📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 রাতে যিনি ঘুমাতে পারেন না তিনি কী বলবেন

📄 রাতে যিনি ঘুমাতে পারেন না তিনি কী বলবেন


যায়দ বিন সাবিত (ﷺ) থেকে বর্ণিত, আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) আমার দীর্ঘদিনের অনিদ্রা রোগের ব্যাপারে অভিযোগ করলাম, সব শুনে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, বল:

اللَّهُمَّ غَارَتِ النُّجُومُ، وَهَدَأَتِ الْعُيُونُ، وَأَنْتَ حَيُّ قَيُّومٌ، لَا تَأْخُذُكَ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ أَهْدِئْ لَيْلِي وَأَنِمْ عَيْنِيْ
“আল্লাহুম্মা গারাতিন নুজুমু ওয়া হাদায়াতিল উয়ুনু, ওয়া আনাতা হাইয়ুন কাইয়ুম, লা তাখুযুকা সিনাতু ওয়া লা নাউমু ইয়া হাইয়ুন ইয়া কাইয়ুম, আহদি লাইলি ওয়া আইনিমু ‘আইনি।” (হে আল্লাহ, আকাশের তারকারাজি নিভে যেতে শুরু করেছে, কিন্তু আমার চোখ এখনো জাগ্রত, এবং আপনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, ঘুম ও নিদ্রা আপনাকে পরাভূত করতে পারে না। হে চিরঞ্জীব হে চিরস্থায়ী, আমার রাতকে প্রশান্তিময় করুন এবং আমার চোখে ঘুম এনে দিন।)

আমি এ দোয়া পাঠ করলাম এবং আল্লাহ তা'আলা আমার অনিদ্রার সমস্যা দূর করে দিলেন。

মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন হিস্সান (রাহি.) থেকে বর্ণিত, খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদি.) অনিদ্রা রোগে ভুগছিলেন এবং তিনি ও তার এ রোগের বিষয়ে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে অভিযোগ করলেন। তিনি তাকে রাতে ঘুমানোর সময় আল্লাহর উত্তম কথা দিয়ে তাঁর ক্রোধ, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার পরামর্শ দিলেন।

বুরিদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদি.) আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে অভিযোগ করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অনিদ্রা রোগের কারণে রাতে ঘুমুতে পারি না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি বল:

«اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ، وَرَبَّ الْأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ، رَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ، كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ جَمِيعًا، أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَطْغَى عَلَيَّ، عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ»
“আল্লাহুম্মা রব্বিস সামাওয়াতিস সাব'ই ওয়া মা আযাল্লাত, ওয়া রব্বাল আরাদীনা ওয়া মা আক্বাল্লাত, ওয়া রব্বাশ শায়াত্বীন ওয়া মা আদাল্লাত কুন লি জারান মিন শাররি খালকিকা কুল্লিহিম জামীয়ান, আইয়াফরুত্বা আ'লাইয়া আহাদুম মিনহুম, আইয়াওইয়াগিয়া আ'লাইয়া, আ'যযা জারুকা, ওয়া জাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা ওয়া লা ইলাহা ইল্লা আনতা।”
(হে আল্লাহ, সপ্ত আসমান এবং এর যে ছায়াবৃত করে তাঁর মালিক, পৃথিবী ও এটা যা বহন করে তার মালিক, শয়তানদের এবং তারা যে বিপথে নিয়ে যায় তাঁর প্রতিপালক, আপনার সমস্ত সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমার জন্য আপনি সুরক্ষক হয়ে যান। আপনার প্রতিরক্ষা বড়ই শক্তিশালী এবং আপনার প্রশংসা ও মহিমান্বয়। আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, আর কোনো প্রতিপালক নেই।)

টিকা:
১৪৬. ইবনু আস সুন্নী, বাব মা ইয়াকুলু ইয়া আসবাহাল আল আরাক্ব, ৯/২৭৩
১৪৭. ইবনুস সুন্নী, পৃ. ২১২, হা/২৭৪৮. আলবানী এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন。
১৪৮. সूनানে আত-তিরমিযী, কিতাবুদ দাওয়াত, ৫/২৩৮, নং৩৫০২।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে কী বলা উচিত

📄 হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে কী বলা উচিত


আমর বিন শুআইব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তার পিতা বর্ণনা করেছেন তার দাদা থেকে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করার পরামর্শ দিতেন:

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونَ
“আঊযু বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতি, মিন গাদাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি, ওয়া মিন হামাযাতিш শায়াত্বীন ওয়া আঁই ইয়াহযুরূন।” (আমি আল্লাহ তা'আলার উত্তম কথা দিয়ে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি তার বান্দাদের অনিষ্ট ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে।)

অন্য এক হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) কাছে এসে রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং অতঃপর ভীত হয়ে পড়ার বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন:
إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَقُلْ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
“ইয়া আওআইতা ইলা ফিরাশিকা ফাক্বুল: আঊযু বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতি, মিন গাদাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি, ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বীন ওয়া আইয়াহযুরূন।” (যখন তোমরা রাতে ঘুমাতে যাবে, তখন বলবে: আমি আল্লাহ তা’আলার উত্তম কথা দিয়ে তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি তার বান্দাদের অনিষ্ট ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে।)

টিকা:
১৪৯. সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল ত্বিব্ব, ৪/৩৮২০, আত্ব-তিরমিযী, আল দাওয়াত, ৫/৩৪১।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 স্বপ্নে পছন্দনীয় অথবা অপছন্দনীয় জিনিস দেখলে কী বলা উচিত

📄 স্বপ্নে পছন্দনীয় অথবা অপছন্দনীয় জিনিস দেখলে কী বলা উচিত


আবু সাঈদ আল খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বলতে শুনেছি,
“যদি তোমাদের কেউ তার পছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখে, তাহলে সে যেন এর জন্য আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে এবং মানুষদেরকে এটা খুলে বলে।”

অন্য এক হাদীস অনুসারে,
সে যেন এ স্বপ্নের বিষয়ে শুধু তাদেরকে খুলে বলে যাদেরকে সে পছন্দ করে। কিন্তু সে যদি অন্য কিছু দেখে, যা সে পছন্দ করে না, সেটা আসে শয়তানের পক্ষ থেকে, এ অবস্থায় সে যেন এর জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং অন্য কাউকে এটার ব্যাপারে কিছু না বলে, তাহলে এটা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না。

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন:
“ভালো স্বপ্ন আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর খারাপ স্বপ্ন আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। যদি কেউ দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে যায় তাহলে যেন সে তার বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করে এবং শয়তানের হাত থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে এটা আর তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন:
“তোমরা যখন ঘুমিয়ে পড় তখন শয়তান মাথার পেছনে তিনটি গিট বাঁধে এবং কিছু কথা বা মন্ত্র দিয়ে সে এ গিটগুলোর স্থান আবার বন্ধ করে দেয়, দীর্ঘ রাত, তোমরা তো ঘুমিয়ে পড়। কিন্তু কারো যদি রাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং সে আল্লাহকে স্মরণ করে তাহলে তার একটি গিট খুলে যায়। আর সে যদি অযু করে তাহলে তার আরো একটি গিট খুলে যায় এবং সে যদি উঠে সালাত আদায় করে তাহলে তার সবগুলো গিট খুলে যায়, সকালে সে জাগ্রত হয় প্রাণবন্ত হয়ে ও নব উদ্যম নিয়ে। আর যারা এটা করে না, তাদের ঘুম ভাঙে মন্দ চেতনা ও অলসতা নিয়ে।”

টিকা:
১৫০. ফাতহুল বারী, বাব রুইয়া আল সালিহীন, ১২/৩৯/৪২১।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 টয়লেটে প্রবেশের দোয়া

📄 টয়লেটে প্রবেশের দোয়া


আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) টয়লেটে প্রবেশের সময় এ দোয়া পাঠ করতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবাইছ।” (হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে নারী ও পুরুষের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন:
“যখন কোনো আদম সন্তান টয়লেটে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ বলে, তখন তাকে জিনদের নজর থেকে আবুত করে রাখা হয়।”

তারা বলেন, টয়লেটে প্রবেশের আগে প্রথমে বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব। অতঃপর বলতে হবে:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবuছি ওয়াল খাবাইছ।” (হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে নারী ও পুরুষের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)

টিকা:
১০১. সহীহুল বুখারী, কিতাবুল অযু: মুসলিম, বাব ইয়া আরাদা দুখুল আল খালা;
১০২. সूनান আত-তিরমিযী, কিতাবুস সালাত, ২/৩০৫, নং-২৬০৬;

ফন্ট সাইজ
15px
17px