📄 জ্বিন ও ইনসান থেকে শয়তানের সিপাই
সমরাভিযানে শয়তানের দুই শ্রেণীর সিপাই আছে: এক শ্রেণী জ্বিন জাতিভুক্ত এবং অন্য শ্রেণী মনুষ্য জাতিভুক্ত। জ্বিন জাতিভুক্ত সিপাই প্রেরণ করে সিংহাসনে বসে হিসাব নেওয়ার হাদীস ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। আর মহান আল্লাহ তাকে অভিযান চালানোর ব্যাপারে এখতিয়ার ও অনুমতি দিয়েছেন। তিনি তাকে বিতাড়িত করার সময়ই বলেছিলেন,
وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الأَمْوَالِ وَالأَوْلادِ وَعِدُهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا
"তোমার আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্যে যাকে পার সত্যচ্যুত কর, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দ্বারা তাদেরকে আক্রমণ কর এবং তাদের ধনে ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যাও ও তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা ছলনা মাত্র।”²⁰⁴ সুতরাং তার অভিযানে আছে অশ্বারোহী-বাহিনী ও পদাতিক-বাহিনী। মানুষের প্রতি তা প্রেরণ করে প্রত্যহ অসংখ্য মানুষকে বন্দী করে। কাফেরদের প্রতিও তার অভিযান চলে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
أَلَمْ تَرَ أَنَّا أَرْسَلْنَا الشَّيَاطِينَ عَلَى الْكَافِرِينَ تَؤُزُهُمْ أَنَّا
"তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আমি অবিশ্বাসীদের জন্য শয়তানদেরকে ছেড়ে রেখেছি; তারা তাদেরকে মন্দকর্মে বিশেষভাবে প্রলুব্ধ করে থাকে।”²⁰⁵
টিকাঃ
২০৪. সূরা বানী ইসরাঈল-১৭:৬৪
২০৫. সূরা মারইয়াম-১৯:৮৩
📄 প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে আছে শয়তান সঙ্গী
প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে যেমন ফিরিস্তা থাকেন, তেমনি সর্বক্ষণের জন্য একটি শয়তান জ্বিন সঙ্গীও থাকে। এই সঙ্গী সর্বদা তাকে মন্দের দিকে ধাবিত করতে থাকে।
একদা রাত্রি বেলায় মা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সতীনদের প্রতি ঈর্ষা প্রকাশ করলে নবী তাঁকে বললেন, “আয়েশা! তোমাকে তোমার শয়তান ধরেছে।” আয়েশা বললেন, 'আপনার কি শয়তান নেই?' তিনি বললেন,
مَا مِنْ آدَمِيٌّ إِلَّا لَهُ شَيْطَانٌ
অর্থাৎ, এমন কোন আদম-সন্তান (আদমী বা মানুষ) নেই, যার শয়তান নেই। আয়েশা বললেন, 'আর আপনি হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন, “আর আমিও। তবে আমি তার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দু'আ করেছি, তাই আমি নিরাপদ থাকি।”²⁰⁶ রসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنَّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ
"তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে তার সঙ্গী জ্বিন ও সঙ্গী ফিরিস্তা নিযুক্ত নেই।” লোকেরা বলল, 'আর আপনার সাথেও কি আছে, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, “আমার সাথেও আছে। তবে আল্লাহ তার (জ্বিন সঙ্গীর) বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেন বলে আমি নিরাপদে থাকি। সুতরাং আমাকে সে মঙ্গল ছাড়া অন্য কিছুর আদেশ দিতে পারে না।”²⁰⁷ মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضُ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ
"যে ব্যক্তি পরম দয়াময় আল্লাহর স্মরণে উদাসীন হয়, তিনি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করেন, অতঃপর সে হয় তার সহচর। "²⁰⁸
وَقَيَّضْنَا لَهُمْ قُرَنَاء فَزَيَّنُوا لَهُم مَّا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِم مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنَّهُمْ كَانُوا خَاسِرِينَ
"আমি ওদের সঙ্গী দিয়েছিলাম, যারা ওদের অতীত ও ভবিষ্যৎকে ওদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করে দেখিয়েছিল। ওদের ব্যাপারে ওদের পূর্ববর্তী জ্বিন এবং মানুষদের ন্যায় শাস্তির কথা বাস্তব হয়েছে। নিশ্চয় ওরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত। "²⁰⁹
টিকাঃ
২০৬. বাইহাক্বী ২৫৫২, হাকেম, মাশা, হা/৮৩২, ইবনে হিব্বান ১৯৩৩, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, মাশা, হা/৬৫৪
২০৭. মুসলিম মাশা. হা/৭২৮৬-৭২৮৭
২০৮. সূরা আয যুখরুফ-৪৩:৩৬
২০৯. সূরা হা-মীম সাজদাহ-৪১:২৫
📄 শয়তানের বন্ধু-বান্ধব
শয়তানের প্রচুর মানুষ বন্ধু আছে, যারা তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে। তারা তার পথে চলে, তার ইশারা ও ইঙ্গিতে উঠা-বসা করে। তার মতে মত দেয়। অথচ সে তাদের এমন শত্রু, যে সর্বদা তাদের অকল্যাণ ও ধ্বংস কামনা করে। আর সে মানুষ কত বোকা, যে নিজ শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সম্বোধন করে বলেছেন,
أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاء مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا
"তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে; অথচ তারা তোমাদের শত্রু? সীমালংঘনকারীদের পরিবর্ত কত নিকৃষ্ট!”²¹⁰ প্রতিপালকের এ সতর্কবাণী অমান্য করে যে শত্রু শয়তানকে নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে অবশ্যই ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا
"যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। "²¹¹
শয়তানের বন্ধুরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যেহেতু শয়তান তাদের হৃদয়কে মরুভূমি বানিয়ে দেবে, তাদেরকে হিদায়াতের আলো থেকে বঞ্চিত করবে এবং ভ্রষ্টতা ও সংশয়ের অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
"যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে, তাদের অভিভাবক হল তাগূত (শয়তান সহ অন্যান্য উপাস্য)। এরা তাদেরকে (ঈমানের) আলোক থেকে (কুফরীর) অন্ধকারে নিয়ে যায়। এরাই দোযখের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।”²¹²
তারা ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তাদের বন্ধু তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।
إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ
"সে তো তার দলবলকে এ জন্যই আহবান করে যে, ওরা যেন জাহান্নামী হয়। "²¹³
শয়তানের বন্ধু-বান্ধবরা তার তাবেদারি করে, তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তার আশা ও ইচ্ছা পূরণ করে। তারা আসলে শয়তানের বাহন, শয়তানের সৈন্য।
টিকাঃ
২১০. সূরা আল কাহাফ-১৮:৫০
২১১. সূরা আন নিসা-৪:১১৯
২১২. সূরা আল বাক্বারাহ-২:২৫৭
২১৩. সূরা ফাত্বির-৩৫:৬
📄 শয়তান বিশ্বাসঘাতক বন্ধু
শয়তান এমন বন্ধু, যে তার বন্ধুদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না। নানা প্রলোভন দিয়ে অবশেষে উপকারের জায়গায় অপকার করে। নানা আশা দিয়ে অবশেষে বঞ্চিত ও নিরাশ করে। গাছে তুলে মই কেড়ে নেয়। 'সঙ্গে আছি' বলে হঠাৎ সঙ্গ ছেড়ে দেয়। সাহায্যের স্থলে সাহায্য করে না। বিপদের সময় দাঁড়িয়ে দেখে। অসহায় অবস্থায় নিজে হাসে ও দুশমন হাসায়। হত্যা, চুরি, ব্যভিচার প্রভৃতি পাপকার্যে উদ্বুদ্ধ করে তাদেরকে লাঞ্ছিত করে।
বিজয়ের আশা দিয়ে পরাজয়ের শিকারে পরিণত করে। বদর যুদ্ধের সময় সে তার মুশরিক বন্ধুদের সাথে এমনই আচরণ করেছিল। সুরাকা বিন মালেকের রূপ ধারণ করে এসে তাদেরকে সাহায্য ও বিজয়ের আশা দিয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَّكُمْ فَلَمَّا تَرَاءتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكُمْ إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ
"স্মরণ কর, শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের দৃষ্টিতে সুশোভিত করেছিল এবং বলেছিল, 'আজ মানুষের মধ্যে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হবে না, আর আমি অবশ্যই তোমাদের সহযোগী (প্রতিবেশী)।' অতঃপর দু'দল যখন পরস্পরের সম্মুখীন হল, তখন সে পিছু হটে সরে পড়ল ও বলল, 'নিশ্চয় তোমাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। নিশ্চয় আমি তা দেখি, যা তোমরা দেখতে পাও না। নিশ্চয় আমি আল্লাহকে ভয় করি।' আর আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।"²¹⁴
সে এ কথা বলেছিল, যখন দেখেছিল ফিরিস্তাবর্গ মু'মিনদেরকে সাহায্য করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছেন। অতঃপর সে পিটান দিয়েছিল। কবি হাসান বিন সাবেত বলেছেন,
دَلَاهُمْ بِغُرُورٍ ثُمَّ أَسْلَمَهُمْ إِنَّ الْخَبِيثَ لِمَنْ وَالَاهُ غَرَارُ
অর্থাৎ, সে তাদেরকে প্রতারণামূলক আশা দিয়েছিল অতঃপর তাদেরকে অসহায় ছেড়ে দিল। নিশ্চয় খবীস তার বন্ধুর জন্য একজন প্রতারক।
অনুরূপ আচরণ করেছিল এক পাদরীর সাথে। সে তাকে প্ররোচিত করে এক মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত করে। অতঃপর তাকে হত্যা করায়। অতঃপর তার পরিবারের কাছে সে খবর পৌঁছে দেয়। তাকে তাদের হাতে ধরিয়ে দেয় এবং নিজেকে সিজদা করতে আদেশ করে। অতঃপর পাদরী তাকে সিজদা করে। অতঃপর তাকে অসহায় বর্জন করে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে এ ঘটনা সবিস্তার উল্লিখিত হবে ইনশা-আল্লাহ।
আর কিয়ামতের দিন সে নিজ বন্ধুদেরকে নিরাশ করবে। যখন হিসাব-বিচার ও জান্নাত-জাহান্নামের ফায়সালা হয়ে যাবে এবং সে ও তার সকল বন্ধুবান্ধবেরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الأَمْرُ إِنَّ الله وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِي عَلَيْكُم مِّن سُلْطَانٍ إِلَّا أَن دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لي فَلا تَلُومُونِي وَلُومُوا أَنفُسَكُم مَّا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنتُمْ بِمُصْرِخِيَّ إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِ مِن قَبْلُ إِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
"যখন সব কিছুর ফায়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে, 'আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি। আর আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করিনি; আমার তো তোমাদের উপর কোন আধিপত্য ছিল না, আমি শুধু তোমাদেরকে আহবান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ করো না, তোমরা তোমাদের নিজেদের প্রতিই দোষারোপ কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নও; তোমরা যে পূর্বে আমাকে (আল্লাহর) শরীক করেছিলে সে কথা তো আমি মানিই না।' অত্যাচারীদের জন্য তো বেদনাদায়ক শাস্তি আছে।”²¹⁵ তখন তারা বুঝতে পারবে এই সত্যতা,
وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا - يَعِدُهُمْ وَيُمَنِّيهِمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا
"যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করে। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা ছলনা মাত্র।”²¹⁶ কিন্তু তখনকার বুঝ তাদের কোন উপকারে আসবে না।
টিকাঃ
২১৪. সূরা আল আনফাল-৮:৪৮
২১৫. সূরা ইবরাহীম-১৪:২২
২১৬. সূরা আন নিসা-৪:১১৯-১২০