📄 জ্বিনের অস্তিত্ব আবশ্যিকভাবে দ্বীনের বিদিত বিষয়
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, "মুসলিমদের কোন ফির্কা জ্বিনের অস্তিত্বের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেনি। এ বিষয়েও দ্বিমت পোষণ করেনি যে, আল্লাহ তাদের প্রতিও মুহাম্মাদ কে রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন। কাফেরদের অধিকাংশ ফির্কা জ্বিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে। আহলে কিতাব ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরাও মুসলিমদের মতো জ্বিন আছে বলে বিশ্বাস করে। যদিও তাদের মধ্যে জ্বিন অস্বীকারকারীও আছে; যেমন মুসলিমদের মাঝে আছে, যেমন জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাহ ফির্কা। তবুও অধিকাংশ ফির্কা ও তার ইমামগণ জ্বিনের অস্তিত্বে বিশ্বাসী।
যেহেতু জ্বিনের অস্তিত্ব ব্যাপারে আম্বিয়াগণ থেকে বহুধাসূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যা আবশ্যকভাবে বিদিত। আবশ্যকভাবে এ কথাও বিদিত যে, তারা জীবিত, বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ও স্বেচ্ছাময় কার্য সম্পাদনকারী। বরং তাদেরকে অনেক কাজ করতে আদেশ করা হয়েছে এবং অনেক কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা মানুষ বা অন্য কিছুতে অবস্থিত কোন গুণ, বিশেষণ বা অবস্তু নয়; যেমন কিছু বস্তুবাদী ধারণা করে থাকে। সুতরাং জ্বিনের ব্যাপার আম্বিয়া কর্তৃক বহুধাসূত্রে এমনভাবে প্রমাণিত, যা আম-খাস সকল লোকেই জানে। তাই আম্বিয়ায়ে কিরামদের অনুসারী কোন ফির্কার জন্য তা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। "¹¹
ইমামুল হারামাইন বলেছেন, "জ্বিন ও শয়তানের অস্তিত্ব এবং তাদের অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার ব্যাপারে সাহাবা ও তাবেঈনদের যুগের উলামাগণ একমত। দ্বীনাবলম্বী কোন দ্বীনদার এ মতৈক্যের বিরোধিতা করে না।"¹²
টিকাঃ
১১. মাজমু ফাতাওয়া ১৯/১০
📄 কুরআন-হাদীসের দলীল
কুরআন-হাদীসে বহু স্পষ্ট উক্তি এমন আছে, যা জ্বিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন,
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا
"বল, আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে বলেছে, 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি।"¹³
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
"কতিপয় মানুষ কতক জ্বিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, ফলে তারা জ্বিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।"¹⁴ এ ছাড়া আরো অনেক উক্তি আছে, যার অধিকাংশ এই পুস্তিকার বিভিন্ন স্থলে উল্লিখিত হয়েছে। যদিও সে সব উক্তির আধিক্য ও প্রসিদ্ধি উল্লেখের অপেক্ষা রাখে না।
টিকাঃ
১২. আ-কামুল মারজান ৪পৃ.
১৩. সূরা জ্বিন-৭২:১
১৪. সুরা জ্বিন-৭২:৬
📄 জ্বিন দর্শন
অতীত ও বর্তমানের অনেক লোক জ্বিন দর্শন করেছে বলে দাবী করে। অবশ্য তারা যা দেখেছে ও শুনেছে, তা জ্বিন ও জ্বিনের শব্দ বলে মনে করে না। তারা মনে করে, তা হল অশরীরী আত্মা (প্রেতাত্মা), গায়বী বুযুর্গ বা বায়বীয় বুযুর্গ বা অন্য কিছু।
জ্বিন দর্শনের ব্যাপারে বর্ণিত সবচেয়ে সত্য কথা হল নবী এর জ্বিনের সাথে সাক্ষাৎ করা, কথা বলা, তাদের তাঁর সাথে কথা বলা, তাঁর তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া, তাদের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনানো ইত্যাদি। আর এ সকল কথা যথাস্থানে উল্লিখিত হবে ইনশা-আল্লাহ।
📄 গাধা ও কুকুরের জ্বিন দর্শন
মানুষ সচরাচর জ্বিন দেখতে পায় না, কিন্তু কিছু জীব-জন্তু যেমন গাধা ও কুকুর জ্বিন দেখতে পায় বলে জানা যায়। নবী বলেছেন,
إِذَا سَمِعْتُمْ صِيَاحَ الدِّيَكَةِ فَاسْأَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَأَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأَتْ شَيْطَانًا
অর্থাৎ, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন ফিরিস্তা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ সে কোন শয়তান দেখেছে। ¹⁵
অন্য এক বর্ণনায় আছে, "যখন তোমরা কুকুর ও গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর নিকট (শয়তান থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা কর। কারণ তারা তা দেখতে পায়, যা তোমরা দেখতে পাও না।”¹⁶
টিকাঃ
১৫. বুখারী তাও. হা/৩৩০৩, ইফা, হা/৩০৬৮, আপ্র হা/৩০৫৯, মুসলিম মাশা. হা/৭০৯৬, মিশকাত, হাএ. হা/১৪১৯
১৬. আবু দাউদ আলএ. হা/৪২৫৬