📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


জ্বিন-জগৎ একটি পৃথক জগৎ। সে জগৎ মনুষ্য-জগৎ ও ফিরিস্তা-জগৎ থেকে ভিন্ন। তবে জ্বিন ও ইনসানের মধ্যে কিছু বিষয়ে সাদৃশ্য আছে। যেমন জ্ঞান-বুদ্ধি ও ভালো-মন্দ নির্বাচন করে চলার ক্ষমতা ইত্যাদি। অবশ্য বহু বিষয়ে জ্বিন মানুষ থেকে পৃথক। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল, মানুষের সৃষ্টি-উপাদান জ্বিনের সৃষ্টি-উপাদান থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত।

### জ্বিনকে 'জ্বিন' কেন বলা হয়?

আরবীতে 'জিন্ন' মানে আড়াল, অন্তরাল, পর্দা, গোপন ইত্যাদি। যেহেতু জ্বিন জাতি মানুষের চক্ষুর অন্তরালে গোপন বা অদৃশ্য থাকে, তাই তাদেরকে 'জ্বিন' বলা হয়।

একই কারণে ভ্রূণকে 'জানীন' বলা হয়। যেহেতু তা থাকে তিনটি পর্দার আড়ালে।

ঢালকেও 'মিজান্ন' বলা হয়। যেহেতু যোদ্ধা তার আড়ালে থেকে দুশমনের অস্ত্র থেকে নিজেকে রক্ষা করে। জ্বিন মানুষের চোখে অদৃশ্য থাকে, সে কথা কুরআনে বলা হয়েছে,
يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَاتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاء لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ

অর্থাৎ, হে আদমের সন্তানগণ! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ফিতনায় জড়িত না করে; যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে (ফিতনায় জড়িত করে) জান্নাত হতে বহিষ্কৃত করেছিল, তাদের লজ্জাস্থান তাদেরকে দেখাবার জন্য বিবস্ত্র করে ফেলেছিল। নিশ্চয় সে নিজে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমন স্থান হতে দেখে থাকে যে, তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। যারা বিশ্বাস করে না, শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক (বন্ধু) করেছি।'¹

### জ্বিন সৃষ্টির মূল উপাদান

মহান আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন, জ্বিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন থেকে। তিনি বলেছেন,

وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِ

"এর পূর্বে আমি জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি ধূমহীন বিশুদ্ধ অগ্নি হতে।"²

وَخَلَقَ الْجَانَّ مِن مَّارِجٍ مِّن نَّارٍ

"তিনি জ্বিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে।"³

ইবনে আব্বাস, ইকরামাহ, মুজাহিদ, হাসান প্রমুখগণ বলেছেন, 'মারিজুন মিন নার' অগ্নিশিখার শেষপ্রান্ত, অন্য এক বর্ণনামতে, বিশুদ্ধ ও সর্বশ্রেষ্ঠ অগ্নিশিখা হতে।⁴

ইমাম নাওয়াবী বলেছেন, 'মারিজ' হল (গাঢ়) আগুনের কৃষ্ণতা-মিশ্রিত শিখা।⁵ নবী বলেছেন,

خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانَّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ

"ফিরিশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। জ্বিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে অগ্নিশিখা হতে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই বস্তু থেকে, যা তোমাদেরকে বর্ণনা করা হয়েছে। (অর্থাৎ, মাটি থেকে)।⁶

### জ্বিন জাতিকে কখন সৃষ্টি করা হয়?

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, জ্বিন জাতিকে মানুষের পূর্বেই সৃষ্টি করা হয়েছে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ - وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِ

নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কালো পচা শুষ্ক ঠনঠনে মাটি হতে। আর এর পূর্বে জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি ধূম্রহীন বিশুদ্ধ অগ্নি হতে।⁷

তাছাড়া আদম সৃষ্টির সময় ইবলীস বর্তমান ছিল এবং তাঁকে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল।

অনেকের মতে জ্বিনকে মানুষের দুই হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু কিতাব ও সুন্নাহ থেকে সে মতের সমর্থনে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।

### জ্বিনের সৃষ্টিগত দৈহিক বর্ণনা

মহান আল্লাহ তাঁদের সৃষ্টিগত দৈহিক বর্ণনা, ইন্দ্রিয় ও আকৃতির ব্যাপারে যা বলেছেন, তার থেকে বেশি কিছু আমরা জানতে পারি না। আমরা জানি তাদের হৃদয় আছে, চোখ ও কান আছে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,

وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالإِنسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لا يَسْمَعُونَ بِهَا أُوْلَئِكَ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُوْلَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ

আমি তো বহু জ্বীন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে দেখে না, তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে শোনে না, তারা জন্তু-জানোয়ারের মত, বরং তার চেয়েও পথভ্রষ্ট, তারাই হল উদাসীন।⁸

### আরবদের ভাষায় জ্বিনদের নাম ও প্রকারভেদ

ইবনে আব্দিল বার বলেছেন, আহলে কালাম ও ভাষাবিদের নিকট জ্বিন জাতির বিভিন্ন প্রকারভেদ আছে। যেমন -
১। কেবল জ্বিনকে উল্লেখ করলে বলে, জিন্নী।
২। যে জ্বিন মাষদের সাথে বসবাস করে, তার কথা বললে বলে, আমের, বহুবচনে উম্মার।
৩। যে শিশুকে উত্যক্ত করে, তার কথা বললে বলে, আরওয়াহ।
৪। খবীস আকারে উত্যক্ত করলে তাকে বলে, শয়তান।
৫। এর চাইতে বেশি ক্ষতি করলে বলে, মারেদ।
৬। এর চাইতেও বেশি দুর্ধর্ষ হলে বলে, ইফরীত; বহুবচনে আফারীত।

আর নবী বলেছেন,

الجِنُّ ثَلاثَةُ أَصْنافِ فَصِنْفٌ لَهُمْ أَجْنِحَةٌ يَطِيرُونَ بِها فِي الْهَوَاءِ وَصِنْفٌ حَيَّاتٌ وَكِلابٌ وَصِنْفٌ يَحِلُّونَ وَيَظْعَنُونَ

অর্থাৎ, জ্বিন তিন শ্রেণীর। এক শ্রেণীর ডানা আছে, তারা তার সাহায্যে বাতাসে উড়ে বেড়ায়, এক শ্রেণী সাপ-কুকুর আকারে বসবাস করে, আর এক শ্রেণী স্থায়ীভাবে বসবাস করে ও ভ্রমণ করে।⁹

জ্ঞাতব্য যে, দৈত্য, দানব, অসুর, রাক্ষস, দেও-পরী, ভুত-প্রেত-প্রেতিনী, প্রেতাত্মা, পিশাচ---এসব কিছু জ্বিনেরই বিভিন্ন ভাষায় অথবা বিভিন্ন গুণের উপর এক একটা নাম।

টিকাঃ
১. সূরা আল আ'রা-ফ-৭:২৭
২. সূরা আল হিজ্বর-১৫:২৭
৩. সূরা আর রহমান-৫৫:১৫
৪. আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ ১/৫৮
৫. মুসলিমের শারহু- ১৮/১২৩
৬. মুসলিম মাশা. হা/৭৬৮৭, মিশকাত, হাএ, হা/৫৭০১
৭. সূরা আল হিজ্বর-১৫:২৬-২৭
৮. সূরা আরাফ-৭:১৭৯
৯. ত্বাবারানীর কাবীর, মাশা. হা/৫৭৩, হাকেম, মাশা, হা/৩৭০২, বাইহাক্বীর আসমা অসিফাত, সহীহুল জামে' লিল আলবানী, মাশা, হা/৩১১৪

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শয়তান থেকে রহমানের সতর্কবার্তা

📄 শয়তান থেকে রহমানের সতর্কবার্তা


কুরআন কারীমে মহান আল্লাহ আমাদেরকে বহুবার শয়তান সম্বন্ধে সতর্ক করেছেন। যেহেতু তার ফিতনা বিশাল, বিভ্রান্ত ও ভ্রষ্ট করতে সে বড় সুদক্ষ, তার সেই একমাত্র কাজে নিরলস তার প্রচেষ্টা। সে মানুষের প্রকাশ শত্রু, অথচ সম্মুখ সমরে তাকে দেখা যায় না। শত্রুতা করার সময়েও অতি সহজে তা বুঝা যায় না। মানব মনের মণিকোঠায় অনুপ্রবেশ করে এবং গোপনে ফুস্মন্ত্র দিয়ে কেটে পড়ে! মহান আল্লাহ বলেছেন,

يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَاتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاء لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ

“হে আদমের সন্তানগণ! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ফিতনায় জড়িত না করে; যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে (ফিতনায় জড়িত করে) জান্নাত হতে বহিষ্কৃত করেছিল, তাদের লজ্জাস্থান তাদেরকে দেখাবার জন্য বিবস্ত্র করে ফেলেছিল। নিশ্চয় সে নিজে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমন স্থান হতে দেখে থাকে যে, তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। যারা বিশ্বাস করে না, শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক (বন্ধু) করেছি।”¹⁴⁹

إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ

“শয়তান তোমাদের শত্রু; সুতরাং তাকে শত্রু হিসাবেই গ্রহণ কর। সে তো তার দলবলকে এ জন্য আহবান করে যে, ওরা যেন জাহান্নামী হয়।”¹⁵⁰

وَمَن يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِّن دُونِ اللهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُّبِينًا

“যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”¹⁵¹ শয়তানের এ শত্রুতা যেমন আদি, তেমনি চিরন্তন। কারণ সে জানে, তার বিতাড়িত ও অভিশপ্ত হওয়া এবং জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার একমাত্র কারণ হল আমাদের পিতা আদম (আঃ)। তাই যথাসাধ্য সে বদলা নেবে আমাদের নিকট থেকে। সে সময়ই সে বলেছিল,

أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلاً

'বল, এই যাকে তুমি আমার উপর মর্যাদা দান করলে, কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যদি আমাকে অবকাশ দাও, তাহলে আমি অল্প কয়েকজন ছাড়া তার বংশধরকে অবশ্যই আয়ত্তে করে নেব।' ¹⁵²

কিন্তু বহু মানুষ আছে, যারা নিজেদের আত্মা ও মনের নানা মন্দ দিক জানে, অথচ শৈথিল্য প্রদর্শন করে তাদের চরম শত্রুর পরিচয় জানতে। শত্রু সম্বন্ধে উদাসীন থাকলে অতর্কিতে আক্রমণ তো হতেই পারে।

টিকাঃ
১৪৯. সূরা আল আ'রাফ-৭:২৭
১৫০. সূরা ফাত্বির-৩৫:৬
১৫১. সূরা আন নিসা-৪:১১৯
১৫২. সূরা বানী ইসরাঈল-১৭:৬২

📘 জ্বিন ও শয়তান জগৎ > 📄 শেষ কথা

📄 শেষ কথা


জ্ঞানী মানুষরা ধ্বংসোন্মুখ লোকেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখে ধোঁকা খায় না। যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা আল্লাহর কাছে ভালো-মন্দের কোন নিক্তি নয়। তাঁর কাছে নিক্তি হল হক, যদিও তার অনুসারী সংখ্যালঘু হয়।
সুতরাং আপনি হকপন্থীদের দলভুক্ত হন, যারা প্রতিপালক ও উপাস্য হিসাবে আল্লাহতে, নবী ও রসূল হিসাবে মুহাম্মাদ , দ্বীন হিসাবে ইসলামে এবং দলীল হিসাবে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহতে সন্তুষ্ট। যারা শয়তানকে চেনে এবং চেনে তার অনুসারীবর্গকে। অতঃপর সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে দলীল ও প্রমাণ দ্বারা, তরবারি ও শক্তি দ্বারা। তবে সবার আগে মহান আল্লাহর উপর ভরসা, তাঁর নিকট সকাতর প্রার্থনা এবং তাঁর দ্বীনের অনুসরণ দ্বারা সাহায্য নেয়।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ - فَإِن زَلَلْتُمْ مِّن بَعْدِ مَا جَاءتُكُمُ الْبَيِّنَاتُ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
“হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। অতঃপর প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে, তবে জেনে রাখ যে, আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়। " ৪৪৩
মহান আল্লাহর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, তিনি যেন আমাদেরকে তাদের দলে শামিল হওয়ার তওফীক দান করেন, যারা ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করেছে এবং শয়তানের পদাঙ্কানুসরণ করে না। আমীন।
وصلى الله وسلم على عبده ورسوله محمد ، وعلى آله وصحبه وسلم

টিকাঃ
৪৪o. সূরা আল বাক্বারাহ-২:২০৮-২০৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00