📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তান থেকে রহমানের সতর্কবার্তা

📄 শয়তান থেকে রহমানের সতর্কবার্তা


কুরআন কারীমে মহান আল্লাহ আমাদেরকে বহুবার শয়তান সম্বন্ধে সতর্ক করেছেন। যেহেতু তার ফিতনা বিশাল, বিভ্রান্ত ও ভ্রষ্ট করতে সে বড় সুদক্ষ, তার সেই একমাত্র কাজে নিরলস তার প্রচেষ্টা। সে মানুষের প্রকাশ শত্রু, অথচ সম্মুখ সমরে তাকে দেখা যায় না। শত্রুতা করার সময়েও অতি সহজে তা বুঝা যায় না। মানব মনের মণিকোঠায় অনুপ্রবেশ করে এবং গোপনে ফুস্মন্ত্র দিয়ে কেটে পড়ে! মহান আল্লাহ বলেছেন,

يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَاتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاء لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ

“হে আদমের সন্তানগণ! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ফিতনায় জড়িত না করে; যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে (ফিতনায় জড়িত করে) জান্নাত হতে বহিষ্কৃত করেছিল, তাদের লজ্জাস্থান তাদেরকে দেখাবার জন্য বিবস্ত্র করে ফেলেছিল। নিশ্চয় সে নিজে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমন স্থান হতে দেখে থাকে যে, তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। যারা বিশ্বাস করে না, শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক (বন্ধু) করেছি।”¹⁴⁹

إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ

“শয়তান তোমাদের শত্রু; সুতরাং তাকে শত্রু হিসাবেই গ্রহণ কর। সে তো তার দলবলকে এ জন্য আহবান করে যে, ওরা যেন জাহান্নামী হয়।”¹⁵⁰

وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا

“যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”¹⁵¹ শয়তানের এ শত্রুতা যেমন আদি, তেমনি চিরন্তন। কারণ সে জানে, তার বিতাড়িত ও অভিশপ্ত হওয়া এবং জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার একমাত্র কারণ হল আমাদের পিতা আদম (আঃ)। তাই যথাসাধ্য সে বদলা নেবে আমাদের নিকট থেকে। সে সময়ই সে বলেছিল,

أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلاً

'বল, এই যাকে তুমি আমার উপর মর্যাদা দান করলে, কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দাও, তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ছাড়া তার বংশধরকে অবশ্যই আয়ত্তে করে নেব।' ¹⁵²

কিন্তু বহু মানুষ আছে, যারা নিজেদের আত্মা ও মনের নানা মন্দ দিক জানে, অথচ শৈথিল্য প্রদর্শন করে তাদের চরম শত্রুর পরিচয় জানতে। শত্রু সম্বন্ধে উদাসীন থাকলে অতর্কিতে আক্রমণ তো হতেই পারে।

টিকাঃ
১৪৯. সূরা আল আ'রাফ-৭:২৭
১৫০. সূরা ফাত্বির-৩৫:৬
১৫১. সূরা আন নিসা-৪:১১৯
১৫২. সূরা বানী ইসরাঈল-১৭:৬২

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শেষ কথা

📄 শেষ কথা


জ্ঞানী মানুষরা ধ্বংসোন্মুখ লোকেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখে ধোঁকা খায় না। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা আল্লাহর কাছে ভালো-মন্দের কোন নিক্তি নয়। তাঁর কাছে নিক্তি হল হক, যদিও তার অনুসারী সংখ্যালঘু হয়।
সুতরাং আপনি হকপন্থীদের দলভুক্ত হন, যারা প্রতিপালক ও উপাস্য হিসাবে আল্লাহতে, নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মাদ , দ্বীন হিসাবে ইসলামে এবং দলীল হিসাবে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহতে সন্তুষ্ট। যারা শয়তানকে চেনে এবং চেনে তার অনুসারীবর্গকে। অতঃপর সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে দলীল ও প্রমাণ দ্বারা, তরবারি ও শক্তি দ্বারা। তবে সবার আগে মহান আল্লাহর উপর ভরসা, তাঁর নিকট সকাতর প্রার্থনা এবং তাঁর দ্বীনের অনুসরণ দ্বারা সাহায্য নেয়।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ - فَإِن زَلَلْتُمْ مِّن بَعْدِ مَا جَاءتُكُمُ الْبَيِّنَاتُ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
“হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। অতঃপর প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে, তবে জেনে রাখ যে, আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়। " ৪৪৩
মহান আল্লাহর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, তিনি যেন আমাদেরকে তাদের দলে শামিল হওয়ার তওফীক দান করেন, যারা ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করেছে এবং শয়তানের পদাঙ্কানুসরণ করে না। আমীন।
وصلى الله وسلم على عبده ورسوله محمد ، وعلى آله وصحبه وسلم

টিকাঃ
৪৪o. সূরা আল বাক্বারাহ-২:২০৮-২০৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00