📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 মানুষকে মঙ্গলের প্রতি জ্বিনদের আহবান

📄 মানুষকে মঙ্গলের প্রতি জ্বিনদের আহবান


হাদীসে এসেছে যে, মানুষের হিদায়াতে কিছু জ্বিনদের ভূমিকা ছিল। একদা উমার এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, যে জাহেলী যুগে গণক ছিল, 'তোমার জিন্নিয়াহ যে সব কথা বা ঘটনা তোমার কাছে আনয়ন করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিস্ময়কর কী ছিল?' সে বলল, 'আমি একদিন বাজারে ছিলাম। তখন সে আমার নিকট এল, আর তার মধ্যে ত্রাস ছিল। সে বলল,

أَلَمْ تَرَ الْجِنَّ وَإِبْلَاسَهَا وَيَأْسَهَا مِنْ بَعْدِ إِنْكَاسِهَا وَخُوقَهَا بِالْقِلَاصِ وَأَحْلَاسِهَا

'তুমি কি জ্বিনদের নৈরাশ্য, স্বস্তির পরে তাদের হতাশা এবং যুবতী উটনী ও তার জিনপোশের সাথে তাদের (মদীনায়) মিলিত হওয়া দেখতে পাওনি?'

(অর্থাৎ, তারা এক সময় স্বস্তির সাথে আসমানের খবর শুনত। এখন তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়। ফলে তারা নিরাশ হয়ে গেছে এবং তারা মদীনার দিকে নবী এর প্রতি যাত্রা শুরু করেছে।)

উমার বলেন, ও ঠিকই বলেছে। আমি একদিন ওদের দেবতাদের কাছে ঘুমিয়ে ছিলাম। ইত্যবসরে একটি লোক একটি বাছুর গরু নিয়ে এসে যবেহ করল। এমন সময় একজনের এমন চিৎকার-ধ্বনি শুনতে পেলাম, ইতিপূর্বে তার চাইতে বিকট চিৎকার আমি কখনও শুনিনি। সে বলল,

يَا جَلِيحُ أَمْرٌ نَجِيحُ رَجُلٌ فَصِيحُ يَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

“ওহে জালীহ! একটি সফল ব্যাপার সত্বর সংঘটিত হবে, একজন বাগ্মী বলবেন, 'আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার উপাস্য নেই।" এ কথা শুনে লোকেরা লাফিয়ে উঠল। আমি বললাম, 'এ ঘোষণার রহস্য জানার অপেক্ষায় থাকব।' অতঃপর আবার ঘোষণা দিল, “ওহে জালীহ! একটি সফল ব্যাপার সত্বর সংঘটিত হবে, একজন বাগ্মী বলবেন, 'আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার উপাস্য নেই।" অতঃপর আমি উঠে দাঁড়ালাম। তারপর কিছুদিন অপেক্ষা করতেই, বলা হল, 'ইনিই নবী। '¹³⁹ যে বাছুর যবেহ করা হয়েছিল, সেই বাছুর থেকেই কোন জ্বিন এ ঘোষণা দিয়েছিল। তা শুনেছিলেন উমার। বলা হয়, তাঁর ইসলামের গ্রহণের এটাও একটা কারণ। কোন কোন বর্ণনা মতে এ ঘোষণা শুনেছিল ঐ জাহেলী যুগের গণক। তার নাম ছিল সাওয়াদ বিন কারেব।

টিকাঃ
১৩৯. বুখারী ইফা, হা/৩৫৮৪, আপ্র. হা/৩৫৭৯, তাও. হা/৩৮৬৬

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 মানুষের জন্য জ্বিনদের সাক্ষ্য

📄 মানুষের জন্য জ্বিনদের সাক্ষ্য


আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে স্বা'স্বাআহ হতে বর্ণিত, একদা আবু সাঈদ খুদরী তাঁকে বললেন, 'আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি ছাগল ও মরুভূমি ভালবাসো। সুতরাং তুমি যখন তোমার ছাগলে বা মরুভূমিতে থাকবে আর স্বলাতের জন্য আযান দেবে, তখন উচ্চ স্বরে আযান দিয়ো। কারণ মুআযযিনের আযান ধ্বনি যতদূর পর্যন্ত মানব-দানব ও অন্যান্য বস্তু শুনতে পাবে, কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য সাক্ষ্য দেবে।' আবু সাঈদ বলেন, 'আমি এটি আল্লাহর রসূল এর নিকট শুনেছি। ¹⁴⁰ উক্ত হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, আযান শুনে মুআযযিনের জন্য কিয়ামতে জ্বিনেরা সাক্ষ্য দেবে।

টিকাঃ
১৪০. বুখারী ইফা. হা/৫৮২, আপ্র. হা/৫৭৪, তাও. হা/৬০৯

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 ভালো-মন্দে তাদের ভিন্ন ভিন্ন স্তর

📄 ভালো-মন্দে তাদের ভিন্ন ভিন্ন স্তর


জ্বিনেদের মধ্যে অনেকে আছে, যারা পরিপূর্ণ দ্বীনদার, নেক ও ভালো লোক। কেউ তাদের থেকে কম দর্জার, কেউ নির্বোধ ও উদাস। তাদের কেউ কাফের, বরং কাফেদের সংখ্যাই বেশি। এ কথা মু'মিন জ্বিনেরা নিজেরাই স্বীকার করেছে। তারা বলেছে,

وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا

"আমাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক এর ব্যতিক্রম, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী। "¹⁴¹

অর্থাৎ, তাদের মধ্যে অনেকে আছে পরিপূর্ণ সৎ লোক, অনেকে আছে অসম্পূর্ণ নেক লোক। তাদের বিভিন্ন শ্রেণীভেদ আছে। মানুষের মতোই তাদেরও অবস্থা। তারা আরো বলেছিল,

وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُوْلَئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا - وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا

"আমাদের কতক আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) এবং কতক সীমালংঘনকারী; সুতরাং যারা আত্মসমর্পণ করে (মুসলমান হয়), তারা নিঃসন্দেহে সত্য পথ বেছে নেয়। অপর পক্ষে সীমালংঘনকারীরা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন। "¹⁴²

অর্থাৎ, তাদের মধ্যে মুসলমান আছে এবং সীমালংঘনকারী কাফেরও আছে। আর উভয়ের পরিণাম খুব স্পষ্ট।

টিকাঃ
১৪১. সূরা জ্বিন-৭২:১১
১৪২. সূরা জ্বিন-৭২:১৪-১৫

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিনদের প্রকৃতি

📄 জ্বিনদের প্রকৃতি


জ্বিনদের ভিতরে ইচ্ছাশক্তি আছে, তারা ঈমান আনতে পারে, কুফরীও করতে পারে। তাদের সে শক্তি পরিবর্তনশীলও। সুতরাং ইবলীস এক সময় বড় আবেদ থেকে ফিরিস্তার দলে শামিল ছিল। অতঃপর সে মহান আল্লাহর আদেশ লংঘন করে কাফের হয়ে গেল।

সে যখন কাফের হয়ে গেল, কুফরী নিয়ে তুষ্ট হল, মন্দপ্রিয় ও মন্দপ্রার্থী হল, তখন সে নিজ কুকর্ম ও তার প্রতি দাওয়াত দ্বারা তৃপ্তি অনুভব করতে লাগল। মনের নোংরামি দরুন সর্বতোভাবে নিজের কুকর্মে ব্রতী থাকল; যদিও তা শাস্তিযোগ্য কর্ম। তার মন যেন বলে, আমি মরেছি, যার জন্য মরেছি তাকে না পারলে তার বংশধরকে যথাসাধ্য মেরে ছাড়ব। আমি জাহান্নামে যাব, তাদেরকে নিয়েই যাব। সে প্রতিপালকের সামনে প্রতিজ্ঞা করল,

قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ - إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ

"বলল, 'তোমার ক্ষমতার শপথ! আমি অবশ্যই ওদের সকলকেই বিভ্রান্ত করব, তবে ওদের মধ্যে তোমার খাঁটি দাসদেরকে নয়। ¹⁴³

এইরূপ মানুষের মনও। যখন তা নোংরা হয়ে যায় এবং মেজাজ পাল্টে যায়, তখন সেই জিনিস তার আকাঙ্ক্ষিত হয়, যা তার জন্য অপকারী। সেই জিনিস পেয়ে সে পরম তৃপ্তিলাভ করে। বরং সে তা এত ভালোবাসে যে, তা এক সময় তার ঈমান, জ্ঞান, দেহ, চরিত্র ও সম্পদকে ধ্বংস করে ফেলে। আমরা মদ্য ও ধূমপায়ীদের অবস্থা সমীক্ষা করে দেখতে পারি। কেমন ঐ জিনিস দুটি তার আসক্তিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর করে, অথচ সে তা পান করে পরিতৃপ্ত হয় এবং তা বর্জন করতে সহজে সক্ষম হয় না।

টিকাঃ
১৪৩. সূরা সোয়া-দ-৩৮৮২-৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00