📄 যদি কারো কাছে ওল জিন উপস্থিত হয় তখন তার কী বলা উচিত
ওল (আরবি গুল, বহুবচন গিলাম) হলো এক ধরনের জিন, এবং বলা হয়ে থাকে এরা হলো জিনদের জাদুকর। তারা বিভিন্ন রূপে হাজির হতে পারে, কিন্তু তাদের অনিষ্টতা আযান দিলেই দূর হয়ে যাবে।
জাবির (রা) থেকে বর্ণিত: “তোমার কাছে যদি ওল জিন হাজির হয়, তাহলে তুমি সঙ্গে সঙ্গে আযান দেবে।” কারণ আযান শয়তানকে পালাতে বাধ্য করে।
টিকা:
১৭৫. ইবনে আল সুন্নি, বাব ইয়া তাগাওয়ালত আল গীলান, ৭-১৬০, নং-৫২৪
📄 নতুন জায়গায় যাত্রাবিরতি করলে যা করা উচিত
খাওলা বিনতে হাকীম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সা.) বলতে শুনেছি যে, “কেউ যদি নতুন কোনো জায়গায় যাত্রাবিরতি করে তাহলে সে যেন বলে: ‘আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব’ (আমি আল্লাহর উত্তম কথা দিয়ে তাঁর কাছে সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন।) এটা পাঠ করলে ওই যাত্রাবিরতির স্থান না ত্যাগ করা পর্যন্ত তার কোনো ক্ষতি হবে না।”
টিকা:
১৭৯. সহীহ মুসলিম, ৪/২০৮০, নং-৫৪৮
📄 উপসংহার
আমরা আল্লাহর রাসূলের (সা.) মুখ নিঃসৃত কিছু অমীয় বাণী দিয়ে এ বইয়ের ইতি টানব।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার আমি আল্লাহর রাসূলের (সা.) সঙ্গে এক বাহনে সওয়ার হয়েছিলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: “হে যুবক, আমি তোমাকে কিছু কথা (উপদেশ) শিখিয়ে দেব। আল্লাহকে স্মরণ করবে, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহকে স্মরণ করবে, তাহলে তাকে তুমি তোমার সামনে পাবে। তোমার যদি কিছু চাওয়ার থাকে, আল্লাহর কাছে চাও। সাহায্যের দরকার হলে, আল্লাহর কাছে চাও। একটা কথা জেনে রাখ, যদি গোটা জাতি একত্রিত হয়েও তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তাহলে তারা তোমার কেবল এতটুকু উপকারই করতে পারবে, যতটুকু জন্য আল্লাহ তা‘আলা ডিক্রি বা আদেশ জারি করেছেন। একইভাবে তারা যদি তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়, তাহলে তারা তারা ততটুকু ক্ষতি তোমার করতে পারবে, যতটুকু জন্য আল্লাহ তায়ালা ইতোমধ্যেই ডিক্রি জারি করেছেন। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, আর পৃষ্ঠা ও শুকিয়ে গিয়েছে।”
অন্য এক হাদীসে এসেছে: “তুমি আল্লাহকে স্মরণ করবে, তিনি তোমার সামনে এসে হাজির হবেন। সুখ ও সমৃদ্ধিতে থাকাকালে আল্লাহকে স্মরণ করবে, তাহলে আল্লাহ তোমাকে তোমার বিপদ পরিস্থিতিতে স্মরণ করবেন। একটা কথা জেনে রাখ, যা তুমি ইতোমধ্যেই অতিক্রম করেছ, তা কখনো তোমার ক্ষেত্রে ঘটবে না। আবার তোমার ক্ষেত্রে যা একবার ঘটেছে, তা আর কখনো তোমাকে অতিক্রম করতে হবে না। আর একটা কথা জেনে রাখ, বিজয় সবসময় ধৈর্যের মাধ্যমে আসে, আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তি আসে এবং কঠোরতার মাধ্যমেই সরলতা বা সহজতা আসে।”
সবশেষে, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে রক্ষা করেন, সুরক্ষিত রাখেন, তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর তত্ত্বাবধানে রাখেন, কারণ একমাত্র তিনিই এটা করতে সক্ষম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আল্লাহ কোন ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু আরোপ করেন না, সে ভাল যা করেছে সে তার সওয়াব পাবে এবং খারাপ মন্দ কৃতকর্মের জন্য সে নিজেই নিগ্রহ ভোগ করবে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তাহলে আমাদেরকে পাকড়াও করো না, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আগের লোকেদের ওপর যেমন তরফ-দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের ওপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না!; হে আমাদের প্রতিপালক! যে ভার বহনের ক্ষমতা আমাদের নেই, এমন ভার আমাদের ওপর চাপিয়ে দিও না, (ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করে) আমাদেরকে রেহাই দাও, আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর; তুমিই আমাদের প্রতিপালক, কাজেই আমাদেরকে কাফিরদের ওপর জয়যুক্ত কর।” (সুরা বাকারা ২:২৮৬)
সকল প্রশংসা ও মহিমা আপনারই, হে মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। আমরা আপনার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনার কাছেই তাওবাহ্ করি। হে আল্লাহ আপনি আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তাঁর পরিবার এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আবুল মুনযীর খলীল বিন ইবরাহিম আমীন
টিকা:
১৭৭. সুনান আত-তিরমিযী ৪/৬৭৭, হা: ২৫১৬