📄 খাওয়া ও পান করার আগে বিসমিল্লাহ বলা
উমর বিন আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন:
«سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ»
“প্রথমে বিসমিল্লাহ বলবে, অতঃপর ডান হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করবে।”
জাবর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বলতে শুনেছি,
“যখন কোনো ব্যক্তি গৃহে প্রবেশ করা ও খাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, শয়তান তখন বলতে থাকে: 'এখানে তোমার কোনো স্থান বা খাবার নেই।' আর যদি কেউ গৃহে প্রবেশের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান বলে: 'তুমি থাকার জন্য একটি জায়গা পেয়ে গেছ।' আর খাওয়ার সময় যদি কেউ আল্লাহ্র স্মরণ না করে, তখন শয়তান বলতে থাকে: 'তোমার থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে গেছে।'”
হুযায়ফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) সঙ্গে খাবার খেতাম তখন তিনি খাবারের দিকে হাত প্রসারিত করার আগে আমরা কখনো হাত বাড়াতাম না। তো একবার আমরা তাঁর সাথে একই সময়ে খাবার গ্রহণ শুরু করব, এমন সময় একটি মেয়ে এসে হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করল, মনে হলো কেউ যেন তাকে ভেতরে ঠেলে দিয়েছে। সে এসেই খাবারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মেয়েটির হাত ধরে ফেললেন। এরপর আরেক বেদুইন হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করল, তাকে দেখেও মনে হলো কেউ ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঠেলে দিয়েছে তাকে, রাসূল (ﷺ) তার হাতও ধরে ফেললেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন:
“যদি কোনো খাবারের ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করা না হয়, তখন শয়তান এ খাবার তার নিজের জন্য অনুমোদিত মনে করে। সেই এ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছে যাতে করে তার মাধ্যমে শয়তানের নিজের খাবার ব্যবস্থা হয়ে যায়, কিন্তু আমি তার হাত ধরে ফেললাম। অতঃপর শয়তান এ বেদুইনকে নিয়ে এসেছে, যাতে করে এ খাবার শয়তানের জন্য অনুমোদিত হয়। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, ওই মেয়েটির হাতের সঙ্গে এ বেদুইনের হাতও আমার হাতের মুঠোয় ছিল।”
অতঃপর তিনি আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার গ্রহণ শুরু করলেন।
সাহাবী উমাইয়া বিন মাখশি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বসে ছিলেন, আর তাঁর পাশে বসে এক লোক আল্লাহর নাম না নিয়েই খাবার খাচ্ছিল, এক লোকমা অথবা এক টুকরো খাবার বাকি থাকতে সে বলল: “খাবারের শুরুতেও আল্লাহর নাম এবং শেষেও আল্লাহর নাম।” তখন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) হাসলেন এবং বললেন: শয়তানও তার সঙ্গে খাচ্ছিল, কিন্তু যখনই সে আল্লাহর নাম স্মরণ করল, সঙ্গে সঙ্গে শয়তান পেটে যা ছিল সব বমি করে ফেলে দিল।”
আপনি কি খাওয়া অথবা পান শুরু করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছেন না? সকল স্কলার (রহঃ) একমত হয়েছেন যে, খাওয়া অথবা পান শুরু করার আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করা মুস্তাহাব, কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কারণে আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায় তাহলে তার জন্য ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু’ বলা মুস্তাহাব। এ ছাড়া এ দোয়াটি জোরে উচ্চারণ করাও মুস্তাহাব, যাতে করে একসঙে খেতে বসা অন্যদেরও আল্লাহর নাম নেয়ার কথা স্মরণে আসে。
টিকা:
১০৩. ফাতহুল বারী, ৭/৮৮. মুসলিম, ৩/১৫৯৭, নং-২০৮
১০৪. সহীহ মুসলিম, ৩/১৫৯৮, হাদিস নং-২০০;
১৩৫. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল আশরিবা, ৩/১৫৯৭, নং-১০২;
১৩৬. সूनান আবু দাউদ, ৩/১৫০, নং-৩৭৬৬, আল নাসায়ী; আমল আল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ, পৃ১৩২, নং-২৮০।
📄 বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কী বলা উচিত
উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর গৃহ ত্যাগ করার সময় বলতেন:
بِسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أَضَلَّ أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ
“বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আঊযুবিকা আন আদ্বিল্লা আউ উদাল্লা, আউ আযিল্লা আউ উযাল্লা, আউ আযলিমা, আউ উযলামা, আউ আজহালা আউ ইউজহালা আলাইয়া।”
(পরম করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নামে, আমি তাঁরই ওপর আস্থা রাখি। হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যাতে আমি বিপথগামী না হই অথবা পথভ্রষ্ট না হই, অথবা পদস্খলিত না হই অথবা ঠোঁট খেয়ে না পড়ি, কারো সাথে যেন অন্যায় না করি অথবা অন্যায়ের শিকার না হই, কারো সঙ্গে যেন বোকার মতো আচরণ না করি অথবা কেউ যেন আমাকে বোকা হিসেবে গণ্য না করে।)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবে:
بِسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ
ইউকালু: “কুফিতা ওয়া উকিতাত ওয়া হুদিতা ওয়া তানাহহা 'আনহুশ শায়াতিন।”
(আল্লাহ তা'আলার নামে (বাড়ি থেকে বের হচ্ছি), আমার সকল আস্থা একমাত্র তাঁরই ওপর, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো শক্তি নেই, ক্ষমতা নেই।) তখন বলা হয়: ‘তোমার দায়িত্ব নেয়া হলো, তোমাকে সুরক্ষিত করা হলো এবং পথ প্রদর্শন করা হলো, এবং শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়।’
আবু দাউদ এ হাদীসের সাথে আরও একটু যোগ করেন: 'অতঃপর সে বলে (শয়তান অন্য শয়তানদেরকে বলে) “যে ব্যক্তিকে পথ দেখানো হয়েছে, সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং যার দায়িত্বও নেয়া হয়েছে তার সঙ্গে তোমরা কী করতে পারবে?”
টিকা:
১৬৭. সুনান আবু দাউদ, আত-তিরমিযী; আল নাসাঈ, ইবনে মাজাহ। ইমাম আত-তিরমিযী বলেন: হাদীসটি সহীহ।
১৫৫. সুনান আবু দাউদ: ৫/৩২৮, নং-৫০৯৪;
📄 কারো গৃহে প্রবেশের সময় কী বলা উচিত
গৃহে প্রবেশের সময় بِسْمِ اللَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ ‘বিসমিল্লাহিস সালামু আলাইকুম’ বলা মুস্তাহাব। (আল্লাহ তা’আলার নামে, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, ঘরে অন্য কোনো মানুষ থাকুক বা না থাকুক; কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেন:
“যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা স্বজনদেরকে সালাম জানাবে যা আল্লাহর দৃষ্টিতে বরকতময় পবিত্র সম্ভাষণ।” (আন-নূর: ২৪/৬১)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন:
“হে আমার বৎস, তুমি যখন তোমার গৃহে প্রবেশ করবে তখন সালাম দিবে; এর ফলে তোমার ও তোমার পরিবারের সদস্যদের ওপর আল্লাহ তা’আলার রহমত নেমে আসবে।”
আবু মালিক আল আশ'আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন, যখন তোমাদের কেউ তার গৃহে প্রবেশ করে, তখন সে যেন বলে:
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلَجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِاسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِاسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাল মাওলিজি ওয়া খাইরাল মাখরাজি, বিসমিল্লাহি ওয়া লাজনা ওয়া বিসমিল্লাহি খরাজনা, ওয়া আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা।”
(হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম প্রবেশ ও সর্বোত্তম প্রস্থানের প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তা'আলার নামে আমরা গৃহে প্রবেশ করেছি এবং আল্লাহ তা'আলার নামেই গৃহ থেকে বের হয়েছি, এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলার ওপরই আমাদের সকল আস্থা)
এ দোয়া পাঠ করার পর সে যেন তার পরিবারের সদস্যদের সালাম দিয়ে অভিবাদন জানায়।
জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বলতে শুনেছি,
“যখন কোনো ব্যক্তি তার গৃহে প্রবেশ ও খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন শয়তান বলে: এ ঘরে তোমার কোনো স্থান নেই এবং খাবারেও তোমার কোনো ভাগ নেই। আর সে যদি গৃহে প্রবেশ করে এবং খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ না করে, তখন শয়তান বলে: ‘তুমি থাকা ও খাওয়ার একটি স্থান পেয়ে গেছ।’”
মুয়াত্ত্বা ইমাম মালিক হতে বর্ণিত আছে, ইমাম মালিক শুনেছেন যে, নির্জন ঘরে প্রবেশের সময় “আসসালামু আলাইনা ওয়া 'আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন” এ দোয়া পাঠ করা মুস্তাহাব।
টিকা:
১৫৬. সুনান আত-তিরমিযী, বাব মাযাআ’ ফিদ্-তাসলিম ইযা দাখালা বায়তিহি
১৩০. সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, ৫/৩২৮, ৫০৯৬। আলবানী (রহ.) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
১৩১. সহীহ মুসলিম, ৩/১৫৯৮, নং-২০০১।
📄 সহবাসের সময় যা বলতে হবে
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন:
“তোমাদের কেউ যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের সময় বলে: بِسْمِ اللهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا 'আল্লাহুম্মা জান্নাবনাশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা' (পরম করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নামে। হে আল্লাহ, আপনি শয়তানকে আমাদের থেকে এবং আমাদেরকে যা দান করবেন তা থেকে দূরে রাখুন।) অতঃপর যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের একটি সন্তান হওয়ার বিষয়ে ডিক্রি হয়, তাহলে সেই সন্তানের কোনো ক্ষতি শয়তান করতে পারবে না।”
আল বুখারী থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, “লাম ইয়্যা দুররাহু শায়তানুন আবাদা” (শয়তান কখনোই তার ক্ষতি করতে পারবে না।)
টিকা:
১৬২. ফাতহুল বারী, কিতাবুন নিকাহ, ৭/২৫, সহীহ মুসলিম কিতাবুল আনফাক্ব ২/১০৮৭, পৃ. ৫৪