📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিনদের প্রতি প্রেরিত নবী-রসূল

📄 জ্বিনদের প্রতি প্রেরিত নবী-রসূল


জ্বিন জাতি শরীয়তের ভারপ্রাপ্ত হলে নিশ্চয় তাদের প্রতি মহান আল্লাহ নবী-রসূল প্রেরণ করেছেন, তাঁদের মাধ্যমে তিনি নিজ অহী পৌঁছেছেন এবং তাদের উপর হুজ্জত কায়েম করেছেন।

তা যদি হয়, তাহলে সেই নবী-রসূল কি তাদেরই জাতিভুক্ত ছিলেন, নাকি মনুষ্য জাতির নবী-রসূলই তাদের জন্যও প্রেরিত হয়েছিলেন? মহান আল্লাহ কিয়ামতে বলবেন,

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإِنسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَاء يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ

“হে জিন ও মানব-সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য হতে কি রসূলগণ তোমাদের নিকট আসেনি, যারা আমার নিদর্শন তোমাদের নিকট বিবৃত করত এবং তোমাদেরকে এদিনের সম্মুখীন হওয়া সম্বন্ধে সতর্ক করত?' ওরা বলবে, 'আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করলাম।' বস্তুতঃ পার্থিব জীবন ওদেরকে প্রতারিত করেছিল। আর ওরা যে অবিশ্বাসী (কাফের) ছিল এটিও ওরা স্বীকার করবে।”¹²⁹

মহান আল্লাহর উক্ত বাণী এ কথার দলীল যে, তাদের প্রতি রসূল প্রেরিত হয়েছেন। তবে তাতে এ কথার স্পষ্টতা নেই যে, সে রসূল জ্বিন জাতিভুক্ত ছিলেন, নাকি মনুষ্য জাতিভুক্ত? যেহেতু 'মিনকুম' শব্দ থেকে উভয়ই বুঝা যেতে পারে। এমনও হতে পারে যে, প্রত্যেক জাতির মধ্যে নিজ নিজ জাতির কেউ রসূল হয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন। আবার এমনও হতে পারে যে, কেবল মানুষের মধ্য থেকে রসূল প্রেরিত হয়েছেন উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে। এ বিষয়ে উলামাগণের দুটি মত রয়েছে:

১। জ্বিনদের প্রতি তাদেরই জাতিভুক্ত রসূল প্রেরিত হয়েছেন। এই মতের সপক্ষে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে য়াহ্হাক একজন। ইবনুল জাওযী বলেছেন, '(উক্ত আয়াতের) বাহ্যিক-উক্তি তাই।' ইবনে হায্য বলেছেন, 'মুহাম্মাদ এর পূর্বে জ্বিন জাতির প্রতি কখনই কোন মানুষকে নবীরূপে পাঠানো হয়নি।'

২। জ্বিনদের প্রতি রসূল মনুষ্য জাতিভুক্ত ছিলেন।

সুয়ূতী বলেছেন, 'পূর্ব ও পরবর্তী অধিকাংশ উলামার মতে জ্বিনদের মধ্য থেকে কোন নবী-রসূল ছিলেন না। এ কথা ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, কাল্বী ও আবু উবাইদ থেকে বর্ণিত। ¹³⁰ মানুষের প্রতি প্রেরিত নবী-রসূলই জ্বিনদের নবী-রসূল, এ মতকে সমর্থন করে কুরআন শোনার পর জ্বিনদের এই উক্তি,

يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُّسْتَقِيمٍ

“হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাবের পাঠ শ্রবণ করেছি, যা অবতীর্ণ করা হয়েছে মূসার পরে, তা ওর পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারীরূপে, তা সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে। "¹³¹ কিন্তু এ উক্তি বিতর্কিত বিষয়ে স্পষ্ট সমাধান নয়। তাছাড়া আরো একটা প্রশ্ন থেকে যায় যে, মানুষ সৃষ্টির পূর্বে কি তাহলে তাদের প্রতি কোন নবী-রসূল প্রেরিত হননি? আসলে বিষয়টি এমন, যা কোন আমলের ভিত্তি নয় এবং তার উপর কোন অকাট্য দলীলও নেই।

টিকাঃ
১২৯. সূরা আল আন'আম-৬:১৩০
১৩০. লুক্বাতুল মারজান ৭৩পৃঃ
১৩১. সূরা আহকাফ-৪৬:৩০

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 মুহাম্মাদ ﷺ এর রিসালাতের সার্বজনীনতা

📄 মুহাম্মাদ ﷺ এর রিসালাতের সার্বজনীনতা


সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সারা বিশ্বের সকল মানব-দানবের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, এ কথায় মুসলিমদের কারো মাঝে কোন মতভেদ নেই। এ কথার প্রমাণও একাধিক। মহান আল্লাহ কুরআন দ্বারা জ্বিন ও ইনসান উভয় জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি বলেছেন,

قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَن يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا

অর্থাৎ, বল, 'যদি এই কুরআনের অনুরূপ কুরআন আনয়নের জন্য মানুষ ও জ্বিন সমবেত হয় ও তারা পরস্পরকে সাহায্য করে, তবুও তারা এর অনুরূপ কুরআন আনয়ন করতে পারবে না।'¹³²

কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর তা শ্রবণপূর্বক জ্বিনদের একটি গোষ্ঠী ঈমান আনয়ন করেছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন,

قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا - سورة الجن

"বল, আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে বলেছে, 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি। যা সঠিক পথ-নির্দেশ করে; ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আর আমরা কখনো আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থাপন করব না।”¹³³

এই ঈমান আনয়নকারী জ্বিন দলটির কথাই আলোচিত হয়েছে সূরা আহক্বাফে। সেখানে মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ - قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ - يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرُ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرُكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ - وَمَن لَّا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزِ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء أُوْلَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ - سورة الأحقاف

স্মরণ কর, আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম একদল জ্বিনকে, যারা কুরআন পাঠ শুনছিল, যখন তারা তার (নবীর) নিকট উপস্থিত হল, তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগল, 'চুপ করে শ্রবণ কর।' যখন কুরআন পাঠ সমাপ্ত হল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গেল সতর্ককারীরূপে। তারা বলেছিল, 'হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাবের পাঠ শ্রবণ করেছি, যা অবতীর্ণ করা হয়েছে মূসার পরে, তা ওর পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারীরূপে, তা সত্য ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করে। হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহবানকারীর আহবানে সাড়া দাও এবং তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহ তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে তোমাদেরকে রক্ষা করবেন। কেউ যদি আল্লাহর দিকে আহবানকারীর আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে সে পৃথিবীতে আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যর্থ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না। তারাই সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে। ¹³⁴

জ্বিনদের এই দলটি মনোযোগ সহকারে কুরআন শুনেছিল, ঈমান এনেছিল, অতঃপর নিজেদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গিয়ে তাদেরকে তাওহীদ ও ঈমানের দাওয়াত দিয়েছিল। তাদেরকে ঈমান ও আনুগত্যের বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিল এবং কুফরী ও অবাধ্যতার পরিণামে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করেছিল।

এদেরই কথা বর্ণিত হয়েছে হাদীসে। ইবনে আব্বাস বলেন, একদা নবী সাহাবাগণের একটি দলের সাথে উকায বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। তখন আসমানী খবর ও শয়তানদের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের প্রতি জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হচ্ছে। শয়তানেরা নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এলে তারা বলল, 'কী ব্যাপার তোমাদের?' শয়তানেরা বলল, 'আসমানে আমাদেরকে বাধাপ্রাপ্ত হতে হচ্ছে, আমাদের প্রতি জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হচ্ছে।' তারা বলল, 'তোমাদেরকে আসমানে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার নিশ্চয় কোন নতুন কারণ আছে। সুতরাং পৃথিবীর প্রাচ্য ও প্রতীচ্য ভ্রমণ করে দেখ, কিসে তোমাদেরকে আসমানে বাধাপ্রাপ্ত করছে?'

সুতরাং তাদের যে দলটি তিহামার দিকে যাত্রা করেছিল, তারা রসূল এর প্রতি আকৃষ্ট হল। তিনি তখন উকায বাজারের যাত্রা পথে নাখলা নামক জায়গায় সাহাবাগণকে নিয়ে ফজরের স্বলাত পড়ছিলেন। সুতরাং তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন মনোযোগ সহকারে শুনতে লাগল। অতঃপর বলল, 'এটাই তোমাদেরকে আসমানে বাধাপ্রাপ্ত করছে?' সুতরাং তারা (সেখানে ঈমান এনে) নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল,

إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا - يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا

"আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি। যা সঠিক পথ-নির্দেশ করে; ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আর আমরা কখনো আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থাপন করব না।" ¹³⁵ অতঃপর মহান আল্লাহ নিজ নবীর উপর উক্ত সূরা জ্বিন অবতীর্ণ করলেন। আর তা ছিল জ্বিনদের কথা। ¹³⁶

টিকাঃ
১৩২. সূরা বানী ইসরাঈল-১৭:৮৮
১৩৩. সূরা জ্বিন-৭২:১-২
১৩৪. সূরা আহকাফ-৪৬:২৯-৩২
১৩৫. সূরা জ্বিন-৭২:১-২
১৩৬. বুখারী ইফা, হা/৪৫৫৬, আপ্র. হা/৪৫৫২, তাও. হা/৪৯২১, মুসলিম ম ১০৩৪

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 নবী ﷺ এর কাছে আগত জ্বিনদের প্রতিনিধি-দল

📄 নবী ﷺ এর কাছে আগত জ্বিনদের প্রতিনিধি-দল


পূর্বোক্ত ঘটনা ছিল মুহাম্মাদী রিসালতের সাথে জ্বিনদের পরিচয়ের প্রথম পর্ব। তারা রসূল এর অজান্তে কুরআন শুনে ঈমান এনে হিদায়াতকারী দাঈ হয়ে ফিরে গিয়েছিল।

অতঃপর জ্বিনদের বিভিন্ন প্রতিনিধি দল তাঁর নিকট ইল্ম শিক্ষার জন্য এসেছিল। তিনি তাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিয়েছিলেন, তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনিয়েছিলেন এবং আসমানী অহীর কথা বলেছিলেন। আর এটা ছিল হিজরতের পূর্বে মক্কায়।

আমের বলেন, আমি আলকামাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইবনে মাসউদ কি জ্বিনের রাত্রে রসূলুল্লাহ এর সঙ্গে ছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, আমি ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞাসা করেছি, আপনাদের কেউ কি জ্বিনের রাত্রে রসূলুল্লাহ এর সঙ্গে ছিলেন? তিনি বললেন, 'না। তবে এক রাত্রে রসূলুল্লাহ কে আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সুতরাং আমরা তাঁকে উপত্যকা ও গিরিপথে খুঁজে বেড়াতে লাগলাম। বলতে লাগলাম, 'তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আততায়ী দ্বারা খুন করা হয়েছে।' আমরা সম্প্রদায়ের একটি মন্দতম রাত্রি অতিবাহিত করলাম। সকাল হলে তিনি হিরার দিক থেকে আগমন করলেন। অতঃপর আমরা তাঁকে বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে হারিয়ে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সম্প্রদায়ের একটি মন্দতম রাত্রি অতিবাহিত করলাম।' তিনি বললেন, "আমার কাছে এক জ্বিনের আহবায়ক এসেছিল। আমি তার সঙ্গে গিয়ে তাদের কাছে কুরআন পড়লাম।" অতঃপর তিনি আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন চিহ্ন ও তাদের আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাঁর নিকট খাদ্য চেয়েছিল। তিনি বলেছিলেন,

لَكُمْ كُلُّ عَظْمٍ ذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ يَقَعُ فِي أَيْدِيكُمْ أَوْفَرَ مَا يَكُونُ لَحْمًا وَكُلُّ بَعَرَةٍ عَلَفٌ لِدَوَابِّكُمْ

"আল্লাহর নাম উল্লেখ করে যে কোন হাড্ডির উপর তোমাদের হাত পড়বে, তা তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত গোস্ত্রে পরিণত হবে। আর প্রত্যেক গোবর হবে তোমাদের পশুখাদ্য।"

অতঃপর তিনি বললেন, "সুতরাং তোমরা ঐ দুটি জিনিস দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে না। কারণ তা তোমাদের (জ্বিন) ভাইদের খাদ্য। "¹³⁷

একদা নবী সাহাবীদের নিকট সূরা রহমান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। সাহাবীগণ নীরব বসে তেলাঅত শুনছিলেন। তিনি বললেন, "যে রাত্রে আমার নিকট জিনের দল আসে, সে রাত্রে আমি উক্ত সূরা ওদের নিকট পাঠ করলে ওরা সুন্দর জওয়াব দিচ্ছিল। যখনই আমি পাঠ করছিলাম,

فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

(অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার কর?) তখনই তারাও এর জওয়াবে বলছিল,

لا بِشَيْءٍ مِّنْ نِّعَمِكَ رَبّنَا نُكَذِّبُ، فَلَكَ الْحَمْدُ

অর্থাৎ, তোমার নেয়ামতসমূহের কোন কিছুকেই আমরা অস্বীকার করি না হে আমাদের প্রতিপালক! ¹³⁸ কেবল একটি রাত্রি নয়, একাধিক রাত্রিতে নবী এর কাছে জ্বিনদের প্রতিনিধিদল এসেছে এবং দ্বীনের দীক্ষা ও শিক্ষা গ্রহণ করেছে।

টিকাঃ
১৩৭. মুসলিম মাশা. হা/১০৩৫
১৩৮. তিরমিযী, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা মাশা. হা/২১৫০

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 মানুষকে মঙ্গলের প্রতি জ্বিনদের আহবান

📄 মানুষকে মঙ্গলের প্রতি জ্বিনদের আহবান


হাদীসে এসেছে যে, মানুষের হিদায়াতে কিছু জ্বিনদের ভূমিকা ছিল। একদা উমার এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, যে জাহেলী যুগে গণক ছিল, 'তোমার জিন্নিয়াহ যে সব কথা বা ঘটনা তোমার কাছে আনয়ন করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিস্ময়কর কী ছিল?' সে বলল, 'আমি একদিন বাজারে ছিলাম। তখন সে আমার নিকট এল, আর তার মধ্যে ত্রাস ছিল। সে বলল,

أَلَمْ تَرَ الْجِنَّ وَإِبْلَاسَهَا وَيَأْسَهَا مِنْ بَعْدِ إِنْكَاسِهَا وَخُوقَهَا بِالْقِلَاصِ وَأَحْلَاسِهَا

'তুমি কি জ্বিনদের নৈরাশ্য, স্বস্তির পরে তাদের হতাশা এবং যুবতী উটনী ও তার জিনপোশের সাথে তাদের (মদীনায়) মিলিত হওয়া দেখতে পাওনি?'

(অর্থাৎ, তারা এক সময় স্বস্তির সাথে আসমানের খবর শুনত। এখন তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়। ফলে তারা নিরাশ হয়ে গেছে এবং তারা মদীনার দিকে নবী এর প্রতি যাত্রা শুরু করেছে।)

উমার বলেন, ও ঠিকই বলেছে। আমি একদিন ওদের দেবতাদের কাছে ঘুমিয়ে ছিলাম। ইত্যবসরে একটি লোক একটি বাছুর গরু নিয়ে এসে যবেহ করল। এমন সময় একজনের এমন চিৎকার-ধ্বনি শুনতে পেলাম, ইতিপূর্বে তার চাইতে বিকট চিৎকার আমি কখনও শুনিনি। সে বলল,

يَا جَلِيحُ أَمْرٌ نَجِيحُ رَجُلٌ فَصِيحُ يَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

“ওহে জালীহ! একটি সফল ব্যাপার সত্বর সংঘটিত হবে, একজন বাগ্মী বলবেন, 'আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার উপাস্য নেই।" এ কথা শুনে লোকেরা লাফিয়ে উঠল। আমি বললাম, 'এ ঘোষণার রহস্য জানার অপেক্ষায় থাকব।' অতঃপর আবার ঘোষণা দিল, “ওহে জালীহ! একটি সফল ব্যাপার সত্বর সংঘটিত হবে, একজন বাগ্মী বলবেন, 'আল্লাহ ছাড়া কোন সত্যিকার উপাস্য নেই।" অতঃপর আমি উঠে দাঁড়ালাম। তারপর কিছুদিন অপেক্ষা করতেই, বলা হল, 'ইনিই নবী। '¹³⁹ যে বাছুর যবেহ করা হয়েছিল, সেই বাছুর থেকেই কোন জ্বিন এ ঘোষণা দিয়েছিল। তা শুনেছিলেন উমার। বলা হয়, তাঁর ইসলামের গ্রহণের এটাও একটা কারণ। কোন কোন বর্ণনা মতে এ ঘোষণা শুনেছিল ঐ জাহেলী যুগের গণক। তার নাম ছিল সাওয়াদ বিন কারেব।

টিকাঃ
১৩৯. বুখারী ইফা, হা/৩৫৮৪, আপ্র. হা/৩৫৭৯, তাও. হা/৩৮৬৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00