📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 নবী ﷺ এর কাছে আগত জ্বিনদের প্রতিনিধি-দল

📄 নবী ﷺ এর কাছে আগত জ্বিনদের প্রতিনিধি-দল


পূর্বোক্ত ঘটনা ছিল মুহাম্মাদী রিসালতের সাথে জ্বিনদের পরিচয়ের প্রথম পর্ব। তারা রসূল এর অজান্তে কুরআন শুনে ঈমান এনে হিদায়াতকারী দাঈ হয়ে ফিরে গিয়েছিল।

অতঃপর জ্বিনদের বিভিন্ন প্রতিনিধি দল তাঁর নিকট ইল্ম শিক্ষার জন্য এসেছিল। তিনি তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিয়েছিলেন, তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনিয়েছিলেন এবং আসমানী অহীর কথা বলেছিলেন। আর এটা ছিল হিজরতের পূর্বে মক্কায়।

আমের বলেন, আমি আলকামাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনে মাসউদ কি জ্বিনের রাত্রে রসূলুল্লাহ এর সঙ্গে ছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞাসা করেছি, আপনাদের কেউ কি জ্বিনের রাত্রে রসূলুল্লাহ এর সঙ্গে ছিলেন? তিনি বললেন, 'না। তবে এক রাত্রে রসূলুল্লাহ কে আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সুতরাং আমরা তাঁকে উপত্যকা ও গিরিপথে খুঁজে বেড়াতে লাগলাম। বলতে লাগলাম, 'তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আততায়ী দ্বারা খুন করা হয়েছে।' আমরা সম্প্রদায়ের একটি মন্দতম রাত্রি অতিবাহিত করলাম। সকাল হলে তিনি হিরার দিক থেকে আগমন করলেন। অতঃপর আমরা তাঁকে বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে হারিয়ে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সম্প্রদায়ের একটি মন্দতম রাত্রি অতিবাহিত করলাম।' তিনি বললেন, "আমার কাছে এক জ্বিনের আহবায়ক এসেছিল। আমি তার সঙ্গে গিয়ে তাদের কাছে কুরআন পড়লাম।" অতঃপর তিনি আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন চিহ্ন ও তাদের আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাঁর নিকট খাদ্য চেয়েছিল। তিনি বলেছিলেন,

لَكُمْ كُلُّ عَظْمٍ ذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ يَقَعُ فِي أَيْدِيكُمْ أَوْفَرَ مَا يَكُونُ لَحْمًا وَكُلُّ بَعَرَةٍ عَلَفٌ لِدَوَابِّكُمْ

"আল্লাহর নাম উল্লেখ করে যে কোন হাড্ডির উপর তোমাদের হাত পড়বে, তা তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত গোস্ত্রে পরিণত হবে। আর প্রত্যেক গোবর হবে তোমাদের পশুখাদ্য।"

অতঃপর তিনি বললেন, "সুতরাং তোমরা ঐ দুটি জিনিস দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে না। কারণ তা তোমাদের (জ্বিন) ভাইদের খাদ্য। "¹³⁷

একদা নবী সাহাবীদের নিকট সূরা রহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। সাহাবীগণ নীরব বসে তেলাঅত শুনছিলেন। তিনি বললেন, "যে রাত্রে আমার নিকট জিনের দল আসে, সে রাত্রে আমি উক্ত সূরা ওদের নিকট পাঠ করলে ওরা সুন্দর জওয়াব দিচ্ছিল। যখনই আমি পাঠ করছিলাম,

فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

(অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার কর?) তখনই তারাও এর জওয়াবে বলছিল,

لا بِشَيْءٍ مِّنْ نِّعَمِكَ رَبّنَا نُكَذِّبُ، فَلَكَ الْحَمْدُ

অর্থাৎ, তোমার নেয়ামতসমূহের কোন কিছুকেই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রতিপালক! ¹³⁸ কেবল একটি রাত্রি নয়, একাধিক রাত্রিতে নবী এর কাছে জ্বিনদের প্রতিনিধিদল এসেছে এবং দ্বীনের দীক্ষা ও শিক্ষা গ্রহণ করেছে।

টিকাঃ
১৩৭. মুসলিম মাশা. হা/১০৩৫
১৩৮. তিরমিযী, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা মাশা. হা/২১৫০

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 মানুষকে মঙ্গলের প্রতি জ্বিনদের আহবান

📄 মানুষকে মঙ্গলের প্রতি জ্বিনদের আহবান


হাদীসে এসেছে যে, মানুষের হিদায়াতে কিছু জ্বিনদের ভূমিকা ছিল। একদা উমার এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, যে জাহেলী যুগে গণক ছিল, 'তোমার জিন্নিয়াহ যে সব কথা বা ঘটনা তোমার কাছে আনয়ন করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিস্ময়কর কী ছিল?' সে বলল, 'আমি একদিন বাজারে ছিলাম। তখন সে আমার নিকট এল, আর তার মধ্যে ত্রাস ছিল। সে বলল,

أَلَمْ تَرَ الْجِنَّ وَإِبْلَاسَهَا وَيَأْسَهَا مِنْ بَعْدِ إِنْكَاسِهَا وَخُوقَهَا بِالْقِلَاصِ وَأَحْلَاسِهَا

'তুমি কি জ্বিনদের নৈরাশ্য, স্বস্তির পরে তাদের হতাশা এবং যুবতী উটনী ও তার জিনপোশের সাথে তাদের (মদীনায়) মিলিত হওয়া দেখতে পাওনি?'

(অর্থাৎ, তারা এক সময় স্বস্তির সাথে আসমানের খবর শুনত। এখন তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়। ফলে তারা নিরাশ হয়ে গেছে এবং তারা মদীনার দিকে নবী এর প্রতি যাত্রা শুরু করেছে।)

উমার বলেন, ও ঠিকই বলেছে। আমি একদিন ওদের দেবতাদের কাছে ঘুমিয়ে ছিলাম। ইত্যবসরে একটি লোক একটি বাছুর গরু নিয়ে এসে যবেহ করল। এমন সময় একজনের এমন চিৎকার-ধ্বনি শুনতে পেলাম, ইতিপূর্বে তার চাইতে বিকট চিৎকার আমি কখনও শুনিনি। সে বলল,

يَا جَلِيحُ أَمْرٌ نَجِيحُ رَجُلٌ فَصِيحُ يَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

“ওহে জালীহ! একটি সফল ব্যাপার সত্বর সংঘটিত হবে, একজন বাগ্মী বলবেন, 'আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার উপাস্য নেই।" এ কথা শুনে লোকেরা লাফিয়ে উঠল। আমি বললাম, 'এ ঘোষণার রহস্য জানার অপেক্ষায় থাকব।' অতঃপর আবার ঘোষণা দিল, “ওহে জালীহ! একটি সফল ব্যাপার সত্বর সংঘটিত হবে, একজন বাগ্মী বলবেন, 'আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার উপাস্য নেই।" অতঃপর আমি উঠে দাঁড়ালাম। তারপর কিছুদিন অপেক্ষা করতেই, বলা হল, 'ইনিই নবী। '¹³⁹ যে বাছুর যবেহ করা হয়েছিল, সেই বাছুর থেকেই কোন জ্বিন এ ঘোষণা দিয়েছিল। তা শুনেছিলেন উমার। বলা হয়, তাঁর ইসলামের গ্রহণের এটাও একটা কারণ। কোন কোন বর্ণনা মতে এ ঘোষণা শুনেছিল ঐ জাহেলী যুগের গণক। তার নাম ছিল সাওয়াদ বিন কারেব।

টিকাঃ
১৩৯. বুখারী ইফা, হা/৩৫৮৪, আপ্র. হা/৩৫৭৯, তাও. হা/৩৮৬৬

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 মানুষের জন্য জ্বিনদের সাক্ষ্য

📄 মানুষের জন্য জ্বিনদের সাক্ষ্য


আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে স্বা'স্বাআহ হতে বর্ণিত, একদা আবু সাঈদ খুদরী তাঁকে বললেন, 'আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি ছাগল ও মরুভূমি ভালবাসো। সুতরাং তুমি যখন তোমার ছাগলে বা মরুভূমিতে থাকবে আর স্বলাতের জন্য আযান দেবে, তখন উচ্চ স্বরে আযান দিয়ো। কারণ মুআযযিনের আযান ধ্বনি যতদূর পর্যন্ত মানব-দানব ও অন্যান্য বস্তু শুনতে পাবে, কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য সাক্ষ্য দেবে।' আবু সাঈদ বলেন, 'আমি এটি আল্লাহর রসূল এর নিকট শুনেছি। ¹⁴⁰ উক্ত হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, আযান শুনে মুআযযিনের জন্য কিয়ামতে জ্বিনেরা সাক্ষ্য দেবে।

টিকাঃ
১৪০. বুখারী ইফা. হা/৫৮২, আপ্র. হা/৫৭৪, তাও. হা/৬০৯

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 ভালো-মন্দে তাদের ভিন্ন ভিন্ন স্তর

📄 ভালো-মন্দে তাদের ভিন্ন ভিন্ন স্তর


জ্বিনেদের মধ্যে অনেকে আছে, যারা পরিপূর্ণ দ্বীনদার, নেক ও ভালো লোক। কেউ তাদের থেকে কম দর্জার, কেউ নির্বোধ ও উদাস। তাদের কেউ কাফের, বরং কাফেদের সংখ্যাই বেশি। এ কথা মু'মিন জ্বিনেরা নিজেরাই স্বীকার করেছে। তারা বলেছে,

وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا

"আমাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক এর ব্যতিক্রম, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী। "¹⁴¹

অর্থাৎ, তাদের মধ্যে অনেকে আছে পরিপূর্ণ সৎ লোক, অনেকে আছে অসম্পূর্ণ নেক লোক। তাদের বিভিন্ন শ্রেণীভেদ আছে। মানুষের মতোই তাদেরও অবস্থা। তারা আরো বলেছিল,

وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُوْلَئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا - وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا

"আমাদের কতক আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) এবং কতক সীমালংঘনকারী; সুতরাং যারা আত্মসমর্পণ করে (মুসলমান হয়), তারা নিঃসন্দেহে সত্য পথ বেছে নেয়। অপর পক্ষে সীমালংঘনকারীরা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন। "¹⁴²

অর্থাৎ, তাদের মধ্যে মুসলমান আছে এবং সীমালংঘনকারী কাফেরও আছে। আর উভয়ের পরিণাম খুব স্পষ্ট।

টিকাঃ
১৪১. সূরা জ্বিন-৭২:১১
১৪২. সূরা জ্বিন-৭২:১৪-১৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00