📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 বদনজর ও হিংসার মধ্যে পার্থক্য

📄 বদনজর ও হিংসার মধ্যে পার্থক্য


অর্থগত দিক থেকে ‘আইন (যিনি অন্যের ওপর কুনজর দেন) শব্দটির চেয়ে হাসিদ (হিসাকারী) শব্দটি আরও সাধারণ। এ কারণেই সূরা ফালাকে হিসাকারীর ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার কথা বলা হয়েছে।

হাসিদ (হিসাকারী) হলেন এমন ব্যক্তি যিনি চরম অসন্তুষ্টির সঙ্গে হিংসা করেন, সুতরাং তিনি কামনা করেন, তার টার্গেটকৃত ব্যক্তির ওপর থেকে যেন রহমত সরিয়ে নেওয়া হয়, অন্যদিকে একজন ‘আইন (অন্যের ওপর যিনি কুনজর দেন) ব্যক্তি শুধু একটি জিনিস পছন্দ করেন। সে কারণে কুনজর কোনো সৎ পুরুষ ও নারী থেকে আসতে পারে, এবং একজন মানুষ না বুঝেই তার নিজের সম্পদ, পরিবার অথবা সন্তানের ওপরও বদনজর দিতে পারেন। তবে কুনজর ও হিসার একইরকম প্রভাব রয়েছে, উভয়ক্ষেত্রে পছন্দকৃত জিনিসটির ক্ষতি করা হয়।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 হিংসা (হাসাদ)

📄 হিংসা (হাসাদ)


হিসা বা হাসাদ মানে হলো কারো ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ বা রহমত বর্ষণে অন্য কারো অসন্তুষ্ট হওয়া, এ জন্য তার প্রতি হিসা পোষণ করা এবং তার ওপর থেকে যেন এ রহমত সরিয়ে নেওয়া হয় তার ইচ্ছা পোষণ করা। অন্য কথায়, হিসাকারী মনে মনে কামনা করে, সে যার প্রতি হিসা পোষণ করছে তার ওপর থেকে যেন আল্লাহর অনুগ্রহ বা রহমত চলে যায়, তাতে এ রহমত তার প্রতি আসুক বা না আসুক。

সুতরাং: হিসাকারী সবসময় আল্লাহর রহমতে অসন্তুষ্ট হয় এবং এ রহমত চলে যাওয়ার কামনা করে, এবং কখনো কখনো সে নিজেই এ অনুগ্রহ নষ্ট করার চেষ্টা চালায়।

হিসার ব্যাপারে প্রমাণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “গ্রন্থধারীদের অনেকেই তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও তাদের অন্তরে পোষিত হিংসার দাহনে ইচ্ছে পোষণ করে যে, যদি তোমাদেরকে তোমাদের ঈমান আনার পর কুফুরীতে ফিরিয়ে নিতে পারত।” (সূরা আল বাকারা ২:১০৯)

“কিংবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে লোকেদেরকে যেসব নি'মাত দান করেছেন, সেজন্য কি এরা তাদের হিংসা করে, আমি ইবরাহীমের বংশধরদেরকেও তো কিতাব ও হিকমাত দিয়েছিলাম, তাদেরকে সুবিশাল রাজ্যও প্রদান করেছিলাম।” (আন-নিসা ৪:৫৪)

“এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।” (সূরা আল ফালাক ১১৩:৫)

হাদীস থেকে প্রমাণ
১. আত্ব-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, আল যুবাইরের আজাদকৃত দাস বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের রোগ তোমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, সেগুলো হলো: ঈর্ষা ও ঘৃণা। এটাই তোমাদের জন্য 'শেবার' (ক্ষতসায়ননকারী); আমি বলব না এটা তোমাদের চুল শেভ করে, বরং এটা তোমাদের ঈমান শেভ (ক্ষয়) করে। যার হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার শপথ করে বলছি, যতক্ষণ না তোমরা ঈমান গ্রহণ করবে, ততক্ষণ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর তোমরা ততক্ষণ ঈমান গ্রহণ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব না কোন জিনিস তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করবে? তোমাদের মধ্যে বেশি বেশি সালামের প্রচলন কর।” [১২৯]

২. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন: “আমার উম্মাত অন্যান্য জাতির রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যাবে।” তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ), অন্যান্য জাতির রোগগুলো কী কী? আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেন: “ধৃষ্টতা, ঔদ্ধত্য, সম্পদ পুঞ্জিভূত করা, দুনিয়াবী স্বার্থের জন্য প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক ঘৃণা ও হিংসা-বিদ্বেষ, যতক্ষণ পর্যন্ত না আছে গর্হিত কাজ ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটবে ততক্ষণ এ হিংসা-বিদ্বেষ চলতে থাকবে।” [১৩০]

টিকা:
১২৯. আত তিরমিযী-২৫১০:
১৩০. আল তাবারানী, আল আওসাত; ইবনে আবুল দুনিয়া

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 হিংসাকারীর বৈশিষ্ট্য জানা যাতে তাকে এড়িয়ে চলা যায়

📄 হিংসাকারীর বৈশিষ্ট্য জানা যাতে তাকে এড়িয়ে চলা যায়


কুনজরের মধ্যে সব ধরনের মানুষই অন্তর্ভুক্ত হবে। এমনকি যারা আল্লাহভীরুতাও দ্বারাও এর দ্বারা আক্রান্ত হবে যদি না তারা এর প্রতি সঠিক মনোযোগ প্রদান করে, যদিও হিংসার বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। হিংসুক মানুষের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেগুলো দিয়ে তাকে চেনা যায়, অন্যদের থেকে তাকে আলাদা করা যায়। যেমন—তার তাকানো ও হাসির ধরন, মুখের অভিব্যক্তি এবং তার কথা বলার ধরন দেখেই তাকে আলাদা করা যাবে। আর এসব বৈশিষ্ট্যই বলে দেবে তার মনে কী আছে। মানুষ যা কিছুই গোপন করুক না কেন তার বহিঃপ্রকাশ তার চেহারায় ফুটবেই, মুখ ফসকে বের হয়ে যাবে তার মনের কুটিলতা। তার তাকানোর ধরন, তার হাসি এবং তার পুরো গতিবিধি থেকেই তার মনের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হবে।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 হিংসুকের বৈশিষ্ট্যাবলী

📄 হিংসুকের বৈশিষ্ট্যাবলী


১- হিংসাকারী সবসময় আল্লাহ তা'আলার ডিক্রি বা আদেশের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে।
২- হিংসাকারী সবসময় অভিযোগ করে এবং কদাচিৎ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, এমনকি যদি সে পুরো পৃথিবীর মালিকও হয়。
৩- সে যাকে হিংসা করে তার ভুলকে অনুসরণ করে এবং সবসময় তার দোষ অনুসন্ধান করে, সেগুলোকে প্রকাশ করে এবং অন্যদের কাছে সেগুলোকে অতিরিক্ত করে উপস্থাপন করে。
৪- সে সবসময় যাকে হিংসা করে তার ভালো ও স্বতন্ত্র গুণাবলি গোপন করে অথবা অবজ্ঞা করে অথবা এ গুণগুলোকে খাটো করে দেখে。
৫- আপনি খেয়াল করে দেখবেন, হিংসাকারী যাকে হিংসা করে তাকে নিয়ে হাসি-তামাশা বা রসিকতা ছাড়া কথা বলতে পারে না, কিন্তু তার হৃদয় থাকে ঘৃণা ও অসন্তোষে পরিপূর্ণ, যা তার তাকানোর ধরনে প্রকাশ পেয়ে যায়。
৬- সে কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশ্য তার সমালোচনা করে。
৭- সে সবসময় সুযোগ সন্ধান করে এবং তার সবটুকু সুযোগ কাজে লাগায় যাকে সে হিংসা করে তার অথবা তার সম্পদের ক্ষতি করার পেছনে。
৮- সর্বশেষে, হিংসাকারী আসলে একজন ঝামেলা পাকানো লোক, তার হৃদয়ে সবসময় অন্যের ভালোতে অসন্তোষ থাকার কারণে তার চেহারায় ফুটে ওঠে বিষণ্ণতা ও নিস্প্রভতার ছাপ。

ফন্ট সাইজ
15px
17px