📄 স্বপ্নে পছন্দনীয় অথবা অপছন্দনীয় জিনিস দেখলে কী বলা উচিত
আবু সাঈদ আল খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বলতে শুনেছি,
“যদি তোমাদের কেউ তার পছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখে, তাহলে সে যেন এর জন্য আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে এবং মানুষদেরকে এটা খুলে বলে।”
অন্য এক হাদীস অনুসারে,
সে যেন এ স্বপ্নের বিষয়ে শুধু তাদেরকে খুলে বলে যাদেরকে সে পছন্দ করে। কিন্তু সে যদি অন্য কিছু দেখে, যা সে পছন্দ করে না, সেটা আসে শয়তানের পক্ষ থেকে, এ অবস্থায় সে যেন এর জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং অন্য কাউকে এটার ব্যাপারে কিছু না বলে, তাহলে এটা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না。
আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন:
“ভালো স্বপ্ন আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর খারাপ স্বপ্ন আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। যদি কেউ দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে যায় তাহলে যেন সে তার বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করে এবং শয়তানের হাত থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে এটা আর তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”
আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন:
“তোমরা যখন ঘুমিয়ে পড় তখন শয়তান মাথার পেছনে তিনটি গিট বাঁধে এবং কিছু কথা বা মন্ত্র দিয়ে সে এ গিটগুলোর স্থান আবার বন্ধ করে দেয়, দীর্ঘ রাত, তোমরা তো ঘুমিয়ে পড়। কিন্তু কারো যদি রাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং সে আল্লাহকে স্মরণ করে তাহলে তার একটি গিট খুলে যায়। আর সে যদি অযু করে তাহলে তার আরো একটি গিট খুলে যায় এবং সে যদি উঠে সালাত আদায় করে তাহলে তার সবগুলো গিট খুলে যায়, সকালে সে জাগ্রত হয় প্রাণবন্ত হয়ে ও নব উদ্যম নিয়ে। আর যারা এটা করে না, তাদের ঘুম ভাঙে মন্দ চেতনা ও অলসতা নিয়ে।”
টিকা:
১৫০. ফাতহুল বারী, বাব রুইয়া আল সালিহীন, ১২/৩৯/৪২১।
📄 টয়লেটে প্রবেশের দোয়া
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) টয়লেটে প্রবেশের সময় এ দোয়া পাঠ করতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবাইছ।” (হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে নারী ও পুরুষের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন:
“যখন কোনো আদম সন্তান টয়লেটে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ বলে, তখন তাকে জিনদের নজর থেকে আবুত করে রাখা হয়।”
তারা বলেন, টয়লেটে প্রবেশের আগে প্রথমে বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব। অতঃপর বলতে হবে:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবuছি ওয়াল খাবাইছ।” (হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে নারী ও পুরুষের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
টিকা:
১০১. সহীহুল বুখারী, কিতাবুল অযু: মুসলিম, বাব ইয়া আরাদা দুখুল আল খালা;
১০২. সूनান আত-তিরমিযী, কিতাবুস সালাত, ২/৩০৫, নং-২৬০৬;
📄 খাওয়া ও পান করার আগে বিসমিল্লাহ বলা
উমর বিন আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন:
«سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ»
“প্রথমে বিসমিল্লাহ বলবে, অতঃপর ডান হাত দিয়ে খাওয়া শুরু করবে।”
জাবর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বলতে শুনেছি,
“যখন কোনো ব্যক্তি গৃহে প্রবেশ করা ও খাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, শয়তান তখন বলতে থাকে: 'এখানে তোমার কোনো স্থান বা খাবার নেই।' আর যদি কেউ গৃহে প্রবেশের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান বলে: 'তুমি থাকার জন্য একটি জায়গা পেয়ে গেছ।' আর খাওয়ার সময় যদি কেউ আল্লাহ্র স্মরণ না করে, তখন শয়তান বলতে থাকে: 'তোমার থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে গেছে।'”
হুযায়ফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যখন আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) সঙ্গে খাবার খেতাম তখন তিনি খাবারের দিকে হাত প্রসারিত করার আগে আমরা কখনো হাত বাড়াতাম না। তো একবার আমরা তাঁর সাথে একই সময়ে খাবার গ্রহণ শুরু করব, এমন সময় একটি মেয়ে এসে হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করল, মনে হলো কেউ যেন তাকে ভেতরে ঠেলে দিয়েছে। সে এসেই খাবারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মেয়েটির হাত ধরে ফেললেন। এরপর আরেক বেদুইন হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করল, তাকে দেখেও মনে হলো কেউ ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঠেলে দিয়েছে তাকে, রাসূল (ﷺ) তার হাতও ধরে ফেললেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন:
“যদি কোনো খাবারের ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করা না হয়, তখন শয়তান এ খাবার তার নিজের জন্য অনুমোদিত মনে করে। সেই এ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছে যাতে করে তার মাধ্যমে শয়তানের নিজের খাবার ব্যবস্থা হয়ে যায়, কিন্তু আমি তার হাত ধরে ফেললাম। অতঃপর শয়তান এ বেদুইনকে নিয়ে এসেছে, যাতে করে এ খাবার শয়তানের জন্য অনুমোদিত হয়। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, ওই মেয়েটির হাতের সঙ্গে এ বেদুইনের হাতও আমার হাতের মুঠোয় ছিল।”
অতঃপর তিনি আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার গ্রহণ শুরু করলেন।
সাহাবী উমাইয়া বিন মাখশি (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বসে ছিলেন, আর তাঁর পাশে বসে এক লোক আল্লাহর নাম না নিয়েই খাবার খাচ্ছিল, এক লোকমা অথবা এক টুকরো খাবার বাকি থাকতে সে বলল: “খাবারের শুরুতেও আল্লাহর নাম এবং শেষেও আল্লাহর নাম।” তখন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) হাসলেন এবং বললেন: শয়তানও তার সঙ্গে খাচ্ছিল, কিন্তু যখনই সে আল্লাহর নাম স্মরণ করল, সঙ্গে সঙ্গে শয়তান পেটে যা ছিল সব বমি করে ফেলে দিল।”
আপনি কি খাওয়া অথবা পান শুরু করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছেন না? সকল স্কলার (রহঃ) একমত হয়েছেন যে, খাওয়া অথবা পান শুরু করার আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করা মুস্তাহাব, কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কারণে আল্লাহর নাম নিতে ভুলে যায় তাহলে তার জন্য ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু’ বলা মুস্তাহাব। এ ছাড়া এ দোয়াটি জোরে উচ্চারণ করাও মুস্তাহাব, যাতে করে একসঙে খেতে বসা অন্যদেরও আল্লাহর নাম নেয়ার কথা স্মরণে আসে。
টিকা:
১০৩. ফাতহুল বারী, ৭/৮৮. মুসলিম, ৩/১৫৯৭, নং-২০৮
১০৪. সহীহ মুসলিম, ৩/১৫৯৮, হাদিস নং-২০০;
১৩৫. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল আশরিবা, ৩/১৫৯৭, নং-১০২;
১৩৬. সूनান আবু দাউদ, ৩/১৫০, নং-৩৭৬৬, আল নাসায়ী; আমল আল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ, পৃ১৩২, নং-২৮০।
📄 বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কী বলা উচিত
উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর গৃহ ত্যাগ করার সময় বলতেন:
بِسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أَضَلَّ أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ
“বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আঊযুবিকা আন আদ্বিল্লা আউ উদাল্লা, আউ আযিল্লা আউ উযাল্লা, আউ আযলিমা, আউ উযলামা, আউ আজহালা আউ ইউজহালা আলাইয়া।”
(পরম করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নামে, আমি তাঁরই ওপর আস্থা রাখি। হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যাতে আমি বিপথগামী না হই অথবা পথভ্রষ্ট না হই, অথবা পদস্খলিত না হই অথবা ঠোঁট খেয়ে না পড়ি, কারো সাথে যেন অন্যায় না করি অথবা অন্যায়ের শিকার না হই, কারো সঙ্গে যেন বোকার মতো আচরণ না করি অথবা কেউ যেন আমাকে বোকা হিসেবে গণ্য না করে।)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলবে:
بِسْمِ اللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ
ইউকালু: “কুফিতা ওয়া উকিতাত ওয়া হুদিতা ওয়া তানাহহা 'আনহুশ শায়াতিন।”
(আল্লাহ তা'আলার নামে (বাড়ি থেকে বের হচ্ছি), আমার সকল আস্থা একমাত্র তাঁরই ওপর, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো শক্তি নেই, ক্ষমতা নেই।) তখন বলা হয়: ‘তোমার দায়িত্ব নেয়া হলো, তোমাকে সুরক্ষিত করা হলো এবং পথ প্রদর্শন করা হলো, এবং শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়।’
আবু দাউদ এ হাদীসের সাথে আরও একটু যোগ করেন: 'অতঃপর সে বলে (শয়তান অন্য শয়তানদেরকে বলে) “যে ব্যক্তিকে পথ দেখানো হয়েছে, সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং যার দায়িত্বও নেয়া হয়েছে তার সঙ্গে তোমরা কী করতে পারবে?”
টিকা:
১৬৭. সুনান আবু দাউদ, আত-তিরমিযী; আল নাসাঈ, ইবনে মাজাহ। ইমাম আত-তিরমিযী বলেন: হাদীসটি সহীহ।
১৫৫. সুনান আবু দাউদ: ৫/৩২৮, নং-৫০৯৪;