📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তানের বন্ধু-বান্ধব

📄 শয়তানের বন্ধু-বান্ধব


শয়তানের প্রচুর মানুষ বন্ধু আছে, যারা তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে। তারা তার পথে চলে, তার ইশারা ও ইঙ্গিতে উঠা-বসা করে। তার মতে মত দেয়। অথচ সে তাদের এমন শত্রু, যে সর্বদা তাদের অকল্যাণ ও ধ্বংস কামনা করে। আর সে মানুষ কত বোকা, যে নিজ শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সম্বোধন করে বলেছেন,

أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاء مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا

"তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে; অথচ তারা তোমাদের শত্রু? সীমালংঘনকারীদের পরিবর্ত কত নিকৃষ্ট!”²¹⁰ প্রতিপালকের এ সতর্কবাণী অমান্য করে যে শত্রু শয়তানকে নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে অবশ্যই ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا

"যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। "²¹¹

শয়তানের বন্ধুরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যেহেতু শয়তান তাদের হৃদয়কে মরুভূমি বানিয়ে দেবে, তাদেরকে হিদায়াতের আলো থেকে বঞ্চিত করবে এবং ভ্রষ্টতা ও সংশয়ের অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

"যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত (শয়তান সহ অন্যান্য উপাস্য)। এরা তাদেরকে (ঈমানের) আলোক থেকে (কুফরীর) অন্ধকারে নিয়ে যায়। এরাই দোযখের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।”²¹²

তারা ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তাদের বন্ধু তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।

إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ

"সে তো তার দলবলকে এ জন্যই আহবান করে যে, ওরা যেন জাহান্নামী হয়। "²¹³

শয়তানের বন্ধু-বান্ধবরা তার তাবেদারি করে, তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তার আশা ও ইচ্ছা পূরণ করে। তারা আসলে শয়তানের বাহন, শয়তানের সৈন্য।

টিকাঃ
২১০. সূরা আল কাহাফ-১৮:৫০
২১১. সূরা আন নিসা-৪:১১৯
২১২. সূরা আল বাক্বারাহ-২:২৫৭
২১৩. সূরা ফাত্বির-৩৫:৬

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তান বিশ্বাসঘাতক বন্ধু

📄 শয়তান বিশ্বাসঘাতক বন্ধু


শয়তান এমন বন্ধু, যে তার বন্ধুদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না। নানা প্রলোভন দিয়ে অবশেষে উপকারের জায়গায় অপকার করে। নানা আশা দিয়ে অবশেষে বঞ্চিত ও নিরাশ করে। গাছে তুলে মই কেড়ে নেয়। 'সঙ্গে আছি' বলে হঠাৎ সঙ্গ ছেড়ে দেয়। সাহায্যের স্থলে সাহায্য করে না। বিপদের সময় দাঁড়িয়ে দেখে। অসহায় অবস্থায় নিজে হাসে ও দুশমন হাসায়। হত্যা, চুরি, ব্যভিচার প্রভৃতি পাপকার্যে উদ্বুদ্ধ করে তাদেরকে লাঞ্ছিত করে।

বিজয়ের আশা দিয়ে পরাজয়ের শিকারে পরিণত করে। বদর যুদ্ধের সময় সে তার মুশরিক বন্ধুদের সাথে এমনই আচরণ করেছিল। সুরাকা বিন মালেকের রূপ ধারণ করে এসে তাদেরকে সাহায্য ও বিজয়ের আশা দিয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَّكُمْ فَلَمَّا تَرَاءتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكُمْ إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ

"স্মরণ কর, শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করেছিল এবং বলেছিল, 'আজ মানুষের মধ্যে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হবে না, আর আমি অবশ্যই তোমাদের সহযোগী (প্রতিবেশী)।' অতঃপর দু'দল যখন পরস্পরের সম্মুখীন হল, তখন সে পিছু হটে সরে পড়ল ও বলল, 'নিশ্চয় তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। নিশ্চয় আমি তা দেখি, যা তোমরা দেখতে পাও না। নিশ্চয় আমি আল্লাহকে ভয় করি।' আর আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।"²¹⁴

সে এ কথা বলেছিল, যখন দেখেছিল ফিরিস্তাবর্গ মু'মিনদেরকে সাহায্য করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছেন। অতঃপর সে পিটান দিয়েছিল। কবি হাসান বিন সাবেত বলেছেন,

دَلَاهُمْ بِغُرُورٍ ثُمَّ أَسْلَمَهُمْ إِنَّ الْخَبِيثَ لِمَنْ وَالَاهُ غَرَارُ

অর্থাৎ, সে তাদেরকে প্রতারণামূলক আশা দিয়েছিল অতঃপর তাদেরকে অসহায় ছেড়ে দিল। নিশ্চয় খবীস তার বন্ধুর জন্য একজন প্রতারক।

অনুরূপ আচরণ করেছিল এক পাদরীর সাথে। সে তাকে প্ররোচিত করে এক মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত করে। অতঃপর তাকে হত্যা করায়। অতঃপর তার পরিবারের কাছে সে খবর পৌঁছে দেয়। তাকে তাদের হাতে ধরিয়ে দেয় এবং নিজেকে সিজদা করতে আদেশ করে। অতঃপর পাদরী তাকে সিজদা করে। অতঃপর তাকে অসহায় বর্জন করে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে এ ঘটনা সবিস্তার উল্লিখিত হবে ইনশা-আল্লাহ।

আর কিয়ামতের দিন সে নিজ বন্ধুদেরকে নিরাশ করবে। যখন হিসাব-বিচার ও জান্নাত-জাহান্নামের ফায়সালা হয়ে যাবে এবং সে ও তার সকল বন্ধুবান্ধবেরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الأَمْرُ إِنَّ الله وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِي عَلَيْكُم مِّن سُلْطَانٍ إِلَّا أَن دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لي فَلا تَلُومُونِي وَلُومُوا أَنفُسَكُم مَّا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنتُمْ بِمُصْرِخِيَّ إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِ مِن قَبْلُ إِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

"যখন সব কিছুর ফায়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, 'আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি। আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করিনি; আমার তো তোমাদের উপর কোন আধিপত্য ছিল না, আমি শুধু তোমাদেরকে আহবান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ করো না, তোমরা তোমাদের নিজেদের প্রতিই দোষারোপ কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নও; তোমরা যে পূর্বে আমাকে (আল্লাহর) শরীক করেছিলে সে কথা তো আমি মানিই না।' অত্যাচারীদের জন্য তো বেদনাদায়ক শাস্তি আছে।”²¹⁵ তখন তারা বুঝতে পারবে এই সত্যতা,

وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا - يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا

"যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা ছলনা মাত্র।”²¹⁶ কিন্তু তখনকার বুঝ তাদের কোন উপকারে আসবে না।

টিকাঃ
২১৪. সূরা আল আনফাল-৮:৪৮
২১৫. সূরা ইবরাহীম-১৪:২২
২১৬. সূরা আন নিসা-৪:১১৯-১২০

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তানের খিদমতে ও মু'মিনদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তার মানুষ বন্ধুরা

📄 শয়তানের খিদমতে ও মু'মিনদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তার মানুষ বন্ধুরা


এ দুনিয়ার মানুষ দুই শ্রেণীর: রহমানের বন্ধুবান্ধব ও শয়তানের বন্ধুবান্ধব।

শয়তানের বন্ধুবান্ধব সকল শ্রেণীর কাফেররা। মহান আল্লাহ বলেটেছন,

إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاء لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ

"যারা বিশ্বাস করে না, শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক (বন্ধু) করেছি। "²¹⁷

শয়তান তার সকল বন্ধুবান্ধবকে নিয়োজিত করেছে মু'মিনদেরকে নানা সন্দেহ ও সংশয়ে ফেলে ভ্রষ্ট করার জন্য। এ কথার সাক্ষ্য দিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ

"নিশ্চয় শয়তান তার বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে প্ররোচনা দেয়। যদি তোমরা তাদের কথামতো চল, তাহলে অবশ্যই তোমরা মুশরিক (অংশীবাদী) হয়ে যাবে।”²¹⁸ বর্তমানে প্রাচ্যবিদ, প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বিভিন্ন অমুসলিম ও নাস্তিক লেখক-লেখিকারা মুসলিম ও ইসলামের বিরুদ্ধে এই শ্রেণীর সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি করে তাদের সুপ্রিয় বন্ধুর সুন্দর খিদমত পেশ করছে। এ কথা সচেতন কোন মুসলিমের অবিদিত নয়।

শয়তান তার বন্ধুবান্ধবকে উৎসাহিত ও উত্তেজিত করে, যাতে তারা মু'মিনদেরকে মানসিক ও শারীরিক কষ্ট প্রদান করে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

إِنَّمَا النَّجْوَى مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيْسَ بِضَارِّهِمْ شَيْئًا إِلَّا بِإِذْنِ اللهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

"এই গোপন পরামর্শ তো শয়তানেরই প্ররোচনা, যাতে বিশ্বাসীরা দুঃখ পায়। তবে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত শয়তান তাদের সামান্যতমও ক্ষতি সাধনে সক্ষম নয়। আর বিশ্বাসীদের কর্তব্য আল্লাহর উপরই নির্ভর করা।” ²¹⁹

তার বন্ধুবান্ধবদের গোপন পরামর্শ, গোপন বৈঠক ও সভা-সমাবেশ মুসলিমদেরকে চিন্তিত ও দুঃখিত করে। বরং সে চায় তার বন্ধুবান্ধবরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করুক। সুতরাং তাদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। যুদ্ধ বাধিয়েও দেয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُواْ أَوْلِيَاء الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا

"যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে এবং যারা অবিশ্বাসী তারা তাগূতের পথে যুদ্ধ করে। সুতরাং তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। নিশ্চয় শয়তানের কৌশল দুর্বল। "²²⁰ সে সর্বদা মু'মিনদেরকে তার বন্ধুবান্ধবের ভয় দেখায়। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, পার্থিব আয়-উন্নতি ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখায়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

إِنَّمَا ذَلِكُمُ الشَّيْطَانُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءهُ فَلا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

"ঐ (বক্তা) তো শয়তান; যে (তোমাদেরকে) তার (কাফের) বন্ধুদের ভয় দেখায়; সুতরাং যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তাহলে তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় কর।”²²¹

তার বন্ধুবান্ধবদের সংখ্যা অবশ্যই কম নয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদেরই। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَلَقَدْ صَدَّقَ عَلَيْهِمْ إِبْلِيسُ ظَنَّهُ فَاتَّبَعُوهُ إِلَّا فَرِيقًا مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ

“ওদের উপর ইবলীস তার অনুমান সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করল, ফলে ওদের মধ্যে একটি বিশ্বাসী দল ছাড়া সকলেই তার অনুসরণ করল।”²²²

টিকাঃ
২১৭. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:২৭
২১৮. সূরা আল আন'আম-৬:১২১
২১৯. সূরা আল মুজাদালাহ-৫৮:১০
২২০. সূরা আন নিসা-৪:৭৬
২২১. সূরা আলে ইমরান-৩:১৭৫
২২২. সূরা সাবা-৩৪:২০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00