📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিন দর্শন

📄 জ্বিন দর্শন


অতীত ও বর্তমানের অনেক লোক জ্বিন দর্শন করেছে বলে দাবী করে। অবশ্য তারা যা দেখেছে ও শুনেছে, তা জ্বিন ও জ্বিনের শব্দ বলে মনে করে না। তারা মনে করে, তা হল অশরীরী আত্মা (প্রেতাত্মা), গায়বী বুযুর্গ বা বায়বীয় বুযুর্গ বা অন্য কিছু।

জ্বিন দর্শনের ব্যাপারে বর্ণিত সবচেয়ে সত্য কথা হল নবী এর জ্বিনের সাথে সাক্ষাৎ করা, কথা বলা, তাদের তাঁর সাথে কথা বলা, তাঁর তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া, তাদের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনানো ইত্যাদি। আর এ সকল কথা যথাস্থানে উল্লিখিত হবে ইনশা-আল্লাহ।

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 গাধা ও কুকুরের জ্বিন দর্শন

📄 গাধা ও কুকুরের জ্বিন দর্শন


মানুষ সচরাচর জ্বিন দেখতে পায় না, কিন্তু কিছু জীব-জন্তু যেমন গাধা ও কুকুর জ্বিন দেখতে পায় বলে জানা যায়। নবী বলেছেন,

إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا

অর্থাৎ, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন ফিরিস্তা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন শয়তান দেখেছে। ¹⁵

অন্য এক বর্ণনায় আছে, "যখন তোমরা কুকুর ও গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট (শয়তান থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ তারা তা দেখতে পায়, যা তোমরা দেখতে পাও না।”¹⁶

টিকাঃ
১৫. বুখারী তাও. হা/৩৩০৩, ইফা, হা/৩০৬৮, আপ্র হা/৩০৫৯, মুসলিম মাশা. হা/৭০৯৬, মিশকাত, হাএ. হা/১৪১৯
১৬. আবু দাউদ আলএ. হা/৪২৫৬

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিন ও ফিরিশতা জাতির মধ্যে পার্থক্য

📄 জ্বিন ও ফিরিশতা জাতির মধ্যে পার্থক্য


জ্বিন আগুন থেকে সৃষ্টি, কিন্তু ফিরিস্তা জ্যোতি থেকে সৃষ্টি।

জ্বিন পানাহার করে, কিন্তু ফিরিস্তা পানাহার করেন না।

জ্বিন পাপ-পুণ্য করে, কিন্তু ফিরিস্তা কেবল পুণ্য করেন এবং সর্বদা মহান আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করেন।

দুটিই অদৃশ্য জগৎ, কিন্তু উভয় জগৎ ভিন্ন-ভিন্ন।

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তান জ্বিন

📄 শয়তান জ্বিন


এ কথা আমরা জানি যে, মনুষ্য জাতির মতোই জ্বিন জাতির মধ্যে ভালো-মন্দ আছে। তবে তাদের মন্দের গুরু হল শয়তান, যার কথা আমরা বহু বলে থাকি ও শুনে থাকি। যার কথা কুরআন-হাদীসেও বহুবার আলোচিত হয়েছে।

শয়তান শুরুতে মহান প্রতিপালকের ইবাদতগুযার ছিল। আসমানে ফিরিশতার সঙ্গে বাস করেছে, জান্নাতেও ঢুকেছে। কিন্তু মহান আল্লাহ যখন তাকে আদমকে সিজদা করার আদেশ করলেন, তখন সে হিংসা ও অহংকারবশতঃ অবাধ্যতা করে বসল। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁকে অভিশপ্ত ও বিতাড়িত করলেন।

আরবী ভাষায় 'শায়ত্বান' অবাধ্য বিদ্রোহীকে বলা হয়। যেহেতু সে নিজ প্রতিপালকের অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ করেছে, তাই তাকে 'শয়তান' বলা হয়। তাকে 'তাগূত'ও বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءِ الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا

"যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে এবং যারা অবিশ্বাসী তারা তাগূতের পথে যুদ্ধ করে। সুতরাং তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। নিশ্চয় শয়তানের কৌশল দুর্বল।"¹⁷ 'তাগূত' মানে নিজ সীমা লংঘনকারী, নিজ প্রতিপালকের বিদ্রোহী এবং আল্লাহ ব্যতিরেকে পূজ্য ব্যক্তি। আর শয়তানের মধ্যে উক্ত সকল গুণ বিদ্যমান।

তাকে 'ইবলীস'ও বলা হয়। আরবী ভাষায় 'ইবলীস' মানে কল্যাণশূন্য ব্যক্তি, নিরাশ ও হতাশ ব্যক্তি। শয়তান আসলেই কল্যাণহীন বরং অকল্যাণময় সৃষ্টি এবং নিজের আচরণের ফলে মহান প্রতিপালকের করুণা থেকে নিরাশ।

যাঁরা কুরআন-হাদীস পড়েন ও বুঝেন, তাঁরা জানেন ও মানেন যে, শয়তান একটি এমন সৃষ্টি, যার জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, নড়াচড়া ও চলাফেরা করে। শয়তান কোন কু-আত্মা বা কুপ্রবৃত্তি নয়, যা মনুষ্য জীবের প্রকৃতিতে অবস্থান করে এবং হৃদয়ে প্রবল হয়ে তাকে উন্নত আধ্যাত্মিকতা থেকে ফিরিয়ে দেয়।¹⁸

টিকাঃ
১৭. সূরা আন নিসা-৪:৭৬
১৮. দায়েরাতুল মাআরিফিল হাদীষাহ ৩৫৭পৃঃ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00