📄 রুকিয়া ও যিকিরের মাধ্যমে কুনজরের চিকিৎসা
কুপ্রজর দেওয়া ব্যক্তি যদি অপরিচিত হয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কোনো উপায় থাকবে না, তবে তিনি শরীয়াও নির্দেশিত রুকিয়া ও যিকির বেশি বেশি করে তেলাওয়াত করবেন, কারণ আল্লাহ চাইলে এর মাধ্যমেই আরোগ্য দান করবেন।
অসুস্থ ব্যক্তি তার দুই হাত উপরে তুলে সূরা আল ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী ও আল মুআব্বিযাত তেলাওয়াত করবেন এবং তার দুই হাতে ফুঁ দেবেন, অতঃপর দুই হাত দিয়ে পুরো শরীর মাসেহ করবেন।
এছাড়াও অসুস্থ ব্যক্তি এসব আয়াত পাঠ করে जलপাই তেলে ফুঁ দেবেন এবং এ তেল দিয়ে ব্যথার স্থানে মালিশ করবেন, এবং তিনি অযু করে সেই পানি থেকে পানও করতে পারেন।
আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বর্ণনা করেছেন: «أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ»।
১. আউযু বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব (আমি আল্লাহর তা’আলার উত্তম কথার মাধ্যমে সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা তিনি সৃষ্টি করেছেন।)
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ»।
২. আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাহ মিন কুল্লি শায়াতানিন ওয়া হাম্মাহ ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ (আমি আল্লাহর কাছে সব ধরনের অনিষ্ট ও বিষাক্ত সরীসৃপ থেকে এবং সকল ধরনের কুপ্রজর থেকে আল্লাহর উত্তম কথা দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
«بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ»
৩. বিসমিল্লাহি আরক্বীকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইঊযীকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন ওয়া আইনিন হাসিদ আল্লাহু ইয়াশফীক্ব বিসমিল্লাহি আরক্বীক।
(পরম করুণাময় আল্লাহ তা’আলার নামে আমি তোমার জন্য রুকিয়া পাঠ করছি, তোমার জন্য ক্ষতিকর সকল কিছু থেকে, প্রত্যেক আত্মা অথবা হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করুক, পরম করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নামে আমি তোমার জন্য রুকia পাঠ করছি।
بِاسْمِ اللهِ يُบْرِيكَ وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ
৪. বিসমিল্লাহি ইউবারিকা ওয়া মিন কুল্লি দাইন ইয়াশফিকা ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ ওয়া মিন শাররি कुलपति যি আ'ইনিন।
(পরম করুণাময় আল্লাহর নামে, তিনি তোমাকে আরোগ্য দান করুক, সকল ধরনের রোগ থেকে তোমাকে আরোগ্য দান করুক, এবং হিংসুকের সকল ধরনের হিংসা ও অনিষ্ট থেকে এবং প্রত্যেককে কুনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহ রক্ষা করুক।)
ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য আরো দোয়া ও রুকিয়া রয়েছে যেগুলো একজন অসুস্থ ব্যক্তি তার নিজের জন্য পাঠ করতে পারেন, এরকম কিছু দোয়া ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তার যা'দ আল মা'য়াদগ্রन्থে উল্লেখ করেছেন:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَأَ وَبَرَأَ وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ
১. আউযুব বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতিল্লাতি লা ইইউ যা'ওবিযুহুন্না বাররকু ওয়লা ফাজিরুক মিন শাররি মা খালাকা ওয়া যারায়া ওয়া বারাআ ওয়া মিন শাররি মা ইয়াযানযিলু মিনাস সামা'ই ওয়া মিন শাররি মা ইয়া'রুজু ফিহা ওয়া মিন শাররি ফিতানিল লাইল ওয়ান নাহার, ওয়া মিন শাররি কুল্লি ত্বারিকিন ইল্লা ত্বারিকান ইয়া'তরুকু বি খায়রিন ইয়া রাহমানু।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونَ
২. আউযুব বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতি মিন গায়াবিহি ওয়া ই'কাবিহি ওয়া মিন শাররি 'ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াতান ওয়া আইয়্যুহযুরুন।
( আল্লাহ তা’আলার উত্তম কথা দিয়ে তাঁর ক্রোধ ও কঠোর শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর বান্দার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি শয়তানের প্ররোচনা থেকে।)
« اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ وَكَلِمَاتِكَ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ تَكْشِفُ الْمَغْرَمَ وَالْمَأْثَمَ ، اللَّهُمَّ إِنَّهُ لَا يُهْزَمُ جُنْدُكَ ، وَلَا يُخْلَفُ وَعْدُكَ ، سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ »
৭. আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা বিওয়াজহিকাল কারিম ওয়া কালিমাতিকাত তাম্মাতি মিন শাররি মা আনতা আ'খিঝু বি নাসিয়াতিহি আল্লাহুম্মা আনতা তাকশিফুল মাগরাম ওয়া-ল মা’ছামা আল্লাহুম্মা ইন্নাহু লা ইউহযামু জুনদুকা ওয়ালা ইউখলাফু ওয়া'দুকা সুবহানাকা ওয়া বিহামদিকা । ( হে আল্লাহ আমি আপনার মহান প্রসন্নতা ও উত্তম কথা দিয়ে সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা আপনি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পাকড়াও করেন। হে আল্লাহ আপনি আমার ওপরে চাপ সৃষ্টি করা দেন এবং মায়াবিক চাপ দূর করে দিন। হে আল্লাহ তোমার সেনাবাহিনী কখনো পরাজিত হতে পারে না, তোমার ওয়াদার কখনো বরখেলাপ হতে পারে না, সকল মহিমা ও প্রশংসা একমাত্র তোমারই। )
« اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ عَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَأَنْتَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ مَا شَاءَ اللَّهُ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَأْ لَمْ يَكُنْ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا وَأَحْصَى كُلَّ شَيْءٍ عَدَدًا ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ »
৮. "আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা আ'লাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আনতা রাব্বুল আরশিল আযীম। মাশাআল্লাহু কানা ওয়া মা লাম ইয়াশা লাম ইয়াকুন ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি। আ'লামু আন্নাল্লাহা আ'লা কুল্লি শাইইন কাদির ওয়া আন্না ল্লাহা আহাতা বি কুল্লি শাইইন ই'লমান ওয়া আহসা কুল্লা শাইইন 'আদাদান। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন শাররি নাফসি ওয়া মিন শাররিশ শাইতানি ওয়া শারাকিহি ওয়া মিন শাররি কুল্লি দব্বাতিন আনতা আখিঝুন বি নাসিয়াতিহি, ইন্না রাব্বি আ'লা সিরাতিম মুসতাকিম।"
(হে আল্লাহ, হে আমার প্রতিপালক, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। আপনার প্রতি আমার সকল আস্থা এবং আপনি পবিত্র আরশীল আযীমের মালিক। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তাই ঘটে এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন না তা কখনোই ঘটে না। আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো শক্তি নেই। আমি জানি আল্লাহ তা'আলা সব করতে সক্ষম, চারপাশে যা কিছু রয়েছে, যা কিছু ঘটছে সবই আল্লাহর জ্ঞাতসারে এবং তিনি সব কিছুই গণনা করেছেন। হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে আমার নিজের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, শয়তান ও তার ফাঁদ থেকে বাঁচার প্রার্থনা করছি, আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি ওইসব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে যেগুলোকে তুমি তোমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পাকড়াও কর। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সহজ-সোজা পথে রয়েছেন।)
অত:পর তিনি বলেন: যারা আখেরাতের জন্য দুআ ও প্রার্থনা পাঠ করবে, তারা এর উপকারিতা ও গুরুত্ব সম্পর্কেও জ্ঞান রাখেন। আল্লাহর ইচ্ছায় ও অনুমতিক্রমে এসব দোয়া মানুষকে কুনজরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং কুনজরকে বাতিল করে দেয়, তবে এটি নির্ভর করবে দোয়া পাঠকারীর ঈমানি শক্তির ওপর, তার আস্থার শক্তি, সম্ভাব্যতা, আল্লাহর প্রতি তার আস্থার শক্তি এবং তার হৃদয়ের দৃঢ়তার ওপর। কারণ এ দোয়াগুলো এক ধরনের হিফাযত এবং মানুষ যখন এ হিফাযত ব্যবহার করে, তখন এটি খুব ভালো কাজ করে।
টিকা:
১০৮. যাদুল মা'আদ, ৪/১৭০
কুপ্রজর দেওয়া ব্যক্তি যদি অপরিচিত হয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কোনো উপায় থাকবে না, তবে তিনি শরীয়াও নির্দেশিত রুকিয়া ও যিকির বেশি বেশি করে তেলাওয়াত করবেন, কারণ আল্লাহ চাইলে এর মাধ্যমেই আরোগ্য দান করবেন。
অসুস্থ ব্যক্তি তার দুই হাত উপরে তুলে সূরা আল ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী ও আল মুআব্বিযাত তেলাওয়াত করবেন এবং তার দুই হাতে ফুঁ দেবেন, অতঃপর দুই হাত দিয়ে পুরো শরীর মাসেহ করবেন।
এছাড়াও অসুস্থ ব্যক্তি এসব আয়াত পাঠ করে জলপাই তেলে ফুঁ দেবেন এবং এ তেল দিয়ে ব্যথার স্থানে মালিশ করবেন, এবং তিনি অযু করে সেই পানি থেকে পানও করতে পারেন。
আল্লাহর কাছে আশ্রয় प्रार्थना প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বর্ণনা করেছেন: «أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ»।
১. আউযু বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব (আমি আল্লাহর তা’আলার উত্তম কথার মাধ্যমে সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা তিনি সৃষ্টি করেছেন।)
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ»।
২. আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাহ মিন কুল্লি শায়াতানিন ওয়া হাম্মাহ ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ (আমি আল্লাহর কাছে সব ধরনের অনিষ্ট ও বিষাক্ত সরীসৃপ থেকে এবং সকল ধরনের কুনজর থেকে আল্লাহর উত্তম কথা দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
«بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ»
৩. বিসমিল্লাহি আরক্বীকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইঊযীকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন ওয়া আইনিন হাসিদ আল্লাহু ইয়াশফীক্ব বিসমিল্লাহি আরক্বীক।
(পরম করুণাময় আল্লাহ তা’আলার নামে আমি তোমার জন্য রুকিয়া পাঠ করছি, তোমার জন্য ক্ষতিকর সকল কিছু থেকে, প্রত্যেক আত্মা অথবা হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করুক, পরম করুণাময় আল্লাহ তা'আলার নামে আমি তোমার জন্য রুকিয়া পাঠ করছি।)
بِاسْمِ اللهِ يُبْرِيكَ وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ
৪. বিসমিল্লাহি ইউবারিকা ওয়া মিন কুল্লি দাইন ইয়াশফিকা ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ ওয়া মিন শাররি কুল্লি যি আ'ইনিন।
(পরম করুণাময় আল্লাহর নামে, তিনি তোমাকে আরোগ্য দান করুক, সকল ধরনের রোগ থেকে তোমাকে আরোগ্য দান করুক, এবং হিংসুকের সকল ধরনের হিংসা ও অনিষ্ট থেকে এবং প্রত্যেককে কুনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহ রক্ষা করুক।)
ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য আরো দোয়া ও রুকিয়া রয়েছে যেগুলো একজন অসুস্থ ব্যক্তি তার নিজের জন্য পাঠ করতে পারেন, এরকম কিছু দোয়া ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তার যা'দ আল মা'য়াদগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:
১. আউযুব বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতিল্লাতি লা ইইউ যা'ওবিযুহুন্না বাররকু ওয়লা ফাজিরুক মিন শাররি মা খালাকা ওয়া যারায়া ওয়া বারাআ ওয়া মিন শাররি মা ইয়াযানযিলু মিনাস সামা'ই ওয়া মিন শাররি মা ইয়া'রুজু ফিহা ওয়া মিন শাররি ফিতানিল লাইল ওয়ান নাহার, ওয়া মিন শাররি কুল্লি ত্বারিকিন ইল্লা ত্বারিকান ইয়া'তরুকু বি খায়রিন ইয়া রাহমানু।
২. আউযুব বি কালিমাতিল্লাহি তাম্মাতি মিন গায়াবিহি ওয়া ই'কাবিহি ওয়া মিন শাররি 'ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াতান ওয়া আইয়্যুহযুরুন।
( আল্লাহ তা’আলার উত্তম কথা দিয়ে তাঁর ক্রোধ ও কঠোর শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর বান্দার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি শয়তানের প্ররোচনা থেকে।)
৭. আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা বিওয়াজহিকাল কারিম ওয়া কালিমাতিকাত তাম্মাতি মিন শাররি মা আনتا আ'খিঝু বি নাসিয়াতিহি আল্লাহুম্মা আনতা তাকশিফুল মাগরাম ওয়া-ল মা’ছামা আল্লাহুম্মা ইন্নাহু লা ইউহযামু জুনদুকা ওয়ালা ইউখলাফু ওয়া'দুকা সুবহানাকা ওয়া বিহামদিকা । ( হে আল্লাহ আমি আপনার মহান প্রসন্নতা ও উত্তম কথা দিয়ে সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যা আপনি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পাকড়াও করেন। হে আল্লাহ আপনি আমার ওপরে চাপ সৃষ্টি করা দেন এবং মায়াবিক চাপ দূর করে দিন। হে আল্লাহ তোমার সেনাবাহিনী কখনো পরাজিত হতে পারে না, তোমার ওয়াদার কখনো বরখেলাপ হতে পারে না, সকল মহিমা ও প্রশংসা একমাত্র তোমারই। )
৮. "আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা আ'লাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আনতা রাব্বুল আরশিল আযীম। মাশাআল্লাহু কানা ওয়া মা লাম ইয়াশা লাম ইয়াকুন ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি। আ'লামু আন্নাল্লাহা আ'লা কুল্লি শাইইন কাদির ওয়া আন্না ল্লাহা আহাতা বি কুল্লি শাইইন ই'লমান ওয়া আহসা কুল্লা শাইইন 'আদাদান। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন শাররি নাফসি ওয়া মিন শাররিশ শাইতানি ওয়া শারাকিহি ওয়া মিন শাররি কুল্লি দব্বাতিন আনতা আখিঝুন বি নাসিয়াতিহি, ইন্না রাব্বি আ'লা সিরাতিম মুসতাকিম।"
(হে আল্লাহ, হে আমার প্রতিপালক, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। আপনার প্রতি আমার সকল আস্থা এবং আপনি পবিত্র আরশীল আযীমের মালিক। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তাই ঘটে এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন না তা কখনোই ঘটে না। আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো শক্তি নেই। আমি জানি আল্লাহ তা'আলা সব করতে सक्षम, চারপাশে যা কিছু রয়েছে, যা কিছু ঘটছে সবই আল্লাহর জ্ঞাতসারে এবং তিনি সব কিছুই গণনা করেছেন। হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে আমার নিজের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, শয়তান ও তার ফাঁদ থেকে বাঁচার প্রার্থনা করছি, আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি ওইসব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে যেগুলোকে তুমি তোমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পাকড়াও কর। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সহজ-সোজা পথে রয়েছেন।)
অত:পর তিনি বলেন: যারা আখেরাতের জন্য দুআ ও প্রার্থনা পাঠ করবে, তারা এর উপকারিতা ও গুরুত্ব সম্পর্কেও জ্ঞান রাখেন। আল্লাহর ইচ্ছায় ও অনুমতিক্রমে এসব দোয়া মানুষকে কুনজরের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং কুনজরকে বাতিল করে দেয়, তবে এটি নির্ভর করবে দোয়া পাঠকারীর ঈমানি শক্তির ওপর, তার আস্থার শক্তি, সম্ভাব্যতা, আল্লাহর প্রতি তার আস্থার শক্তি এবং তার হৃদয়ের দৃঢ়তার ওপর। কারণ এ দোয়াগুলো এক ধরনের হিফাযত এবং মানুষ যখন এ হিফাযত ব্যবহার করে, তখন এটি খুব ভালো কাজ করে।
টিকা:
১০৮. যাদুল মা'আদ, ৪/১৭০
📄 বদনজর ও হিংসা থেকে বাঁচার জন্য বহুল বিস্তৃত তিরস্কারযোগ্য বিদয়াতসমূহ
কুনজর ও হিংসা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের বিদয়াত चालू করেছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে, এসব বিদয়াত কুনজরের ও হিংসুকের অনিষ্ট দূর করে। এসব বিদয়াত হলো:
১. তাবিজ-কবচ: এ তাবিজ আরবরা তাদের শিশুদের গলায় বেঁধে দিত তাদেরকে কুনজরের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। এটা এক ধরনের শিরক। কারণ এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল ( ﷺ ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি গলায় তাবিজ পরল, সে শিরক করল।”
২. যেসব তাবিজে কুরআন ও হাদীস ব্যতীত অন্য কোনো কথা রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করাও শিরক।
৩. বাড়িতে প্রাণীর খোলস ঝুলানো, যেগুলো আসে সমুদ্র থেকে, ব্যবহার করা হয় কুনজরের বিপরীতে সুরক্ষার জন্য。
৪. অর্ধচন্দ্র অথবা প্রাণীর দাঁত ও হাড়ের আকারে নীল রঙের তসবিহ ও ধাতব গুটি সজ্জিত নেকলেস রাখা。
৫. ঘোড়া অথবা গাধার খুর টানানো অথবা বাড়ির দরজায় তামার তৈরি মাঝখানে চোখ ওয়ালা হাত রাখা, বাহনের জন্য ব্যবহৃত প্রাণীর ঘাড়ের চারদিকে এবং গাড়িতে এটা লাগানো。
৬. নীল পুঁতি দিয়ে সজ্জিত আংটি পরিধান করা, এবং এতে কিছু কথা লেখা থাকে কুনজর থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য。
৭. বাড়িতে ও থামারে বিভিন্ন প্রাণীর কঙ্কাল ঝুলিয়ে রাখা。
৮. বরযাত্রী মেহমানদের গায়ে লবণ ছিটিয়ে দেওয়া, বিভিন্ন দেশে এ কাজটি করা হয় বর ও কনেকে কুনজরের প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য。
৯. অদ্ভুত কিছু শব্দ ও বাক্য এ বিশ্বাসে ব্যবহার করা যে, এগুলো কুনজরের কুপ্রভাব দূর করবে, যেমন বলা: খামছা ও গুমাইশ অথবা ইজমাহিকুল শ্যাব (কাট স্পষ্ট করা)—এ সব শব্দ এসেছে হিন্দু ধর্ম থেকে। কারণ হিন্দুরা কাঠকে পবিত্র মনে করে এবং তাদের ধারণা এ কাট তাদেরকে বিভিন্ন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে。
১০. গাড়িতে কিছু কথা লিখে রাখা, যেমন: “আ’ইনাল হুসুদ ফিহা উ’দ (হিংসুকের চোখে লাঠি) ইত্যাদি。
১১. ঘূপ অসুস্থ ব্যক্তিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এমন বিশ্বাস করা。
এগুলো তিরষ্কারযোগ্য কিছু বিদয়াত বা নব্যপ্রবর্তন, আর সাধারণ মানুষ মনে করে এগুলো পালন করলে বা মেনে চললে কুনজর ও মানুষের হিংসা থেকে বাঁচা যাবে।
টিকা:
১০৯. আরবি শব্দ খামছা মানে হল-পাঁচ; আর গুমায়েশ মানে হল হাতের মতো দেখতে এক ধরনের অলঙ্কার, যা বদনজর ও হিংসার প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য তাবিজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কুনজর ও হিংসা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের বিদয়াত চালু করেছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে, এসব বিদয়াত কুনজরের ও হিংসুকের অনিষ্ট দূর করে। এসব বিদয়াত হলো:
১. তাবিজ-কবচ: এ তাবিজ আরবরা তাদের শিশুদের গলায় বেঁধে দিত তাদেরকে কুনজরের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য। এটা এক ধরনের শিরক। কারণ এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল ( ﷺ ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি গলায় তাবিজ পরল, সে শিরক করল।”
২. যেসব তাবিজে কুরআন ও হাদীস ব্যতীত অন্য কোনো কথা রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করাও শিরক।
৩. বাড়িতে প্রাণীর খোলস ঝুলানো, যেগুলো আসে সমুদ্র থেকে, ব্যবহার করা হয় কুনজরের বিপরীতে সুরক্ষার জন্য。
৪. অর্ধচন্দ্র অথবা প্রাণীর দাঁত ও হাড়ের আকারে নীল রঙের তসবিহ ও ধাতব গুটি সজ্জিত নেকলেস রাখা。
৫. ঘোড়া অথবা গাধার খুর টানানো অথবা বাড়ির দরজায় তামাৰ তৈরি মাঝখানে চোখ ওয়ালা হাত রাখা, বাহনের জন্য ব্যবহৃত প্রাণীর ঘাড়ের চারদিকে এবং গাড়িতে এটা লাগানো。
৬. নীল পুঁতি দিয়ে সজ্জিত আংটি পরিধান করা, এবং এতে কিছু কথা লেখা থাকে কুনজর থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য。
৭. বাড়িতে ও থামারে বিভিন্ন প্রাণীর কঙ্কাল ঝুলিয়ে রাখা。
৮. বরযাত্রী মেহমানদের গায়ে লবণ ছিটিয়ে দেওয়া, বিভিন্ন দেশে এ কাজটি করা হয় বর ও কনেকে কুনজরের প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য。
৯. অদ্ভুত কিছু শব্দ ও বাক্য এ বিশ্বাসে ব্যবহার করা যে, এগুলো কুনজরের কুপ্রভাব দূর করবে, যেমন বলা: খামছা ও গুমাইশ অথবা ইজমাহিকুল শ্যাব (কাট স্পষ্ট করা)—এ সব শব্দ এসেছে হিন্দু ধর্ম থেকে। কারণ হিন্দুরা কাঠকে পবিত্র মনে করে এবং তাদের ধারণা এ কাট তাদেরকে বিভিন্ন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে。
১০. গাড়িতে কিছু কথা লিখে রাখা, যেমন: “আ’ইনাল হুসুদ ফিহা উ’দ (হিংসুকের চোখে লাঠি) ইত্যাদি。
১১. ধূপ অসুস্থ ব্যক্তিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এমন বিশ্বাস করা。
এগুলো তিরষ্কারযোগ্য কিছু বিদয়াত বা নব্যপ্রবর্তন, আর সাধারণ মানুষ মনে করে এগুলো পালন করলে বা মেনে চললে কুনজর ও মানুষের হিংসা থেকে বাঁচা যাবে।
টিকা:
১০৯. আরবি শব্দ খামছা মানে হলো-পাঁচ; আর গুমায়েশ মানে হলো হাতের মতো দেখতে এক ধরনের অলঙ্কার, যা বদনজর ও হিংসার প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য তাবিজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।