📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তানের দুই শিং

📄 শয়তানের দুই শিং


শয়তানের দুটি শিঙের কথা হাদীসে এসেছে। নবী বলেছেন,

وَلَا تَحَيَّنُوا بِصَلَاتِكُمْ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلَا غُرُوبَهَا فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ الشَّيْطَانِ

"তোমরা সূর্য উদয় ও অস্তকালকে তোমাদের স্বলাতের সময় নির্বাচন করো না। কারণ তা শয়তানের দুই শিঙের উপর উদয় হয় (এবং অস্ত যায়)।"³⁰ তিনি আরো বলেছেন,

تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَي الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلاً

"এটা মুনাফিকের স্বলাত, সে বসে বসে সূর্যের অপেক্ষা করতে থাকে। অবশেষে যখন সূর্য শয়তানের দু'টি শিঙের মধ্যবর্তী স্থানে (অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি সময়ে) পৌঁছে, তখন (তুরিঘড়ি) উঠে চারটি ঠোকর মেরে নেয়; তাতে সে সামান্যই আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে।"³¹

মুশরিকদের একটি দল সূর্যপূজা করত। সুতরাং সূর্যের উদয়-অস্তের সময় তাকে তারা সিজদা করত। আর সেই সময় সূর্যের দিকে নিজেকে স্থাপিত করে তাদের পূজা নিজে গ্রহণ করত। এ কথা অন্য এক হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়েছে,

صَلَّ صَلَاةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أَقْصِرُ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتَّى تَرْتَفِعَ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَى شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ فَإِنَّ الصَّلاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى يَسْتَقِلَّ الظَّلُّ بِالرُّمْحِ ثُمَّ أَقْصِرُ عَنِ الصَّلَاةِ فَإِنَّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمُ فَإِذَا أَقْبَلَ الْفَيْءُ فَصَلِّ فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى تُصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرُ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَغُرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَى شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ

"তুমি ফজরের স্বলাত পড়। তারপর সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো। কারণ তা শয়তানের দুই শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয় (অর্থাৎ, এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং সে সময় কাফেররা তাকে সিজদা করে। পুনরায় তুমি স্বলাত পড়। কেননা, নামাযে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন, যতক্ষণ না ছায়া বল্লমের সমান হয়ে যায়। অতঃপর স্বলাত থেকে বিরত হও। কেননা, তখন জাহান্নামের আগুন উস্কানো হয়। অতঃপর যখন ছায়া বাড়তে আরম্ভ করে, তখন স্বলাত পড়। কেননা, এ নামাযে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন। পরিশেষে তুমি আসরের স্বলাত পড়। অতঃপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত স্বলাত পড়া থেকে বিরত থাকো। কেননা, সূর্য শয়তানের দুই শিঙের মধ্যে অস্ত যায় এবং তখন কাফেররা তাকে সিজদাহ করে।"³²

প্রকাশ যে, উক্ত সময়গুলিতে আম নফল স্বলাত পড়া নিষিদ্ধ। ফরয বা কারণ-ঘটিত কোন স্বলাত পড়া নিষিদ্ধ নয়।

অনুরূপভাবে অন্য এক হাদীসে শয়তানের শিঙের কথা উল্লেখ হয়েছে। একদা তিনি পূর্ব দিকে (ইরাকের দিকে) ইঙ্গিত করে বলেছেন,

أَلَا إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا أَلَا إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ

"সাবধান! ওখানে আছে ফিতনা, ওখানে আছে ফিতনা, যেখান হতে শয়তানের শিং উদয় হবে।"³³

টিকাঃ
৩০. বুখারী তাও. হা/৩২৭৩, ইফা. হা/৩০৪১
৩১. মুসলিম মাশা. হা/১৪৪৩, সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/১৬০, নাসাঈ মাথ, হা/৫১১, মিশকাত, হা/৫৯৩
৩২. মুসলিম মাশা. হা/১৯৬৭, মিশকাত, হা/১০৪২
৩৩. বুখারী তাও. হা/৩৫১১, ইফা. হা/৩২৫৮, আথ হা/৩২৪৮, মুসলিম মাশা. হা/৭৪৭৬

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিনদের খাদ্য ও পানীয়

📄 জ্বিনদের খাদ্য ও পানীয়


জ্বিন জাতি পানাহার করে। একদা নবী আবূ হুরাইরা কে পবিত্রতা অর্জনের জন্য ঢেলা আনতে বললেন এবং হাড় ও শুকনা গোবর আনতে নিষেধ করলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "এ দুটি জ্বিনদের খাদ্য।”³⁴ তিনি বলেছেন,

لَا تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلَا بِالْعِظَامِ فَإِنَّهُ زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ

"তোমরা গোবর বা হাড় দ্বারা প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার করো না, কারণ তা তোমাদের জ্বিন ভাইদের খাদ্য।"³⁵

ইবনে মাসউদ বলেন, একদা রসূলুল্লাহ কে আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অতঃপর তাঁকে পাওয়া গেলে তার কারণ জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, "আমার কাছে এক জ্বিনের আহবায়ক এসেছিল। আমি তার সঙ্গে গিয়ে তাদের কাছে কুরআন পড়লাম।" অতঃপর তিনি আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন চিহ্ন ও তাদের আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাঁর নিকট খাদ্য চেয়েছিল। তিনি বলেছিলেন,

لَكُمْ كُلُّ عَظْمٍ ذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ يَقَعُ فِي أَيْدِيكُمْ أَوْفَرَ مَا يَكُونُ لَحْمًا وَكُلُّ بَعَرَةٍ عَلَفٌ لِدَوَابِّكُمْ

"আল্লাহর নাম উল্লেখ করে যে কোন হাড্ডির উপর তোমাদের হাত পড়বে, তা তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত গোস্তে পরিণত হবে। আর প্রত্যেক গোবর হবে তোমাদের পশুখাদ্য।"³⁶

অতঃপর তিনি বললেন, "সুতরাং তোমরা ঐ দুটি জিনিস দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে না। কারণ তা তোমাদের (জ্বিন) ভাইদের খাদ্য।"

শয়তান পানাহার করে, কিন্তু সে পানাহার করে বাম হাতে। এই জন্য আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে তাতে তার বিরোধিতা করতে। নবী বলেছেন,

لَا يَأْكُلَنَّ أَحَدُكُمْ بِشِمَالِهِ ، وَلَا يَشْرَبَنَّ بِهَا ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِهَا

"তোমাদের কেউ যেন বাম হাত দিয়ে অবশ্যই আহার না করে এবং তা দিয়ে অবশ্যই পানও না করে। কেননা, শয়তান বাম হাত দিয়ে পানাহার করে থাকে।"³⁷

إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ ، فَذَكَرَ اللهَ تَعَالَى عِنْدَ دُخُولِهِ ، وَعِندَ طَعَامِهِ ، قَالَ الشَّيْطَانُ الأَصْحَابِهِ : لَا مَبِيتَ لَكُمْ وَلَا عَشَاءَ ، وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ تَعَالَى عِنْدَ دُخُولِهِ ، قَالَ الشَّيْطَانُ : أَدْرَكْتُمُ المَبِيتَ ، وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ تَعَالَى عِنْدَ طَعَامِهِ ، قَالَ : أَدْرَكْتُمُ المَبِيتَ وَالعَشَاءَ

"কোন ব্যক্তি যখন নিজ বাড়ি প্রবেশের সময় ও আহারের সময় আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে; অর্থাৎ, ('বিসমিল্লাহ' বলে) তখন শয়তান তার অনুচরদেরকে বলে, 'আজ না তোমরা এ ঘরে রাত্রি যাপন করতে পারবে, আর না খাবার পাবে।' অন্যথা যখন সে প্রবেশ কালে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে না (অর্থাৎ 'বিসমিল্লা-হ' বলে না), তখন শয়তান বলে, 'তোমরা রাত্রি যাপন করার স্থান পেলে।' আর যখন আহার কালেও আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে না (অর্থাৎ, 'বিসমিল্লাহ' বলে না), তখন সে তার চেলাদেরকে বলে, 'তোমরা রাত্রিযাপন স্থল ও নৈশভোজ উভয়ই পেয়ে গেলে।"³⁸ সুতরাং স্পষ্টতঃ বুঝা গেল যে, শয়তান পানাহার করে।

যে পশুকে যবেহকালে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, তার গোস্ত যেমন মু'মিন মানুষদের জন্য হারাম, তেমনি মু'মিন জ্বিনদের জন্যও প্রত্যেক সেই হাড্ডিকে খাদ্য বানানো হয়েছে, যা স্পর্শ করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া হয়। পক্ষান্তরে যে খাদ্যের জন্য আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না, তাতে শয়তান জ্বিনদের ভাগ বসে।

হুযাইফাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন আল্লাহর রসূল এর সঙ্গে আহারে বসতাম, তখন রসূলুল্লাহ খাবারে হাত রেখে শুরু না করা পর্যন্ত আমরা তাতে হাত রাখতাম না (এবং আহার শুরু করতাম না)। একদা আমরা রসূলুল্লাহ এর সঙ্গে খাবারে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ একটি বাচ্চা মেয়ে এমনভাবে এল, যেন তাকে (পিছন থেকে) ধাক্কা দেওয়া হচ্ছিল এবং সে নিজ হাত খাবারে দিতে উদ্যত হয়েছিল, এমন অবস্থায় রসূলুল্লাহ তার হাত ধরে নিলেন। তারপর এক বেদুঈনও (তদ্রূপ দ্রুত বেগে) এল, যেন তাকে ধাক্কা মারা হচ্ছিল (সেও খাবারে হাত রাখতে উদ্যত হলে) রসূলুল্লাহ তার হাতও ধরে নিলেন এবং বললেন,

إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أنْ لاَ يُذْكَرَ اسْمُ اللهِ تَعَالَى عَلَيْهِ ، وَإِنَّهُ جَاءَ بِهَذِهِ الجَارِيَةِ لِيَسْتَحِلَّ بِهَا ، فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا ، فَجَاءَ بِهَذَا الأَعرابي لِيَسْتَحِلَّ بِهِ ، فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، إِنَّ يَدَهُ فِي يَدِي مَعَ يَدَيْهِمَا

"যে খাবারে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, অবশ্যই শয়তান সে খাদ্যকে হালাল মনে করে। আর এ মেয়েটিকে শয়তানই নিয়ে এসেছে, যাতে ওর বদৌলতে নিজের জন্য খাদ্য হালাল করতে পারে। কিন্তু আমি তার হাত ধরে ফেললাম। তারপর সে বেদুঈনকে নিয়ে এল, যাতে ওর দ্বারা খাদ্য হালাল করতে পারে। কিন্তু আমি ওর হাতও ধরে নিলাম। সেই মহান সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, শয়তানের হাত ঐ দু'জনের হাতের সঙ্গে আমার হাতে (ধরা পড়েছিল)।" অতঃপর তিনি 'বিসমিল্লাহ' বলে আহার করলেন। ³⁹

এই জন্যই কিছু উলামা বলেছেন, মৃত পশু শয়তানদের খাদ্য, যেহেতু তাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না। মহান আল্লাহ বলেছেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلٍ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

“হে বিশ্বাসিগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” ⁴⁰

উক্ত আয়াতকে ভিত্তি করে ইবনুল কাইয়্যিম বলেন যে, মদ হল শয়তানের পানীয়। সে সেই পানীয় হতে পান করে, যা তারই আদেশক্রমে তার বন্ধুরা প্রস্তুত করেছে। সে তাদের প্রস্তুতকর্মে শরীক হয়েছে। সুতরাং সে তার পান করাতে, তার পাপে ও শাস্তিতেও তাদের শরীক হবে। ⁴¹

এ কথার সমর্থন করে আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযীদের একটি বর্ণনা, তিনি বলেছেন, উমার বিন খাত্তাব আমাদের প্রতি লিখে পাঠালেন যে, তোমরা তোমাদের পানীয়কে পাকাতে থাকো, যে পর্যন্ত না তার মধ্য হতে শয়তানের ভাগ চলে যায়। যেহেতু তার রয়েছে দুটি, আর তোমাদের জন্য একটি (ভাগ)। ⁴²

জ্বিনরা পানাহার করে, কিন্তু তার কেমনত্ব প্রসঙ্গে কিছু বলা যায় না। তারা কি চিবায়, পান করে, নাকি শোঁকে ও গন্ধ গ্রহণ করে। আল্লাহই ভালো জানেন।

টিকাঃ
৩৪. বুখারী তাও. হা/৩৮৬০, আপ্র. হা/৩৫৭৩, ইফা. হা/৩৫৭৮
৩৫. সহীহ আত-তিরমিযী মাথ, হা/১৮
৩৬. মুসলিম, মাশা, হা/১০৩৫
৩৭. মুসলিম, মাশা. হা/৫৩৮৬
৩৮. মুসলিম, মাশা. হা/৫৩৮১
৩৯. মুসলিম, মাশা. হা/৫৩৭৮
৪০. সূরা মায়িদাহ-৫:৯০
৪১. ইগাষাতুল লাহফান ২৫২ পৃ.
৪২. নাসাঈ মাথ, হা/৫২৭৫

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিনদের বিবাহ-শাদী ও বংশবৃদ্ধি

📄 জ্বিনদের বিবাহ-শাদী ও বংশবৃদ্ধি


জ্বিনদের মধ্যে বিবাহ-শাদী ও বংশবৃদ্ধি হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উলামাগণ পেশ করে থাকেন একটি আয়াত, যা মহান আল্লাহ বেহেস্তী স্ত্রীদের জন্য বলেছেন,

لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ

"তাদেরকে তাদের পূর্বে কোন মানুষ অথবা জ্বিন স্পর্শ করেনি।”⁴³ আরবী ভাষায় 'ত্বাম' বলা হয় সঙ্গমকে। বলা হয়েছে, সেই সঙ্গম যাতে রক্তপাত হয়। তার মানে প্রথম সঙ্গম।

কাতাদাহ থেকে উল্লেখ করা হয় যে, "জ্বিনদের সন্তান হয়, যেমন মানুষের হয়। আর সংখ্যায় তারাই বেশি। "⁴⁴

অবশ্য আমাদের জন্য কুরআনের আয়াতই দলীলের জন্য যথেষ্ট। তাছাড়া মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন, শয়তানের বংশধর আছে। তিনি বলেছেন,

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاء مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا

"(স্মরণ কর,) আমি যখন ফিরিশতাদেরকে বলেছিলাম, 'তোমরা আদমকে সিজদা কর', তখন ইবলীস ছাড়া সবাই সিজদা করল; সে ছিল জ্বিনদের একজন। সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল; তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে; অথচ তারা তোমাদের শত্রু? সীমালংঘনকারীদের পরিবর্ত কত নিকৃষ্ট!”⁴⁵

টিকাঃ
৪৩. সূরা আর রহমান-৫৫:৭৪
৪৪. ইবনে আবী হাতেম, হা/১৩৯০৪, আবুশ শায়খ, হা/১১৩৮৫৮
৪৫. সূরা আল কাহাফ-১৮:৫০

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিন-ইনসানের আপোসে মিলন কি সম্ভব?

📄 জ্বিন-ইনসানের আপোসে মিলন কি সম্ভব?


এ কথা শোনা যায় যে, অমুকের স্বামী জ্বিন, অমুকের স্ত্রী জ্বিন্নিয়াহ। এ ব্যাপারে ইমাম সুয়ূতী অনেক আছার ও সলফদের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন। যাতে বুঝা যায় যে, জ্বিন-ইনসানের মাঝে বিবাহ ও মিলন সম্ভব।⁸⁸

ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ؒ বলেছেন, “জ্বিন-ইনসানের মাঝে কখনো কখনো বিবাহ ও মিলন ঘটতে পারে এবং তাদের সন্তানও হতে পারে। আর এমন ঘটনা অনেক ও প্রসিদ্ধ।”⁸⁹

পক্ষান্তরে অন্য কিছু উলামা বলেন, জ্বিন-ইনসানের মাঝে বিবাহ ও মিলন সম্ভব নয়। যেহেতু মহান আল্লাহ মানুষের নিজেদের মধ্য থেকে সঙ্গিনী সৃষ্টি করে অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন,

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

“তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা ওদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও মায়া-মমতা সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।”⁹⁰

সুতরাং যদি জ্বিন-ইনসানের বিবাহ হয়, তাহলে তাদের আপোসে শান্তিলাভ ও ভাব-ভালোবাসা লাভ হবে না। আর তাতে বিবাহের উদ্দেশ্যই বিফল হবে।

তবুও আমরা বলি, যদি তা কখনো ঘটে, তাহলে তা বিরল। জ্বিন মানুষের আকার ধারণ করে মানুষ সঙ্গীর সাথে সহাবস্থান করতে পারে। অনেক সময় মানুষ সে কাজে বাধ্য হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেছেন,

فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ

“সে সবের মাঝে রয়েছে বহু আনত নয়না; যাদেরকে তাদের পূর্বে কোন মানুষ অথবা জ্বিন স্পর্শ করেনি।"⁴⁹

মহান আল্লাহর উক্ত বাণীও এ কথার দলীল হতে পারে যে, জ্বিন- ইনসানের মাঝে মিলন সম্ভব। যেহেতু জান্নাতের হুরী জ্বিন-ইনসান উভয়ের স্ত্রী, উভয়ের জন্য উপযুক্ত।

উভয়ের মধ্যে বিবাহ ও মিলন বিরলভাবে সম্ভব হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বিনকে বিবাহ করা মাকরূহ। যেমন কুমারীর গর্ভবতী হয়ে এই বলা যে, 'আমার স্বামী জ্বিন।' যেহেতু তাতে ফ্যাসাদ বৃদ্ধি পাবে। ⁵⁰

টিকাঃ
৮৮. শুয়ূয়ুল মারজান ৬৯পৃঃ
৮৯. মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/৩৯
৯০. সূরা আর রূম-২০:২১
৪৯. সূরা আর রহমান-৫৫:৫৬
৫০. মাজম্' ফাতাওয়া ১৯/৩৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00