📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 ষষ্ঠতঃ মহাকাশে তাদের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না

📄 ষষ্ঠতঃ মহাকাশে তাদের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না


যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ - فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّن نَّارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنتَصِرَانِ

“হে জ্বিন ও মানুষ সম্প্রदाय! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি অতিক্রম করতে পার, তাহলে অতিক্রম কর, কিন্তু কোন শক্তি ব্যতিরেকে তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ অনুগ্রহকে মিথ্যাজ্ঞান করবে? তোমাদের উভয়ের প্রতি প্রেরিত হবে অগ্নিশিখা ও ধূমপুঞ্জ (অথবা গলিত তামা), তখন তোমরা প্রতিরোধ করতে পারবে না।”¹¹⁶

টিকাঃ
১১৬. সূরা আর রহমান-৫৫:৩৩-৩৫

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 সপ্তমতঃ আল্লাহর নাম নিয়ে বন্ধ দরজা তারা খুলতে পারে না

📄 সপ্তমতঃ আল্লাহর নাম নিয়ে বন্ধ দরজা তারা খুলতে পারে না


জ্বিনের যত বড়ই ক্ষমতা থাক, আল্লাহর যিক্রের কাছে নেহাতই অক্ষম। নবী বলেন,

إِذَا كَانَ جُنْحُ اللَّيْلِ أَوْ أَمْسَيْتُمْ - فَكُفُوا صِبْيَانَكُمْ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْتَشِرُ حِينَئِذٍ فَإِذَا ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ فَخَلُّوهُمْ وَأَغْلِقُوا الْأَبْوَابَ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَفْتَحُ بَابًا مُغْلَقًا

“সন্ধ্যা হলে শিশুদেরকে বাইরে ছেড়ো না। কারণ ঐ সময় শয়তানদল ছড়িয়ে পড়ে। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তাদেরকে ছেড়ে দাও। (শয়নকালে) সমস্ত দরজা অর্গলবদ্ধ কর এবং (সেই সাথে) আল্লাহর নামের স্মরণ নাও। কারণ, শয়তান বন্ধ দরজা খোলে না।”¹¹⁷ অন্য এক বর্ণনায় আছে, “পাত্র আবৃত কর, মশক বেঁধে দাও, দরজা বন্ধ করে দাও, বাতি নিভিয়ে দাও। যেহেতু শয়তান (বিসমিল্লাহ বলে) বাঁধা মশক খোলে না, বন্ধ দরজা খোলে না এবং ঢাকা পাত্রও খোলে না।”¹¹⁸

টিকাঃ
১১৭. বুখারী ইফা. হা/৩০৬৯, আপ্র, হা/৩০৬০
১১৮. মুসলিম মাশা. হা/৫৩৬৪ ৩৩০৪, মুসলিম মাশা. হা/৫৩৬৮

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিন শরীরের তাৎপর্য তাদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য

📄 জ্বিন শরীরের তাৎপর্য তাদের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য


মহান আল্লাহ মানুষকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই জ্বিনকে সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

"আমি জ্বিন ও ইনসানকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।"¹¹⁹ সুতরাং জ্বিন মহান আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ পালনের ভারপ্রাপ্ত। যে শরীয়তের অনুবর্তী হবে, মহান আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, তাকে বেহেস্তে প্রবেশাধিকার দান করবেন। আর যে তার অবাধ্য হবে, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের বহু উক্তি রয়েছে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ কাফের জ্বিন ও ইনসানকে তিরস্কার করে বলবেন,

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإِنسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَاء يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ

"হে জিন ও মানব-সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য হতে কি রসূলগণ তোমাদের নিকট আসেনি, যারা আমার নিদর্শন তোমাদের নিকট বিবৃত করত এবং তোমাদেরকে এদিনের সম্মুখীন হওয়া সম্বন্ধে সতর্ক করত?' ওরা বলবে, 'আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করলাম।' বস্তুতঃ পার্থিব জীবন ওদেরকে প্রতারিত করেছিল। আর ওরা যে অবিশ্বাসী (কাফের) ছিল এটিও ওরা স্বীকার করবে।"¹²⁰

উক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, জ্বিনের কাছেও আল্লাহর শরীয়ত পৌঁছানো হয়েছে। সতর্ককারী তাদের নিকট এসে সতর্ক করেছে এবং শরীয়তের বাণী পৌঁছে দিয়েছে। তারা জাহান্নামে সাজাপ্রাপ্ত হবে, তার প্রমাণ নিম্নের আয়াতগুলি:

قَالَ ادْخُلُوْا فِیْ اُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ فِی النَّارِ كُلَّمَا دَخَلَتْ اُمَّةٌ لَّعَنَتْ اُخْتَهَا حَتّٰۤى اِذَا ادّٰرَكُوْا فِیْهَا جَمِیْعًا قَالَتْ اُخْرٰٮهُمْ لِاُ وْلٰٮهُمْ رَبَّنَا هٰۤؤُلَاۤءِ اَضَلُّوْنَا فَاٰتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَّلٰكِنْ لَّا تَعْلَمُوْنَ

“আল্লাহ বলবেন, ‘তোমাদের পূর্বে যে জ্বিন ও মানবদল গত হয়েছে তাদের সাথে তোমরা দোযখে প্রবেশ কর।’ যখনই কোন দল তাতে প্রবেশ করবে, তখনই অপর দলকে তারা অভিসম্পাত করবে। পরিশেষে যখন সকলে এতে একত্র হবে, তখন তাদের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! ওরাই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিল, সুতরাং তুমি ওদেরকে দোযখের দ্বিগুণ শাস্তি দাও।’ আল্লাহ বলবেন, ‘প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে; কিন্তু তোমরা জান না।’”¹²¹

وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِیْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ بِهَا وَلَهُمْ اَعْیُنٌ لَّا یُبْصِرُوْنَ بِهَا وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا یَسْمَعُوْنَ بِهَا اُولٰٓئِكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ

“আমি তো বহু জ্বিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চক্ষু আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা দর্শন করে না এবং তাদের কর্ণ আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শ্রবণ করে না। এরা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়; বরং তা অপেক্ষাও অধিক বিভ্রান্ত! তারাই হল উদাসীন।”¹²²

وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَاَمْلَاَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِیْنَ

'আমি জ্বিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবই' তোমার প্রতিপালকের এই বাণী পূর্ণ হবেই। ¹²³

وَلَوْ شِئْنَا لَآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ

"আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সৎপথে পরিচালিত করতাম। কিন্তু আমার এ কথা যথার্থ সত্য, আমি নিশ্চয়ই দানব ও মানব উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।”¹²⁴ মু'মিন জ্বিনরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার দলীল মহান আল্লাহর এই বাণী,

وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

"যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি (জান্নাতের) বাগান। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ অনুগ্রহকে মিথ্যাজ্ঞান করবে?”¹²⁵ এখানে জ্বিন ও ইনসানকে সম্বোধন করে মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর একটি অনুগ্রহ হল, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা তাঁর সম্মুখে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করবে, তিনি তাদেরকে দুটি করে জান্নাত দান করবেন। সুতরাং জ্বিন সম্প্রদায় অন্যান্য জীব-জন্তুর মতো কিয়ামতে মাটিতে পরিণত হবে না।

জ্বিন জাতি শরীয়তের ভারপ্রাপ্ত, যেহেতু কুরআনে শয়তানদের নিন্দা ও অভিশাপ করা হয়েছে। তাদের মন্দ ও অনিষ্টকারিতা থেকে বাঁচার কথা বলা হয়েছে। তাদের জন্য প্রস্তুত আযাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর এ সকল কিছু মহান আল্লাহ তাদের জন্য করবেন, যারা তাঁর আদেশ ও নিষেধ উল্লংঘন করবে, মহাপাপে লিপ্ত হবে, হারাম অমান্য করবে, অথচ তাদের ইচ্ছা ও ক্ষমতায় থাকবে, তারা তা করতে পারে, আবার নাও করতে পারে।

এছাড়া নবী শয়তানদেরকে অভিশাপ দিতেন, তাদের অবস্থা বর্ণনা করতেন, তারা যে মন্দ ও পাপাচরণের প্রতি আহবান করে এবং মানুষের মনে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে, সে সম্বন্ধে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। এ ছাড়া মহান আল্লাহ বলেছেন,

قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا - يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا

"বল, আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে বলেছে, 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি। যা সঠিক পথ-নির্দেশ করে; ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আর আমরা কখনো আমাদের প্রতিপালকের কোন শরীক স্থাপন করব না।"¹²⁶

উক্ত আয়াতদ্বয়, বরং সূরা জ্বিনের আয়াতগুলোতেও এ কথার দলীল রয়েছে যে, তারা শরীয়তের ভারপ্রাপ্ত।

টিকাঃ
১১৯. যারিয়াত: ৫৬
১২০. সূরা আল আন'আম-৬:১৩০
১২১. সূরা আল আ’রাফ-৭:৩৮
১২২. সূরা আল আ’রাফ-৭:১৭৯
১২৩. সূরা হুদ-১১:১১৯
১২৪. সূরা সাজদাহ-৩২:১৩
১২৫. সূরা আর রহমান-৫৫:৪৬-৪৭
১২৬. সূরা জ্বিন-৭২:১-২

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিন আগুন থেকে সৃষ্ট, তাহলে আগুনে শাস্তি পাবে কীভাবে?

📄 জ্বিন আগুন থেকে সৃষ্ট, তাহলে আগুনে শাস্তি পাবে কীভাবে?


অনেকে এ প্রশ্ন করে থাকে যে, জ্বিন যদি আগুন থেকে সৃষ্ট হয়, তাহলে জাহান্নামে গেলে আগুনের আযাবে কষ্ট পাবে কীভাবে? আগুনের তৈরি জিনিস আগুনের উল্কায় কষ্ট পায় কীভাবে?

জ্বিন সৃষ্টির আসল উপাদান হল আগুন। কিন্তু তার মানে এ নয় যে, তার দেহটাই আগুনের; যেখানে স্পর্শ করে আগুন ধরে যায় এবং আগুনে পুড়লে সে কষ্ট পায় না। যেমন মানুষ সৃষ্টির মূল উপাদান হল মাটি। কিন্তু তার দেহ রক্ত-মাংসের। মাটির আঘাতে সে কষ্ট পায়, বরং মাটির আঘাত দ্বারা তাকে হত্যা করা যায় এবং মাটি চাপা দিলে তার দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু আসে। বলা বাহুল্য, মাটির সৃষ্টি হয়েও মানুষ মাটি দ্বারা কষ্ট পায়, অনুরূপ জ্বিনও আগুনের সৃষ্টি হয়েও আগুন দ্বারা জাহান্নামে কষ্ট পাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00