📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 হিংসাকারীর বৈশিষ্ট্য জানা যাতে তাকে এড়িয়ে চলা যায়

📄 হিংসাকারীর বৈশিষ্ট্য জানা যাতে তাকে এড়িয়ে চলা যায়


কুনজরের মধ্যে সব ধরনের মানুষই অন্তর্ভুক্ত হবে। এমনকি যারা আল্লাহভীরুতাও দ্বারাও এর দ্বারা আক্রান্ত হবে যদি না তারা এর প্রতি সঠিক মনোযোগ প্রদান করে, যদিও হিংসার বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। হিংসুক মানুষের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলো দিয়ে তাকে চেনা যায়, অন্যদের থেকে তাকে আলাদা করা যায়। যেমন—তার তাকানো ও হাসির ধরন, মুখের অভিব্যক্তি এবং তার কথা বলার ধরন দেখেই তাকে আলাদা করা যাবে। আর এসব বৈশিষ্ট্যই বলে দেবে তার মনে কী আছে। মানুষ যা কিছুই গোপন করুক না কেন তার বহিঃপ্রকাশ তার চেহারায় ফুটবেই, মুখ ফসকে বের হয়ে যাবে তার মনের কুটিলতা। তার তাকানোর ধরন, তার হাসি এবং তার পুরো গতিবিধি থেকেই তার মনের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হবে।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 হিংসুকের বৈশিষ্ট্যাবলী

📄 হিংসুকের বৈশিষ্ট্যাবলী


১- হিংসাকারী সবসময় আল্লাহ তা'আলার ডিক্রি বা আদেশের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে।
২- হিংসাকারী সবসময় অভিযোগ করে এবং কদাচিৎ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, এমনকি যদি সে পুরো পৃথিবীর মালিকও হয়。
৩- সে যাকে হিংসা করে তার ভুলকে অনুসরণ করে এবং সবসময় তার দোষ অনুসন্ধান করে, সেগুলোকে প্রকাশ করে এবং অন্যদের কাছে সেগুলোকে অতিরিক্ত করে উপস্থাপন করে。
৪- সে সবসময় যাকে হিংসা করে তার ভালো ও স্বতন্ত্র গুণাবলি গোপন করে অথবা অবজ্ঞা করে অথবা এ গুণগুলোকে খাটো করে দেখে。
৫- আপনি খেয়াল করে দেখবেন, হিংসাকারী যাকে হিংসা করে তাকে নিয়ে হাসি-তামাশা বা রসিকতা ছাড়া কথা বলতে পারে না, কিন্তু তার হৃদয় থাকে ঘৃণা ও অসন্তোষে পরিপূর্ণ, যা তার তাকানোর ধরনে প্রকাশ পেয়ে যায়。
৬- সে কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশ্য তার সমালোচনা করে。
৭- সে সবসময় সুযোগ সন্ধান করে এবং তার সবটুকু সুযোগ কাজে লাগায় যাকে সে হিংসা করে তার অথবা তার সম্পদের ক্ষতি করার পেছনে。
৮- সর্বশেষে, হিংসাকারী আসলে একজন ঝামেলা পাকানো লোক, তার হৃদয়ে সবসময় অন্যের ভালোতে অসন্তোষ থাকার কারণে তার চেহারায় ফুটে ওঠে বিষণ্ণতা ও নিস্প্রভতার ছাপ。

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 ইসলামের আলোকে হিংসার প্রতিকার

📄 ইসলামের আলোকে হিংসার প্রতিকার


হিংসা একটি মারাত্মক ব্যাধি, যার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। সামাজিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানুষের পারস্পরিক অশালীন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থেকে বিকশিত হয় এ হিংসা-বিদ্বেষ। যা মানুষকে অজ্ঞতা ও পশ্চাৎপদতার সর্বনিম্নস্তরে নিমজ্জিত করে। এ কারণেই ইসলাম এ মারাত্মক ব্যাধির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “তোমরা একে অন্যকে হিংসা কর না, অন্যের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন কর না, একে অপরকে ঘৃণা কর না, একজনকে আরেকজনের কাছ থেকে টেনে নিও না; হে আল্লাহর বান্দাহগণ, তোমরা পরস্পর ভাইয়ের মতো আচরণ কর।”

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “তোমরা সতর্ক বা কৌশলী হয়ে লক্ষ্য অর্জন করার চেষ্টা করবে, কারণ যার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ থাকে, সেই হিংসার মুখে পতিত হয়।” [১০১]

এ ভুল এড়িয়ে চলতে হলে একজন মুসলিমকে আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে হবে, আচরণে শান্তশিষ্ট থাকা হবে। অন্য একজনের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ দেখে তার মতো নিজের জন্যও ওই বিশেষ অনুগ্রহ কামনা করা ইসলামে অনুমোদিত, তবে এক শর্তে, ওই ব্যক্তির অনুগ্রহ কেড়ে নেওয়ার কামনা করা যাবে না এবং অন্য একজনের কেন এমন অনুগ্রহ হলো সেজন্য অসন্তুষ্ট হওয়া যাবে না。

হিংসা একটি মারাত্মক মানসিক রোগ, আর এ রোগের চিকিৎসা কেবল উপকারী জ্ঞান দিয়েই করা সম্ভব। হিংসা নামক ব্যাধির ক্ষেত্রে উপকারী জ্ঞান মানে এ উপলব্ধি হওয়া যে, এ পৃথিবীতে হিংসা তোমার জন্য ক্ষতি তো বয়ে আনবেই, পাশাপাশি এতে তোমার গুনাহ হবে এবং এ গুনাহর ফলে কপালে শুধুই আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধ জুটবে, আর অন্যদিকে শুধুই এ হিংসার পথ এড়িয়ে চলাই জান্নাতে প্রবেশের একটি মাধ্যম。

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা আল্লাহর রাসূলের (সা.) সঙ্গে এক মজলিসে বসা ছিলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন: “এ পথে তোমাদের দিকে একজন জান্নাতের অধিবাসী আসবে।” অতএব আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এলেন। তার দাড়ি থেকে ওযুর পানি টপ টপ করে পড়ছিল। বাম হাতে তার পায়ের স্যান্ডেল। তিনি এসে সবাইকে সালাম দিয়ে অভিবাদন জানালেন।

পরের দিনও আল্লাহর রাসূল (সা.) একই কথা বললেন এবং সেই ব্যক্তি হাজির হলেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) চলে যাওয়ার পর আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন ‘আস লোকটিকে অনুসরণ করলেন এবং তাকে বললেন: আমার পিতার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে এবং আমি শপথ করেছি আগামী তিনদিন তার সঙ্গে থাকব না। আপনি কি আমাকে এ তিনদিন থাকার সুযোগ দিতে পারবেন? তিনি বললেন: “হ্যাঁ”। অতঃপর তিনি তার সঙ্গে তিন রাত্রি কাটালেন। কিন্তু তিনি তাকে রাতে কিয়াম করতে দেখলেন না, কিন্তু যখনই তিনি বিছানায় যেতেন আল্লাহকে স্মরণ করতেন। তিনি বললেন: তবে আমি তার মুখে ভালো ব্যতীত খারাপ কোনো কথা শুনিনি।

তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমি তার কাজকর্ম নিয়ে খুব কমই ভাবলাম। আমি তাকে বললাম: হে আল্লাহর বান্দাহ, আমার সঙ্গে আমার পিতার কোনো ঝগড়া হয়নি, কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) আপনার ব্যাপারে এ এ কথা বলতে শুনেছি এবং সেই কারণেই আমি জানতে চেয়েছিলাম যে, আসলে আপনি কী কী কাজ করেন। কিন্তু আমি আপনাকে বেশি কিছু করতে দেখলাম না, তারপরেও আপনার এ মর্যাদা হলো কীভাবে? তিনি বললেন: আপনি যা দেখেছেন আমি তার বেশি কিছু করি না। অতঃপর আমি যখন ফিরে আসতে চাইলাম তখন তিনি বললেন: আপনি যা দেখেছেন আমি তার বেশি কিছু করি না, কিন্তু আমি কখনো অন্যের কল্যাণে, অন্যকে দেয়া আল্লাহর অনুগ্রহে হিংসা বোধ করি না।" আবদুল্লাহ বললেন: আমি তাকে বললাম: এ কর্মই আপনাকে ওই মর্যাদা এনে দিয়েছে এবং এটাই আমরা করতে পারি না。

অতএব এটা স্পষ্ট যে, হিংসার পথ পরিহার করে চলাও একটি মহৎ কাজ, কারণ এর জন্য আল্লাহ তা'আলা উত্তম প্রতিদান দেবেন。

টিকা:
১০১. ইবনু আবিদ্দুনইয়া ও তাবারানী মুজাম (রহ.) হতে যঈফ সনদে বর্ণনা করেছেন।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 কু-নজরে সৃষ্ট অসুস্থতার ধরন

📄 কু-নজরে সৃষ্ট অসুস্থতার ধরন


কুনজরে আক্রান্ত হওয়ার প্রভাবকে দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যেতে পারে:
১- প্রাণঘাতী প্রভাব, যা দ্রুত ফলাফল নিয়ে আসে। যেমন: কোনো মানুষ অথবা গবাদিপশুকে হত্যা করা অথবা বাড়ির ও ফসল ধ্বংস করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে কোনো প্রতিকার নেই। শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (رحمه الله) রিযাদের নিকটবর্তী গ্রামের এক লোকের ঘটনা বর্ণনা করেন। ওই লোকটি আরেক লোকের পালিত কিছু ভেড়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় সে ভেড়াগুলোর প্রতি কুনজর দেয় এবং সবগুলো ভেড়া মারা যায়। ভেড়াগুলোর মালিক এসে তার সবগুলো ভেড়াই মারা গেছে দেখে তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পাশ দিয়ে কে গেছে? তার ছেলে বলল: তার ভেড়ার পালের পাশ দিয়ে অমুকের ছেলে অমুক ব্যতীত আর কেউ যায়নি। অতঃপর তিনি ওই লোকটির খোঁজে বের হন এবং তাকে গিয়ে তার (ওই লোকটির) নতুন ভবনের ছাদে পেলেন। তিনি তাকে ডাকলেন, হে অমুক, তুমি আমার ভেড়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এ এ করেছ (কুনজর দিয়েছ)। এখন তুমি এর বদলে হয় তোমার দেহ দান করবেন অথবা তোমার এ নতুন ভবন দিয়ে দেবেন। ভবনের মালিক বলল: আমি নিচে নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। লোকটি ছাদ থেকে নেমে আসার পরপরই হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ল। [১০২] এ ধরনের কুনজর বিয়োগ ও ক্ষয়ক্ষাদক এবং এর কোনো প্রতিকার নেই।

২-প্রাণঘাতী নয় এমন প্রভাব। এর প্রতিকারকে আবার তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়: (ক) যে প্রতিকার ব্যবস্থা ঘটনা ঘটার আগেই কুনজরকে বাতিল করে দেয়। (খ) কুনজরে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত কার্যকরী প্রতিকার ব্যবস্থা। (গ) রুকিয়া ও যিকির পাঠের মাধ্যমে প্রতিকার。

টিকা:
১০২ রিয়াদের একটি কেন্দ্রীয় মসজিদের দেওয়া বক্তব্য থেকে - ৭. ২০৫ নোট: ১

ফন্ট সাইজ
15px
17px