📄 যেভাবে পানীয় তৈরি করবেন
অসুস্থ ব্যক্তি কিছু সোনাযুখী পাতা সংগ্রহ করে আনবেন এবং এগুলোকে এক লিটার পানি ভর্তি পাত্রে রাখবেন। অতঃপর পাত্রটি উনুনে বসিয়ে আগুনে সেদ্ধ করবেন এবং পরে ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা করবেন। এরপর রোগী এখান থেকে খালি পেটে তিন কাপ পান করবেন। মিষ্টি স্বাদের জন্য এর সঙ্গে মধু মিশ্রিত করা যেতে পারে। এটি পান করার পর রোগী তার অঙ্গে একটি ঢিলেঢালাভাব অনুভব করবেন। পানীয়ের কার্যকারিতা টের পাওয়া যাবে সাত ঘন্টার মধ্যে এবং এর কার্যকারিতা থাকবে বাইশ ঘণ্টা পর্যন্ত। এ সময় পেটে মৃদু ব্যথা হতে পারে, তবে অন্ত্রে কোনো ইনফেকশন হবে না। সোনাযুখীর রসের কার্যকারিতা শুরু হলে অন্ত্র এর সকল দূষিত পদার্থ বের করে দেবে এবং আল্লাহর চাইলে একই সঙ্গে জাদুটোনার সকল তাবিজ-কবচও বের হয়ে যাবে। এটি অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আল্লাহর রহমতে ভালো উপকার পাওয়া গেছে。
ড. আলী আল বার হাদীস অনুসারে সোনাযুখী পাতা ও এর গুণাগুণের উপর একটি নিবন্ধ লিখেছেন এবং এ নিবন্ধে তিনি সোনাযুখী পাতার অনেক ফায়াজ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
সোনাযুখী পাতাকে মল নরম করার রেচক হিসেবে ব্যবহার করা? এবং এটি মোটেও ক্ষতিকর নয়। এটা সরাসরি মলাশয়ে কাজ করে সোনাযুখী উত্তম রেচক, উৎকৃষ্ট মানের ওষুধ, এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শুদ্ধ। এর উপকারি গুণাগুণগুলো হল, বিষণ্ণতা আনয়নকারী চিন্তার বিরুদ্ধে কাজ করে, পা ফাটা, পেশীর প্রসারণ বা টান, চুলের স্ফীতি, উকুন, খোস-পাঁচড়া, ফুসকুড়ি ও শরীরে চুলকানির বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে। জলপাইয়ের তেলের সঙ্গে গরম করে এটি পান করা হয় এবং এটি শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। এছাড়া এটি পিঠের ও কটিদেশের ব্যথার বিরুদ্ধেও কাজ করে। সোনাযুখীর আরেকটি ভালো গুণ হল এটি কালো পাচক রস ও কাশির শ্লেষ্মা বের করে দেয় এবং হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে। দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মাথা ব্যথা এবং মৃগীরোগের ক্ষেত্রেও এটি কাজ করে। এটা হেমোরয়েড দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে এটিকে ব্যবহার করা হয় পায়খানা নরমকারক রেচক হিসেবে। পায়খানা নরমকারক এমন কোনো ওষুধ পাওয়া যাবে না, যাতে উপাদান হিসেবে সোনামুখীর রস নেই। সোনামুখী সর্বোৎকৃষ্ট রেচক এতে কোনো সন্দেহ নেই。
টিকা:
১৭. ড. মুহাম্মাদ আলী আল বার, আল সিনা ওয়াল সানুত
📄 জাদুটোনার জন্য কাপিং (কাঁচপ্রয়োগে চিকিৎসা) থেরাপী
ক্যাপিং বা সিঙ্গা লাগানো হলো নবীদের ﷺ ব্যবহৃত একটি উপকারী চিকিৎসা পদ্ধতি। কবচ করার স্থানে যদি ক্যাপিং করা হয় তাহলে এটা ওই স্থানের সকল দূষিত জিনিস বের করে দেবে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে মন্ত্রের কার্যকারিতা নষ্ট ও বাতিল হয়ে যাবে।
কিন্তু নবীদের ﷺ ব্যবহৃত ও অতি উপকারী চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহার মানুষ এখন ছেড়ে দিয়েছে। ইমাম বুখারী رحمه الله তার সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস رضي الله عنه থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূলকে ﷺ বলেন: “তিনটি জিনিসের মধ্যে তোমাদের জন্য নিরাময় রয়েছে: মধু, ক্যাপিং করার হাতিয়ার ও আগুন দিয়ে ফোঁতরের সংক্রমণ পুড়িয়ে দেয়া, তবে আমি আমার উম্মতের জন্য আগুন দিয়ে শরীরের ক্ষত পোড়ানো নিষিদ্ধ করে দিলাম।” [ফাতহুল বারী ১০/১৪৩]
জাবির বিন আবদুল্লাহ رضي الله عنه থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে ﷺ বলতে শুনেছি: “তোমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভালো কিছু যদি থেকে থাকে তবে রয়েছে কাপিং করার যন্ত্রে, মধুতে অথবা আগুন দিয়ে ক্ষতের সংক্রমণ পোড়ানোর মধ্যে, তবে আমি আমার উম্মতের জন্য শেষোক্তটি নিষিদ্ধ করলাম।”
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, জাবির বিন আবদুল্লাহর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাথে আল মুকাব্বার (তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন) দেখা হলে তিনি তাকে বললেন: আমি তাকে কাপিং চিকিৎসা না দেওয়ার আগে ছাড়ব না, কারণ আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি, ‘এর মধ্যে নিরাময় রয়েছে’。
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, একবার আনাসকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাপিং চিকিৎসকের পারিশ্রমিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আবূ তাইবা কাপিংয়ের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চিকিৎসা করেছেন এবং বিনিময়ে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দুই সা’ গম অথবা যব দিয়েছেন। আর আবূ তাইবার মনিবের সঙ্গেও কথা বলেছেন যেন তারা তার প্রতি সদয় হন। এবং তিনি বলেন: “‘তোমরা যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার কর তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো কাপিং ও সামুদ্রিক কস্টাস’।” রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন: “‘টনসিলের চিকিৎসা করার জন্য তোমরা তোমাদের সন্তানদের টনসিল চেপে নির্যাতন কর না, বরং তোমরা এর জন্য কস্টাস ব্যবহার কর’。”
গারীবুল হাদীস গ্রন্থে আবূ উবায়েদ আবদুর রহমান বিন আবূ লায়লা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জادুটোনা দ্বারা আক্রান্ত হলেন, তখন কাপিংয়ের মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা করা হয়েছিল। ওই সময় তাদের অনেকে বলেছিলেন, যেসব জিনিস দিয়ে জادুটোনা করা হয়েছে সেগুলো তাঁর মাথা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। শয়তানের আত্মার প্রভাব দিয়ে জادুটোনা করা হয় এবং এর কিছু প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একে বলা হয় সিহ্র ও মামরিজাত, আর প্রভাবই সবচেয়ে খারাপ। ক্যাপینگ যদি কবচ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সঠিকভাবে করা যায় তাহলে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করবে。
ইবনে আল কাইয়্যুম (রহ.) বলেন, ক্ষতিকারক জادুটোনার প্রভাবে এতে ব্যবহৃত জিনিস যেখানে পৌঁছেছে সেখান থেকে বের করতে হবে। কারণ জادুটোনা শরীরের ওপর বেশ প্রভাব ফেলে মন মেজাজ উত্তেজিত করে তোলে এবং মানসিক মেজাজকে বিরক্ত করে। জادুটোনার প্রভাব যদি শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে প্রকট আকার ধারণ করে এক্ষেত্রে জادুটোনার ব্যবহৃত পদার্থগুলো বের করতে পারলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যাবে。
মেডিসিন সম্পর্কে যাদের জানাশোনা রয়েছে তারা বলেন: কাঁধে ও ঘাড়ে ব্যথার জন্য ঘাড়ে ওপর ক্যাপিং করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। মাথা ও মুখমণ্ডলের সমস্যা যেমন: নাক, কান, গলা ও চোখের সমস্যার ক্ষেত্রে ঘাড়ের মোটা শিরার ওপর ক্যাপিং করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। উরু ও পায়ের তলে যা হলো, ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা (ঋতুস্রাব না হওয়া) ও অঙ্গকোষে চুলকানি হলে সেক্ষেত্রে পায়ের ওপরে ক্যাপিং করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। আর বুকের নিচের দিকে ক্যাপিং করলে তা ফোঁড়া, খোস-পাঁচড়া, ফুসকুড়ি, গেঁটে বাত, হেমোরয়েড, গোদ রোগের জন্য বেশ উপকারি হয়। হাদীসে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূলকেও (সা.) তাঁর ঘাড়ের মোটা শিরায় ও দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে ক্যাপিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়েছিল। তীব্র মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের জন্য ক্যাপিং বেশ উপকারি ও ফলপ্রসূ চিকিৎসা। ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে এ ক্যাপিংয়ের ওপর একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এ শিরোনামে ‘মাইগ্রেন ও মাথাব্যথার জন্য ক্যাপিংয়ের অধ্যায়।’ ইবনে হাজার মাইগ্রেন হওয়ার কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং এ চিকিৎসায় ক্যাপিংয়ের ভূমিকাও উল্লেখ করেছেন。
মাথায় কাপিংয়ের উপকারিতা সম্পর্কে আরেকটি জয়ীফ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, হাদীসটি ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে, হাদীসে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন: “সাতটি রোগের জন্য মাথায় কাপিং উপকার: পাগলরোগ, কুষ্ঠরোগ, আলস্য, মাথাব্যথা, দাঁতে ব্যথা ও কু-নজর।” হাদীসটি দুর্বল হলেও বিভিন্ন অভিজ্ঞতা দিয়ে একে সমর্থন করা হয়েছে。
টিকা:
৯. ফাতহুল বারী, ১০/১৫৯
৯৯. ফাতহুল বারী, ১০/১৫৯
১০০. যাদুল মা’আদ, ৪/১২৫, ১২৬
১০১. আত-তিরমিযি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ হাদিসটিকে হাসান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল হাকিম একে সহীহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন。
১০২. ফাতহুল বারি, ১০/১৬২-১৬৩।
📄 কাপিংয়ের সময়
কাপিংয়ের সময় সংক্রান্ত একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) থেকে। হাদীসটি ইবনে মাজাহ তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এতে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন: “আল্লাহর রহমত লাভের জন্য বৃহস্পতিবার কাপিং ব্যবহার কর এছাড়াও সোমবার ও মঙ্গলবার কাপিং ব্যবহার করবে, আর বুধ, শুক্র, শনি ও রবিবার কাপিং করা পরিহার করবে।”
আল খাল্লাল থেকে বর্ণিত, ইমাম আহমাদ (রহ) উপরোক্ত দিনগুলোতে কাপিং ব্যবহার অপছন্দ করতেন। কিন্তু মাসের কোন দিন কাপিং করা উচিত?
আবূ দাউদ আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূলকে (সাঃ) উদ্ধৃত করে তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি মাসের সতেরতম, উনিশতম অথবা একুশতম দিনে কাপিং করবে, সে যে কোনো রোগ থেকে নিরাময় লাভ করবে।”
চিকিৎসকরাও এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন, মাসের দ্বিতীয় অর্ধাংশে, আরো স্পষ্ট করে বললে মাসের তিন চতুর্থাংশে গিয়ে কাপিং করলে মাসের শুরু অথবা শেষের তুলনায় ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে, কারণ মানুষের মানসিক অবস্থা মাসের শুরুর দিকে উত্তেজিত থাকে, আর মাসের শেষের দিকে শান্ত থাকে, সুতরাং এ সময়টাতেই রক্ত বের করা ভালো। তবে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
এ কাজ করার পাশাপাশি উপরোক্ত যমযমের পানির জন্য নির্দেশিত রুকিয়া পাঠ করতে হবে, যমযমের পানি না পাওয়া গেলে সাধারণ বিশুদ্ধ পানি দিয়েও হবে, এ রুকিয়া পাঠ করা পানি রোগীকে দিতে হবে এবং রোগী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এ পানি পান করবেন এবং এ পানি দিয়ে ধৌত করার কাজ সম্পন্ন করবেন।
এছাড়া জলপাইয়ের তেলের ওপরেও রুকিয়া পাঠ করা যেতে পারে, এক্ষেত্রে রোগী রুকিয়া পড়া তেল তার শরীরের যে স্থান জাদুটোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে এবং মাথা ও বুকে লাগাতে পারেন। রোগী নিজেই বেশি বেশি করে সূরাহ বাকারা তেলাওয়াত করবেন এবং যতটা সম্ভব এর রেকর্ড শুনবেন।
রোগী পূর্ববর্তী অধ্যায়ে ‘অসুস্থ ব্যক্তির কী কী করণীয়’ শিরোনামের অধীনে যেসব কর্মসূচির বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলো অনুসরণ করবেন।
টিকা:
১০০. হাদীসটি ইবনে মাজাহ দুটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। হাদীসের তৃতীয় সনদ উল্লেখ করেছেন দারাকুতনি তার আল ইফরাদ গ্রন্থে।
📄 যৌন অক্ষমতার চিকিৎসা
জাদুকর (আল্লাহ তাদের অভিশপ্ত করুক) সদ্য বিবাহিত দম্পতিকেও জাদুটোনার মাধ্যমে পরাভূত করে নির্বীর্য বা যৌন অক্ষম বানিয়ে দিতে পারে, যাতে করে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতে না পারে। এ যৌন অক্ষমতা দুই ধরনের: ১- স্বামীর ক্ষেত্রে যৌন অক্ষমতা বা নির্বীর্যতা, ২- স্ত্রীর ক্ষেত্রে কামশীতোলতা।
স্বামীকে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন করার মাধ্যমে এ সমস্যা নির্ণয় করা যেতে পারে। যৌন অক্ষমতার লক্ষণগুলো হলো—উত্ক্রোত ব্যথা এবং মাথাব্যথাসহ মাথা ভারী মনে হওয়া এবং মেজাজে পরিবর্তন আসা। যৌন অক্ষমতার সমস্যা নির্ণয় হয়ে গেলে, চিকিৎসা খুবই সহজ ও সাধারণ। প্রথমে সাতটি লোটাস পাতা নিয়ে দুটি পাথর দিয়ে পেষতে হবে, অতঃপর এ মিশ্রণ বড় এক পাত্র পানিতে মেশাতে হবে। অতঃপর সূরা ফাতিহা, এবং জাদুটোনা বাতিলকারক সূরা ইউনুস, আল-আ'রাফ, ত্ব-হা ও আল মুওয়াতায়াইন তেলাওয়াত করতে হবে।
১. (সূরা আল ফাতিহা: ১-৭)
২- আয়াতুল কুরসী (বাকারা ২:২৫৫)
৩. (আল-আ'রাফ: ১১৭-১২২)
৪. (সূরা-ইউনূস: আয়াত ৮১-৮২)
৫. (সূরা ত্ব-হা: আয়াত ৬৯)
৬. (সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস)
অতঃপর অক্ষম ব্যক্তি উপরোক্ত রুকিয়া পাঠ করা পানি তার শরীরে ঢালবেন এবং এর কিছু অংশ পান করবেন, আর বাকি অংশ দিয়ে টানা সাতদিন গোসল করবেন। এ ছাড়া তিনি জলপাইয়ের তেলে উপরোক্ত রুকিয়া পাঠ করবেন এবং এ তেল তার শরীরে মালিশ করবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম গোসল থেকেই যৌন অক্ষমতার সমস্যা নিরাময় লাভ করে。
গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা: যিনি বিয়ে করতে ইচ্ছুক তিনি যিকির ও আল্লাহর রাসূল (ﷺ)'র দেখানো পদ্ধতি অনুসারে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা ও আশ্রয় প্রার্থনা করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন। যে ঘরে বসে বিয়ে পড়ানো হবে সেই ঘরে বসে তিনি সূরা বাকারা তিলাওয়াত করবেন, তবে গ্রামের অজ্ঞ লোকেরা যা করে তিনি তা করবেন না। গ্রামের অজ্ঞ লোকেরা যৌন অক্ষমতার জন্য জাদুকরের শরণাপন্ন হন, আর এ সুযোগে শয়তান ও বদ জিনরা তার এবং তার স্ত্রীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। তিনি যখন স্ত্রীর সঙ্গে যৌন মিলনের মাধ্যমে বিয়েকে আইনসিদ্ধ করবেন তখন নিম্নোক্ত কাজগুলো করবেন:
১- তিনি তার স্ত্রীর কপালে হাত রাখবেন এবং এ দোয়া পাঠ করবেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা জাবালতাহা আলাইহি ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা জাবালতাহা আলাইহি। আল্লাহুম্মা বারিক লি ফিহা।” (হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি, এমন কল্যাণ যা আপনি তার (স্ত্রীর) মাঝে দিয়েছেন এবং একইসঙ্গে আমি আপনার কাছে মন্দ স্বভাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এমন মন্দ যা তার মাঝে রয়েছে, হে আল্লাহ আপনি আমাকে বরকত দান করুন।)
২- তারা উভয়ই দু' রাকাআত নফল সালাত আদায়ের মাধ্যমে তাদের এ নবজীবন শুরু করবেন, এবং আল্লাহর কাছে রহমত প্রার্থনা করবেন。
৩- যখন তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করবেন তখন নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবেন: “বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবাস শায়তানা, ওয়া জান্নিবিস শায়তানা মা রাযাকতানা” (আল্লাহ তা'আলার নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করুন এবং আপনি আমাদেরকে যা দান করেছেন তাও শয়তানের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখুন।)
৪- তিনি নিয়মিত যিক্র করবেন এবং আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চেয়ে দোয়া করতে থাকবেন。
টিকা:
১৬২. ফাতহুল বারী, কিতাবুন নিকাহ, ৭/২৫, সহীহ মুসলিম কিতাবুল আনফাক্ব ২/১০৮৭, পৃ. ৫৪