📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 ইসলামের আলোকে হিংসার প্রতিকার

📄 ইসলামের আলোকে হিংসার প্রতিকার


হিংসা একটি মারাত্মক ব্যাধি, যার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। সামাজিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানুষের পারস্পরিক অশালীন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থেকে বিকশিত হয় এ হিংসা-বিদ্বেষ। যা মানুষকে অজ্ঞতা ও পশ্চাৎপদতার সর্বনিম্নস্তরে নিমজ্জিত করে। এ কারণেই ইসলাম এ মারাত্মক ব্যাধির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “তোমরা একে অন্যকে হিংসা কর না, অন্যের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন কর না, একে অপরকে ঘৃণা কর না, একজনকে আরেকজনের কাছ থেকে টেনে নিও না; হে আল্লাহর বান্দাহগণ, তোমরা পরস্পর ভাইয়ের মতো আচরণ কর।”

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “তোমরা সতর্ক বা কৌশলী হয়ে লক্ষ্য অর্জন করার চেষ্টা করবে, কারণ যার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ থাকে, সেই হিংসার মুখে পতিত হয়।” [১০১]

এ ভুল এড়িয়ে চলতে হলে একজন মুসলিমকে আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে হবে, আচরণে শান্তশিষ্ট থাকা হবে। অন্য একজনের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ দেখে তার মতো নিজের জন্যও ওই বিশেষ অনুগ্রহ কামনা করা ইসলামে অনুমোদিত, তবে এক শর্তে, ওই ব্যক্তির অনুগ্রহ কেড়ে নেওয়ার কামনা করা যাবে না এবং অন্য একজনের কেন এমন অনুগ্রহ হলো সেজন্য অসন্তুষ্ট হওয়া যাবে না。

হিংসা একটি মারাত্মক মানসিক রোগ, আর এ রোগের চিকিৎসা কেবল উপকারী জ্ঞান দিয়েই করা সম্ভব। হিংসা নামক ব্যাধির ক্ষেত্রে উপকারী জ্ঞান মানে এ উপলব্ধি হওয়া যে, এ পৃথিবীতে হিংসা তোমার জন্য ক্ষতি তো বয়ে আনবেই, পাশাপাশি এতে তোমার গুনাহ হবে এবং এ গুনাহর ফলে কপালে শুধুই আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধ জুটবে, আর অন্যদিকে শুধুই এ হিংসার পথ এড়িয়ে চলাই জান্নাতে প্রবেশের একটি মাধ্যম。

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা আল্লাহর রাসূলের (সা.) সঙ্গে এক মজলিসে বসা ছিলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন: “এ পথে তোমাদের দিকে একজন জান্নাতের অধিবাসী আসবে।” অতএব আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এলেন। তার দাড়ি থেকে ওযুর পানি টপ টপ করে পড়ছিল। বাম হাতে তার পায়ের স্যান্ডেল। তিনি এসে সবাইকে সালাম দিয়ে অভিবাদন জানালেন।

পরের দিনও আল্লাহর রাসূল (সা.) একই কথা বললেন এবং সেই ব্যক্তি হাজির হলেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) চলে যাওয়ার পর আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন ‘আস লোকটিকে অনুসরণ করলেন এবং তাকে বললেন: আমার পিতার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে এবং আমি শপথ করেছি আগামী তিনদিন তার সঙ্গে থাকব না। আপনি কি আমাকে এ তিনদিন থাকার সুযোগ দিতে পারবেন? তিনি বললেন: “হ্যাঁ”। অতঃপর তিনি তার সঙ্গে তিন রাত্রি কাটালেন। কিন্তু তিনি তাকে রাতে কিয়াম করতে দেখলেন না, কিন্তু যখনই তিনি বিছানায় যেতেন আল্লাহকে স্মরণ করতেন। তিনি বললেন: তবে আমি তার মুখে ভালো ব্যতীত খারাপ কোনো কথা শুনিনি।

তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমি তার কাজকর্ম নিয়ে খুব কমই ভাবলাম। আমি তাকে বললাম: হে আল্লাহর বান্দাহ, আমার সঙ্গে আমার পিতার কোনো ঝগড়া হয়নি, কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) আপনার ব্যাপারে এ এ কথা বলতে শুনেছি এবং সেই কারণেই আমি জানতে চেয়েছিলাম যে, আসলে আপনি কী কী কাজ করেন। কিন্তু আমি আপনাকে বেশি কিছু করতে দেখলাম না, তারপরেও আপনার এ মর্যাদা হলো কীভাবে? তিনি বললেন: আপনি যা দেখেছেন আমি তার বেশি কিছু করি না। অতঃপর আমি যখন ফিরে আসতে চাইলাম তখন তিনি বললেন: আপনি যা দেখেছেন আমি তার বেশি কিছু করি না, কিন্তু আমি কখনো অন্যের কল্যাণে, অন্যকে দেয়া আল্লাহর অনুগ্রহে হিংসা বোধ করি না।" আবদুল্লাহ বললেন: আমি তাকে বললাম: এ কর্মই আপনাকে ওই মর্যাদা এনে দিয়েছে এবং এটাই আমরা করতে পারি না。

অতএব এটা স্পষ্ট যে, হিংসার পথ পরিহার করে চলাও একটি মহৎ কাজ, কারণ এর জন্য আল্লাহ তা'আলা উত্তম প্রতিদান দেবেন。

টিকা:
১০১. ইবনু আবিদ্দুনইয়া ও তাবারানী মুজাম (রহ.) হতে যঈফ সনদে বর্ণনা করেছেন।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 কু-নজরে সৃষ্ট অসুস্থতার ধরন

📄 কু-নজরে সৃষ্ট অসুস্থতার ধরন


কুনজরে আক্রান্ত হওয়ার প্রভাবকে দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যেতে পারে:
১- প্রাণঘাতী প্রভাব, যা দ্রুত ফলাফল নিয়ে আসে। যেমন: কোনো মানুষ অথবা গবাদিপশুকে হত্যা করা অথবা বাড়ির ও ফসল ধ্বংস করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে কোনো প্রতিকার নেই। শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (رحمه الله) রিযাদের নিকটবর্তী গ্রামের এক লোকের ঘটনা বর্ণনা করেন। ওই লোকটি আরেক লোকের পালিত কিছু ভেড়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় সে ভেড়াগুলোর প্রতি কুনজর দেয় এবং সবগুলো ভেড়া মারা যায়। ভেড়াগুলোর মালিক এসে তার সবগুলো ভেড়াই মারা গেছে দেখে তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পাশ দিয়ে কে গেছে? তার ছেলে বলল: তার ভেড়ার পালের পাশ দিয়ে অমুকের ছেলে অমুক ব্যতীত আর কেউ যায়নি। অতঃপর তিনি ওই লোকটির খোঁজে বের হন এবং তাকে গিয়ে তার (ওই লোকটির) নতুন ভবনের ছাদে পেলেন। তিনি তাকে ডাকলেন, হে অমুক, তুমি আমার ভেড়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এ এ করেছ (কুনজর দিয়েছ)। এখন তুমি এর বদলে হয় তোমার দেহ দান করবেন অথবা তোমার এ নতুন ভবন দিয়ে দেবেন। ভবনের মালিক বলল: আমি নিচে নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। লোকটি ছাদ থেকে নেমে আসার পরপরই হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ল। [১০২] এ ধরনের কুনজর বিয়োগ ও ক্ষয়ক্ষাদক এবং এর কোনো প্রতিকার নেই।

২-প্রাণঘাতী নয় এমন প্রভাব। এর প্রতিকারকে আবার তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়: (ক) যে প্রতিকার ব্যবস্থা ঘটনা ঘটার আগেই কুনজরকে বাতিল করে দেয়। (খ) কুনজরে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত কার্যকরী প্রতিকার ব্যবস্থা। (গ) রুকিয়া ও যিকির পাঠের মাধ্যমে প্রতিকার。

টিকা:
১০২ রিয়াদের একটি কেন্দ্রীয় মসজিদের দেওয়া বক্তব্য থেকে - ৭. ২০৫ নোট: ১

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 কুনজর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আগেই একে বাতিল করা

📄 কুনজর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আগেই একে বাতিল করা


এটি করা হয় আল্লাহর অনুগ্রহ কামনার মাধ্যমে। যদি কোনো ব্যক্তি আরেকজনের ওপর কুনজর দিয়ে আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করে তাহলে আল্লাহর রহমতে ওই কুনজরের প্রভাব বাতিল হয়ে যায় এবং সেটা আর কাজ করে না। আল্লাহ তার নিজের ফিকির মাধ্যমে ওই লোকের ফিকির বাতিল করে দেন। সুতরাং বোঝা গেল, পুরো ব্যাপারটিই আল্লাহ তা'আলার নিয়ন্ত্রণে, সকল মহিমা ও গৌরব তাঁরই। এজন্যই আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের আমাদের পছন্দনীয় সব অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন: “যদি তোমাদের মধ্যে কেউ দেখে যে, তার ভাইয়ের কিছু অনুগ্রহ রয়েছে, তাহলে তাকে তার জন্য প্রার্থনা করতে দাও।” এবং তিনি আমীর বিন রাবিয়াহকে বললেন: “তুমি বরকত লাভের জন্য কেন প্রার্থনা করছ না?” সাহল বিন হানীফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন: “যদি তোমাদের কেউ তার নিজের জন্য কোনো অনুগ্রহ পছন্দ করে, তাহলে তাকে এর জন্য প্রার্থনা করতে দাও, কারণ কুনজরের প্রভাব সত্য।”

উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, কুনজর কোনো ক্ষতি করতে পারে না, যদি ওই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অনুগ্রহের প্রার্থনা করে; বরং ওই কুনজর তখনই তার ক্ষতি করবে যখন তিনি আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য প্রার্থনা করবেন না。

বিষয়টি কুরতুবিসহ অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: প্রত্যেক মুসলিমকেই তার পছন্দনীয় অনুগ্রহের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে, কারণ অনুগ্রহের জন্য প্রার্থনা করা হলে এর কল্যাণে নিঃসন্দেহে সকল সম্ভাব্য ক্ষতির সম্ভাবনা দূরীভূত হয়ে যাবে。

ইবনে হাজার বলেন: যদি কেউ তার নিজের জন্য কোনো কিছু পছন্দ করেন, তাহলে তিনি যেন তার জন্য অতি দ্রুত আল্লাহ তা'আলার কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করেন এবং তার এ প্রার্থনা তার জন্য রুক্বিয়া হয়ে যাবে。

আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ ও বারাকাতের জন্য এভাবে প্রার্থনা করতে হবে: “বারিকাল্লাহু ফিহ্ (আল্লাহ এতে রহমত দিন) অথবা “আল্লাহুম্মা বারিক আলাইহি” (হে আল্লাহ আপনি বারাকাত দান করুন)। অথবা বলা যেতে পারে, মা শা আল্লাহ (আল্লাহ যা চান)। যেমনভাবে আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে: “তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে তখন কেন বললে না, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছে করেছেন (তা-ই হয়েছে), আল্লাহ ছাড়া কারো কোন শক্তি নেই। যদিও তুমি আমাকে ধনে-জনে তোমার চেয়ে কম দেখ।” (সূরা কাহফ ১৮: ৩৯)

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 কুনজরে আক্রান্ত হওয়ার পরে এর প্রতিকার

📄 কুনজরে আক্রান্ত হওয়ার পরে এর প্রতিকার


যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো উপর কুনজর দেয় এবং কুনজর দেয়া ব্যক্তি যদি পরিচিত হয়, তাহলে তার গোসল অথবা অযুতে ব্যবহৃত পানি সংগ্রহ করে নিয়ে কুনजরে আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ঢালতে হবে, এতে করে তার উপর থেকে কুনজরের সকল প্রভাব কেটে যাবে, অর্থাৎ ওই কুনজর বাতিল হয়ে যাবে।

সাহল বিন হানিফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন: «عَلَمَا يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ أَلَا تَبْرَكَ اغْتَسِلُ لَهُ» “কেন তোমরা তোমাদের একজন ভাইকে হত্যা করছ? কেন তোমরা তার জন্য বারাকাতের প্রার্থনা করছ না? তার জন্য তোমার নিজেকে ধৌত কর।”

রাসূলের (সাঃ) একথা শুনে আমীর তার মুখমণ্ডল, উভয়হাত কনুই পর্যন্ত, উভয় হাঁটু, দুই পায়ের পাশ এবং তার ইযারের ভেতর ধৌত করলেন এবং এ পানি সাহলের পেছন থেকে তার শরীরের উপর ঢেলে দেওয়া হল এবং তিনি এতে সুস্থ হয়ে গেলেন।

অন্য এক হাদীসে এসেছে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তুমি তার জন্য অযু কর।” অতঃপর আমীর অযু করলেন এবং সেই পানি পেছন দিক থেকে সাহলের গায়ে ঢেলে দেওয়া হল। এরপরই সাহल আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) কাছে গেলেন এবং তখন তার শরীরের আর কোনো সমস্যা রইল না。

ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন: «الْعَيْنُ حَقٌّ، وَلَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابِقَ الْقَدَرِ لَسَبَقَتْهُ الْعَيْنُ، وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فَاغْسِلُوا» “কুনজরের ব্যাপারটি সত্য এবং আল্লাহর ফিকরি বা আদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো যদি কিছু থাকত তাহলে তা হত কুনজর। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কাউকে যদি অযু বা শরীর ধৌত করতে বলা হয়, তাহলে তাকে তা করতে দাও।”

সুনানে আবু دাউদে আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে: «كَانَ يُؤْمَرُ الْعَائِنُ فَيَتَوَضَّأَ، ثُمَّ يُغْسِلُ مِنْهُ الْمَعِينَ» “যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো উপর কুনজর দেয় তাহলে কুনজর দেওয়া ব্যক্তিকে অযু করার নির্দেশ দিতে হবে এবং তার অযুর সেই পানি দিয়ে আবার আক্রান্ত ব্যক্তিকে অযু করতে হবে।”

টিকা:
১০৪. মুওয়াত্ত্বা মালিক, ২/৯৩৮
১০৫. ইমাম মুসলিম, কিতাবুস সালাম, বাবুত তিব্ব ওয়াল মারাদ ওয়াল রুকা, ৪/৩২
১০৬. সूनান বায়হাকী ৯/২৫২

যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো উপর কুনজর দেয় এবং কুনজর দেয়া ব্যক্তি যদি পরিচিত হয়, তাহলে তার গোসল অথবা অযুতে ব্যবহৃত পানি সংগ্রহ করে নিয়ে কুনজরে আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ঢালতে হবে, এতে করে তার উপর থেকে কুনजরের সকল প্রভাব কেটে যাবে, অর্থাৎ ওই কুনজর বাতিল হয়ে যাবে।

সাহল বিন হানিফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন: «عَلَمَا يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ أَلَا تَبْرَكَ اغْتَسِلُ لَهُ» “কেন তোমরা তোমাদের একজন ভাইকে হত্যা করছ? কেন তোমরা তার জন্য বারাকাতের প্রার্থনা করছ না? তার জন্য তোমার নিজেকে ধৌত কর।”

রাসূলের (সাঃ) একথা শুনে আমীর তার মুখমণ্ডল, উভয়হাত কনুই পর্যন্ত, উভয় হাঁটু, দুই পায়ের পাশ এবং তার ইযারের ভেতর ধৌত করলেন এবং এ পানি সাহলের পেছন থেকে তার শরীরের উপর ঢেলে দেওয়া হল এবং তিনি এতে সুস্থ হয়ে গেলেন。

অন্য এক হাদীসে এসেছে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তুমি তার জন্য অযু কর।” অতঃপর আমীর অযু করলেন এবং সেই পানি পেছন দিক থেকে সাহলের গায়ে ঢেলে দেওয়া হল। এরপরই সাহল আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) কাছে গেলেন এবং তখন তার শরীরের আর কোনো সমস্যা রইল না。

ইمام মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন: «الْعَيْنُ حَقٌّ، وَلَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابِقَ الْقَدَرِ لَسَبَقَتْهُ الْعَيْنُ، وَإِذَا اسْتُغْسِلْتُمْ فَاغْسِلُوا» “কুনজরের ব্যাপারটি সত্য এবং আল্লাহর ফিকরি বা আদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো যদি কিছু থাকত তাহলে তা হত কুনজর। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কাউকে যদি অযু বা শরীর ধৌত করতে বলা হয়, তাহলে তাকে তা করতে দাও।”

সুনানে আবু দাউদে আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে: «كَانَ يُؤْمَرُ الْعَائِنُ فَيَتَوَضَّأَ، ثُمَّ يُغْسِلُ مِنْهُ الْمَعِينَ» “যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কারো উপর কুনজর দেয় তাহলে কুনজর দেওয়া ব্যক্তিকে অযু করার নির্দেশ দিতে হবে এবং তার অযুর সেই পানি দিয়ে আবার আক্রান্ত ব্যক্তিকে অযু করতে হবে।”

টিকা:
১০4. মুওয়াত্ত্বা মালিক, ২/৯৩৮
১০5. ইমাম মুসলিম, কিতাবুস সালাম, বাবুত তিব্ব ওয়াল মারাদ ওয়াল রুকা, ৪/৩২
১০6. সুনান বায়হাকী ৯/২৫২

ফন্ট সাইজ
15px
17px