📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ 📄 সুলাইমান (আঃ) এর নামে ইয়াহুদীদের মিথ্যাচারিতা

📄 সুলাইমান (আঃ) এর নামে ইয়াহুদীদের মিথ্যাচারিতা


যারা যাদুকার্যের মাধ্যমে জ্বিন ব্যবহার করে, সেই ইয়াহুদী ও তাদের অনুসারীরা ধারণা করে যে, আল্লাহর নবী সুলাইমান যাদুকার্যের মাধ্যমে জ্বিন ব্যবহার করতেন। অথচ সলফদের একাধিক উলামা উল্লেখ করেছেন যে, সুলাইমান (আঃ) এর ইন্তিকালের পরেই শয়তানরা যাদু ও কুফরীর নানা বই লিখে তাঁর সিংহাসনের নিচে রেখে দিয়েছিল। অতঃপর তারা বলেছিল, এই সবের সাহায্যে সুলাইমান জ্বিনকে নিজ খিদমতে ব্যবহার করতেন। তাদের কেউ কেউ বলল, 'এটা যদি হক ও জায়েয না হতো, তাহলে সুলাইমান তা করতেন না।' কিন্তু মহান আল্লাহ সে কথার খণ্ডন করলেন আল-কুরআনে,

وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاء ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

"যখন আল্লাহর নিকট থেকে একজন রসূল এলেন, যে তাদের নিকট যা (ঐশীগ্রন্থ) আছে তার সত্যায়নকারী, তখন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে পিছনের দিকে ফেলে দিল (অমান্য করল), যেন তারা কিছুই জানে না।”¹¹¹ অতঃপর তারা যে শয়তানী কিতাবের অনুসরণ করেছিল, সে কথা স্পষ্ট করে দিলেন,

وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ

"সুলাইমানের রাজত্বে শয়তানেরা যা আবৃত্তি করত, তারা তা অনুসরণ করত। অথচ সুলাইমান কুফরী করেননি; বরং শয়তানেরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত। "¹¹²

টিকাঃ
১১১. সূরা আল বাক্বারাহ-২:১০১
১১২. সূরা আল বাক্বারাহ-২:১০২

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ 📄 চতুর্থতঃ শয়তানরা কোন মু'জিযা দেখাতে সক্ষম নয়

📄 চতুর্থতঃ শয়তানরা কোন মু'জিযা দেখাতে সক্ষম নয়


জ্বিনেরা যা প্রদর্শন করে, তা মানুষের কাছে অলৌকিক মনে হতে পারে। যাদুও অলৌকিক কাণ্ড। মু'জিযাও অলৌকিক। কিন্তু মু'জিযা কেবল আম্বিয়া কর্তৃক প্রদর্শিত হয়, আর কারামত আল্লাহর আওলিয়া কর্তৃক। কিন্তু তা হয় আল্লাহর ইচ্ছা অনুপাতে। পক্ষান্তরে যাদু ইত্যাদি মানুষ ইচ্ছা করলে যে কোন সময় দেখাতে পারে। জ্বিন কোন মু'জিযা প্রদর্শন করতে পারে না। কুরআন সবচেয়ে বড় মু'জিযা। জ্বিন তার কোন অংশ আনয়নে সক্ষম ছিল না। যদিও অনেক কাফের ধারণা করেছিল যে, তা শয়তানের বাণী। মহান আল্লাহ সে ধারণার খণ্ডন করে বলেছেন,

وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِينُ - وَمَا يَنْبَغِي لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ - إِنَّهُمْ عَنْ السَّمْعِ لَمَعْزُولُون

"শয়তান তা নিয়ে অবতরণ করেনি। ওরা এ কাজের যোগ্য নয় এবং এর সামর্থ্যও রাখে না। অবশ্যই ওদেরকে শ্রবণ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।”¹¹³ মহান আল্লাহ কুরআন আনয়নের জন্য জ্বিন ও ইনসানকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন,

قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَن يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا

অর্থাৎ, বল, 'যদি এই কুরআনের অনুরূপ কুরআন আনয়নের জন্য মানুষ ও জ্বিন সমবেত হয় ও তারা পরস্পরকে সাহায্য করে, তবুও তারা এর অনুরূপ কুরআন আনয়ন করতে পারবে না। '¹¹⁴

কিন্তু সে চ্যালেঞ্জ কেউই গ্রহণ করেনি, করতে পারেনি; না কোন মানব, আর না কোন দানব।

টিকাঃ
১১৩. শুআ'রা: ২১০-২১২
১১৪. শুআ'রা: ২১০-২১২

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ 📄 পঞ্চমতঃ শয়তান স্বপ্নে নবী ﷺ এর রূপ ধারণ করতে পারে না

📄 পঞ্চমতঃ শয়তান স্বপ্নে নবী ﷺ এর রূপ ধারণ করতে পারে না


শয়তান অনেক কিছু আকৃতি ধারণ করে স্বপ্নে মানুষের মানসপটে আসে। কিন্তু সে শেষনবী এর আকৃতি ধারণ করতে পারে না। এ ছিল সর্বশেষ নবীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি বলেছেন,

وَمَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَقَدْ رَآنِي فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَتَمَثَّلُ فِي صُورَتِي وَمَنْ kَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأُ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ

"যে ব্যক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখে সে সত্যই আমাকে দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার সম্বন্ধে মিথ্যা বলে, সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে করে নেয়।"¹¹⁵ সতর্কতার বিষয় যে, শয়তান নবী এর আকার ধারণ করে কারো স্বপ্নে আসতে পারে না, তবে অন্য কারো আকার ধারণ করে এসে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে ধোঁকা দিয়ে বলতে পারে, 'আমি আল্লাহর রসূল।' অতএব যেই ধারণা করে, সে স্বপ্নে তাঁকে দেখেছে, তার ধারণা সঠিক নাও হতে পারে। আর সে ক্ষেত্রে নবী এর হুলিয়া ও দেহাকৃতি জানা জরুরী। অতঃপর দেখা ছবির সাথে তা মিলে গেলে জানতে হবে, সে সত্যই তাঁর দর্শনলাভ করেছে, নচেৎ না।

টিকাঃ
১১৫. বুখারী ইফা, হা/১১১, আপ্র. হা/১০৮, তাও. হা/১১০

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ 📄 ষষ্ঠতঃ মহাকাশে তাদের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না

📄 ষষ্ঠতঃ মহাকাশে তাদের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না


যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ - فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ - يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّن نَّارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنتَصِرَانِ

“হে জ্বিন ও মানুষ সম্প্রदाय! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি অতিক্রম করতে পার, তাহলে অতিক্রম কর, কিন্তু কোন শক্তি ব্যতিরেকে তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ অনুগ্রহকে মিথ্যাজ্ঞান করবে? তোমাদের উভয়ের প্রতি প্রেরিত হবে অগ্নিশিখা ও ধূমপুঞ্জ (অথবা গলিত তামা), তখন তোমরা প্রতিরোধ করতে পারবে না।”¹¹⁶

টিকাঃ
১১৬. সূরা আর রহমান-৫৫:৩৩-৩৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية