📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 কারো গৃহে প্রবেশের সময় কী বলা উচিত

📄 কারো গৃহে প্রবেশের সময় কী বলা উচিত


গৃহে প্রবেশের সময় بِسْمِ اللَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ ‘বিসমিল্লাহিস সালামু আলাইকুম’ বলা মুস্তাহাব। (আল্লাহ তা’আলার নামে, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, ঘরে অন্য কোনো মানুষ থাকুক বা না থাকুক; কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন:
“যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা স্বজনদেরকে সালাম জানাবে যা আল্লাহর দৃষ্টিতে বরকতময় পবিত্র সম্ভাষণ।” (আন-নূর: ২৪/৬১)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন:
“হে আমার বৎস, তুমি যখন তোমার গৃহে প্রবেশ করবে তখন সালাম দিবে; এর ফলে তোমার ও তোমার পরিবারের সদস্যদের ওপর আল্লাহ তা’আলার রহমত নেমে আসবে।”

আবু মালিক আল আশ'আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন, যখন তোমাদের কেউ তার গৃহে প্রবেশ করে, তখন সে যেন বলে:
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلَجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِاسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِاسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাল মাওলিজি ওয়া খাইরাল মাখরাজি, বিসমিল্লাহি ওয়া লাজনা ওয়া বিসমিল্লাহি খরাজনা, ওয়া আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা।”
(হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম প্রবেশ ও সর্বোত্তম প্রস্থানের প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তা'আলার নামে আমরা গৃহে প্রবেশ করেছি এবং আল্লাহ তা'আলার নামেই গৃহ থেকে বের হয়েছি, এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলার ওপরই আমাদের সকল আস্থা)
এ দোয়া পাঠ করার পর সে যেন তার পরিবারের সদস্যদের সালাম দিয়ে অভিবাদন জানায়।

জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বলতে শুনেছি,
“যখন কোনো ব্যক্তি তার গৃহে প্রবেশ ও খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন শয়তান বলে: এ ঘরে তোমার কোনো স্থান নেই এবং খাবারেও তোমার কোনো ভাগ নেই। আর সে যদি গৃহে প্রবেশ করে এবং খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ না করে, তখন শয়তান বলে: ‘তুমি থাকা ও খাওয়ার একটি স্থান পেয়ে গেছ।’”

মুয়াত্ত্বা ইমাম মালিক হতে বর্ণিত আছে, ইমাম মালিক শুনেছেন যে, নির্জন ঘরে প্রবেশের সময় “আসসালামু আলাইনা ওয়া 'আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন” এ দোয়া পাঠ করা মুস্তাহাব।

টিকা:
১৫৬. সুনান আত-তিরমিযী, বাব মাযাআ’ ফিদ্-তাসলিম ইযা দাখালা বায়তিহি
১৩০. সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, ৫/৩২৮, ৫০৯৬। আলবানী (রহ.) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
১৩১. সহীহ মুসলিম, ৩/১৫৯৮, নং-২০০১।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 সহবাসের সময় যা বলতে হবে

📄 সহবাসের সময় যা বলতে হবে


ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন:
“তোমাদের কেউ যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের সময় বলে: بِسْمِ اللهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا 'আল্লাহুম্মা জান্নাবনাশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা' (পরম করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নামে। হে আল্লাহ, আপনি শয়তানকে আমাদের থেকে এবং আমাদেরকে যা দান করবেন তা থেকে দূরে রাখুন।) অতঃপর যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের একটি সন্তান হওয়ার বিষয়ে ডিক্রি হয়, তাহলে সেই সন্তানের কোনো ক্ষতি শয়তান করতে পারবে না।”

আল বুখারী থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, “লাম ইয়্যা দুররাহু শায়তানুন আবাদা” (শয়তান কখনোই তার ক্ষতি করতে পারবে না।)

টিকা:
১৬২. ফাতহুল বারী, কিতাবুন নিকাহ, ৭/২৫, সহীহ মুসলিম কিতাবুল আনফাক্ব ২/১০৮৭, পৃ. ৫৪

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 রাগান্বিত অবস্থায় কী করা উচিত

📄 রাগান্বিত অবস্থায় কী করা উচিত


রাগ বা ক্রোধ শয়তানের অন্যতম একটি প্ররোচনা বা ওয়াসওয়াসা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “শয়তানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।” (ফুসসিলাত: ৩৬)

রাসূলের (ﷺ) সাহাবি সুলায়মান বিন সুরাদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলের (ﷺ) সঙ্গে একত্রে বসা ছিলাম, এ সময় দু’ ব্যক্তি একে অপরকে অপমান করছিল। এর মধ্যে একজনের মুখমণ্ডল প্রচণ্ড রাগে লাল হয়ে উঠল, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “আমি এমন একটি কথা (দোয়া) জানি যা বললে বা পাঠ করলে ওই লোকের মনের ভিতর যা হচ্ছে তা কমে যাবে। যদি সে বলে 'আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানিক রাজীম' তাহলে তার রাগ চলে যাবে।” তারা তাকে বললেন: “আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তানের হাত থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা।” লোকটি বলল: “আমি কি পাগল?”

আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার আমি খুব রাগান্বিত হয়ে পড়ি, এমন সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার ঘরে প্রবেশ করে আমার নাকের ডগা টিপে মৃদুচাপ দিলেন, অতঃপর তিনি বললেন: (হে উমাইশ, (আয়িশাহ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ) বল: (হে আল্লাহ, আমার পাপ ক্ষমা করুন, আমার মন থেকে ক্রোধ দূর করে দিন, এবং আমাকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করুন।)

রাসূলের সাহাবি আতিয়্যাহ বিন উরওয়াহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: "রাগ ও ক্রোধ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে, আর শয়তানকে তৈরি করা হয়েছে আগুন থেকে। এ আগুন নেভানো হয় পানি দিয়ে, সুতরাং তোমাদের কেউ যদি রাগান্বিত হয়ে যায়, তাহলে তাকে বল অযু করতে।"

শয়তান যদি কাউকে রেগে যেতে প্ররোচিত করে তাহলে ওই ব্যক্তির জন্য নিজের রাগ প্রশমিত করা এবং আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তানের হাত থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা মুস্তাহাব। অতঃপর তার উচিত দ্রুত অযু করে নেওয়া এবং রাগ দমন করার জন্য আল্লাহর পুরস্কারের কথা স্মরণ করা। মুআ’য বিন আনাস আল যুহানি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন: “যে ব্যক্তি তার রাগ দমন করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন সকল সৃষ্টির আগে তার নাম ধরে ডাকবেন এবং তাকে হুরদের মধ্য থেকে যাকে খুশি বেছে নিতে বলবেন।”

টিকা:
১৬৩. ফাতহুল বারী, কিতাবুল আদাব আল খালকু, বাব সিফাতু ইবলিস, ৫/৩৫১, সহীহ মুসলিম, ৪/২০, নং-২০৬
১৬৪. সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, ৫/১৪১, হা: ৪৭৪৮
১৮৩. সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, ৫/10৭, নং-৪৭১৭, সুনান আত-তিরমিযী, কিতাবুল বির, নং-২০২২

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 সন্তানের সুরক্ষার জন্য দোয়া

📄 সন্তানের সুরক্ষার জন্য দোয়া


ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাঃ) হাসান ও হুসাইনের সুরক্ষার জন্য এ দোয়া পাঠ করতেন: “আউযু বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতি, মিন কুল্লি শায়াত্বীনিন ওয়া হাম্মাতিন, ওয়া মিন কুল্লি আই‌নিন লাম্মাতিন।” (আমি আল্লাহর কাছে তাঁর উত্তম কথা দিয়ে সকল অনিষ্টতা, বিষাক্ত সরীসৃপ এবং হিংসাত্মক সকল কুনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি) এবং আল্লাহর রাসূল (সাঃ) অতঃপর বললেন: “তোমার পিতা (ইবরাহিম) তার দুই সন্তান ইসমাঈল ও ইসহাকের সুরক্ষার জন্য এ দোয়াই পাঠ করতেন।”

টিকা:
১৮৪. সহীহুল বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, ৪/১৭৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px