📄 তার দূরবর্তী লক্ষ্য
শয়তানের প্রধান ও দূরবর্তী মাত্র একটাই লক্ষ্য আছে, আর তা হল পথ ভুলিয়ে পরিশেষে মানুষকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া। মহান আল্লাহ বলেছেন,
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ
“শয়তান তোমাদের শত্রু; সুতরাং তাকে শত্রু হিসাবেই গ্রহণ কর। সে তো তার দলবলকে এ জন্য আহবান করে যে, ওরা যেন জাহান্নামী হয়।” ¹⁵³
টিকাঃ
১৫৩. সূরা ফাত্বির-৩৫:৬
📄 তার নিকটবর্তী লক্ষ্য
দূরবর্তী লক্ষ্য পূরণের জন্য তার বহু নিকটবর্তী লক্ষ্য আছে। যেমন-
১। মানুষকে শির্ক ও কুফরীতে নিপতিত করা।
২। মানুষকে পাপ ও অবাধ্যাচরণে লিপ্ত করা।
৩। বিদআতে আলিঙ্গন করা
৪। আল্লাহর আনুগত্য করতে বাধা দেওয়া
৫। ইবাদত নষ্ট করা
৬। মানুষকে শারীরিক ও মানসিক কষ্টদান
📄 মানুষকে শির্ক ও কুফরীতে নিপতিত করা
এর জন্য সে নানাভাবে মানুষকে দাওয়াত দিতে থাকে। মানুষকে প্রতিপালক আল্লাহ, তাঁর রসূল ও শরীয়ত সম্বন্ধে সন্দিহান করে কুফরীতে আলিপ্ত করে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ
"(ওরা) শয়তানের মতো, যে মানুষকে বলে, 'কুফরী কর।' অতঃপর যখন সে কুফরী করে, তখন শয়তান বলে, 'তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, নিশ্চয় আমি বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।”¹⁵⁴ ইয়ায বিন হিমার কর্তৃক বর্ণিত, একদা নবী খুতবা দিয়ে বললেন,
أَلَا إِنَّ رَبِّي أَمَرَنِي أَنْ أُعَلَّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا، كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلَالٌ، وَإِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتَهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلُ بِهِ سُلْطَانًا
"শোনো! নিশ্চয় আমার প্রতিপালক আমাকে আদেশ করেছেন যে, তিনি আমাকে আজকের দিন যা শিখিয়েছেন, তা হতে আমি তোমাদেরকে তা শিক্ষা দিই, যা তোমাদের অজানা। (তিনি বলেছেন,) প্রত্যেক সেই সম্পদ যা আমি কোন বান্দাকে দান করেছি, তা তার জন্য হালাল। (সে নিজে তা হারাম করতে পারে না।) নিশ্চয় আমি আমার সকল বান্দাগণকে একনিষ্ঠরূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শয়তানদল এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন হতে পথভ্রষ্ট করেছে। তাদের জন্য তা হারাম করেছে, যা আমি তাদের জন্য হালাল করেছি এবং তাদেরকে আদেশ করেছে, যাতে তারা সেই জিনিসকে আমার সাথে শরীক করে, যার কোন প্রমাণ আমি অবতীর্ণ করিনি। "¹⁵⁵
টিকাঃ
১৫৪. সূরা হাশর-৫৯ ১৬
১৫৫. মুসলিম মাশা. হা/৭৩৮৬
📄 বিদআতে লিপ্ত করা
শয়তান যখন মু'মিনকে আল্লাহর ইবাদতে বাধা দিতে সক্ষম হয় না, তখন তার ইবাদতকেই নষ্ট করার চেষ্টা করে। হয় তাতে 'রিয়া' (লোকপ্রদর্শন) ঢুকিয়ে দেয়, না হয় তাতে বিদআত প্রবিষ্ট করে। আর তার কাছে পাপের চাইতে বিদআতই বেশি পছন্দনীয়। যেহেতু তাতে ক্ষতি হয় দ্বীনের। সুফিয়ান সওরী বলেছেন, 'ইবলীসের নিকট পাপ অপেক্ষা বিদআত বেশি পছন্দনীয়। যেহেতু পাপ থেকে তওবা (আশা) করা যায়। কিন্তু বিদআত থেকে তওবার (আশা) করা যায় না। ¹⁶⁰
যেহেতু বিদআতী বিদআত করে ইবাদত মনে করেই। তাহলে সে তওবা করবে কেন?
টিকাঃ
১৬০. ই'তিক্বাদু আহলিস সুন্নাহ ২৩৮