📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিন-জাতের অস্তিত্বের দলীল

📄 জ্বিন-জাতের অস্তিত্বের দলীল


বহু মানুষ আছে, যারা জ্বিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। বস্তুবাদী মানুষেরা অদৃশ্য জগতের কোন কিছুকেই বিশ্বাস করতে চায় না। কিছু মুশরিক আছে, যারা ধারণা করে জ্বিন আসলে নক্ষত্ররাজির আত্মা অথবা গ্রহের অশরীরী অধিবাসী।

দর্শনশাস্ত্রের অনেক পন্ডিত মনে করেন, জ্বিন আসলে মনুষ্য মনের মন্দ-প্রবণতা ও তার খবীস শক্তিমত্তা। যেমন ফিরিস্তা তাঁদের নিকট মানব-মনের কল্যাণ-প্রবণতা। আধুনিক বিশ্বের অনেকেই মনে করে, জ্বিন বলতে বৈজ্ঞানিকভাবে আবিষ্কৃত নানা জীবাণু বা মাইক্রোব। অনেকে মনে করে, জ্বিন ও ফিরিস্তা একই শ্রেণীর সৃষ্টি।

#### * না জানা কোন কিছুর অস্তিত্বহীনতার দলীল নয়

যারা জ্বিন-জগৎকে অস্বীকার করে, তাদের নিকট কোন বলিষ্ঠ যুক্তি বা প্রমাণ নেই। তাদের যুক্তি হল, জ্বিন তাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়। সে জগৎ তাদের জ্ঞান-বহির্ভূত। অথচ কোন কিছু মানুষের জ্ঞান-বহির্ভূত হওয়া তার অস্তিত্বহীনতার কোন দলীল নয়। মহান আল্লাহ এই শ্রেণীর যুক্তিবাদীদের নিন্দা করে বলেছেন,

بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ كَذَلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ

"বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা মনে করেছে, যাকে নিজ জ্ঞানের পরিধিতে আনয়ন করেনি এবং এখনো তাদের নিকট ওর পরিণাম (আযাব বা ব্যাখ্যা) এসে পৌঁছেনি। এরূপভাবে তারাও মিথ্যা মনে করেছিল, যারা তাদের পূর্বে গত হয়েছে; অতএব দেখ সেই অত্যাচারীদের পরিণাম কী হয়েছিল?"¹⁰

যা জ্ঞানে ধরে না, তা অস্বীকার করা জ্ঞানী লোকের কাজ হতে পারে না। রেডিও, টিভি, টেলিফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি আবিষ্কার হওয়ার আগে যদি লোকেরা শুনত যে, আমেরিকা থেকে ঘরে বসে কথা শোনা যাবে, ছবি দেখা যাবে ইত্যাদি, তাহলে তারা কি বিশ্বাস করত; যেমন বর্তমান যুগের লোকরা তা স্বাভাবিক বলে বিশ্বাস করে ও জানে?

আমরা এ বিশাল বিশ্বের ছোট্ট একটি কণায় বসবাস করছি। এ বিশ্বে কত রহস্য আবিষ্কার হয়েছে মানুষের হাতে, কত কিছু এখনও বাকী আছে আবিষ্কার হতে। অণু-পরমাণু, ঈশ্বরকণা আরো কত কি আবিষ্কার হয়েছে ও হবে। এ সব কি অবিশ্বাস করার উপায় ছিল আবিষ্কারের আগে?

মোটকথা, মনুষ্য-জগৎ ও ফিরিস্তা জগৎ ছাড়া জ্বিন-জগৎ হল তৃতীয় একটি জগৎ। তারা মানুষের মতোই বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন একটি জাতি। তারা অবস্তু নয়, জীবাণুও নয়। তারা ভারপ্রাপ্ত, সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে আদেশ করা হয় ও নিষেধ করা হয়।

টিকাঃ
১০. সূরা ইউনুস-১০: ৩৯

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিনের অস্তিত্ব আবশ্যিকভাবে দ্বীনের বিদিত বিষয়

📄 জ্বিনের অস্তিত্ব আবশ্যিকভাবে দ্বীনের বিদিত বিষয়


ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, "মুসলিমদের কোন ফির্কা জ্বিনের অস্তিত্বের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেনি। এ বিষয়েও দ্বিমت পোষণ করেনি যে, আল্লাহ তাদের প্রতিও মুহাম্মাদ কে রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন। কাফেরদের অধিকাংশ ফির্কা জ্বিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে। আহলে কিতাব ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরাও মুসলিমদের মতো জ্বিন আছে বলে বিশ্বাস করে। যদিও তাদের মধ্যে জ্বিন অস্বীকারকারীও আছে; যেমন মুসলিমদের মাঝে আছে, যেমন জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলাহ ফির্কা। তবুও অধিকাংশ ফির্কা ও তার ইমামগণ জ্বিনের অস্তিত্বে বিশ্বাসী।

যেহেতু জ্বিনের অস্তিত্ব ব্যাপারে আম্বিয়াগণ থেকে বহুধাসূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যা আবশ্যকভাবে বিদিত। আবশ্যকভাবে এ কথাও বিদিত যে, তারা জীবিত, বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন ও স্বেচ্ছাময় কার্য সম্পাদনকারী। বরং তাদেরকে অনেক কাজ করতে আদেশ করা হয়েছে এবং অনেক কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা মানুষ বা অন্য কিছুতে অবস্থিত কোন গুণ, বিশেষণ বা অবস্তু নয়; যেমন কিছু বস্তুবাদী ধারণা করে থাকে। সুতরাং জ্বিনের ব্যাপার আম্বিয়া কর্তৃক বহুধাসূত্রে এমনভাবে প্রমাণিত, যা আম-খাস সকল লোকেই জানে। তাই আম্বিয়ায়ে কিরামদের অনুসারী কোন ফির্কার জন্য তা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। "¹¹

ইমামুল হারামাইন বলেছেন, "জ্বিন ও শয়তানের অস্তিত্ব এবং তাদের অনিষ্টকারিতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার ব্যাপারে সাহাবা ও তাবেঈনদের যুগের উলামাগণ একমত। দ্বীনাবলম্বী কোন দ্বীনদার এ মতৈক্যের বিরোধিতা করে না।"¹²

টিকাঃ
১১. মাজমু ফাতাওয়া ১৯/১০

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 কুরআন-হাদীসের দলীল

📄 কুরআন-হাদীসের দলীল


কুরআন-হাদীসে বহু স্পষ্ট উক্তি এমন আছে, যা জ্বিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন,

قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا

"বল, আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে বলেছে, 'আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি।"¹³

وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا

"কতিপয় মানুষ কতক জ্বিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত, ফলে তারা জ্বিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।"¹⁴ এ ছাড়া আরো অনেক উক্তি আছে, যার অধিকাংশ এই পুস্তিকার বিভিন্ন স্থলে উল্লিখিত হয়েছে। যদিও সে সব উক্তির আধিক্য ও প্রসিদ্ধি উল্লেখের অপেক্ষা রাখে না।

টিকাঃ
১২. আ-কামুল মারজান ৪পৃ.
১৩. সূরা জ্বিন-৭২:১
১৪. সুরা জ্বিন-৭২:৬

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 জ্বিন দর্শন

📄 জ্বিন দর্শন


অতীত ও বর্তমানের অনেক লোক জ্বিন দর্শন করেছে বলে দাবী করে। অবশ্য তারা যা দেখেছে ও শুনেছে, তা জ্বিন ও জ্বিনের শব্দ বলে মনে করে না। তারা মনে করে, তা হল অশরীরী আত্মা (প্রেতাত্মা), গায়বী বুযুর্গ বা বায়বীয় বুযুর্গ বা অন্য কিছু।

জ্বিন দর্শনের ব্যাপারে বর্ণিত সবচেয়ে সত্য কথা হল নবী এর জ্বিনের সাথে সাক্ষাৎ করা, কথা বলা, তাদের তাঁর সাথে কথা বলা, তাঁর তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া, তাদের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনানো ইত্যাদি। আর এ সকল কথা যথাস্থানে উল্লিখিত হবে ইনশা-আল্লাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00