📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 মানসিক ও স্নায়বিক রোগ

📄 মানসিক ও স্নায়বিক রোগ


মানসিক ব্যাধি ও উক্ত বইয়ের বিষয়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ রয়েছে, আর এই ব্যাধির লক্ষণের সঙ্গে জিন দ্বারা সংঘটিত ব্যাধির লক্ষণগুলোও বেশ মিল রয়েছে। সত্যিকার অর্থে, মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ব্যাধির প্রতিকার ও প্রতিরোধে আধ্যাত্মিক এবং কুরআনিক উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি একটি ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে। এই দুই ধরনের প্রতিকার পদ্ধতির মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধ নেই, কারণ মানসিক ও স্নায়বীয় ব্যাধির সাদৃশ্যপূর্ণ দুটি হেতু রয়েছে:

(ক.) অভ্যন্তরীণ কারণ: এটা ঘটে রোগীর শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো কিছুর কারণে, যেমন-মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও বিভিন্ন গ্রন্থিতে সমস্যা অথবা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের ঘাটতি অথবা এমন কিছু বিষয় যার জন্য ওই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।

(খ.) বাহ্যিক কারণ: রোগীর দেহের বাইরের কোনো কিছুর কারণে এটা সংঘটিত হয়, যেমন-প্রিয়জন হারানো অথবা এমন কোনো মানসিক চাপ ও দুর্ভোগ যা মানুষ সহ্য করতে পারে না এবং যার জন্য কোনো আধ্যাত্মিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই, তখন ওই ব্যক্তি কিছু মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যান, আর এসব ব্যাধির চিকিৎসা শুধু আল্লাহর কিতাব ও নবী (ﷺ)-এর সুন্নাহ দ্বারাই সম্ভব। এ দুই ধরনের কারণ একটি আরেকটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তাই আমি আমি মনে করি, মুসলিম দেশগুলোর মানসিক হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে মহান কুরআনের মাধ্যমে চিকিৎসা বিভাগ খোলা দরকার। যখন কোনো রোগী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং চিকিৎসকও তাকে দেখেন, তখন ওই চিকিৎসক রোগীকে প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু পরীক্ষা করাতে বলেন, এই সময়টাতে কেউ ওই রোগীর সহায়তার উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াতও করতে পারেন, কারণ আল্লাহর রহমতে কুরআন তিলাওয়াতো কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। অতঃপর, রোগী যদি কুরআন তিলাওয়াত ও রুক্বইয়ার কল্যাণে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে সকল প্রশংসা আল্লাহর, এবং এর মাধ্যমে যদি এটী স্পষ্ট হয় যে, তার চিকিৎসা স্বাভাবিক উপায়ের মাধ্যমে সম্ভব, তখন চিকিৎসক ও সাইকিয়াটিস্ট তার চিকিৎসা করতে পারবে।

এছাড়াও আমি তাঁর প্রতি আস্থা স্থাপনের শাখা-প্রশাখা সংজ্ঞায়িত করার লক্ষ্যে একটি তালিকা এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত কিছু আদেশের তালিকা উপস্থাপন করব, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করব, যার প্রতি মুসলমানদের মনোযোগ দেওয়া দরকার। বড় ধরনের কিছু পাপের কথা উল্লেখ করব, কারণ এগুলো সবই প্রতিকার ও প্রতিরোধের তাগিদে মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

মানসিক ব্যাধি ও উক্ত বইয়ের বিষয়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ রয়েছে, আর এই ব্যাধির লক্ষণের সঙ্গে জিন দ্বারা সংঘটিত ব্যাধির লক্ষণগুলোও বেশ মিল রয়েছে। সত্যিকার অর্থে, মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও ব্যাধির প্রতিকার ও প্রতিরোধে আধ্যাত্মিক এবং কুরআনিক উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি একটি ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে। এই দুই ধরনের প্রতিকার পদ্ধতির মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধ নেই, কারণ মানসিক ও স্নায়বীয় ব্যাধির সাদৃশ্যপূর্ণ দুটি হেতু রয়েছে:

(ক.) অভ্যন্তরীণ কারণ: এটা ঘটে রোগীর শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো কিছুর কারণে, যেমন-মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও বিভিন্ন গ্রন্থিতে সমস্যা অথবা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের ঘাটতি অথবা এমন কিছু বিষয় যার জন্য ওই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।

(খ.) বাহ্যিক কারণ: রোগীর দেহের বাইরের কোনো কিছুর কারণে এটা সংঘটিত হয়, যেমন-প্রিয়জন হারানো অথবা এমন কোনো মানসিক চাপ ও দুর্ভোগ যা মানুষ সহ্য করতে পারে না এবং যার জন্য কোনো আধ্যাত্মিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই, তখন ওই ব্যক্তি কিছু মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যান, আর এসব ব্যাধির চিকিৎসা শুধু আল্লাহর কিতাব ও নবী (ﷺ)-এর সুন্নাহ দ্বারাই সম্ভব। এ দুই ধরনের কারণ একটি আরেকটির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তাই আমি আমি মনে করি, মুসলিম দেশগুলোর মানসিক হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে মহান কুরআনের মাধ্যমে চিকিৎসা বিভাগ খোলা দরকার। যখন কোনো রোগী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং চিকিৎসকও তাকে দেখেন, তখন ওই চিকিৎসক রোগীকে প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু পরীক্ষা করাতে বলেন, এই সময়টাতে কেউ ওই রোগীর সহায়তার উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াতও করতে পারেন, কারণ আল্লাহর রহমতে কুরআন তিলাওয়াতো কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। অতঃপর, রোগী যদি কুরআন তিলাওয়াত ও রুক্বইয়ার কল্যাণে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে সকল প্রশংসা আল্লাহর, এবং এর মাধ্যমে যদি এটী স্পষ্ট হয় যে, তার চিকিৎসা স্বাভাবিক উপায়ের মাধ্যমে সম্ভব, তখন চিকিৎসক ও সাইকিয়াটিস্ট তার চিকিৎসা করতে পারবে।

এছাড়াও আমি তাঁর প্রতি আস্থা স্থাপনের শাখা-প্রশাখা সংজ্ঞায়িত করার লক্ষ্যে একটি তালিকা এবং মুসলিমদের উপর অর্পিত কিছু আদেশের তালিকা উপস্থাপন করব, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কথাও উল্লেখ করব, যার প্রতি মুসলমানদের মনোযোগ দেওয়া দরকার। বড় ধরনের কিছু পাপের কথা উল্লেখ করব, কারণ এগুলো সবই প্রতিকার ও প্রতিরোধের তাগিদে মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 মতিবিভ্রম

📄 মতিবিভ্রম


মতিভ্রম এক ধরনের মারাত্মক মানসিক রোগ। কেউ যদি মতিভ্রম দ্বারা পরাভূত হয়ে যায়, তাহলে তার পক্ষে এখান থেকে বের হয়ে আসা খুবই জটিল। কোনো মানুষই এটা থেকে মুক্ত নয়, মতিভ্রম প্রায়ই দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে জীবনে একটার পর একটা মতিভ্রম দেখা দেয়। এটা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তখন বাস্তবতার তুলনায় ব্যক্তির উপর মতিভ্রমের প্রভাবই বেশি পরিলক্ষিত হয়। কুরআনে নির্দেশিত পন্থায় চিকিৎসার ব্যাপক বিচ্যুতি এবং মানুষের স্নায়বিক রোগের পরিস্থিতি অবলোকন করা, এবং মানুষের মুখ থেকে অথবা বিভিন্ন বই পুস্তক থেকে এ ধরনের ঘটনার বহুল প্রসারের কারণে এ মতিভ্রম এখন অনেক মানুষের মনেই জীবনের একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে গেঁথে যাচ্ছে। এমনকি যারা খোদাভীরু এবং নিজেদের ধর্মীয় প্রতিশ্রুতিতে অটল, তারাও মতিভ্রম থেকে মুক্ত নয়।

জিন ও শয়তানের অনিষ্ট নিয়ে মানুষের মনে সবসময়ই ভয় কাজ করে, আর এ ভয়ই মতিভ্রম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অধিকাংশ মানুষই একটি নির্দিষ্ট রোগ অথবা জীবনের কোনো একটি সমস্যা অথবা সাধারণ বৈবাহিক বিতর্ক অথবা নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে শুরু করে। অতঃপর তারা এসব সমস্যার পেছনের কারণ অনুসন্ধান শুরু করে এবং এক সময় সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, অমুক অমুক তার উপর কুনজর দিয়েছে। অথবা হয়তো একজন লোক পড়ে গেল, আর তখনই তার উপর কোনো জিন আছর করে বসল, এমনও হতে পারে। এক্ষেত্রে সে তার অনুভূত লক্ষণগুলো খুলে বলবে।

তবে প্রকৃত কথা হলো, যদি মতিভ্রম কাউকে আক্রমণ করেই বসে তবে তা হবে তার জন্য খুবই মারাত্মক সমস্যা, কারণ জিন আছর করলে তা কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রুকিয়া করে সমাধান করা যেতে পারে, কিন্তু মতিভ্রম হলো একটি দুষ্টচক্র। একইভাবে, কিছু কিছু লোক মনে মনে ভাবতে পারেন, তাদেরকে কেউ জাদুটোনা করেছে অথবা তাদের উপর কবচ করেছে, আর সে কারণেই তাদের মধ্যে এ এ সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাদের ভাবনা আসলে দ্বিখণ্ডিত এবং এ কারণে তাদের জীবনও বিশৃঙ্খলায় ভরে যায়। আর তারা বলেন যে, তাদেরকে জাদু টোনা করা হয়েছে।

মতিভ্রম যদি জিনের আক্রমণে অথবা জাদু টোনার কারণে হয় তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির চিন্তা-ভাবনায় দ্বিখণ্ডতা দেখা যাবে এবং তার জীবন হবে বিশৃঙ্খলাময়; তার দেহের গ্রন্থিগুলো ঠিকভাবে কাজ করবে না, এবং জিনে ধরা বা জাদু টোনার পূর্ণ লক্ষণ তার মাঝে ফুটে উঠবে। তার পেশীতে সংকোচন বা প্রবল আক্ষেপ শুরু হতে পারে অথবা অটোসাজেশনের ফলাফল হিসেবে রোগী জ্ঞান হারাতে পারে।

উদ্বিগ্নতা ও প্রবল আতঙ্কে তার জীবন নিঃশেষ হতে শুরু করে। স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, হৃদপেশীতে প্রবল স্নায়বিক চাপ দেখা যায় এবং শারীরিক লক্ষণগুলো প্রকট আকার ধারণ করে। এতে অসুস্থ ব্যক্তি তার হৃদপিণ্ডে ব্যথা অনুভব করে এবং ভয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার তীব্রতাও বৃদ্ধি পায়। স্বায়ত্ততন্ত্র সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে অন্যান্য লক্ষণও প্রকাশিত হতে শুরু করে, এবং একপর্যায়ে পুরো শরীরই আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

হৃদকম্পনের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং কখনো কখনো অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে, রক্তচাপ বেড়ে যায়, পরিপাকতন্ত্র ঠিকভাবে কাজ না করে, পাকস্থলীতে ব্যথা শুরু হয় এবং রোগীর যৌন আকাঙ্ক্ষা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়, যার ফলে রোগী তার স্ত্রীর প্রতি তেমন কোনো আকর্ষণ অনুভব করে না; দেহের পেশীগুলোতে প্রবল স্নায়বিক চাপ শুরু হয় এবং মাথার পেশীর প্রসারণের ফলে মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়।

সত্যিকার অর্থে, যারা কুরআনিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেন তাদের কাছে যারা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য শরণাপন্ন হন তারা মূলত: মতিভ্রমের শিকার। যদিও তাদের মাঝে জিনে ধরার লক্ষণ রয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খুব অল্প কয়েকজনই জিন দ্বারা আক্রান্ত। মনোবিজ্ঞানের তত্ত্বানুসারে আসল সত্য হচ্ছে, চলমান উদ্বিগ্নতা তার মধ্যে সত্যিকারের শারীরিক অসুস্থতা তৈরি করে, যার ফলে রোগীর দেহে ব্যথা একটি শারীরিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়, সেটা কোনো দুশ্চিন্তা নয়। উদ্বিগ্নতা থেকে মানুষের শরীরে আলসার, বুকে তীব্র ব্যথা সহ অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যা একজনের জীবনকে পরিবর্তন করে দেয়, তার মধ্য থেকে উচ্চাভিলাষ দূর হয়ে যায় এবং তিনি তার কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এটা তার বৈবাহিক জীবনেও বিঘ্ন ঘটায়, এবং তার জীবন মতিভ্রম ও ভয়ের কাছে বন্দী হয়ে থাকে।

এ সমস্যার একটি বাস্তব সমাধান রয়েছে, যদি কোনো লোক দীর্ঘদিন যাবত মতিভ্রমে ভোগেন তাহলে তার সমাধান মনোবিজ্ঞানে রয়েছে। আর তার এ সমস্যা যদি সম্প্রতি শুরু হয়ে থাকে, তাহলে তিনি এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করবেন।

মতিভ্রম এক ধরনের মারাত্মক মানসিক রোগ। কেউ যদি মতিভ্রম দ্বারা পরাভূত হয়ে যায়, তাহলে তার পক্ষে এখান থেকে বের হয়ে আসা খুবই জটিল। কোনো মানুষই এটা থেকে মুক্ত নয়, মতিভ্রম প্রায়ই দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে জীবনে একটার পর একটা মতিভ্রম দেখা দেয়। এটা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তখন বাস্তবতার তুলনায় ব্যক্তির উপর মতিভ্রমের প্রভাবই বেশি পরিলক্ষিত হয়। কুরআনে নির্দেশিত পন্থায় চিকিৎসার ব্যাপক বিচ্যুতি এবং মানুষের স্নায়বিক রোগের পরিস্থিতি অবলোকন করা, এবং মানুষের মুখ থেকে অথবা বিভিন্ন বই পুস্তক থেকে এ ধরনের ঘটনার বহুল প্রসারের কারণে এ মতিভ্রম এখন অনেক মানুষের মনেই জীবনের একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে গেঁথে যাচ্ছে। এমনকি যারা খোদাভীরু এবং নিজেদের ধর্মীয় প্রতিশ্রুতিতে অটল, তারাও মতিভ্রম থেকে মুক্ত নয়।

জিন ও শয়তানের অনিষ্ট নিয়ে মানুষের মনে সবসময়ই ভয় কাজ করে, আর এ ভয়ই মতিভ্রম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অধিকাংশ মানুষই একটি নির্দিষ্ট রোগ অথবা জীবনের কোনো একটি সমস্যা অথবা সাধারণ বৈবাহিক বিতর্ক অথবা নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে শুরু করে। অতঃপর তারা এসব সমস্যার পেছনের কারণ অনুসন্ধান শুরু করে এবং এক সময় সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, অমুক অমুক তার উপর কুনজর দিয়েছে। অথবা হয়তো একজন লোক পড়ে গেল, আর তখনই তার উপর কোনো জিন আছর করে বসল, এমনও হতে পারে। এক্ষেত্রে সে তার অনুভূত লক্ষণগুলো খুলে বলবে।

তবে প্রকৃত কথা হলো, যদি মতিভ্রম কাউকে আক্রমণ করেই বসে তবে তা হবে তার জন্য খুবই মারাত্মক সমস্যা, কারণ জিন আছর করলে তা কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রুকিয়া করে সমাধান করা যেতে পারে, কিন্তু মতিভ্রম হলো একটি দুষ্টচক্র। একইভাবে, কিছু কিছু লোক মনে মনে ভাবতে পারেন, তাদেরকে কেউ জাদুটোনা করেছে অথবা তাদের উপর কবচ করেছে, আর সে কারণেই তাদের মধ্যে এ এ সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাদের ভাবনা আসলে দ্বিখণ্ডিত এবং এ কারণে তাদের জীবনও বিশৃঙ্খলায় ভরে যায়। আর তারা বলেন যে, তাদেরকে জাদু টোনা করা হয়েছে।

মতিভ্রম যদি জিনের আক্রমণে অথবা জাদু টোনার কারণে হয় তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির চিন্তা-ভাবনায় দ্বিখণ্ডতা দেখা যাবে এবং তার জীবন হবে বিশৃঙ্খলাময়; তার দেহের গ্রন্থিগুলো ঠিকভাবে কাজ করবে না, এবং জিনে ধরা বা জাদু টোনার পূর্ণ লক্ষণ তার মাঝে ফুটে উঠবে। তার পেশীতে সংকোচন বা প্রবল আক্ষেপ শুরু হতে পারে অথবা অটোসাজেশনের ফলাফল হিসেবে রোগী জ্ঞান হারাতে পারে।

উদ্বিগ্নতা ও প্রবল আতঙ্কে তার জীবন নিঃশেষ হতে শুরু করে। স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, হৃদপেশীতে প্রবল স্নায়বিক চাপ দেখা যায় এবং শারীরিক লক্ষণগুলো প্রকট আকার ধারণ করে। এতে অসুস্থ ব্যক্তি তার হৃদপিণ্ডে ব্যথা অনুভব করে এবং ভয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার তীব্রতাও বৃদ্ধি পায়। স্বায়ত্ততন্ত্র সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে অন্যান্য লক্ষণও প্রকাশিত হতে শুরু করে, এবং একপর্যায়ে পুরো শরীরই আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

হৃদকম্পনের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং কখনো কখনো অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে, রক্তচাপ বেড়ে যায়, পরিপাকতন্ত্র ঠিকভাবে কাজ না করে, পাকস্থলীতে ব্যথা শুরু হয় এবং রোগীর যৌন আকাঙ্ক্ষা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়, যার ফলে রোগী তার স্ত্রীর প্রতি তেমন কোনো আকর্ষণ অনুভব করে না; দেহের পেশীগুলোতে প্রবল স্নায়বিক চাপ শুরু হয় এবং মাথার পেশীর প্রসারণের ফলে মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়।

সত্যিকার অর্থে, যারা কুরআনিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেন তাদের কাছে যারা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য শরণাপন্ন হন তারা মূলত: মতিভ্রমের শিকার। যদিও তাদের মাঝে জিনে ধরার লক্ষণ রয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খুব অল্প কয়েকজনই জিন দ্বারা আক্রান্ত। মনোবিজ্ঞানের তত্ত্বানুসারে আসল সত্য হচ্ছে, চলমান উদ্বিগ্নতা তার মধ্যে সত্যিকারের শারীরিক অসুস্থতা তৈরি করে, যার ফলে রোগীর দেহে ব্যথা একটি শারীরিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়, সেটা কোনো দুশ্চিন্তা নয়। উদ্বিগ্নতা থেকে মানুষের শরীরে আলসার, বুকে তীব্র ব্যথা সহ অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যা একজনের জীবনকে পরিবর্তন করে দেয়, তার মধ্য থেকে উচ্চাভিলাষ দূর হয়ে যায় এবং তিনি তার কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এটা তার বৈবাহিক জীবনেও বিঘ্ন ঘটায়, এবং তার জীবন মতিভ্রম ও ভয়ের কাছে বন্দী হয়ে থাকে।

এ সমস্যার একটি বাস্তব সমাধান রয়েছে, যদি কোনো লোক দীর্ঘদিন যাবত মতিভ্রমে ভোগেন তাহলে তার সমাধান মনোবিজ্ঞানে রয়েছে। আর তার এ সমস্যা যদি সম্প্রতি শুরু হয়ে থাকে, তাহলে তিনি এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা করবেন।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 স্নায়ুরোগ

📄 স্নায়ুরোগ


স্নায়ুরোগের সংজ্ঞা: প্রবলভাবে পেশী সংকোচনসহ প্রচুর সংখ্যক ক্লিনিক্যাল প্রকাশ থাকায় চিকিৎসকরা স্নায়ুরোগের কোনো সমর্থিত ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দিতে পারেননি。

এপিলেপটিক সিজার: চিকিৎসকরা এ শব্দ দ্বারা রোগীর শরীরে হঠাৎ আক্রমণকে নির্দেশ করে থাকেন, এ আক্রমণের ফলে দেহে খিঁচুনি ও কম্পনসহ প্রবল স্নায়বিক চাপ দেখা যায়। চিকিৎসকরা এ রোগকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। গ্রান্ড মল ও পেটিট মল। গ্রান্ডমল সিজার হলে রোগী অচেতন হয়ে যায়, আর অন্যদিকে পেটিটমল সিজার সংঘটিত হয় প্রাথমিক পর্যায়ে, যা রোগী অথবা তার আশেপাশের কেউ টের পায় না। এ সিজার তিন থেকে দশ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং এক্ষেত্রে পেশীর সংকোচন দেখা যায় না। এটা হঠাৎ করে সংঘটিত হয়, যার ফলে রোগী হঠাৎ করে কিছুক্ষণের জন্য কথা বন্ধ করে দেয় এবং তারপর বিড়বিড় করে আবার পুরো বিস্তারিত কথা চালিয়ে যেতে থাকে, তবে তার কথার মধ্যে মনোযোগ দেখা যায় না অথবা রোগী তার মূল বিষয় থেকে দূরে সরে যায়। রোগী হঠাৎ করেই কোনো এক দিকে স্থির তাকিয়ে থাকে, কিছুক্ষণ পরে আবার তার কাজে ফিরে যায়。

স্নায়ুরোগের কারণ: এপিলেপটিক সিজারের পেছনে চিকিৎসকরা তিনটি ফ্যাক্টর দাঁড় করিয়েছেন:
১. ব্যক্তিগত সম্ভাবনা ও বংশগত
২. মস্তিষ্কে সমস্যা
৩. নিউরোলজিক্যাল কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন

তবে এপিলেপটিক সিজার এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো জিনের আক্রমণ। কিন্তু এ কারণটি অনেক চিকিৎসকেই স্বীকার করতে চান না, যদিও তারাই বলে থাকেন যে, কিছু স্নায়ুরোগের কারণ আধুনিক বিজ্ঞানও আবিষ্কার করতে সক্ষম নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যারা এটা অস্বীকার করেন তাদের বেশিরভাগই আমাদের নিজেদের লোক, অথচ পাশ্চাত্যের কিছু চিকিৎসক জিনের কারণে সংঘটিত স্নায়ুরোগের কথা স্বীকার করেছেন। শায়খ আব্দুল রাযিক তার আলিম আল জিন ওয়া মালাইকা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, পাশ্চাত্যের অনেক বিজ্ঞানী এটা স্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যে একজনের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর সাইকোলজিক্যাল রিসার্চ এর সদস্য ক্যারিনটন। ক্যারিনটন তার বই মডার্ন স্পিরিচুয়াল ফেনোমেনায় জিনের আক্রমণের কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: জিনে ধরার ঘটনা বিরল হলেও এর সত্যতা রয়েছে, এটি বাস্তব ঘটনা এবং এর সমর্থনে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা থাকার পরও বিজ্ঞান বিষয়টিকে অবজ্ঞা করতে পারে না। [১৩০]

ড. বেল তার অ্যানালাইসিস অব আনআইডেন্টিফাইড কেইসেস ইন দ্য ট্রিটমেন্ট অব মেন্টাল এন্ড নার্ভাস ইলনেস বইতে উল্লেখ করেছেন, আমাদের কিছু ঘটনা থাকে যা আমরা খোলাখুলিভাবে বলি বা আলোচনা করি, বিশেষ করে আত্মার আছর করার বিষয়ে, কারণ এটা মানসিক ও স্নায়বিক রোগের একটি কারণজনিত ফ্যাক্টর। আত্মার আছর করা পূর্বের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। অতঃপর তিনি আরো বলেন: যখন আধ্যাত্মিক প্র্যাকটিশনারগণ আত্মার আছর করা লোকের মধ্য থেকে শয়তানের মন্দ আত্মা বিতাড়িত ও অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা করার চেষ্টা করেন, তখন তারা চিকিৎসকদের কাছ থেকে এর জন্য ঘৃণা ও তাচ্ছিল্য ছাড়া কিছুই পান না। [۱۳۱]

ড. জেমস্ হ্যাসেলসন তার বইয়ে জিনের আছর করা সম্পর্কে বলেন, এটা হলো মানুষের মনের ওপর স্বাধীন ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সত্তা দ্বারা সংঘটিত একধরনের অস্বাভাবিক প্রভাব, সুতরাং কোনো সত্তা দ্বারা মনের ওপর সৃষ্ট প্রভাব তথা জিনের আছর করার বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। মানুষের মনের ওপর জিনের প্রভাব বিস্তার করার বিষয়টি আরও যেসব চিকিৎসক স্বীকার করেছেন তারা হলেন—মিনিপলিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কার্ল ওয়াকল্যান্ড ও ড. ব্যারাজ, মেডিসিন ও সার্জারিতে নোবেল জয়ী ড. অ্যালেনিস ক্যারেল। [১৪২]

প্রাচীনকালে স্নায়ুরোগকে বলা হতো “ঐশ্বরিক অসুস্থতা” অথবা “পবিত্র অসুস্থতা”, কারণ তারা মনে করতেন এ ধরনের অসুস্থতার পেছনে রয়েছে বাহ্যিক শক্তি অথবা আত্মাদের (জিনের) স্পর্শ। প্রাচীনকালের মানুষ এ রোগকে এর বিশ্বস্ত ও হঠাৎ প্রকাশিত লক্ষণগুলো দিয়ে এভাবে ব্যাখ্যা করতেন যে, এ রোগ সংগঠিত হয় অশুভ আত্মার প্রভাবে, যা মানুষের দেহে অথবা মস্তিষ্কে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে। অনেক সূত্র থেকে জানা গেছে যে, ওঝা মানব ও ইনকা উপজাতির মানুষের মাথার খুলিতে যে ছিদ্র পাওয়া গেছে তা স্নায়ুরোগের (এপিলেপসি) ফল, কারণ এ চিকিৎসার উদ্দেশ্য ছিল মাথার এ ছিদ্র দিয়ে শয়তান বা অশুভ আত্মাকে বিতাড়িত করা। এছাড়াও প্রাচীনকালের মানুষ এ রোগের চিকিৎসার জন্য তাবিজ-কবচ, লিখিত মন্ত্র ব্যবহার করত। গবেষণায় দেখা গেছে যে, জাদুকররা এ রোগের চিকিৎসায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তারা অশুভ আত্মাদের নাম ধরে ধরে ডেকে তাদেরকে বশ করে রোগীর দেহ থেকে বিতাড়িত করতেন।

অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে এবং দেখিয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে, এবং এতে সন্দেহের লেশ মাত্র নেই যে, স্নায়ুরোগের অনেক ক্ষেত্রেই তারা জিনের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের কাছ থেকে রোগীর দেহ ত্যাগ করার এবং কখনো ফিরে না আসার প্রতিশ্রুতি নিয়েছে, যখনই রোগী অচেতন অবস্থা থেকে জেগে উঠেছে তখন আর অসুস্থতার চিহ্ন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এটি কোনো দ্বিধাবিভক্ত আচরণ নয়, যেভাবে অনেক সাইকোলজিস্ট পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। এর পক্ষে কুরআন ও হাদীসের প্রমাণই যথেষ্ট। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) বলেন: জিন মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে এ তথ্যটি আহলুস সুন্নাহ-এর সম্মতিক্রমে প্রমাণিত। যারা এর সত্যতা যাচাই করেছেন, এটা পরীক্ষা করেছেন তারা নিজ চোখে এ সত্য দেখেছেন এবং প্রত্যক্ষ করেছেন। জিন মৃগীরোগীর দেহে প্রবেশ করে এবং তার মুখ দিয়ে এমনসব কথা বলে যে সম্পর্কে ওই ব্যক্তি সচেতন নন এবং পরবর্তীতে তিনি তা স্মরণও করতে পারেন না। [২১]

টিকা:
১৩০. আলমূল জিন ওয়া মালাইকাহ, পৃ-৮২।
১৩১. আলমূল জিন ওয়া মালাইকাহ, পৃ-৮৩।
১৪২. প্রাগুক্ত, পৃ-৮০।
১৮. ইগাইছাল আল ইনসান মিনাল জিন ওয়াশ শায়তান, পৃ-৫৮-৫৮।
১৯. আত তিব্বুন-নাবাবী, ৫২।
২০. রিসালাত আল জিন, ৮।
২১. মুকতাসার আল ফাতাওয়া, ৫৬৪।

স্নায়ুরোগের সংজ্ঞা: প্রবলভাবে পেশী সংকোচনসহ প্রচুর সংখ্যক ক্লিনিক্যাল প্রকাশ থাকায় চিকিৎসকরা স্নায়ুরোগের কোনো সমর্থিত ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দিতে পারেননি。

এপিলেপটিক সিজার: চিকিৎসকরা এ শব্দ দ্বারা রোগীর শরীরে হঠাৎ আক্রমণকে নির্দেশ করে থাকেন, এ আক্রমণের ফলে দেহে খিঁচুনি ও কম্পনসহ প্রবল স্নায়বিক চাপ দেখা যায়। চিকিৎসকরা এ রোগকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। গ্রান্ড মল ও পেটিট মল। গ্রান্ডমল সিজার হলে রোগী অচেতন হয়ে যায়, আর অন্যদিকে পেটিটমল সিজার সংঘটিত হয় প্রাথমিক পর্যায়ে, যা রোগী অথবা তার আশেপাশের কেউ টের পায় না। এ সিজার তিন থেকে দশ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং এক্ষেত্রে পেশীর সংকোচন দেখা যায় না। এটা হঠাৎ করে সংঘটিত হয়, যার ফলে রোগী হঠাৎ করে কিছুক্ষণের জন্য কথা বন্ধ করে দেয় এবং তারপর বিড়বিড় করে আবার পুরো বিস্তারিত কথা চালিয়ে যেতে থাকে, তবে তার কথার মধ্যে মনোযোগ দেখা যায় না অথবা রোগী তার মূল বিষয় থেকে দূরে সরে যায়। রোগী হঠাৎ করেই কোনো এক দিকে স্থির তাকিয়ে থাকে, কিছুক্ষণ পরে আবার তার কাজে ফিরে যায়。

স্নায়ুরোগের কারণ: এপিলেপটিক সিজারের পেছনে চিকিৎসকরা তিনটি ফ্যাক্টর দাঁড় করিয়েছেন:
১. ব্যক্তিগত সম্ভাবনা ও বংশগত
২. মস্তিষ্কে সমস্যা
৩. নিউরোলজিক্যাল কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন

তবে এপিলেপটিক সিজার এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো জিনের আক্রমণ। কিন্তু এ কারণটি অনেক চিকিৎসকেই স্বীকার করতে চান না, যদিও তারাই বলে থাকেন যে, কিছু স্নায়ুরোগের কারণ আধুনিক বিজ্ঞানও আবিষ্কার করতে সক্ষম নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যারা এটা অস্বীকার করেন তাদের বেশিরভাগই আমাদের নিজেদের লোক, অথচ পাশ্চাত্যের কিছু চিকিৎসক জিনের কারণে সংঘটিত স্নায়ুরোগের কথা স্বীকার করেছেন। শায়খ আব্দুল রাযিক তার আলিম আল জিন ওয়া মালাইকা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, পাশ্চাত্যের অনেক বিজ্ঞানী এটা স্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যে একজনের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি হলেন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর সাইকোলজিক্যাল রিসার্চ এর সদস্য ক্যারিনটন। ক্যারিনটন তার বই মডার্ন স্পিরিচুয়াল ফেনোমেনায় জিনের আক্রমণের কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: জিনে ধরার ঘটনা বিরল হলেও এর সত্যতা রয়েছে, এটি বাস্তব ঘটনা এবং এর সমর্থনে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা থাকার পরও বিজ্ঞান বিষয়টিকে অবজ্ঞা করতে পারে না। [১৩০]

ড. বেল তার অ্যানালাইসিস অব আনআইডেন্টিফাইড কেইসেস ইন দ্য ট্রিটমেন্ট অব মেন্টাল এন্ড নার্ভাস ইলনেস বইতে উল্লেখ করেছেন, আমাদের কিছু ঘটনা থাকে যা আমরা খোলাখুলিভাবে বলি বা আলোচনা করি, বিশেষ করে আত্মার আছর করার বিষয়ে, কারণ এটা মানসিক ও স্নায়বিক রোগের একটি কারণজনিত ফ্যাক্টর। আত্মার আছর করা পূর্বের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। অতঃপর তিনি আরো বলেন: যখন আধ্যাত্মিক প্র্যাকটিশনারগণ আত্মার আছর করা লোকের মধ্য থেকে শয়তানের মন্দ আত্মা বিতাড়িত ও অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা করার চেষ্টা করেন, তখন তারা চিকিৎসকদের কাছ থেকে এর জন্য ঘৃণা ও তাচ্ছিল্য ছাড়া কিছুই পান না। [۱۳۱]

ড. জেমস্ হ্যাসেলসন তার বইয়ে জিনের আছর করা সম্পর্কে বলেন, এটা হলো মানুষের মনের ওপর স্বাধীন ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সত্তা দ্বারা সংঘটিত একধরনের অস্বাভাবিক প্রভাব, সুতরাং কোনো সত্তা দ্বারা মনের ওপর সৃষ্ট প্রভাব তথা জিনের আছর করার বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। মানুষের মনের ওপর জিনের প্রভাব বিস্তার করার বিষয়টি আরও যেসব চিকিৎসক স্বীকার করেছেন তারা হলেন—মিনিপলিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কার্ল ওয়াকল্যান্ড ও ড. ব্যারাজ, মেডিসিন ও সার্জারিতে নোবেল জয়ী ড. অ্যালেনিস ক্যারেল। [১৪২]

প্রাচীনকালে স্নায়ুরোগকে বলা হতো “ঐশ্বরিক অসুস্থতা” অথবা “পবিত্র অসুস্থতা”, কারণ তারা মনে করতেন এ ধরনের অসুস্থতার পেছনে রয়েছে বাহ্যিক শক্তি অথবা আত্মাদের (জিনের) স্পর্শ। প্রাচীনকালের মানুষ এ রোগকে এর বিশ্বস্ত ও হঠাৎ প্রকাশিত লক্ষণগুলো দিয়ে এভাবে ব্যাখ্যা করতেন যে, এ রোগ সংগঠিত হয় অশুভ আত্মার প্রভাবে, যা মানুষের দেহে অথবা মস্তিষ্কে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে। অনেক সূত্র থেকে জানা গেছে যে, ওঝা মানব ও ইনকা উপজাতির মানুষের মাথার খুলিতে যে ছিদ্র পাওয়া গেছে তা স্নায়ুরোগের (এপিলেপসি) ফল, কারণ এ চিকিৎসার উদ্দেশ্য ছিল মাথার এ ছিদ্র দিয়ে শয়তান বা অশুভ আত্মাকে বিতাড়িত করা। এছাড়াও প্রাচীনকালের মানুষ এ রোগের চিকিৎসার জন্য তাবিজ-কবচ, লিখিত মন্ত্র ব্যবহার করত। গবেষণায় দেখা গেছে যে, জাদুকররা এ রোগের চিকিৎসায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তারা অশুভ আত্মাদের নাম ধরে ধরে ডেকে তাদেরকে বশ করে রোগীর দেহ থেকে বিতাড়িত করতেন।

অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে এবং দেখিয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে, এবং এতে সন্দেহের লেশ মাত্র নেই যে, স্নায়ুরোগের অনেক ক্ষেত্রেই তারা জিনের সঙ্গে কথা বলেছে, তাদের কাছ থেকে রোগীর দেহ ত্যাগ করার এবং কখনো ফিরে না আসার প্রতিশ্রুতি নিয়েছে, যখনই রোগী অচেতন অবস্থা থেকে জেগে উঠেছে তখন আর অসুস্থতার চিহ্ন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এটি কোনো দ্বিধাবিভক্ত আচরণ নয়, যেভাবে অনেক সাইকোলজিস্ট পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। এর পক্ষে কুরআন ও হাদীসের প্রমাণই যথেষ্ট। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) বলেন: জিন মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে এ তথ্যটি আহলুস সুন্নাহ-এর সম্মতিক্রমে প্রমাণিত। যারা এর সত্যতা যাচাই করেছেন, এটা পরীক্ষা করেছেন তারা নিজ চোখে এ সত্য দেখেছেন এবং প্রত্যক্ষ করেছেন। জিন মৃগীরোগীর দেহে প্রবেশ করে এবং তার মুখ দিয়ে এমনসব কথা বলে যে সম্পর্কে ওই ব্যক্তি সচেতন নন এবং পরবর্তীতে তিনি তা স্মরণও করতে পারেন না। [২১]

টিকা:
১৩০. আলমূল জিন ওয়া মালাইকাহ, পৃ-৮২।
১৩১. আলমূল জিন ওয়া মালাইকাহ, পৃ-৮৩।
১৪২. প্রাগুক্ত, পৃ-৮০।
১৮. ইগাইছাল আল ইনসান মিনাল জিন ওয়াশ শায়তান, পৃ-৫৮-৫৮।
১৯. আত তিব্বুন-নাবাবী, ৫২।
২০. রিসালাত আল জিন, ৮।
২১. মুকতাসার আল ফাতাওয়া, ৫৬৪।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 শিশুদের স্নায়ুরোগ

📄 শিশুদের স্নায়ুরোগ


শিশুদের মধ্যে যাদের স্নায়ুরোগ রয়েছে তাদের অধিকাংশই পেটিটমল সিজার, যা সাধারণত পাঁচ বছর বয়স থেকে শুরু হয় এবং ১২ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পেটিটমল সিজার পরবর্তীতে আবারও দেখা দিতে পারে অথবা বয়স্ককালে চলে যেতে পারে অথবা এটি গ্রান্ডমাল সিজার দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।

শিশুদের মধ্যে যাদের স্নায়ুরোগ রয়েছে তাদের অধিকাংশই পেটিটমল সিজার, যা সাধারণত পাঁচ বছর বয়স থেকে শুরু হয় এবং ১২ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। পেটিটমল সিজার পরবর্তীতে আবারও দেখা দিতে পারে অথবা বয়স্ককালে চলে যেতে পারে অথবা এটি গ্রান্ডমাল সিজার দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px