📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 স্নায়ুরোগের চিকিৎসা

📄 স্নায়ুরোগের চিকিৎসা


মেডিক্যাল এপিলেপসির চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকরাও এপিলেপসি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, তারা বেশ দক্ষতার সঙ্গে ব্রেইনের স্ক্যান ইমেজ বিশ্লেষণ করে তারপর নির্দেশ করেন রোগীর কোন্ ধরনের চিকিৎসা দরকার, তার জন্য কি ওষুধ না কি শল্যচিকিৎসা না কাউন্সেলিং দরকার এসব চিকিৎসকের মতামতের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকরা এপিলেপসি বা স্নায়ুরোগের ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব পরামর্শ দিয়ে থাকেন সেগুলো আমি এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি:

১- স্নায়ুরোগীকে তার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে এমনসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে হবে, যেমন: পানিতে সাঁতার কাটা, গাড়ি চালানো অথবা পর্বতারোহণ ইত্যাদি।
২- সে মিটিমিটি আলোর দিকে তাকাতে পারবে না, শিশুদের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক গেম এবং বড়দের ক্ষেত্রে টেলিভিশন অথবা সিনেমার স্ক্রিনের দিকে তাকানো যাবে না।
৩- রোগীর পরিবার রোগীকে নিয়ে অতিমাত্রায় চিন্তিত হয়ে পড়বেন না, ঠিক একইভাবে আবার তার সমস্যাকে খুব খাটো করেও দেখবেন না।
৪- রোগীর পরিবার রোগীর আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভর্ৎসনা, বকাবকি, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ ও ভয় দেখানোর পথ অবলম্বন করবেন না।
৫- চিকিৎসকের পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে এবং যথাসময়ে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হবে।
৬- রোগীকে এমন কোনো খাবার ও পানীয় দেওয়া যাবে না যাতে উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে, যেমন ধূমপান ও উত্তেজক খাবার।

অন্যান্য স্নায়ুরোগ অর্থাৎ যেগুলো জিন দ্বারা সংঘটিত হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে সমাধান কেবলমাত্র তাদের কাছেই পাওয়া যাবে যারা কুরআনে নির্দেশিত পন্থায় চিকিৎসা করেন।

মেডিক্যাল এপিলেপসির চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞান প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকরাও এপিলেপসি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, তারা বেশ দক্ষতার সঙ্গে ব্রেইনের স্ক্যান ইমেজ বিশ্লেষণ করে তারপর নির্দেশ করেন রোগীর কোন্ ধরনের চিকিৎসা দরকার, তার জন্য কি ওষুধ না কি শল্যচিকিৎসা না কাউন্সেলিং দরকার এসব চিকিৎসকের মতামতের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকরা এপিলেপসি বা স্নায়ুরোগের ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব পরামর্শ দিয়ে থাকেন সেগুলো আমি এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি:

১- স্নায়ুরোগীকে তার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে এমনসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে হবে, যেমন: পানিতে সাঁতার কাটা, গাড়ি চালানো অথবা পর্বতারোহণ ইত্যাদি।
২- সে মিটিমিটি আলোর দিকে তাকাতে পারবে না, শিশুদের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক গেম এবং বড়দের ক্ষেত্রে টেলিভিশন অথবা সিনেমার স্ক্রিনের দিকে তাকানো যাবে না।
৩- রোগীর পরিবার রোগীকে নিয়ে অতিমাত্রায় চিন্তিত হয়ে পড়বেন না, ঠিক একইভাবে আবার তার সমস্যাকে খুব খাটো করেও দেখবেন না।
৪- রোগীর পরিবার রোগীর আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভর্ৎসনা, বকাবকি, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ ও ভয় দেখানোর পথ অবলম্বন করবেন না।
৫- চিকিৎসকের পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে এবং যথাসময়ে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হবে।
৬- রোগীকে এমন কোনো খাবার ও পানীয় দেওয়া যাবে না যাতে উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে, যেমন ধূমপান ও উত্তেজক খাবার।

অন্যান্য স্নায়ুরোগ অর্থাৎ যেগুলো জিন দ্বারা সংঘটিত হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে সমাধান কেবলমাত্র তাদের কাছেই পাওয়া যাবে যারা কুরআনে নির্দেশিত পন্থায় চিকিৎসা করেন।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 বিষণ্নতা

📄 বিষণ্নতা


বিষণ্নতা মানে হলো তীব্র দুঃখবোধ। এটা বহুল বিস্তৃত মানসিক রোগ, অবশ্য একে সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত মানসিক রোগের মধ্যে অন্যতমও বলা চলে। মৃদু মাত্রার দুঃখবোধ অথবা বিষাদময় অনুভূতির একে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক আবেগ বলা যায়, যা খুব কম মানুষই এড়িয়ে চলতে পারে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মু’মিন ব্যক্তিরাও এটা এড়াতে পারেন না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন: “গোপন পরামর্শ হলো মু’মিনদেরকে দুঃখ দেওয়ার জন্য শয়তান প্ররোচিত কাজ।” (আল মুজাদিলাহ ৫৮: ১০)

দুঃখবোধ যদি ক্রমেই বৃদ্ধি পায় এবং এক পর্যায়ে কোনো ব্যক্তিকে পরাভূত করে ফেলে তখন তা বিষণ্নতায় পরিণত হয়।

বিষণ্নতার লক্ষণ:
১. বিষাদ ও দুঃখ অনুভব করা
২. ক্ষুধামন্দা
৩. মনোযোগের অভাব ও ভুল করার প্রবণতা
৪. ঘুমে বিঘ্ন ঘটা ও ওজন কমে যাওয়া
৫. যৌন আকাঙ্ক্ষা না থাকা

বিষণ্নতার কারণ:
১. বাহ্যিক কারণ
২. অভ্যন্তরীণ কারণ

১ - বাহ্যিক কারণ
বিষণ্নতার বাহ্যিক কারণের মধ্যে রয়েছে, প্রিয়তম মানুষকে হারানো অথবা অর্থ-কড়ি অথবা সামাজিক অবস্থান হারানো। আর এ ব্যক্তির যদি তার ঈমানকে সুরক্ষিত করার কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সে বিষণ্নতায় পড়ার আগে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করবে。

২ - অভ্যন্তরীণ কারণ
এগুলো সংঘটিত হয় মানুষের শারীরিক গঠনে আক্রমণ করার মাধ্যমে, যেমন: মস্তিষ্কের কোষে থাইরয়েড হরমোন অথবা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের অভাব。

চিকিৎসা:
যেহেতু বিষণ্নতা একটি মানসিক রোগ, তাই এর চিকিৎসা করতে হবে কুরআনে দেখানো পদ্ধতি অনুসারে, বিশেষ করে বাহ্যিক কারণে বিষণ্নতার ক্ষেত্রে। রোগীকে আল্লাহর যিকিরের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, তাকে আরও স্মরণ করিয়ে দিতে হবে আল্লাহর আদেশ বা যিকির (আল কাদা ওয়াল কাদার) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং বিপদে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারের কথা। এক্ষেত্রে সাহাবাদের জীবন থেকে উত্তম দৃষ্টান্তগুলো তুলে ধরতে হবে। এছাড়াও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দুশ্চিন্তা, মনোকষ্ট ও বিষণ্ণতা থেকে বাঁচার জন্য যেসব দোয়া বর্ণনা করেছেন এবং দৈনন্দিনের নির্ধারিত ফিকির সেগুলোতে করার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। দোয়াগুলো হলো:

১. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মানসিক যন্ত্রণার সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এ দোয়া পাঠ করতেন: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ» (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি সর্বশক্তিমান, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহাসম্মানিত সিংহাসনের মালিক; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি আসমানসমূহের মালিক, তিনি সমগ্র জমিন ও মহিমান্বিত সিংহাসনের মালিক।)

২. জামে আত-তিরমিযীতে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন কোনো কারণে মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করতেন, তখন এ দোয়া পাঠ করতেন: «يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ» (হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী মহান সত্ত্বা, আমি আপনার রহমত দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা করছি।)

৩. আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কোনো কারণে দুশ্চিন্তায় পড়ে যেতেন তখন তিনি আসমানের দিকে দুই হাত তুলে পাঠ করতেন: «سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ» সুবহানাল্লাহিল আযীম (সকল মহিমা আল্লাহ তা'আলার প্রতি, তিনি মহান) এবং কঠিন সংগ্রামের সময় তিনি দোয়া হিসেবে পাঠ করতেন: «يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ» “ইইয়া হাইয়্যু, ইইয়া ক্বাইয়্যুম” (হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী)

৪. সুনানে আবু দাউদে আবু বকর আল সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যার মানসিক যন্ত্রণা রয়েছে তার জন্য প্রার্থনা হলো: «اللَّهُمَّ أَرْجُو رَحْمَتَكَ فَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» “আল্লাহুম্মা আরজু রাহমাতাকা ফা লা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বারফাতা আইনিন ওয়া আসলিহ লি শা’নি কুল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতা।” (হে আল্লাহ, আমি আপনার দয়ার আশা করছি, আপনি চোখের এক পলকের জন্যও আমাকে আমার নিজ দায়িত্বে ছেড়ে দেবেন না, এবং আমার জীবনের সবকিছুকে সোজা করে দিন, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।)

৫. আসমা বিনতে উমাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: «أَلَا أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ تَقُولِينَهُنَّ عِنْدَ الْكَرْبِ اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا» “আমি কি তোমাকে এমন কিছু কথা (দোয়া) শিখিয়ে দেব না, যেগুলো তুমি বিষণ্ণতার সময় পাঠ করবে? আল্লাহ আল্লাহ রাব্বি লা উশরিকু বিহি শাইয়ান। (আল্লাহ আল্লাহ, তিনি আমার প্রতিপালক এবং আমি তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করব না।) অন্য এক হাদীসে এসেছে এ দোয়া সাতবার পাঠ করতে হবে।

৬. ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “কোনো ব্যক্তি উদ্বিগ্নতা ও দুঃখ-কষ্টে ভোগবে না এবং তিনি বলেন: «اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ، وَابْنُ عَبْدِكَ، وَابْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِي حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِي قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ بَصَرِي، وَجَلَاءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ هَمِّي، إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ هَمَّهُ، وَأَبْدَلَهُ مَكَانَهُ فَرَحًا» ( হে আল্লাহ আমি আপনার বান্দা, আপনার বান্দার পুত্র, আপনার নারী দাসীর পুত্র, আমার প্রাণ আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার আদেশ চিরদিনই সম্পাদিত হবে, এবং আমার ওপর আপনার ফিকি ন্যায়বিচারপূর্ণ। আপনি আপনার কাছে আপনার সকল নামে প্রার্থনা করছি, যে নামসমূহ আপনার কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে, অথবা যা আপনি আপনার সৃষ্ট জীবকে শিখিয়ে দিয়েছেন অথবা যা আপনি আপনার অদৃশ্য জ্ঞানের দ্বারা সংরক্ষিত করে রেখেছেন, আপনি কুরআনকে আমার জীবনের হৃদপিণ্ডে পরিণত করুন, আমার বুকের আলোতে পরিণত করুন, এবং কুরআনকে আমার দুঃখ ও উদ্বিগ্নতা দূর করার মাধ্যম বানিয়ে দিন।) তাহলে আল্লাহ তার দুঃখ ও মনোকষ্ট দূর করে দেবেন এবং তার যখন প্রয়োজন হবে তখন তাকে আনন্দ দান করবেন।

৭. সুনান আত্ব তিরমিযীতে সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেন: «دَعْوَةُ ذِي النُّونِ إِذْ هُوَ فِي بَطْنِ الْحُوتِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} فَإِنَّهُ لَمْ يَدْعُ بِهَا مُسْلِمٌ رَبَّهُ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا اسْتَجَابَ لَهُ» যুন নুন যখন মাছের পেটে ছিলেন তখন তিনি এ দোয়া পাঠ করেন: "লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালেমীন।" (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, সকল মহিমা ও গৌরব আপনারাই, সত্যি আমি অকর্ম্ম সম্পাদনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি। (আল আম্বিয়া-৮৭) কোনো মুসলমান এ দোয়া পাঠ করে আল্লাহকে ডাকবে আর আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেবেন না এমনটা হতে পারে না।" অন্য এক হাদীসে এসেছে, «إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا مَكْرُوبٌ إِلَّا فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ، كَلِمَةُ أَخِي يُونُسَ» "আমি আমার ভাই ইউনুসের দোয়া ছাড়া আর কোনো কথা (দোয়া) জানি না, নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণার সময় যা বললে আল্লাহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।"

৮. সুনানে আবু দাউদ আবু সাঈদ আল খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (ﷺ) একদিন মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং এখানে আনসারের একজনকে দেখতে পেলেন, তার নাম আবূ উমামাহ। তিনি তাকে বললেন: “হে আবূ উমামাহ! আমি তোমাকে এখন মসজিদে দেখছি কেন, এখন তো নামাজের সময় না?” তিনি বললেন: "দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝায় আমি নুয়ে পড়েছি।" আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “আমি কি তোমাকে এমন কিছু কথা শিখিয়ে দেব না যা পাঠ করার পর আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তোমাকে ঋণমুক্ত করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। তিনি বললেন: বল, اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَসَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ “হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি, হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি আপনার কাছে কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আমি আপনার কাছে আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঋণের বোঝায় নুয়ে পড়ার হাত থেকে এবং অন্য মানুষ যাতে আমাকে পরাভূত করতে না পারে, সেজন্য আপনার সাহায্য কামনা করছি।" উমামাহ বললেন: এ দোয়া আমি পাঠ করলাম এবং এর পর আল্লাহ তা’আলা আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমাকে ঋণমুক্ত করলেন।

৯. সুনানে আবূ দাউদে ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “যে ব্যক্তি অবিরত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, আল্লাহ তার সকল দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন এক উৎস থেকে অনুগ্রহ দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।”

১০. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন: “যার অনেক দুশ্চিন্তা ও মানসিক কষ্ট রয়েছে, সে যেন বার বার তেলাওয়াত করে: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি (আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো শক্তি নেই, ক্ষমতা নেই।)

বুখারী ও মুসলিম থেকে এটা প্রমাণিত যে, এ দোয়া বেহেশতের অন্যতম একটি কোষাগার। তিরমিযীতে বলা হয়েছে এটা জান্নাতের একটি দরজা।

দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, দুঃখ ও বিষণ্ণতায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য চৌদ্দটি স্মারক (রিমাইন্ডার) রয়েছে:
১. তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ (প্রতিপালকের একত্ববাদ)
২. তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ
৩. ঘোষণা করা যে, আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দার সঙ্গে ভুল আচরণ করা অথবা বান্দাহকে বান্দার পক্ষ থেকে কোনো কারণ ছাড়াই শাস্তি দেওয়ার ঊর্ধ্বে।
৪. বান্দাহর নিজের পক্ষ থেকেই এ স্বীকৃতি দেওয়া যে, সে অসংকর্ম সম্পাদনকারী。
৫. আল্লাহর সুন্দর ও প্রিয়তম নামসমূহ দিয়ে আল্লাহর কাছে সনিবন্ধ প্রার্থনা করা। আল্লাহ তা‘আলার সবচেয়ে সুন্দর অর্থবোধক ও গুণবাচক নামসমূহ হলো-আল হাইয়ুন (চিরঞ্জীব), আল কাইউম (চিরস্থায়ী)।
৬. একমাত্র আল্লাহর সাহায্য কামনা করা。
৭. আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা。
৮. সম্পূর্ণ আস্থা আল্লাহর ওপর রাখা এবং জীবনে সকল কিছু তাঁরই হাতে সোপর্দ করা, সবার জীবন একমাত্র তাঁরই হাতে এ ঘোষণা দেওয়া, আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী একজনের জীবন পরিচালনা করেন, তাঁর আদেশ কার্যকর হবেই এবং তাঁর দিক্রি বা আদেশ ন্যায়বিচারপূর্ণ এ কথার স্বীকৃতি দেওয়া。
৯. তার হৃদয়কে বিচরণ করতে দেওয়া, যেন এটা সন্দেহ, অবিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষার অন্ধকার দূর করার জন্য আলোর সন্ধানে কুরআনের বাগানে বিচরণ করছে।
১০. আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করা。
১১. তাওবাহ্ করা。
১২. আল্লাহর পথে জিহাদ করা。
১৩. সালাত。
১৪. এ কথা স্বীকার করা যে, কারো হাতে আদৌ কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই, আর সব ক্ষমতা তাঁরই হাতে যাঁর হাতে সবার প্রাণ, যিনি সবাইকে তাঁর হাতে ন্যস্ত করে রেখেছেন。

যেসব বিষয়তার কারণ অভ্যন্তরীণ সেসব সমস্যার সমাধান চাইতে হবে মনোবিজ্ঞানীদের কাছে, বিশেষ করে মেডিক্যাল পরীক্ষায় যদি মস্তিষ্কোর কোষে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে অথবা হরমোনের ঘাটতি দেখা যায়। আর যদি স্পষ্ট কোনো মেডিক্যাল কারণ না থাকে তাহলে এ সমস্যার জন্য রুক্বিয়া পাঠ করাতে কোনো দোষ নেই, কারণ বিষণ্ণতা হলো জিনের ধরার অন্যতম একটি লক্ষণ। শেষ কথা হলো, কুরআনভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, সার্থকতা নেই。

টিকা:
১৪৬. ইবনু আস সুন্নী, বাব মা ইয়াকুলু ইয়া আসবাহাল আল আরাক্ব, ৯/২৭৩
১৪৭. ইবনুস সুন্নী, পৃ. ২১২, হা/২৭৪৮. আলবানী এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন।
১৪৮. সুনানে আত-তিরমিযী, কিতাবুদ দাওয়াত, ৫/২৩৮, নং৩৫০২।
১৪৯. সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল ত্বিব্ব, ৪/৩৮২০, আত্ব-তিরমিযী, আল দাওয়াত, ৫/৩৪১।

বিষণ্নতা মানে হলো তীব্র দুঃখবোধ। এটা বহুল বিস্তৃত মানসিক রোগ, অবশ্য একে সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত মানসিক রোগের মধ্যে অন্যতমও বলা চলে। মৃদু মাত্রার দুঃখবোধ অথবা বিষাদময় অনুভূতির একে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক আবেগ বলা যায়, যা খুব কম মানুষই এড়িয়ে চলতে পারে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মু’মিন ব্যক্তিরাও এটা এড়াতে পারেন না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন: “গোপন পরামর্শ হলো মু’মিনদেরকে দুঃখ দেওয়ার জন্য শয়তান প্ররোচিত কাজ।” (আল মুজাদিলাহ ৫৮: ১০)

দুঃখবোধ যদি ক্রমেই বৃদ্ধি পায় এবং এক পর্যায়ে কোনো ব্যক্তিকে পরাভূত করে ফেলে তখন তা বিষণ্নতায় পরিণত হয়।

বিষণ্নতার লক্ষণ:
১. বিষাদ ও দুঃখ অনুভব করা
২. ক্ষুধামন্দা
৩. মনোযোগের অভাব ও ভুল করার প্রবণতা
৪. ঘুমে বিঘ্ন ঘটা ও ওজন কমে যাওয়া
৫. যৌন আকাঙ্ক্ষা না থাকা

বিষণ্নতার কারণ:
১. বাহ্যিক কারণ
২. অভ্যন্তরীণ কারণ

১ - বাহ্যিক কারণ
বিষণ্নতার বাহ্যিক কারণের মধ্যে রয়েছে, প্রিয়তম মানুষকে হারানো অথবা অর্থ-কড়ি অথবা সামাজিক অবস্থান হারানো। আর এ ব্যক্তির যদি তার ঈমানকে সুরক্ষিত করার কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সে বিষণ্নতায় পড়ার আগে আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করবে。

২ - অভ্যন্তরীণ কারণ
এগুলো সংঘটিত হয় মানুষের শারীরিক গঠনে আক্রমণ করার মাধ্যমে, যেমন: মস্তিষ্কের কোষে থাইরয়েড হরমোন অথবা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের অভাব。

চিকিৎসা:
যেহেতু বিষণ্নতা একটি মানসিক রোগ, তাই এর চিকিৎসা করতে হবে কুরআনে দেখানো পদ্ধতি অনুসারে, বিশেষ করে বাহ্যিক কারণে বিষণ্নতার ক্ষেত্রে। রোগীকে আল্লাহর যিকিরের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, তাকে আরও স্মরণ করিয়ে দিতে হবে আল্লাহর আদেশ বা যিকির (আল কাদা ওয়াল কাদার) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং বিপদে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারের কথা। এক্ষেত্রে সাহাবাদের জীবন থেকে উত্তম দৃষ্টান্তগুলো তুলে ধরতে হবে। এছাড়াও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দুশ্চিন্তা, মনোকষ্ট ও বিষণ্ণতা থেকে বাঁচার জন্য যেসব দোয়া বর্ণনা করেছেন এবং দৈনন্দিনের নির্ধারিত ফিকির সেগুলোতে করার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। দোয়াগুলো হলো:

১. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মানসিক যন্ত্রণার সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এ দোয়া পাঠ করতেন: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ» (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি সর্বশক্তিমান, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মহাসম্মানিত সিংহাসনের মালিক; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি আসমানসমূহের মালিক, তিনি সমগ্র জমিন ও মহিমান্বিত সিংহাসনের মালিক।)

২. জামে আত-তিরমিযীতে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন কোনো কারণে মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করতেন, তখন এ দোয়া পাঠ করতেন: «يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ» (হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী মহান সত্ত্বা, আমি আপনার রহমত দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা করছি।)

৩. আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কোনো কারণে দুশ্চিন্তায় পড়ে যেতেন তখন তিনি আসমানের দিকে দুই হাত তুলে পাঠ করতেন: «سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ» সুবহানাল্লাহিল আযীম (সকল মহিমা আল্লাহ তা'আলার প্রতি, তিনি মহান) এবং কঠিন সংগ্রামের সময় তিনি দোয়া হিসেবে পাঠ করতেন: «يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ» “ইইয়া হাইয়্যু, ইইয়া ক্বাইয়্যুম” (হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী)

৪. সুনানে আবু দাউদে আবু বকর আল সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যার মানসিক যন্ত্রণা রয়েছে তার জন্য প্রার্থনা হলো: «اللَّهُمَّ أَرْجُو رَحْمَتَكَ فَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» “আল্লাহুম্মা আরজু রাহমাতাকা ফা লা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বারফাতা আইনিন ওয়া আসলিহ লি শা’নি কুল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতা।” (হে আল্লাহ, আমি আপনার দয়ার আশা করছি, আপনি চোখের এক পলকের জন্যও আমাকে আমার নিজ দায়িত্বে ছেড়ে দেবেন না, এবং আমার জীবনের সবকিছুকে সোজা করে দিন, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।)

৫. আসমা বিনতে উমাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: «أَلَا أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ تَقُولِينَهُنَّ عِنْدَ الْكَرْبِ اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا» “আমি কি তোমাকে এমন কিছু কথা (দোয়া) শিখিয়ে দেব না, যেগুলো তুমি বিষণ্ণতার সময় পাঠ করবে? আল্লাহ আল্লাহ রাব্বি লা উশরিকু বিহি শাইয়ান। (আল্লাহ আল্লাহ, তিনি আমার প্রতিপালক এবং আমি তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করব না।) অন্য এক হাদীসে এসেছে এ দোয়া সাতবার পাঠ করতে হবে।

৬. ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “কোনো ব্যক্তি উদ্বিগ্নতা ও দুঃখ-কষ্টে ভোগবে না এবং তিনি বলেন: «اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ، وَابْنُ عَبْدِكَ، وَابْنُ أَمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِي حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِي قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ بَصَرِي، وَجَلَاءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ هَمِّي، إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ هَمَّهُ، وَأَبْدَلَهُ مَكَانَهُ فَرَحًا» ( হে আল্লাহ আমি আপনার বান্দা, আপনার বান্দার পুত্র, আপনার নারী দাসীর পুত্র, আমার প্রাণ আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার আদেশ চিরদিনই সম্পাদিত হবে, এবং আমার ওপর আপনার ফিকি ন্যায়বিচারপূর্ণ। আপনি আপনার কাছে আপনার সকল নামে প্রার্থনা করছি, যে নামসমূহ আপনার কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে, অথবা যা আপনি আপনার সৃষ্ট জীবকে শিখিয়ে দিয়েছেন অথবা যা আপনি আপনার অদৃশ্য জ্ঞানের দ্বারা সংরক্ষিত করে রেখেছেন, আপনি কুরআনকে আমার জীবনের হৃদপিণ্ডে পরিণত করুন, আমার বুকের আলোতে পরিণত করুন, এবং কুরআনকে আমার দুঃখ ও উদ্বিগ্নতা দূর করার মাধ্যম বানিয়ে দিন।) তাহলে আল্লাহ তার দুঃখ ও মনোকষ্ট দূর করে দেবেন এবং তার যখন প্রয়োজন হবে তখন তাকে আনন্দ দান করবেন।

৭. সুনান আত্ব তিরমিযীতে সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেন: «دَعْوَةُ ذِي النُّونِ إِذْ هُوَ فِي بَطْنِ الْحُوتِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} فَإِنَّهُ لَمْ يَدْعُ بِهَا مُسْلِمٌ رَبَّهُ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا اسْتَجَابَ لَهُ» যুন নুন যখন মাছের পেটে ছিলেন তখন তিনি এ দোয়া পাঠ করেন: "লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালেমীন।" (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, সকল মহিমা ও গৌরব আপনারাই, সত্যি আমি অকর্ম্ম সম্পাদনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি। (আল আম্বিয়া-৮৭) কোনো মুসলমান এ দোয়া পাঠ করে আল্লাহকে ডাকবে আর আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেবেন না এমনটা হতে পারে না।" অন্য এক হাদীসে এসেছে, «إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا مَكْرُوبٌ إِلَّا فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ، كَلِمَةُ أَخِي يُونُسَ» "আমি আমার ভাই ইউনুসের দোয়া ছাড়া আর কোনো কথা (দোয়া) জানি না, নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণার সময় যা বললে আল্লাহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।"

৮. সুনানে আবু দাউদ আবু সাঈদ আল খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (ﷺ) একদিন মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং এখানে আনসারের একজনকে দেখতে পেলেন, তার নাম আবূ উমামাহ। তিনি তাকে বললেন: “হে আবূ উমামাহ! আমি তোমাকে এখন মসজিদে দেখছি কেন, এখন তো নামাজের সময় না?” তিনি বললেন: "দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝায় আমি নুয়ে পড়েছি।" আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “আমি কি তোমাকে এমন কিছু কথা শিখিয়ে দেব না যা পাঠ করার পর আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তোমাকে ঋণমুক্ত করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। তিনি বললেন: বল, اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَসَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ “হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি, হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি আপনার কাছে কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, আমি আপনার কাছে আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঋণের বোঝায় নুয়ে পড়ার হাত থেকে এবং অন্য মানুষ যাতে আমাকে পরাভূত করতে না পারে, সেজন্য আপনার সাহায্য কামনা করছি।" উমামাহ বললেন: এ দোয়া আমি পাঠ করলাম এবং এর পর আল্লাহ তা’আলা আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমাকে ঋণমুক্ত করলেন।

৯. সুনানে আবূ দাউদে ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “যে ব্যক্তি অবিরত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে, আল্লাহ তার সকল দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দূর করে দেবেন এবং তাকে এমন এক উৎস থেকে অনুগ্রহ দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।”

১০. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন: “যার অনেক দুশ্চিন্তা ও মানসিক কষ্ট রয়েছে, সে যেন বার বার তেলাওয়াত করে: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি (আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো শক্তি নেই, ক্ষমতা নেই।)

বুখারী ও মুসলিম থেকে এটা প্রমাণিত যে, এ দোয়া বেহেশতের অন্যতম একটি কোষাগার। তিরমিযীতে বলা হয়েছে এটা জান্নাতের একটি দরজা।

দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, দুঃখ ও বিষণ্ণতায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য চৌদ্দটি স্মারক (রিমাইন্ডার) রয়েছে:
১. তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ (প্রতিপালকের একত্ববাদ)
২. তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ
৩. ঘোষণা করা যে, আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দার সঙ্গে ভুল আচরণ করা অথবা বান্দাহকে বান্দার পক্ষ থেকে কোনো কারণ ছাড়াই শাস্তি দেওয়ার ঊর্ধ্বে।
৪. বান্দাহর নিজের পক্ষ থেকেই এ স্বীকৃতি দেওয়া যে, সে অসংকর্ম সম্পাদনকারী。
৫. আল্লাহর সুন্দর ও প্রিয়তম নামসমূহ দিয়ে আল্লাহর কাছে সনিবন্ধ প্রার্থনা করা। আল্লাহ তা‘আলার সবচেয়ে সুন্দর অর্থবোধক ও গুণবাচক নামসমূহ হলো-আল হাইয়ুন (চিরঞ্জীব), আল কাইউম (চিরস্থায়ী)।
৬. একমাত্র আল্লাহর সাহায্য কামনা করা。
৭. আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা。
৮. সম্পূর্ণ আস্থা আল্লাহর ওপর রাখা এবং জীবনে সকল কিছু তাঁরই হাতে সোপর্দ করা, সবার জীবন একমাত্র তাঁরই হাতে এ ঘোষণা দেওয়া, আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী একজনের জীবন পরিচালনা করেন, তাঁর আদেশ কার্যকর হবেই এবং তাঁর দিক্রি বা আদেশ ন্যায়বিচারপূর্ণ এ কথার স্বীকৃতি দেওয়া。
৯. তার হৃদয়কে বিচরণ করতে দেওয়া, যেন এটা সন্দেহ, অবিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষার অন্ধকার দূর করার জন্য আলোর সন্ধানে কুরআনের বাগানে বিচরণ করছে।
১০. আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করা。
১১. তাওবাহ্ করা。
১২. আল্লাহর পথে জিহাদ করা。
১৩. সালাত。
১৪. এ কথা স্বীকার করা যে, কারো হাতে আদৌ কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই, আর সব ক্ষমতা তাঁরই হাতে যাঁর হাতে সবার প্রাণ, যিনি সবাইকে তাঁর হাতে ন্যস্ত করে রেখেছেন。

যেসব বিষয়তার কারণ অভ্যন্তরীণ সেসব সমস্যার সমাধান চাইতে হবে মনোবিজ্ঞানীদের কাছে, বিশেষ করে মেডিক্যাল পরীক্ষায় যদি মস্তিষ্কোর কোষে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে অথবা হরমোনের ঘাটতি দেখা যায়। আর যদি স্পষ্ট কোনো মেডিক্যাল কারণ না থাকে তাহলে এ সমস্যার জন্য রুক্বিয়া পাঠ করাতে কোনো দোষ নেই, কারণ বিষণ্ণতা হলো জিনের ধরার অন্যতম একটি লক্ষণ। শেষ কথা হলো, কুরআনভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও মনোবিজ্ঞানের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, সার্থকতা নেই。

টিকা:
১৪৬. ইবনু আস সুন্নী, বাব মা ইয়াকুলু ইয়া আসবাহাল আল আরাক্ব, ৯/২৭৩
১৪৭. ইবনুস সুন্নী, পৃ. ২১২, হা/২৭৪৮. আলবানী এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন।
১৪৮. সুনানে আত-তিরমিযী, কিতাবুদ দাওয়াত, ৫/২৩৮, নং৩৫০২।
১৪৯. সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল ত্বিব্ব, ৪/৩৮২০, আত্ব-তিরমিযী, আল দাওয়াত, ৫/৩৪১।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 উদ্বেগ

📄 উদ্বেগ


উদ্বেগ মানে হলো অস্থিরতা; এটা প্রশান্তি বা শান্ত শব্দের বিপরীত। উদ্বেগ এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক তথা মানসিক রোগ, এর বৈশিষ্ট্য হলো—দুশ্চিন্তা, ভয় ও আতঙ্ক। তবে এটা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না সেটা অস্পষ্ট। এটা ক্রনিকও হতে পারে।

উদ্বেগ এমন একটি মানসিক ব্যাধি প্রত্যেককেই যার মুখোমুখি হতে হয়, বিশেষ করে যখন তারা বিশেষ বিশেষ কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, তবে উদ্বেগের মোকাবিলা সবাইকেই করতে হলেও এক্ষেত্রে আবার ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ভেদে পরিলক্ষিত হয়, এটা নির্ভর করে তারা মনোবিজ্ঞানের ভিত্তিতে কতটা সুরক্ষিত এবং তাদের ব্যক্তিগত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মাত্রা কতটুকুর ওপর। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও ঘটনাগুলোর মধ্যেও বেশ পার্থক্য দেখা যায়。

উদ্বেগের লক্ষণ:
১- হৃদপিণ্ডে ব্যথা; অনিয়মিত হৃদকম্পন
২- মৃত্যু চিন্তা এবং ভারসাম্য হারানো
৩- অবিরাম তীব্র মাথা ব্যথা
৪- অনিদ্রা;
৫- ক্ষীণ স্মৃতিশক্তি ও চিন্তায় জটিলতা

এছাড়াও উদ্বেগের আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে।

উদ্বেগের বেশ কিছু কারণ:
১- তীব্র উৎকণ্ঠা অনুভব করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে খারাপ লাগা;
২- ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং যে দ্বন্দ্বের কারণে তার মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না。
৩- মানসিক অথবা শারীরিকভাবে চরম পরিশ্রান্তি; যা একটি আরেকটির সঙ্গে জড়িত।

এ উদ্বেগ যত বেশি স্থায়ী হবে এটা ক্রনিক হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি, চরম পরিশ্রান্তির লক্ষণ প্রকাশিত হতে শুরু করবে এবং পাশাপাশি কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে যেমন: হৃদপিণ্ডে সমস্যা, উচ্চরক্তচাপ, পাকস্থলী ও অন্ত্রে আলসার এবং আরও কিছু শারীরিক রোগ দেখা দেবে।

উদ্বেগের চিকিৎসা:
উদ্বেগ হলো প্রশান্তির বিপরীত, মহান আল্লাহ তা'আলার কিতাব এবং আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) হাদীসে এ রোগের প্রতিকার দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “তারাই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই দিলের সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।” (সূরা আর-রা’দ ১৩:২৮)

উদ্বেগের কারণ যদি হয় ভয় ও উৎকণ্ঠা তাহলে এর প্রতিকার ইসলামে রয়েছে। মানুষের ভয় তৈরি হয় তিনটি প্রধান ইস্যু থেকে: খাদ্যসংস্থান, মৃত্যু ও অভিশপ্ত অথবা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হওয়া। আল্লাহ তা'আলা এসব বিষয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তিনি বলেন: “এমন অনেক জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের খাদ্য মজুদ রাখে না, আল্লাহই তাদেরকে রিযক দান করেন আর তোমাদেরকেও। তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।” (সূরা আল আনকাবুত ২৯:৬০)
“আল্লাহই তো রিযকদাতা, মহা শক্তিধর, প্রবল পরাক্রান্ত।” (সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৮)
“এবং আকাশে আছে তোমাদের রিযক আর আছে যার ও'য়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে।” (সূরা আয-যারিয়াত ৫১:২২)

মৃত্যু প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন: “তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান আর দিন-রাতের পরিবর্তন তাঁর দ্বারাই হয়, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?” (সূরা আল-মুমিনুন ২৩: ৮০)

একইভাবে, অভিশপ্ত হওয়া অথবা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হওয়া, উপকার-ক্ষতি সবই একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং অবশ্য এগুলো মানুষ তার মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাই লিপিবদ্ধ হয়ে যায়。

আর উত্তেজনার কারণ যদি হয় মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, তাহলে আল কুরআন তাকে সত্যকে অনুসরণ করার দিকনির্দেশনা দিচ্ছে; এ পথ মানুষের ওইসব আকাঙ্ক্ষাকে দমন করে, নিয়মানুবর্তী করে। মানুষের দেহ ও আত্মার যেসব আকাঙ্ক্ষা ফিতরাত বা তার স্বভাবের ওপর তৈরি হয় সেগুলোকে ইসলাম কখনোই অবরুদ্ধ করে না। সহীহ হাদীসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “আমি ঘুমাই এবং আমি জাগ্রত হই (রাতের সালাতের জন্য), আমি রোযা রাখি (কিছু দিন) এবং আমি (কিছু দিন) রোযা রাখি না, এবং আমি নারীকে বিবাহ করেছি। যে ব্যক্তি আমার এ সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাবে সে আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

কিন্তু সবকিছুই সঠিক ক্ষেত্রে সঠিক উপায়ে করতে হবে。

একইভাবে সকল ইবাদাতও যেমন: সালাত, আল্লাহর যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতও হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয় এবং এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার সঙ্গে বান্দার সুন্দর সংযোগ ও সম্পর্ক তৈরি হয়। এ ইবাদাত মানুষকে আধ্যাত্মিক শক্তি প্রদান করে, তার মন থেকে সকল ভয়-আতঙ্ক দূর করে এবং তাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দেয়, কারণ ইবাদাতের মাধ্যমেই বান্দার সঙ্গে সেই সৃষ্টি কর্তা ও প্রতিপালকের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয় যার হাতে রয়েছে তার প্রাণ। সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যদি কোনো কারণে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতেন তাহলে বলতেন: “হে বেলাল, চল আমরা সালাতের মধ্যে স্বস্তি খুঁজে নেই।” এবং তিনি বলতেন: “সালাতেই আমার আনন্দ।” অর্থাৎ সালাতের মাধ্যমেই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর স্বস্তি ও আনন্দ ছিল। কুরআন ও সুন্নাহ হলো পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, এতে রয়েছে অসুস্থতার এমন প্রতিরক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা যা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাকে দূরীভূত করে দেয়।

উদ্বেগ মানে হলো অস্থিরতা; এটা প্রশান্তি বা শান্ত শব্দের বিপরীত। উদ্বেগ এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক তথা মানসিক রোগ, এর বৈশিষ্ট্য হলো—দুশ্চিন্তা, ভয় ও আতঙ্ক। তবে এটা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না সেটা অস্পষ্ট। এটা ক্রনিকও হতে পারে।

উদ্বেগ এমন একটি মানসিক ব্যাধি প্রত্যেককেই যার মুখোমুখি হতে হয়, বিশেষ করে যখন তারা বিশেষ বিশেষ কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, তবে উদ্বেগের মোকাবিলা সবাইকেই করতে হলেও এক্ষেত্রে আবার ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ভেদে পরিলক্ষিত হয়, এটা নির্ভর করে তারা মনোবিজ্ঞানের ভিত্তিতে কতটা সুরক্ষিত এবং তাদের ব্যক্তিগত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মাত্রা কতটুকুর ওপর। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও ঘটনাগুলোর মধ্যেও বেশ পার্থক্য দেখা যায়。

উদ্বেগের লক্ষণ:
১- হৃদপিণ্ডে ব্যথা; অনিয়মিত হৃদকম্পন
২- মৃত্যু চিন্তা এবং ভারসাম্য হারানো
৩- অবিরাম তীব্র মাথা ব্যথা
৪- অনিদ্রা;
৫- ক্ষীণ স্মৃতিশক্তি ও চিন্তায় জটিলতা

এছাড়াও উদ্বেগের আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে।

উদ্বেগের বেশ কিছু কারণ:
১- তীব্র উৎকণ্ঠা অনুভব করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে খারাপ লাগা;
২- ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং যে দ্বন্দ্বের কারণে তার মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় না。
৩- মানসিক অথবা শারীরিকভাবে চরম পরিশ্রান্তি; যা একটি আরেকটির সঙ্গে জড়িত।

এ উদ্বেগ যত বেশি স্থায়ী হবে এটা ক্রনিক হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি, চরম পরিশ্রান্তির লক্ষণ প্রকাশিত হতে শুরু করবে এবং পাশাপাশি কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে যেমন: হৃদপিণ্ডে সমস্যা, উচ্চরক্তচাপ, পাকস্থলী ও অন্ত্রে আলসার এবং আরও কিছু শারীরিক রোগ দেখা দেবে।

উদ্বেগের চিকিৎসা:
উদ্বেগ হলো প্রশান্তির বিপরীত, মহান আল্লাহ তা'আলার কিতাব এবং আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) হাদীসে এ রোগের প্রতিকার দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “তারাই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই দিলের সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।” (সূরা আর-রা’দ ১৩:২৮)

উদ্বেগের কারণ যদি হয় ভয় ও উৎকণ্ঠা তাহলে এর প্রতিকার ইসলামে রয়েছে। মানুষের ভয় তৈরি হয় তিনটি প্রধান ইস্যু থেকে: খাদ্যসংস্থান, মৃত্যু ও অভিশপ্ত অথবা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হওয়া। আল্লাহ তা'আলা এসব বিষয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তিনি বলেন: “এমন অনেক জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের খাদ্য মজুদ রাখে না, আল্লাহই তাদেরকে রিযক দান করেন আর তোমাদেরকেও। তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।” (সূরা আল আনকাবুত ২৯:৬০)
“আল্লাহই তো রিযকদাতা, মহা শক্তিধর, প্রবল পরাক্রান্ত।” (সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৮)
“এবং আকাশে আছে তোমাদের রিযক আর আছে যার ও'য়াদা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে।” (সূরা আয-যারিয়াত ৫১:২২)

মৃত্যু প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন: “তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান আর দিন-রাতের পরিবর্তন তাঁর দ্বারাই হয়, তবুও কি তোমরা বুঝবে না?” (সূরা আল-মুমিনুন ২৩: ৮০)

একইভাবে, অভিশপ্ত হওয়া অথবা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হওয়া, উপকার-ক্ষতি সবই একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং অবশ্য এগুলো মানুষ তার মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাই লিপিবদ্ধ হয়ে যায়。

আর উত্তেজনার কারণ যদি হয় মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, তাহলে আল কুরআন তাকে সত্যকে অনুসরণ করার দিকনির্দেশনা দিচ্ছে; এ পথ মানুষের ওইসব আকাঙ্ক্ষাকে দমন করে, নিয়মানুবর্তী করে। মানুষের দেহ ও আত্মার যেসব আকাঙ্ক্ষা ফিতরাত বা তার স্বভাবের ওপর তৈরি হয় সেগুলোকে ইসলাম কখনোই অবরুদ্ধ করে না। সহীহ হাদীসে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “আমি ঘুমাই এবং আমি জাগ্রত হই (রাতের সালাতের জন্য), আমি রোযা রাখি (কিছু দিন) এবং আমি (কিছু দিন) রোযা রাখি না, এবং আমি নারীকে বিবাহ করেছি। যে ব্যক্তি আমার এ সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাবে সে আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

কিন্তু সবকিছুই সঠিক ক্ষেত্রে সঠিক উপায়ে করতে হবে。

একইভাবে সকল ইবাদাতও যেমন: সালাত, আল্লাহর যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতও হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয় এবং এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার সঙ্গে বান্দার সুন্দর সংযোগ ও সম্পর্ক তৈরি হয়। এ ইবাদাত মানুষকে আধ্যাত্মিক শক্তি প্রদান করে, তার মন থেকে সকল ভয়-আতঙ্ক দূর করে এবং তাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দেয়, কারণ ইবাদাতের মাধ্যমেই বান্দার সঙ্গে সেই সৃষ্টি কর্তা ও প্রতিপালকের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয় যার হাতে রয়েছে তার প্রাণ। সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যদি কোনো কারণে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতেন তাহলে বলতেন: “হে বেলাল, চল আমরা সালাতের মধ্যে স্বস্তি খুঁজে নেই।” এবং তিনি বলতেন: “সালাতেই আমার আনন্দ।” অর্থাৎ সালাতের মাধ্যমেই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এর স্বস্তি ও আনন্দ ছিল। কুরআন ও সুন্নাহ হলো পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, এতে রয়েছে অসুস্থতার এমন প্রতিরক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা যা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাকে দূরীভূত করে দেয়।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের গুণাবলী

📄 ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের গুণাবলী


ঈমানের শাখাসমূহ: সেই আল্লাহভীরু মু'মিন যিনি ঈমানের সকল শাখা অনুসরণ করেন। আমরা যদি প্রধান উপাদান ও শাখাসমূহসহ ঈমানের পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ করতে চাই, তাহলে এর জন্য সর্বোৎকৃষ্ট শব্দ হিসেবে পাব তাকওয়া। আল্লাহভীরু মু'মিন যিনি ঈমানের সকল শাখা অনুসরণ করেন তিনি আল্লাহ যা তাকে করার জন্য আদেশ করেন তা পালন করেন এবং আল্লাহ যা তাকে করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকেন।

শাখা শব্দটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছুর অংশ। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “ঈমানের রয়েছে সত্তরটিরও বেশি শাখা, এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাখা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ -এ সাক্ষ্য দেওয়া এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিছু সরিয়ে ফেলা। আর হায়া (নম্রতা ও লজ্জা) হলো ঈমানের অঙ্গ।”

ঈমানের সকল শাখা অনুসরণ করা সবচেয়ে বেশি দরকার সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য, জিনের আক্রমণ এবং কুনজর ও জাদু টোনার কারণে সৃষ্ট অসুস্থতাসহ সকল অসুখ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য তাকে জানতে হবে আল্লাহ তা'আলার সকল আদেশ ও নিষেধ।

ঈমানের শাখাসমূহ: সেই আল্লাহভীরু মু'মিন যিনি ঈমানের সকল শাখা অনুসরণ করেন। আমরা যদি প্রধান উপাদান ও শাখাসমূহসহ ঈমানের পূর্ণাঙ্গতা প্রকাশ করতে চাই, তাহলে এর জন্য সর্বোৎকৃষ্ট শব্দ হিসেবে পাব তাকওয়া। আল্লাহভীরু মু'মিন যিনি ঈমানের সকল শাখা অনুসরণ করেন তিনি আল্লাহ যা তাকে করার জন্য আদেশ করেন তা পালন করেন এবং আল্লাহ যা তাকে করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকেন।

শাখা শব্দটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছুর অংশ। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “ঈমানের রয়েছে সত্তরটিরও বেশি শাখা, এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাখা হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ -এ সাক্ষ্য দেওয়া এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিছু সরিয়ে ফেলা। আর হায়া (নম্রতা ও লজ্জা) হলো ঈমানের অঙ্গ।”

ঈমানের সকল শাখা অনুসরণ করা সবচেয়ে বেশি দরকার সাধারণ মুসলমান এবং বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য, জিনের আক্রমণ এবং কুনজর ও জাদু টোনার কারণে সৃষ্ট অসুস্থতাসহ সকল অসুখ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য তাকে জানতে হবে আল্লাহ তা'আলার সকল আদেশ ও নিষেধ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px