📄 দ্বিতীয়তঃ শয়তান কিছু মু'মিনকে দেখে ভয়ে পলায়ন করে
কোন বান্দা যখন ইসলামে পরিপক্বতা লাভ করে, ঈমান তার মর্মমূলে বদ্ধমূল হয়, মহান আল্লাহর সীমারেখার হিফাযত করে, তখন শয়তান তার সাক্ষাতে ভয় করে এবং তাকে দেখে পলায়ন করে।
তেমনই একজন ব্যক্তি ছিলেন উমার বিন খাত্ত্বাব। শয়তান তাঁকে ভয় করত। নবী তাঁকে বলেছিলেন, "শয়তান অবশ্যই তোমাকে ভয় করে হে উমার!”¹⁰¹ তিনি আরো বলেছিলেন, "আমি দেখছি জ্বিন ও ইনসানের শয়তানরা উমারকে দেখে পলায়ন করেছে। "¹⁰²
একদা উমার বিন খাত্ত্বাব রসূলুল্লাহ এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর নিকট কুরাইশের কিছু মহিলা তাঁর সাথে কথা বলছিল এবং তাদের অধিক দাবী-দাওয়া নিয়ে তাঁর আওয়াজের উপর আওয়াজ উঁচু করছিল। উমার বিন খাত্ত্বাব অনুমতি চাইলে তারা উঠে সত্বর পর্দার আড়ালে চলে গেল। অতঃপর উমার প্রবেশ করলেন এবং রসূলুল্লাহ হাসতে লাগলেন। উমার বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনার দাঁতকে হাস্যোজ্জ্বল রাখুন। (হাসলেন কেন?)'
নবী বললেন, "ঐ মহিলাদের কাণ্ড দেখে আমি অবাক হলাম, যারা আমার কাছে ছিল। অতঃপর যখন তোমার আওয়াজ শুনতে পেল, তখন তারা সত্বর পর্দার আড়ালে চলে গেল।"
উমার বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি এ ব্যাপারে বেশি হকদার যে, তারা আপনাকে সমীহ করবে।'
অতঃপর মহিলাদের উদ্দেশ্যে বললেন, 'হে নিজ আত্মার দুশমন নারীরা! তোমরা আমাকে সমীহ কর অথচ রসূলুল্লাহকে সমীহ কর না।' তারা বলল, 'হ্যাঁ, আপনি রসূলুল্লাহর চাইতে বেশি রূঢ় ও কঠোর।' রসূলুল্লাহ বললেন,
إِيهَا يَا ابْنَ الْخَطَّابِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ سَالِكًا فَجًّا قَطُّ إِلَّا سَلَكَ فَبَّا غَيْرَ فَجِّكَ
"থামো হে ইবনুল খাত্ত্বাব! সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, শয়তান যখনই তোমাকে কোন পথে চলতে দেখেছে, তখনই সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরে চলেছে।”¹⁰³
আর শয়তানের এ ভয়-ডর শুধু উমার থেকেই নয়; বরং সে প্রত্যেক সেই মু'মিনকে ভয় পায়, যার ঈমান সবল ও মজবুত। যার ঈমান শক্তিশালী, সে তার শয়তানকে অনায়াসে কাবু করতে পারে। নবী বলেছেন,
إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَيُنْضِي شَيْطَانَهُ كَمَا يُنْضِي أَحَدُكُمْ بَعِيرَهُ فِي السَّفَر
"নিশ্চয় মু'মিন তার শয়তানকে কৃশ করে ফেলে, যেমন তোমাদের কেউ সফরে তার (সওয়ারী) উটকে কৃশ করে ফেলে।”¹⁰⁴
প্রত্যেক মানুষের সাথেই শয়তান থাকে। প্রত্যেক মানুষকেই সে কাবু করতে চায়। তবে মহান আল্লাহ কোন কোন বান্দাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেন, ফলে সে তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ() বলেন, আল্লাহর রসূল বলেছেন,
مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ
"তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার সাথে সঙ্গী জ্বিন নিযুক্ত নেই।" লোকেরা বলল, 'আর আপনার সাথেও কি আছে, হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন,
وَإِيَّايَ إِلَّا أَنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ فَلَا يَأْمُرُنِي إِلَّا بِخَيْرٍ
"আমার সাথেও আছে। তবে আল্লাহ তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেন বলে আমি নিরাপদে থাকি। সুতরাং আমাকে সে মঙ্গল ছাড়া অন্য কিছুর আদেশ দিতে পারে না। "¹⁰⁵
টিকাঃ
১০১. সঃ সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/২৯১৩
১০২. ঐ ২৯১৪
১০০. বুখারী ইফা. হা/৩০৬১, আপ্র. হা/৩০৫২, তাও. হা/৩২৯৪, মুসলিম মাশা. হা/৬৩৫৫
১০৪. মুসনাদে আহমাদ মাশা. হা/৮৯৪০, আবু য়্যালা, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা মাশা. হা/৩৫৮৬
১০৫. মুসলিম মাশা. হা/৭২৮৬
📄 তৃতীয়তঃ সুলাইমান (আঃ) এর অধীনস্থ ছিল জ্বিন
মহান আল্লাহ অনেক কিছুকেই নবী সুলাইমান (আঃ) এর নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ছিল জ্বিন ও শয়তান। তিনি তাদেরকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন। কেউ অবাধ্য হলে তিনি তাকে শাস্তি দিতেন, বন্দী করে রাখতেন। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَسَخَّرْنَا لَهُ الرِّيحَ تَجْرِي بِأَمْرِهِ رُخَاءً حَيْثُ أَصَابَ - وَالشَّيَاطِينَ كُلَّ بَنَّاء وَغَوَّاصٍ - وَآخَرِينَ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ
"---তখন আমি বায়ুকে তার অধীন করে দিলাম, সে যেখানে ইচ্ছা করত সেখানে (বায়ু) মৃদু গতিতে (তাকে নিয়ে) প্রবাহিত হত। আরও অধীন করে দিলাম শয়তানদেরকে; যারা ছিল সকলেই প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী এবং আরও অন্যান্যকে; যারা শিকলে বাঁধা থাকত।”¹⁰⁶ তিনি আরো বলেছেন,
وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ الْقِطْرِ وَمِنَ الْجِنِّ مَن يَعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَمَن يَزِغْ مِنْهُمْ عَنْ أَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ - يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاء مِن تَحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَّاسِيَاتٍ اعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْرًا وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
"আমি বাতাসকে সুলাইমানের অধীন করেছিলাম, তার সকালের ভ্রমণ একমাসের পথ ছিল এবং সন্ধ্যার ভ্রমণও এক মাসের পথ ছিল। আমি তার জন্য গলিত তামার এক ঝরনা প্রবাহিত করেছিলাম। আল্লাহর অনুমতিক্রমে কিছু সংখ্যক জ্বিন তার সম্মুখে কাজ করত। ওদের মধ্যে যারা আমার নির্দেশ অমান্য করে, তাদেরকে আমি জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তি আস্বাদন করাব। ওরা সুলাইমানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, প্রতিমা, হওয-সদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির ওপর স্থাপিত বৃহদাকার ডেগ নির্মাণ করত। (আমি বলেছিলাম,) 'হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করতে থাক। আমার দাসদের মধ্যে কৃতজ্ঞ অতি অল্পই।”¹⁰⁷
সুলাইমান (আঃ) এর জ্বিন অধীনস্থ হওয়ার এমন বিশাল নিয়ামত লাভ হয়েছিল তাঁর দু'আর বর্কতে। তিনি মহান প্রতিপালকের কাছে দু'আ করে বলেছিলেন,
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَّا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّنْ بَعْدِي إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
'হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে এমন এক রাজ্য দান কর, যার অধিকারী আমার পরে অন্য কেউ হতে পারবে না। নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।' (স্বাদঃ ৩৫)
এই দু'আর কারণেই নবী শয়তানকে বাঁধেননি, যে অগ্নিশিখা নিয়ে তাঁর মুখে ছুড়তে চেয়েছিল। আবুদ দার্দা (রাঃ) বলেন, একদা নবী স্বলাত পড়ছিলেন। আমরা শুনলাম, তিনি 'আউযু বিল্লাহি মিন্ক্ বলছেন। পরক্ষণেই তিনবার বললেন, 'আলআনুকা বিলা'নাতিল্লাহ।' (আল্লাহর অভিশাপে তোকে অভিশাপ দিচ্ছি।) সেই সাথে তিনি হাত বাড়িয়ে কিছু ধরতে যাচ্ছিলেন।
অতঃপর তিনি স্বলাত শেষ করলে আমরা বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে নামাযে এমন কিছু বলতে শুনলাম, যা ইতিপূর্বে আপনাকে বলতে শুনিনি। আর দেখলাম, আপনি আপনার হাত বাড়াচ্ছেন।' তিনি বললেন,
إِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ إِبْلِيسَ جَاءَ بِشِهَابٍ مِنْ نَارٍ لِيَجْعَلَهُ فِي وَجْهِي فَقُلْتُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قُلْتُ أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ التَّامَّةِ فَلَمْ يَسْتَأْخِرُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَرَدْتُ أَخْذَهُ وَاللهِ لَوْلاَ دَعْوَةُ أَخِينَا سُلَيْمَانَ لأَصْبَحَ مُوثَقًا يَلْعَبُ بِهِ وِلْدَانُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ
"আসলে আল্লাহর দুশমন ইবলীস একটি অগ্নিশিখা নিয়ে আমার মুখমণ্ডলে রাখতে চাইল। তাই আমি তিনবার বললাম, 'আউযু বিল্লাহি মিন্ক্'। অতঃপর বললাম, 'আলআনুকা বিলা'নাতিল্লাহ।' তবুও সে সরল না। এরূপ তিনবার বললাম। অতঃপর তাকে ধরার ইচ্ছা করলাম। আল্লাহর কসম! যদি আমাদের ভাই সুলাইমানের দু'আ না হতো, তাহলে সে বন্দী অবস্থায় সকাল করত এবং মদীনাবাসীর শিশুরা তাকে নিয়ে খেলা করত।"¹⁰⁸
অন্য এক বর্ণনায় আছে (দ্বিতীয় ঘটনা), তিনি বলেছেন, 'একটি শক্তিশালী জ্বিন গতরাত্রে আমার স্বলাত নষ্ট করার জন্য আমার ঔদাস্যের সুযোগ নিতে চাচ্ছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ তাকে আমার আয়ত্তে করে দিলেন, সুতরাং আমি তার গলা টিপে ধরলাম। আমি সংকল্প করলাম, মসজিদের খুঁটিসমূহের কোন এক খুঁটিতে তাকে বেঁধে রাখি। যাতে সকালে তোমরা সকলে তাকে দেখতে পাও। অতঃপর আমার ভাই সুলাইমানের দু'আ স্মরণ হল,
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَّا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّنْ بَعْدِي
'হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে এমন এক রাজ্য দান কর, যার অধিকারী আমার পরে অন্য কেউ হতে পারবে না।¹⁰⁹ সুতরাং আল্লাহ তাকে নিকৃষ্ট অবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। ¹¹⁰
টিকাঃ
১০৬. সূরা সোয়া-দ-৩৮৩৬-৩৮
১০৭. সূরা সাবা-৩৪:১২-১৩
১০৮. মুসলিম মাশা. হা/১২৩৯
১০৯. সূরা সোয়া-দ-৩৮:৩৫
১১০. মুসলিম মাশা. হা/১২৩৮
📄 সুলাইমান (আঃ) এর নামে ইয়াহুদীদের মিথ্যাচারিতা
যারা যাদুকার্যের মাধ্যমে জ্বিন ব্যবহার করে, সেই ইয়াহুদী ও তাদের অনুসারীরা ধারণা করে যে, আল্লাহর নবী সুলাইমান যাদুকার্যের মাধ্যমে জ্বিন ব্যবহার করতেন। অথচ সলফদের একাধিক উলামা উল্লেখ করেছেন যে, সুলাইমান (আঃ) এর ইন্তিকালের পরেই শয়তানরা যাদু ও কুফরীর নানা বই লিখে তাঁর সিংহাসনের নিচে রেখে দিয়েছিল। অতঃপর তারা বলেছিল, এই সবের সাহায্যে সুলাইমান জ্বিনকে নিজ খিদমতে ব্যবহার করতেন। তাদের কেউ কেউ বলল, 'এটা যদি হক ও জায়েয না হতো, তাহলে সুলাইমান তা করতেন না।' কিন্তু মহান আল্লাহ সে কথার খণ্ডন করলেন আল-কুরআনে,
وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاء ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
"যখন আল্লাহর নিকট থেকে একজন রসূল এলেন, যে তাদের নিকট যা (ঐশীগ্রন্থ) আছে তার সত্যায়নকারী, তখন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে পিছনের দিকে ফেলে দিল (অমান্য করল), যেন তারা কিছুই জানে না।”¹¹¹ অতঃপর তারা যে শয়তানী কিতাবের অনুসরণ করেছিল, সে কথা স্পষ্ট করে দিলেন,
وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ
"সুলাইমানের রাজত্বে শয়তানেরা যা আবৃত্তি করত, তারা তা অনুসরণ করত। অথচ সুলাইমান কুফরী করেননি; বরং শয়তানেরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত। "¹¹²
টিকাঃ
১১১. সূরা আল বাক্বারাহ-২:১০১
১১২. সূরা আল বাক্বারাহ-২:১০২
📄 চতুর্থতঃ শয়তানরা কোন মু'জিযা দেখাতে সক্ষম নয়
জ্বিনেরা যা প্রদর্শন করে, তা মানুষের কাছে অলৌকিক মনে হতে পারে। যাদুও অলৌকিক কাণ্ড। মু'জিযাও অলৌকিক। কিন্তু মু'জিযা কেবল আম্বিয়া কর্তৃক প্রদর্শিত হয়, আর কারামত আল্লাহর আওলিয়া কর্তৃক। কিন্তু তা হয় আল্লাহর ইচ্ছা অনুপাতে। পক্ষান্তরে যাদু ইত্যাদি মানুষ ইচ্ছা করলে যে কোন সময় দেখাতে পারে। জ্বিন কোন মু'জিযা প্রদর্শন করতে পারে না। কুরআন সবচেয়ে বড় মু'জিযা। জ্বিন তার কোন অংশ আনয়নে সক্ষম ছিল না। যদিও অনেক কাফের ধারণা করেছিল যে, তা শয়তানের বাণী। মহান আল্লাহ সে ধারণার খণ্ডন করে বলেছেন,
وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ الشَّيَاطِينُ - وَمَا يَنْبَغِي لَهُمْ وَمَا يَسْتَطِيعُونَ - إِنَّهُمْ عَنْ السَّمْعِ لَمَعْزُولُون
"শয়তান তা নিয়ে অবতরণ করেনি। ওরা এ কাজের যোগ্য নয় এবং এর সামর্থ্যও রাখে না। অবশ্যই ওদেরকে শ্রবণ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।”¹¹³ মহান আল্লাহ কুরআন আনয়নের জন্য জ্বিন ও ইনসানকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন,
قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَن يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا
অর্থাৎ, বল, 'যদি এই কুরআনের অনুরূপ কুরআন আনয়নের জন্য মানুষ ও জ্বিন সমবেত হয় ও তারা পরস্পরকে সাহায্য করে, তবুও তারা এর অনুরূপ কুরআন আনয়ন করতে পারবে না। '¹¹⁴
কিন্তু সে চ্যালেঞ্জ কেউই গ্রহণ করেনি, করতে পারেনি; না কোন মানব, আর না কোন দানব।
টিকাঃ
১১৩. শুআ'রা: ২১০-২১২
১১৪. শুআ'রা: ২১০-২১২