📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 শয়তানের কারণে ভয় পেলে কী করা উচিত

📄 শয়তানের কারণে ভয় পেলে কী করা উচিত


আল্লাহ তা'আলা বলেন: “শয়তানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি সর্বতোভাবে সর্বজ্ঞ।” (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩৬)
“তুমি যখন কুরআন পাঠ কর তখন আমি তোমার আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা স্থাপন ক'রে দিয়েছি।” (সূরা আল ইসরা ১৭:৪৫)

যার কাছে শয়তান উপস্থিত হয় তার নিম্নোক্ত আয়াত অনুসরণ করা উচিত:
১- প্রথমেই তাকে বলতে হবে: 'আউযুবিল্লাহিস সামি’ইল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজীম'। (আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
২- তাকে নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত শুনতে হবে。
৩- তাকে নিয়মিত সালাতের জন্য আযান দিতে হবে।

আবুদ দারদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাতের জন্য উঠে দাঁড়ালেন, এবং তখন আমরা তাঁকে বলতে শুনলাম: “আমি আল্লাহর কাছে তোমার হাত থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” অতঃপর তিনি তিনবার বললেন: “আমি আল্লাহর অভিশাপে তোমাকে অভিশম্পাত করছি।” অতঃপর তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন, মনে হলো তিনি কিছু একটা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রার্থনা শেষ হলে আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), দোয়ার মাঝে আপনি এমন কিছু কথা বলেছেন যা আমরা ইতোপূর্বে আপনার মুখ থেকে শুনিনি এবং আমরা লক্ষ্য করলাম, আপনি আপনার হাত সামনে প্রসারিত করেছেন।” তখন তিনি বললেন: “আল্লাহর শত্রু ইবলিস আগুনের একটি কুণ্ডলি নিয়ে এসেছিল আমার মুখে নিক্ষেপ করার জন্য এবং আমি তিনবার বললাম: “আমি আল্লাহর কাছে তোমার হাত থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” অতঃপর আমি তিনবার বললাম: “আমি আল্লাহর অভিশাপে তোমাকে অভিশম্পাত করছি।” এরপর সে তিনবার ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করল। আর আমি তাকে আটক করতে চাইলাম, সেজন্যই হাত প্রসারিত করেছি, আল্লাহর শপথ, এটা যদি আমার ভাই সুলায়মানের দু'আ প্রার্থনা না হতো, তাহলে এ সকালে আমি তাকে বেঁধে ফেলতাম এবং মদীনার শিশুরা তাকে নিয়ে খেলা করত।”

সাহল বিন আবু সালিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে বন্ধু হারিসায় প্রেরণ করলেন, আমার সঙ্গে আমাদের কিছু দাস অথবা বন্ধু ছিল। পথিমধ্যে দেয়ালের পেছন থেকে কেউ একজন তার নাম ধরে ডাকল, ডাক শুনে আমার সঙ্গীদের একজন দেয়ালের ওপর দিয়ে পেছনে তাকাল, কিন্তু কিছু দেখতে পেল না। আমি এ ব্যাপারে আমার পিতাকে বললাম এবং তিনি বললেন: 'আমি যদি বুঝতে পারতাম যে, তোমার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটবে তাহলে আমি তোমাকে সেখানে পাঠাতাম না। কিন্তু তুমি যদি কোনো কষ্টকর আওয়াজ শুনতে পাও, তাহলে আযান দিবে, কারণ আমি আবু হুরায়রাহকে (رضي الله عنه) বর্ণনা করতে শুনেছি, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “আযান দেওয়া হলে শয়তান দৌড়ে পালায়।”

টিকা:
১৭১. সহীহ মুসলিম, বাব জায়া লা'নাহ শায়তান, ১/১৮৫, নং-৪০০
১৭২. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল সালাহ, বাবুল ফাদলুল আযান ওয়া হুরুবুশ শায়তান, ১/২৯০-২৯১

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 পোষা মোরগ, গাধা ও কুকুরের ডাক শুনলে কী বলা উচিত

📄 পোষা মোরগ, গাধা ও কুকুরের ডাক শুনলে কী বলা উচিত


আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন: “তুমি যদি গাধার ডাক শুনতে পাও, তাহলে আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে, কারণ এ গাধা শয়তান দেখতে পেয়েছে। তুমি যদি পোষা মোরগের ডাক শুনতে পাও, তাহলে আল্লাহর দয়া ও রহমত কামনা করবে, কারণ এটা ফেরেশতা দেখতে পেয়েছে।”

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা) বলেন: “তুমি যদি রাতে কুকুর ও গাধার ডাক শুনতে পাও, তাহলে আল্লাহর কাছে শয়তানের হাত থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে, কারণ এরা যা দেখতে পায়, তোমরা তা দেখতে পাওনা।”

টিকা:
১৭৩. সহীহ আল বুখারী, কিতাবুল বাদা’ল খালক, ৪/১৫৫
১৭৪. সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, ৫/৩৬২, নং-৫১০৩

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 যদি কারো কাছে ওল জিন উপস্থিত হয় তখন তার কী বলা উচিত

📄 যদি কারো কাছে ওল জিন উপস্থিত হয় তখন তার কী বলা উচিত


ওল (আরবি গুল, বহুবচন গিলাম) হলো এক ধরনের জিন, এবং বলা হয়ে থাকে এরা হলো জিনদের জাদুকর। তারা বিভিন্ন রূপে হাজির হতে পারে, কিন্তু তাদের অনিষ্টতা আযান দিলেই দূর হয়ে যাবে।

জাবির (রা) থেকে বর্ণিত: “তোমার কাছে যদি ওল জিন হাজির হয়, তাহলে তুমি সঙ্গে সঙ্গে আযান দেবে।” কারণ আযান শয়তানকে পালাতে বাধ্য করে।

টিকা:
১৭৫. ইবনে আল সুন্নি, বাব ইয়া তাগাওয়ালত আল গীলান, ৭-১৬০, নং-৫২৪

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 নতুন জায়গায় যাত্রাবিরতি করলে যা করা উচিত

📄 নতুন জায়গায় যাত্রাবিরতি করলে যা করা উচিত


খাওলা বিনতে হাকীম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সা.) বলতে শুনেছি যে, “কেউ যদি নতুন কোনো জায়গায় যাত্রাবিরতি করে তাহলে সে যেন বলে: ‘আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব’ (আমি আল্লাহর উত্তম কথা দিয়ে তাঁর কাছে সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন।) এটা পাঠ করলে ওই যাত্রাবিরতির স্থান না ত্যাগ করা পর্যন্ত তার কোনো ক্ষতি হবে না।”

টিকা:
১৭৯. সহীহ মুসলিম, ৪/২০৮০, নং-৫৪৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px