📄 তার নিকটবর্তী লক্ষ্য
দূরবর্তী লক্ষ্য পূরণের জন্য তার বহু নিকটবর্তী লক্ষ্য আছে। যেমন-
১। মানুষকে শির্ক ও কুফরীতে নিপতিত করা।
২। মানুষকে পাপ ও অবাধ্যাচরণে লিপ্ত করা।
৩। বিদআতে আলিঙ্গন করা
৪। আল্লাহর আনুগত্য করতে বাধা দেওয়া
৫। ইবাদত নষ্ট করা
৬। মানুষকে শারীরিক ও মানসিক কষ্টদান
📄 মানুষকে শির্ক ও কুফরীতে নিপতিত করা
এর জন্য সে নানাভাবে মানুষকে দাওয়াত দিতে থাকে। মানুষকে প্রতিপালক আল্লাহ, তাঁর রসূল ও শরীয়ত সম্বন্ধে সন্দিহান করে কুফরীতে আলিপ্ত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ
"(ওরা) শয়তানের মতো, যে মানুষকে বলে, 'কুফরী কর।' অতঃপর যখন সে কুফরী করে, তখন শয়তান বলে, 'তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, নিশ্চয় আমি বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।”¹⁵⁴ ইয়ায বিন হিমার কর্তৃক বর্ণিত, একদা নবী খুতবা দিয়ে বললেন,
أَلَا إِنَّ رَبِّي أَمَرَنِي أَنْ أُعَلَّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا، كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلَالٌ، وَإِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتَهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلُ بِهِ سُلْطَانًا
"শোনো! নিশ্চয় আমার প্রতিপালক আমাকে আদেশ করেছেন যে, তিনি আমাকে আজকের দিন যা শিখিয়েছেন, তা হতে আমি তোমাদেরকে তা শিক্ষা দিই, যা তোমাদের অজানা। (তিনি বলেছেন,) প্রত্যেক সেই সম্পদ যা আমি কোন বান্দাকে দান করেছি, তা তার জন্য হালাল। (সে নিজে তা হারাম করতে পারে না।) নিশ্চয় আমি আমার সকল বান্দাগণকে একনিষ্ঠরূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শয়তানদল এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন হতে পথভ্রষ্ট করেছে। তাদের জন্য তা হারাম করেছে, যা আমি তাদের জন্য হালাল করেছি এবং তাদেরকে আদেশ করেছে, যাতে তারা সেই জিনিসকে আমার সাথে শরীক করে, যার কোন প্রমাণ আমি অবতীর্ণ করিনি। "¹⁵⁵
টিকাঃ
১৫৪. সূরা হাশর-৫৯ ১৬
১৫৫. মুসলিম মাশা. হা/৭৩৮৬
📄 বিদআতে লিপ্ত করা
শয়তান যখন মু'মিনকে আল্লাহর ইবাদতে বাধা দিতে সক্ষম হয় না, তখন তার ইবাদতকেই নষ্ট করার চেষ্টা করে। হয় তাতে 'রিয়া' (লোকপ্রদর্শন) ঢুকিয়ে দেয়, না হয় তাতে বিদআত প্রবিষ্ট করে। আর তার কাছে পাপের চাইতে বিদআতই বেশি পছন্দনীয়। যেহেতু তাতে ক্ষতি হয় দ্বীনের। সুফিয়ান সওরী বলেছেন, 'ইবলীসের নিকট পাপ অপেক্ষা বিদআত বেশি পছন্দনীয়। যেহেতু পাপ থেকে তওবা (আশা) করা যায়। কিন্তু বিদআত থেকে তওবার (আশা) করা যায় না। ¹⁶⁰
যেহেতু বিদআতী বিদআত করে ইবাদত মনে করেই। তাহলে সে তওবা করবে কেন?
টিকাঃ
১৬০. ই'তিক্বাদু আহলিস সুন্নাহ ২৩৮
📄 আল্লাহর আনুগত্য করতে বাধা দেওয়া
শয়তান মুসলিমকে কেবল কুফরী, পাপ ও বিদআতের দিকেই আহবান করে না, বরং সে তাকে যে কোন কল্যাণময় কাজ করতে বাধা দেয়। সুতরাং যখনই বান্দা কোন ভালো কাজ করতে ইচ্ছা পোষণ করে, তখনই শয়তান তাতে কোন না কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কল্যাণের পথ থেকে তাকে অন্য পথে সরিয়ে নিয়ে যায়।
নবী বলেছেন, "শয়তান (মুসলিম) আদম-সন্তানের বিভিন্ন পথে বসে বাধা সৃষ্টি করে। তার ইসলামের পথে বসে বাধা সৃষ্টি করে এবং বলে, 'তুমি মুসলমান হবে? তোমার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করবে?' কিন্তু সে তার বাধা লংঘন করে মুসলমান হয়।
অতঃপর সে তার হিজরতের পথে বসে বাধা সৃষ্টি করে এবং বলে, 'তুমি হিজরত করবে? তোমার দেশ ও পরিবেশ ত্যাগ করবে? আরে হিজরতকারী হল রশিতে বাঁধা ঘোড়ার মতো।' কিন্তু সে তার বাধা অমান্য করে হিজরত করে।
অতঃপর জিহাদের পথে বসে তাকে বাধাপ্রাপ্ত করে এবং বলে, 'তুমি জিহাদ করবে? তাতে তো জান-মালের ক্ষতি হবে। যুদ্ধে গেলে তুমি নিহত হবে। তখন তোমার স্ত্রীকে অন্য কেউ বিয়ে করবে, তোমার মাল-সম্পত্তি বন্টিত হবে।' কিন্তু বান্দা তার বাধা অগ্রাহ্য করে এবং জিহাদ করে।
সুতরাং যে এমনটি করে, সে আল্লাহর কাছে এ অধিকার পায় যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যে নিহত হয়, সে আল্লাহর কাছে এ অধিকার পায় যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যে ডুবে মারা যায়, সে আল্লাহর কাছে এ অধিকার পায় যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এবং যাকে তার সওয়ারী আছাড় মেরে ফেলে হত্যা করে, সেও আল্লাহর কাছে এ অধিকার পায় যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"¹⁶¹ শয়তান যে এমন আচরণ করে, তার সমর্থন রয়েছে আল্লাহর কিতাবে উল্লিখিত তার কৃত প্রতিজ্ঞায়,
قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ - ثُمَّ لَآ تِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ
সে বলল, 'যাদের কারণে তুমি আমাকে ভ্রষ্ট করলে, আমিও তাদের জন্য তোমার সরল পথে নিশ্চয় ওঁৎ পেতে থাকব; অতঃপর আমি অবশ্যই তাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, ডান ও বাম দিক হতে তাদের নিকট আসব এবং তুমি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবে না।'¹⁶²
মহান আল্লাহর সরল পথ কী? ইবনে আব্বাস বলেছেন, 'তা হল স্পষ্ট দ্বীন।' ইবনে মাসউদ বলেছেন, 'তা হল আল্লাহর কিতাব।' জাবের বলেছেন, 'তা হল ইসলাম।' মুজাহিদ বলেছেন, 'তা হল হকপথ।'
সে যাই হোক, শয়তান প্রত্যেক পথে ওঁৎ পেতে বসে থাকে এবং মানুষকে সে পথে চলতে বাধা দান করে।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন, একদা রসূল স্বহস্তে একটি (সরল) রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন, "এটা আল্লাহর সরল পথ।” তারপর ঐ রেখাটির ডানে ও বামে আরো অনেক রেখা টেনে বললেন, "এই হচ্ছে বিভিন্ন পথ; যার প্রত্যেকটির উপর রয়েছে শয়তান, যে ঐ পথের দিকে আহ্বান করে (দাওয়াত দিতে) থাকে।” অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন-
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থাৎ, নিশ্চয় এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং এরই অনুসরণ কর ও বিভিন্ন পথের অনুসরণ করো না। করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দান করেছেন যেন তোমরা সাবধান হও। ¹⁶³
টিকাঃ
১৬১. নাসাঈ মাঘ. হা/২৯৩৭, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা মাশা. হা/২৯৭৯
১৬২. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:১৬-১৭
১৬৩. সূরা আনআম-৬:১৫৩, আহমাদ, হাকেম, মিশকাত হাএ. হা/১/৫৯