদান বর্জনে উদ্বুদ্ধ করেছে শয়তান। মহান আল্লাহ বলেছেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُم مِّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ

“হে বিশ্বাসিগণ! তোমাদের আত্মরক্ষা করাই কর্তব্য। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে, সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”²²⁴

শয়তান মানুষকে এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থের উপর আমল করতে শিখিয়েছে, ফলে তারা সৎকার্যে আদেশ ও মন্দ কার্যে বাধাদান বর্জন করেছে।

তাকলীদের ছাঁচে ফেলে রসূল থেকে বর্ণিত সুন্নাহ থেকে মানুষকে বৈমুখ করেছে শয়তান। ফলে তারা তাদের বুযুর্গদের উক্তিকে যথেষ্ট মনে করেছে। মনুষ্য সমাজে সহাবস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নামে আল্লাহর দ্বীনে তোষামদ ও কপটতার প্রচলন করেছে শয়তান।²²⁵

এই বাতিলকে সুশোভন করার পদ্ধতিতেই অভিশপ্ত শয়তান আমাদের আদি পিতাকে বেহেস্তে প্রতারিত করেছে। যে বৃক্ষ ভক্ষণকে মহান আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছিলেন, সেই বৃক্ষকেই শয়তান অনন্ত জীবনপ্রদ বৃক্ষ বলে সুশোভিত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন,

فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَى شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَى . فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى

“অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল। সে বলল, ‘হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দেব অনন্ত জীবনপ্রদ বৃক্ষ ও অক্ষয় রাজ্যের কথা?’ অতঃপর তারা তা হতে ভক্ষণ করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা উদ্যানের বৃক্ষপত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল। আদম তার প্রতিপালকের অবাধ্য হল; ফলে সে পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।”²²⁶ তিনি অন্যত্র বলেন,

فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِن سَوْءَاتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَا كُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ - وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ - فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْءَاتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَا أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَن تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَأَقُل لَّكُمَا إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُّبِينٌ

"অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল, তা প্রকাশ করার জন্য শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল, 'পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশতা হয়ে যাও কিংবা তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হও, এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন।' সে তাদের উভয়ের নিকট শপথ করে বলল, 'আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন।' এভাবে সে তাদেরকে ধোঁকা দিয়ে নিচে নামিয়ে দিল। অতঃপর যখন তারা সেই বৃক্ষের আস্বাদ গ্রহণ করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা উদ্যানের পত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, 'আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ সম্বন্ধে সাবধান করিনি এবং শয়তান যে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু, তা আমি কি তোমাদেরকে বলিনি?”²²⁷

সুতরাং শয়তানের চক্রান্তে তাঁরা সুখময় জান্নাত থেকে দুঃখময় পৃথিবীতে নেমে এলেন।

বর্তমানের শয়তান ও তার বন্ধুবান্ধবকে লক্ষ্য করুন, মানুষকে ভ্রষ্ট করার জন্য কীভাবে তারা একই পদ্ধতি ব্যবহার করে চলেছে।

'ধর্মনিরপেক্ষতা' শব্দকে সুশোভিত করে ধর্মহীনতার প্রচার চালাচ্ছে। 'রক্ষণশীলতা' শব্দকে সুসজ্জিত করে ইসলামী মূল্যবোধকে ঘৃণ্য করে তুলছে।

'মৌলবাদ' শব্দের আড়ালে খাঁটি মুসলিম হওয়াকে দূষণীয় প্রমাণ করতে চাচ্ছে।

'বাক্- স্বাধীনতা' শব্দের অন্তরালে আল্লাহ, রসূল ও দ্বীন সম্বন্ধে কুফরী বাক্যকে বৈধতা দিয়ে চলেছে।

'ব্যক্তি-স্বাধীনতা' নাম দিয়ে ইসলাম থেকে মুর্তাদ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

'নারী-স্বাধীনতা' শব্দের আড়ালে 'জরায়ু-স্বাধীনতা' তথা পর্দাহীনতাকে ব্যাপক করতে চাচ্ছে।

'মানবাধিকার' নাম নিয়ে অপরাধীর পৃ'পোষকতা ও দুষ্টের লালন করে চলেছে।

'সাম্যবাদ' নাম দিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদের ভোগদখল বৈধ করেছে।

'লভ্যাংশ' লেবেল লাগিয়ে 'সূদ'কে বৈধ করে চলেছে।

'সংস্কৃতি' নাম দিয়ে অশ্লীলতা তথা যুবক-যুবতীর অবাধ মেলামিশার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

লোভনীয় নাম দিয়ে মদকে সভ্য সমাজের পানীয় বলে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরো কত কি। এ সবই হল শয়তানী পদ্ধতি, হককে বাতিল ও বাতিলকে হক করার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতেই অসভ্যতা সুসভ্যতার মানপ্রাপ্ত হচ্ছে, অসম্মানীকে সম্মান দেওয়া হচ্ছে, সম্মানীকে অপমানিত করা হচ্ছে, অযোগ্য লোককে নেতা করা হচ্ছে এবং যোগ্য লোককে কোণঠাসা করা হচ্ছে! মহান আল্লাহ বলেছেন,

تَاللَّهِ لَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِّن قَبْلِكَ فَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَهُوَ وَلِيُّهُمُ الْيَوْمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

"শপথ আল্লাহর! আমি তোমার পূর্বেও বহু জাতির নিকট রসূল প্রেরণ করেছি; কিন্তু শয়তান ঐ সব জাতির কার্যকলাপ তাদের দৃষ্টিতে শোভন করেছিল; সুতরাং সে আজ তাদের অভিভাবক এবং তাদেরই জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে।”²²⁸

শয়তান ও তার বন্ধুবান্ধবদের এ পদ্ধতি নিশ্চয় মানবতার জন্য বড় বিপদজ্জনক, মহান আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়তের জন্য বড় ভয়ঙ্কর। যেহেতু বাতিল এমনিতেই মানুষের কাছে লোভনীয়, তার উপর তাকে যদি 'হক' বলে শোভনীয় করা হয়, তাহলে তা আরো আকর্ষণীয় হয়। সেই কাজ করতে মানুষ বেশি উৎসাহিত হয়। এমন পদ্ধতিতে বিদআতীরা বিদআতকে 'দ্বীন' মনে করে সোৎসাহে পালন করে। বাহ্যতঃ পরিশ্রম ও ব্যয় তো করে অনেক, কিন্তু তা বরবাদ যায়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا - الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا

তুমি বল, 'আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব তাদের, যারা কর্মে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত?' ওরাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পন্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করছে। ²²⁹ উক্ত রীতিতে তারা মানুষকে আল্লাহর পথে বাধাপ্রাপ্ত করে এবং আল্লাহর আওলিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। অথচ তারা ধারণা করে, তারাই সঠিক পথের পথিক। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُّهْتَدُونَ

"শয়তানেরাই মানুষকে সৎপথ হতে বিরত রাখে। আর মানুষ মনে করে, তারা সৎপথপ্রাপ্ত।” ²³⁰ এই রীতি অবলম্বন করে এবং শয়তানী সংমিশ্রণ পদ্ধতির অনুসরণ করে কাফেররা দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয় এবং আখেরাতকে দৃষ্টিচ্যুত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَقَيَّضْنَا لَهُمْ قُرَنَاء فَزَيَّنُوا لَهُم مَّا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِم مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنَّهُمْ كَانُوا خَاسِرِينَ

“আমি ওদের সঙ্গী দিয়েছিলাম, যারা ওদের অতীত ও ভবিষ্যৎকে ওদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করে দেখিয়েছিল। ওদের ব্যাপারে ওদের পূর্ববর্তী জ্বিন এবং মানুষদের ন্যায় শাস্তির কথা বাস্তব হয়েছে। নিশ্চয় ওরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।”²³¹

ওই সঙ্গীরা ছিল শয়তানদল। যারা তাদের অতীত ও বর্তমান পার্থিব জীবনকে সুশোভিত করে প্রদর্শন করেছিল, ফলে তারা তাকে প্রাধান্য দিয়েছিল। আর তারা ভবিষ্যৎ ও আখেরাতকে মিথ্যা প্রতীয়মান করেছিল এবং তা এমন শোভনীয়তার সাথে উপস্থাপন করেছিল যে, তারা পুনরুত্থান, হিসাব ও জান্নাত-জাহান্নামকেই অবিশ্বাস করে বসেছিল।

সুশোভন শয়তানী পদ্ধতিতে রয়েছে হারাম জিনিসের সুন্দর ও আকর্ষণীয় নামকরণ। যার মাধ্যমে শয়তান শরীয়তে হারাম জিনিসকে হালাল করতে পারে এবং মানুষ প্রতারিত হয়ে তা ব্যবহার করে, যার ব্যবহারকে আল্লাহ অবৈধ করেছেন। যেমন শয়তান নিষিদ্ধ বৃক্ষের না দিয়েছিল 'অনন্ত জীবনপ্রদ বৃক্ষ।' তার বন্ধুরা 'রুহানী শারাব'-সহ মদের আরো আকর্ষণীয় নাম দিয়ে থাকে। সূদের নাম 'ইন্টারেস্ট' দিয়ে হারামের ঘৃণা মন থেকে মোচন করে। বেশ্যা ও সমকামীর নাম 'যৌনকর্মী' দিয়ে অশ্রদ্ধার মানসিকতা মুছে ফেলার অপচেষ্টা করে। অবাধ মেলামিশা ও অবৈধ যৌনসংসর্গের নাম 'ভালোবাসা' দিয়ে সভ্য সমাজে এমন অপরাধকে স্বাভাবিক ও প্রশংসনীয় করে তোলে। জোর-জুলুম করে আদায় করা অর্থকে 'চাঁদা' বা 'তোলা' বলে তার উপর থেকে হারামের লেবেল তুলে ফেলে! নাচ-গানকে সংস্কৃতি এবং ছবি অঙ্কন ও মূর্তি নির্মাণকে শিল্প নাম দিয়ে হারামকে মানব-মনে হালাল ও কৃতিত্ব বলে প্রতীয়মান করে।

টিকাঃ
২২৩. সূরা আল হিজ্বর-১৫:৩৯-৪০
২২৪. সূরা সূরা মায়িদাহ-৫:১০৫
২২৫. ইগাষাতুল লাহফান ১/১৩০
২২৬. সূরা ত্বহা-২০:১২০-১২১
২২৭. সূরা আল আ'রাফ-৭:২০-২২
২২৮. সূরা নাহল-১৬:৬৩
২২৯. সূরা আল কাহাফ-১৮:১০৩-১০৪
২৩০. সূরা আয যুখরুফ-৪৩:৩৭
২৩১. সূরা হা-মীম সাজদাহ-৪১:২৫

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 অতিরঞ্জন ও অবহেলা সৃষ্টি

📄 অতিরঞ্জন ও অবহেলা সৃষ্টি


ইবনুল কাইয়্যিম বলেন, “আল্লাহ আয্যা অজাল্লার প্রত্যেক আদেশ-নির্দেশের পশ্চাতে শয়তানের দুটি (বিপরীতমুখী) আকর্ষণ আছে। হয় সে তাতে অবজ্ঞা ও অবহেলা সৃষ্টি করে, না হয় অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি। সুতরাং মানুষের মধ্যে যে কোনর একটি পেলে সে কৃতার্থ হয়। সে বান্দার হৃদয়কে পরীক্ষা করে, অতঃপর যদি দেখে তাতে শৈথিল্য, আলস্য বা হেলাফেলা রয়েছে, তাহলে সে সেই সুযোগ গ্রহণ করে তার মনে নিরুৎসাহ, ও কর্মবিমুখতা সৃষ্টি করে। কুঁড়েমি, গয়ংগচ্ছ, দীর্ঘসূত্রতা প্রক্ষেপ করে। আর কর্ম না করার নানা ওজর-অজুহাত ও অপব্যাখ্যার দরজা খুলে দেয় এবং তার মনে আশার বাসা তৈরি করে। পরিশেষে বান্দা হয়তো-বা নির্দেশিত কর্ম বিলকুল ত্যাগ করে বসে।

পক্ষান্তরে যদি সে বান্দার হৃদয়ে সতর্কতা, স্ফূর্তি, আগ্রহ, উৎসাহ, স্পৃহা, প্রচেষ্টা ইত্যাদি লক্ষ্য করে, তাহলে সে এই সুযোগ গ্রহণ করে তাকে অতিরিক্ত চেষ্টা করতে অনুপ্রাণিত করে। সে তাকে বলে, 'এতটুক করা যথেষ্ট নয়। তোমার হিম্মত আরো বেশি। তোমাকে সবার চাইতে বেশি আমল করা উচিত। ওরা ঘুমালে তুমি ঘুমায়ো না, ওরা রোযা ছাড়লে তুমি ছেড়ো না, ওরা শৈথিল্য করলে তুমি করো না, ওরা (উযূতে) তিনবার মুখ-হাত ধুলে তুমি সাতবার ধোও, ওরা স্বলাতের জন্য উযূ করলে তুমি তার জন্য গোসল কর।' ইত্যাদি।

এইভাবে সে নানাবিধ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি সৃষ্টি করে তার আমলে। ফলে সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়, কর্মের সীমা লংঘন করে। যেমন প্রথমজনকে এর বিপরীতভাবে আমলে অবজ্ঞা, অবহেলা ও আমল বর্জনে বাধ্য করে। তার উদ্দেশ্য, দুজনেই যেন 'সিরাতে মুস্তাকীম' থেকে দূর চলে যায়। এ যেন তার কাছে না আসে, নিকটবর্তী না হয় এবং ও যেন তা লংঘন করে এবং অতিক্রম করে যায়।

অধিকাংশ মানুষ এই ফিতনায় পতিত। এ থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র সুগভীর ইল্ম, সুদৃঢ় ঈমান, শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধশক্তি এবং আমলে মধ্যপন্থা। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।”²³²

টিকাঃ
২৩২. আল-ওয়াবিলুস স্বাইয়িব ১৯পৃ.

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 আমলে শিথিলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও অলসতা সৃষ্টি

📄 আমলে শিথিলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও অলসতা সৃষ্টি


এই কাজেও তার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। যেমন- নবী বলেছেন,

يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأسِ أَحَدِكُمْ ، إِذَا هُوَ نَامَ ، ثَلَاثَ عُقَدٍ ، يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ : عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدُ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ ، فَذَكَرَ اللَّهَ تَعَالَى الْحَلَّتْ عُقْدَةً ، فَإِنْ تَوَضَّأَ ، الْحَلَّتْ عُقدَةٌ ، فَإِنْ صَلَّى ، الْحَلَّتْ عُقَدُهُ كُلُّهَا ، فَأَصْبَحَ نَشِيطاً طَيِّبَ النَّفْسِ ، وَإِلا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ

“যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় তখন) তার গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গাঁট বেঁধে দেয়; প্রত্যেক গাঁটে সে এই বলে মন্ত্র পড়ে যে, 'তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমাও।' অতঃপর যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিক্র করে, তাহলে একটি গাঁট খুলে যায়। তারপর যদি ওযু করে, তবে তার আর একটি গাঁট খুলে যায়। তারপর যদি নামায পড়ে, তাহলে সমস্ত গাঁট খুলে যায়। আর তার প্রভাত হয় স্ফূর্তিভরা ভালো মনে। নচেৎ সে সকালে ওঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে।”²³³ তিনি আরো বলেছেন,

إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَتَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرُ ثَلَاثًا فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَبِيتُ عَلَى خَيْشُومِهِ

“তোমাদের মধ্যে কেউ যখন ঘুম থেকে উঠে উযূ করে, সে যেন তিনবার নাক ঝাড়ে। কেননা শয়তান তার নাকের খুব ভিতরে রাত্রিযাপন করে। "²³⁴ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, এমন একটি লোকের কথা নবী এর নিকট উল্লেখ করা হল, যে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করে। তিনি বললেন,

ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنَيْهِ

"এ এমন এক মানুষ, যার দু' কানে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে।”²³⁵ এ হল শয়তানের নিজ কর্ম দ্বারা মানব-মনে আমল-বিমুখতা সৃষ্টি। সে তার কুমন্ত্রণা দ্বারাও অনুরূপ কাজ করে থাকে। সুতরাং তার মনে আলস্য-প্রিয়তার কুমন্ত্রণা দেয়, আমলের সময় 'করছি-করব'-এর দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে। এর সাথে সুদীর্ঘ আশাকে সুবিন্যস্ত করে।

এ প্রসঙ্গে ইবনুল জাওযী (রঃ) বলেছেন, "কত ইয়াহুদী-খ্রিস্টানের মনে ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা জাগরিত হয়। কিন্তু শয়তান তাদেরকে প্রতিহত করে। বলে, 'তাড়াহুড়া করো না, ভালোভাবে ভেবে-চিন্তে দেখো।' সুতরাং এইভাবে তাদের মাঝে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে, ফলে কাফের অবস্থাতেই তাদের মরণ হয়।

এমনিভাবে পাপীকে তওবার ব্যাপারে পিছিয়ে দেয়। তার ইন্দ্রিয়-বাসনা পূরণের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করে, কিন্তু তওবার ব্যাপারে কেবল আশা দেয়। কবি বলেছেন,

لا تعجل الذنب لما تشتهي وتأمل التوبة من قابل

অর্থাৎ, আগামীতে তওবার আশা রেখে চাহিদামতো পাপে শীঘ্রতা করো না।

কত প্রকৃত কাজের দৃঢ় সংকল্পের লোককে শয়তান দীর্ঘসূত্রতা দ্বারা পিছিয়ে দিয়েছে। কত উচ্চ মর্যাদা-অভিলাষী ব্যক্তিকে প্রতিহত করেছে। যখনই ফকীহ তার দর্সসমূহের পুনরালোচনা করতে চায়, তখনই সে বলে, 'একটু আরাম কর।' অথবা যখনই কোন আবেদ তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে চায়, তখনই সে বলে, 'এখনও অনেক সময় আছে।' এইভাবে সে মানুষের মনে আলস্যকে প্রিয় করে তোলে এবং আমলকে দীর্ঘসূত্রতার মাধ্যমে পিছিয়ে দেয়। আর এর সাথে সুদীর্ঘ আশাকে সুবিন্যস্ত করে।

সুতরাং বুদ্ধিমানের উচিত, বুদ্ধি করে আমল করা। আর বুদ্ধি হল, সময়ের সদ্ব্যবহার করা, দীর্ঘসূত্রতা ত্যাগ করা এবং দুরাশা বর্জন করা। যেহেতু ভয়ানক জায়গা নিরাপদ নয় এবং মৃত (কিয়ামতের আগে) পুনরুত্থিত হবে না। প্রত্যেক ত্রুটি ও অবহেলা এবং মন্দ-প্রবণতার কারণ হল দীর্ঘ দুরাশা। কেননা মানুষ মনে মনে করতে থাকে, এবারে সে মন্দকাজ বর্জন করে ভালো কাজে ব্রতী হবে। কিন্তু সে কেবল নিজের মনকে প্রতিশ্রুতি দেয়। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি আশা করে যে, সে দিনে চলবে, তার যাত্রা হবে শিথিল। আর যে সকাল হওয়ার আশা করবে, সে রাত্রে দুর্বল আমল করবে। আর যে মৃত্যুকে দ্রুত বলে কল্পনা করবে, সে সত্যই যথার্থরূপে পথ চলবে। কোন কোন সলফ বলেছেন, আমি তোমাদেরকে দীর্ঘসূত্রতা থেকে সতর্ক করছি। কারণ তা ইবলীসের সবচেয়ে বড় সৈন্য।

একজন বিচক্ষণ লোক ও একজন দুরাশাবাদী লোকের উপমা সফরে একটি কাফেলার মতো, যারা একটি জনপদে প্রবেশ করল। অতঃপর বিচক্ষণ ব্যক্তি সেখান হতে তার সফরের পরিপূরক সামগ্রী ক্রয় করল এবং যাত্রা শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকল। পক্ষান্তরে দ্বিতীয়জন বলল, 'প্রস্তুতি নেব। এখনো হয়তো সফরের এক মাস বাকী।' অতঃপর যথাসময়ে কুচ করে যাওয়ার বাঁশি বেজে উঠল। সুতরাং বিচক্ষণ লোকটি ঈর্ষাযোগ্য হল এবং দুরাশাবাদী হল আফসোসের সাথে দিশাহারা। অনুরূপই হল দুনিয়ার মানুষের উপমা। তাদের মধ্যে কেউ আছে সদা প্রস্তুত ও সজাগ। সুতরাং যে কোন সময়ে তার নিকট 'মালাকুল মাওত' এসে গেলে সে অনুতপ্ত হয় না।

পক্ষান্তরে অন্য কেউ আছে প্রতারিত গয়ংগচ্ছকারী। সে সফরের সময় অনুতাপের তিক্ত-শরবত কষ্টের সাথে পান করতে থাকে।

সুতরাং প্রকৃতিতে শৈথিলতা ও দীর্ঘ দুরাশা থাকে, অতঃপর ইবলীস এসে তাকে তার প্রকৃতি অনুযায়ী আমল করতে উদ্বুদ্ধ করে, তাহলে সে সময় মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে যে আত্মসচেতন হয় এবং বুঝতে পারে যে, সে আছে যুদ্ধের সৈন্য-সারিতে এবং তার শত্রু তার ব্যাপারে কোন শৈথিল্য করবে না। আর যদিও সে বাহ্যতঃ শৈথিল্য প্রদর্শন করে, অভ্যন্তরে সে কোন চক্রান্ত চালাবে এবং তার জন্য অতর্কিতে আক্রমণের উদ্দেশ্যে ওঁৎ পেতে থাকার ঘাঁটি পেতে রাখবে।"²³⁶

পূর্ণ গতির আমলের ঘূর্ণমান চাকাকে থমকে দেয় শয়তান। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, কটাক্ষ, সমালোচনা ইত্যাদির মাধ্যমে ভালো কাজের কাজীকে কাজ ছাড়তে রাজি করে ফেলে। এর ফলে পর্দানশীন পর্দা ছাড়ে, দাড়ি-ওয়ালা দাড়ি কাটে, মসজিদ-মাদ্রাসার দায়িত্বশীল দায়িত্ব ছাড়ে, বহু মুস্বল্লী নামায ছাড়ে, নিঃস্বার্থ সমাজসেবী সমাজসেবা ছাড়ে ইত্যাদি। মানবরূপী এমন দানবদের সমালোচনা ও কটাক্ষে থমকে যায় নেক আমলের প্রবহমান যোত। নাজমুদ্দীন বিন মিনফাখ বলেন, “শুনেছি যে, শয়তান জ্বিনরা চুরি করে ঊর্ধ্ব জগতের কোন খবর শুনতে গেলে তাদেরকে উল্কা ছুঁড়ে মারা হয়। কিন্তু আমি যখন বড় হয়ে তারকা হলাম, তখন বড় বড় শয়তান আমাকে আঘাত করতে লাগল!”

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, যাতে সে শয়তানদেরকেও আল্লাহ অভাবের উল্কা মেরে তাদের স্বভাব পরিবর্তন করেন।

টিকাঃ
২৩৩. বুখারী ইফা. হা/১০৭৬, আপ্র. হা/১০৭১, তাও. হা/১১৪২, মুসলিম মাশা. হা/১৮৫৫
২৩৪. বুখারী ইফা, হা/৩০৬২, আপ্র. হা/৩০৫৩, তাও. হা/৩২৯৫, মুসলিম মাশা. হা/৫৮৭
২৩৫. বুখারী তাও. হা/১১৪৪, মুসলিম মাশা. হা/১৮৫৩
২৩৬. তালবীসু ইবলীস ৪৫৮পৃ.

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাদান

📄 প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাদান


শয়তান মানুষকে মিথ্যা ওয়াদা দেয় এবং মধুমাখা আশা সঞ্চারিত করে ভ্রষ্টতার পঙ্কে নিপাতিত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا

“সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা ছলনা মাত্র।”²³⁷ মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাফেরদেরকে সাহায্য ও বিজয়ের আশা ও প্রতিশ্রুতি দেয়। অতঃপর গাছে তুলে মই কেড়ে নিয়ে চম্পট দেয়। যেমন করেছিল বদর যুদ্ধের দিন। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَّكُمْ فَلَمَّا تَرَاءتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكُمْ

“স্মরণ কর, শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করেছিল এবং বলেছিল, 'আজ মানুষের মধ্যে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হবে না, আর আমি অবশ্যই তোমাদের সহযোগী (প্রতিবেশী)।' অতঃপর দু'দল যখন পরস্পরের সম্মুখীন হল, তখন সে পিছু হটে সরে পড়ল ও বলল, 'নিশ্চয় তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।”²³⁸ কাফের ধনীদেরকে পরকালেও ধনী থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। তাদের অনেকে বলে,

وَلَئِن رُّدِدتُ إِلَى رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيْرًا مِّنْهَا مُنقَلَبًا

“আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই-ই, তাহলে আমি অবশ্যই এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব।”²³⁹

وَلَئِن رَّجِعْتُ إِلَى رَبِّي إِنَّ لِي عِندَهُ لَلْحُسْنَى

'আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিতও হই, তাহলে তাঁর নিকট তো আমার জন্য কল্যাণই থাকবে।'

মহান আল্লাহ বলেন, “আমি সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদেরকে ওদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করব এবং ওদেরকে আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।” ²⁴⁰

অনেক সময় শয়তান মানুষকে মধুময় বাসনায় বিভোল রাখে, যা বাস্তব জীবনে পূরণ হবার নয়। কিন্তু সে তার মাধ্যমে তাকে ফলপ্রদ উচিত আমল থেকে বিরত রাখে। তখন সে কেবল কল্পনা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তুষ্ট থাকে এবং কোন কাজ করে না।

টিকাঃ
২৩৭. সূরা আন নিসা-৪:১২০
২৩৮. সূরা আল আনফাল-৮:৪৮
২৩৯. সূরা আল কাহাফ-১৮:৩৬
২৪০. সূরা হা-মীম সাজদাহ-৪১:৫০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00