📄 জাদুটোনার চিকিৎসা
যদি কেউ জادুটোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে তাকে আল্লাহকে ভয় করতে হবে, তাঁর ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং সবকিছু তাঁর দায়িত্বে ছেড়ে দিতে হবে। তিনি ধৈর্যের পথে অটল থেকে ক্রমাগত দোয়া করতে থাকবেন এবং ইসলামী শরীয়াহ নির্দেশিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন: “যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার) কোন না কোন পথ বের করে দিবেন। আর তাকে রিযুক দিবেন (এমন উৎস) থেকে যা সে ধারণাও করতে পারে না। যে কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ নিজের কাজ সম্পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য করেছেন একটা সুনির্দিষ্ট মাত্রা।” (সূরা তালাক ৬৫: ২-৩)
শরীয়াহ নির্দেশিত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো, চিকিৎসার জন্য এমন ব্যক্তির কাছে যেতে হবে যার দ্বীনি প্রতিজ্ঞা ও দয়ার ওপর আস্থা রাখা যায়, যিনি রোগীর জন্য কুরআনের আয়াত দিয়ে রুকইয়া পাঠ করবেন।
প্র্যাকটিশনারকে অবশ্যই নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে হবে:
১- তিনি যে স্থানে বসে চিকিৎসা করাবেন, সেই স্থান থেকে আল্লাহর অবাধ্যতাকারী বা আওয়াজ সৃষ্টিকারী সব বস্তু সরিয়ে ফেলবেন。
২- শুরুতেই রোগীকে জিজ্ঞেস করতে হবে যে, তার কাছে কোনো তাবিয-কবচ আছে কি না অথবা তিনি কোনো জادুকরের কাছে গিয়েছিলেন কি না। যদি তার সঙ্গে কোনো তাবিয কবচ থাকে তবে তা পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং তিনি যদি কোনো জادুকরের কাছে গিয়ে থাকেন তাহলে তাকে বলতে হবে যে, কত বড় ভুল তিনি করেছেন এবং এর প্রভাব কত মারাত্মক হতে পারে, এটা তার আত্মিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর。
৩- তাকে অবশ্যই রোগ নির্ণয় করতে হবে। এর এটা করা হয় রোগীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করার মাধ্যমে। রোগীকে কেমন ধরনের প্রশ্ন করতে হবে সেক্ষেত্রে প্র্যাকটিশনারের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিবাহিত লোকের প্রশ্ন অবিবাহিত থেকে আলাদা হবে। প্রশ্ন নিম্নরূপ হতে পারে:
১. রোগী কী ধরনের যন্ত্রণা ভোগ করছেন
২. এ সমস্যা শুরু হয়েছে কখন
৩. রোগী কি কোনো স্বপ্ন দেখেন, আর দেখলে তা কী ধরনের?
৪. তিনি কি পেটে ব্যথা অনুভব করেন? এ ব্যথার শুরু কখন?
৫. তার কি মাথা ব্যথা আছে অথবা তিনি কি মাথা অথবা দেহে ভারী কিছু অনুভব করেন?
৬. তিনি কি তার বুকে সঙ্কুচতা অনুভব করেন?
রোগ নির্ণয়ের জন্য করা প্রশ্ন ঘটনাক্রমে বিভিন্ন রকম হয়। এসব প্রশ্নের উত্তরের ভিত্তি করে প্র্যাকটিশনার আরো চিন্তা ভাবনা করে পুনরায় প্রশ্ন করেন। প্রশ্ন পর্ব শেষে তিনি রোগীর ওপর নিম্নোক্ত রুকিয়া পাঠ করবেন:
১. (সূরা আল ফাতিহা: ১-৭)
২- আয়াতুল কুরসী (বাকারা ২:২৫৫)
৩. (আল-আ'রাফ: ১১৭-১২২)
৪. (সূরা-ইউনূস: আয়াত ৮১-৮২)
৫. (সূরা ত্ব-হা: আয়াত ৬৯)
৬. (সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস)
📄 জাদুটোনার চিকিৎসায় সোনামুখীর রস পান
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণিত ওষুধগুলোর মধ্যে সানামুখী রেচক সবচেয়ে উপকারী। জادুটোনায় ব্যবহৃত জিনিসপত্র বা তাবিজ-কবচ যদি রোগীর পেটের মধ্যে থেকে থাকে তাহলে সম্ভব হলে এগুলো দ্রুত রোগীকে বমি করানোর মাধ্যমে বের করে আনতে হবে। আর রোগী যদি বমি করতে না পারে, তাহলে তাকে সানামুখীর রস পান করতে দিতে হবে। জادুটোনায় আক্রান্ত অনেকেই এটা পরীক্ষা করে দেখেছেন এবং আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো উপকার পেয়েছেন।
সানামুখীর গুণাগুণ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একবার তাকে জিজ্ঞেস করলেন: “রেচক ওষুধ হিসেবে তুমি কী ব্যবহার করো?” তিনি বললেন: “শাবরুম।” আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “এটা গরম, গরম” তিনি বললেন: এরপর আমি রেচক হিসেবে সানামুখীর রস ব্যবহার করলাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এ সম্পর্কে বলেন: “মৃত্যু থেকে নিরাময় লাভের জন্য যদি কোনো ওষুধ থাকত, তাহলে তা হত সানামুখী।”
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, “তোমরা যেসব ওষুধ ব্যবহার কর, তার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হলো, যা তোমরা মুখের পাশ দিয়ে লাগাও, নাকের ড্রপ, কাপিং ও রেচক।”
মুখের পাশ দিয়ে ওষুধ লাগানো (লাদুদ): এর মানে হলো হাতের আঙুল দিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করা। আরবি শব্দ লাদুদ এসেছে লাদীদুল ওয়াদি (উপত্যকার পাশ থেকে) বাক্য থেকে। নাকের ড্রপ মানে হলো, যে ওষুধ নাকের মধ্যে লাগানো হয় অথবা যা মুখের ভেতর দিয়ে টেনে নেয়া হয়। আর রেচক ওষুধ প্রয়োগ করা হয় মলত্যাগ স্বাভাবিক করার জন্য。
আসমা বিনতে উমাইস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আল্লাহর রাসূল (সা.) তার গৃহে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি স্পার্জ গাছের পাতা পিঠিয়েছিলেন। তখন এটা দেখে আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন: “ওটা দিয়ে তুমি কী তৈরি করেছ?” তিনি বললেন: এটা আমরা পান করি। রাসূল (সা.) বললেন: “মৃত্যুকে দূরে সরানো বা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য যদি কোন ওষুধ থাকত, তাহলে তা হত সোনামুখী পাতা।” আল হাকিম বলেন: হাদীসটির সনদ সহীহ। আল যাহাবি তার সঙ্গে একমত হয়েছেন।
ইবনে মাজাহ তার সুনানের কিতাবুল তিব্বে (ওষুধ অধ্যায়) বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম বিন আবূ আবাল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ উবাই বিন উম্মে হারামকে বলতে শুনেছি, তিনি আল্লাহর রাসূলের (সা.) সঙ্গে সালাত আদায় করেছিলেন, তারা উভয়েই কিবলামুখী ছিলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন: “তোমরা সোনামুখী পাতা ও মধু ব্যবহার করবে, কারণ এ দুটোতে আল সাম ব্যতীত সব রোগের জন্য নিরাময় রয়েছে।” তখন বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আল সাম কী? তিনি বললেন: ‘আল মাউত’ “মৃত্যু”。
টিকা:
৩৪. আত-তিরমিযী, ৬/২৫৪, ২৬৬। আল আলবানি বলেন: এই হাদীসটি যায়ীফ। যায়ীফুল জামি, হাদীস নং-৪৮০৭।
৩৫. ইমাম আত-তিরমিযী হাদীসটি হাসান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল তিব্ব আল নববী গ্রন্থে আল হাকিম ও আবু নাঈম কর্তৃক হাসান হিসেবে বর্ণিত হয়েছে。
১১. মুসতাদরাক আল হাকিম, ওমর বিন আল খাত্তাব (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে নেয়া।
📄 যেভাবে পানীয় তৈরি করবেন
অসুস্থ ব্যক্তি কিছু সোনাযুখী পাতা সংগ্রহ করে আনবেন এবং এগুলোকে এক লিটার পানি ভর্তি পাত্রে রাখবেন। অতঃপর পাত্রটি উনুনে বসিয়ে আগুনে সেদ্ধ করবেন এবং পরে ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা করবেন। এরপর রোগী এখান থেকে খালি পেটে তিন কাপ পান করবেন। মিষ্টি স্বাদের জন্য এর সঙ্গে মধু মিশ্রিত করা যেতে পারে। এটি পান করার পর রোগী তার অঙ্গে একটি ঢিলেঢালাভাব অনুভব করবেন। পানীয়ের কার্যকারিতা টের পাওয়া যাবে সাত ঘন্টার মধ্যে এবং এর কার্যকারিতা থাকবে বাইশ ঘণ্টা পর্যন্ত। এ সময় পেটে মৃদু ব্যথা হতে পারে, তবে অন্ত্রে কোনো ইনফেকশন হবে না। সোনাযুখীর রসের কার্যকারিতা শুরু হলে অন্ত্র এর সকল দূষিত পদার্থ বের করে দেবে এবং আল্লাহর চাইলে একই সঙ্গে জাদুটোনার সকল তাবিজ-কবচও বের হয়ে যাবে। এটি অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আল্লাহর রহমতে ভালো উপকার পাওয়া গেছে。
ড. আলী আল বার হাদীস অনুসারে সোনাযুখী পাতা ও এর গুণাগুণের উপর একটি নিবন্ধ লিখেছেন এবং এ নিবন্ধে তিনি সোনাযুখী পাতার অনেক ফায়াজ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
সোনাযুখী পাতাকে মল নরম করার রেচক হিসেবে ব্যবহার করা? এবং এটি মোটেও ক্ষতিকর নয়। এটা সরাসরি মলাশয়ে কাজ করে সোনাযুখী উত্তম রেচক, উৎকৃষ্ট মানের ওষুধ, এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শুদ্ধ। এর উপকারি গুণাগুণগুলো হল, বিষণ্ণতা আনয়নকারী চিন্তার বিরুদ্ধে কাজ করে, পা ফাটা, পেশীর প্রসারণ বা টান, চুলের স্ফীতি, উকুন, খোস-পাঁচড়া, ফুসকুড়ি ও শরীরে চুলকানির বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে। জলপাইয়ের তেলের সঙ্গে গরম করে এটি পান করা হয় এবং এটি শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। এছাড়া এটি পিঠের ও কটিদেশের ব্যথার বিরুদ্ধেও কাজ করে। সোনাযুখীর আরেকটি ভালো গুণ হল এটি কালো পাচক রস ও কাশির শ্লেষ্মা বের করে দেয় এবং হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে। দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মাথা ব্যথা এবং মৃগীরোগের ক্ষেত্রেও এটি কাজ করে। এটা হেমোরয়েড দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে এটিকে ব্যবহার করা হয় পায়খানা নরমকারক রেচক হিসেবে। পায়খানা নরমকারক এমন কোনো ওষুধ পাওয়া যাবে না, যাতে উপাদান হিসেবে সোনামুখীর রস নেই। সোনামুখী সর্বোৎকৃষ্ট রেচক এতে কোনো সন্দেহ নেই。
টিকা:
১৭. ড. মুহাম্মাদ আলী আল বার, আল সিনা ওয়াল সানুত
📄 জাদুটোনার জন্য কাপিং (কাঁচপ্রয়োগে চিকিৎসা) থেরাপী
ক্যাপিং বা সিঙ্গা লাগানো হলো নবীদের ﷺ ব্যবহৃত একটি উপকারী চিকিৎসা পদ্ধতি। কবচ করার স্থানে যদি ক্যাপিং করা হয় তাহলে এটা ওই স্থানের সকল দূষিত জিনিস বের করে দেবে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে মন্ত্রের কার্যকারিতা নষ্ট ও বাতিল হয়ে যাবে।
কিন্তু নবীদের ﷺ ব্যবহৃত ও অতি উপকারী চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহার মানুষ এখন ছেড়ে দিয়েছে। ইমাম বুখারী رحمه الله তার সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস رضي الله عنه থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূলকে ﷺ বলেন: “তিনটি জিনিসের মধ্যে তোমাদের জন্য নিরাময় রয়েছে: মধু, ক্যাপিং করার হাতিয়ার ও আগুন দিয়ে ফোঁতরের সংক্রমণ পুড়িয়ে দেয়া, তবে আমি আমার উম্মতের জন্য আগুন দিয়ে শরীরের ক্ষত পোড়ানো নিষিদ্ধ করে দিলাম।” [ফাতহুল বারী ১০/১৪৩]
জাবির বিন আবদুল্লাহ رضي الله عنه থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে ﷺ বলতে শুনেছি: “তোমাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভালো কিছু যদি থেকে থাকে তবে রয়েছে কাপিং করার যন্ত্রে, মধুতে অথবা আগুন দিয়ে ক্ষতের সংক্রমণ পোড়ানোর মধ্যে, তবে আমি আমার উম্মতের জন্য শেষোক্তটি নিষিদ্ধ করলাম।”
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, জাবির বিন আবদুল্লাহর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাথে আল মুকাব্বার (তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন) দেখা হলে তিনি তাকে বললেন: আমি তাকে কাপিং চিকিৎসা না দেওয়ার আগে ছাড়ব না, কারণ আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি, ‘এর মধ্যে নিরাময় রয়েছে’。
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, একবার আনাসকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাপিং চিকিৎসকের পারিশ্রমিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আবূ তাইবা কাপিংয়ের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চিকিৎসা করেছেন এবং বিনিময়ে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দুই সা’ গম অথবা যব দিয়েছেন। আর আবূ তাইবার মনিবের সঙ্গেও কথা বলেছেন যেন তারা তার প্রতি সদয় হন। এবং তিনি বলেন: “‘তোমরা যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার কর তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো কাপিং ও সামুদ্রিক কস্টাস’।” রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেন: “‘টনসিলের চিকিৎসা করার জন্য তোমরা তোমাদের সন্তানদের টনসিল চেপে নির্যাতন কর না, বরং তোমরা এর জন্য কস্টাস ব্যবহার কর’。”
গারীবুল হাদীস গ্রন্থে আবূ উবায়েদ আবদুর রহমান বিন আবূ লায়লা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জادুটোনা দ্বারা আক্রান্ত হলেন, তখন কাপিংয়ের মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা করা হয়েছিল। ওই সময় তাদের অনেকে বলেছিলেন, যেসব জিনিস দিয়ে জادুটোনা করা হয়েছে সেগুলো তাঁর মাথা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। শয়তানের আত্মার প্রভাব দিয়ে জادুটোনা করা হয় এবং এর কিছু প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একে বলা হয় সিহ্র ও মামরিজাত, আর প্রভাবই সবচেয়ে খারাপ। ক্যাপینگ যদি কবচ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সঠিকভাবে করা যায় তাহলে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করবে。
ইবনে আল কাইয়্যুম (রহ.) বলেন, ক্ষতিকারক জادুটোনার প্রভাবে এতে ব্যবহৃত জিনিস যেখানে পৌঁছেছে সেখান থেকে বের করতে হবে। কারণ জادুটোনা শরীরের ওপর বেশ প্রভাব ফেলে মন মেজাজ উত্তেজিত করে তোলে এবং মানসিক মেজাজকে বিরক্ত করে। জادুটোনার প্রভাব যদি শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে প্রকট আকার ধারণ করে এক্ষেত্রে জادুটোনার ব্যবহৃত পদার্থগুলো বের করতে পারলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যাবে。
মেডিসিন সম্পর্কে যাদের জানাশোনা রয়েছে তারা বলেন: কাঁধে ও ঘাড়ে ব্যথার জন্য ঘাড়ে ওপর ক্যাপিং করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। মাথা ও মুখমণ্ডলের সমস্যা যেমন: নাক, কান, গলা ও চোখের সমস্যার ক্ষেত্রে ঘাড়ের মোটা শিরার ওপর ক্যাপিং করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। উরু ও পায়ের তলে যা হলো, ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা (ঋতুস্রাব না হওয়া) ও অঙ্গকোষে চুলকানি হলে সেক্ষেত্রে পায়ের ওপরে ক্যাপিং করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। আর বুকের নিচের দিকে ক্যাপিং করলে তা ফোঁড়া, খোস-পাঁচড়া, ফুসকুড়ি, গেঁটে বাত, হেমোরয়েড, গোদ রোগের জন্য বেশ উপকারি হয়। হাদীসে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূলকেও (সা.) তাঁর ঘাড়ের মোটা শিরায় ও দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে ক্যাপিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়েছিল। তীব্র মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের জন্য ক্যাপিং বেশ উপকারি ও ফলপ্রসূ চিকিৎসা। ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে এ ক্যাপিংয়ের ওপর একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এ শিরোনামে ‘মাইগ্রেন ও মাথাব্যথার জন্য ক্যাপিংয়ের অধ্যায়।’ ইবনে হাজার মাইগ্রেন হওয়ার কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং এ চিকিৎসায় ক্যাপিংয়ের ভূমিকাও উল্লেখ করেছেন。
মাথায় কাপিংয়ের উপকারিতা সম্পর্কে আরেকটি জয়ীফ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, হাদীসটি ইবনে আদি বর্ণনা করেছেন ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে, হাদীসে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন: “সাতটি রোগের জন্য মাথায় কাপিং উপকার: পাগলরোগ, কুষ্ঠরোগ, আলস্য, মাথাব্যথা, দাঁতে ব্যথা ও কু-নজর।” হাদীসটি দুর্বল হলেও বিভিন্ন অভিজ্ঞতা দিয়ে একে সমর্থন করা হয়েছে。
টিকা:
৯. ফাতহুল বারী, ১০/১৫৯
৯৯. ফাতহুল বারী, ১০/১৫৯
১০০. যাদুল মা’আদ, ৪/১২৫, ১২৬
১০১. আত-তিরমিযি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ হাদিসটিকে হাসান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল হাকিম একে সহীহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন。
১০২. ফাতহুল বারি, ১০/১৬২-১৬৩।