📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জাদুটোনা সম্পর্কিত কার্যকর তথ্য

📄 জাদুটোনা সম্পর্কিত কার্যকর তথ্য


জادুটোনার চিকিৎসা ও প্রতিকারের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো শরীয়াহ্ নির্দেশিত পদ্ধতি। কারণ চিকিৎসার জন্য কোনো ভিকটিমকে জادুকরের কাছে পাঠানোর মানে হতে পারে তার সঙ্গে জিনদের দু' গ্রুপের ডাকার বা সেবক জিনকে কিছু সময়ের জন্য বিতাড়িত করার ব্যাপারে সমঝোতায় আসতে পারে, কিন্তু এ সময়ের পর ওই সেবক জিন আবার ফিরে আসবে এবং সে তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে। কিন্তু এর বিপরীতে কুরআন নির্দেশিত পন্থায় করা চিকিৎসাকে জিন অথবা জادুকর কেউই প্রতিরোধ করতে পারবে না। “আমি যদি এ কুরআনকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তুমি আল্লাহর ভয়ে তাকে বিনীত ও বিদীর্ণ দেখতে।” (আল হাশর ৫৯:২১)

জادুটোনার প্রভাব সীমিত সময়ের জন্য, কবচ নষ্ট হয়ে গেলে কিছু সময় পরেই আর এর কোনো কার্যকারিতা থাকে না। এ কারণেই কিছু জادুকর তাদের মন্ত্রের ফলোআপ করে এবং সময়ে সময়ে এসব কবচ নবায়ন করে।

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য একটি কর্মসূচি অনুসরণ করা এবং নিয়মিত সকাল সন্ধ্যায় আযকার তেলাওয়াতের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, আর যেসব আযকার তেলাওয়াত করতে হবে তারও একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে এ বইয়ে। এসব সুবিধা হলো—

১- জادুকর ও জিন্নের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর ফিরে আসার পথ বিচ্ছিন্ন করা, যা সেনাবাহিনী পরিভাষায় সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হিসেবে পরিচিত।
২- সেবক জিনকে হত্যা করে অথবা তাকে পালাতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাকে দুর্বল করে দেওয়া。
৩- জادুকর যদি তার কবচ নবায়ন করতে ইচ্ছুক হয়, সেক্ষেত্রে তার এ মিশন পরিচালনায় অনেক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

জادুটোনার প্রতিটি কাজের জন্য দরকার একজন জادুকর, একজন ভিকটিম, একটি কবচ, জادুটোনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জিনিসপত্র এবং ভিকটিম ও জادুকরের মাঝে কাজ করার জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী।

অনেক সময় জادুকর তার সেবক জিন্নের জিহ্বা বেঁধে দেয়, যার ফলে ভিকটিম কথা বলতে পারে না। অতি সম্প্রতি এ ধরনের একটি ঘটনায় এক মহিলার কথা ছয় মাস বন্ধ ছিল।
তিনি একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আর এ চিকিৎসার পরিসমাপ্তি ঘটে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদের মাধ্যমে। জادুকর তাকে সুস্থ করে তুলতে ব্যর্থ হয়, অবশেষে কুরআনের আলোকে তার চিকিৎসা করা হয়。

• জিনদের মধ্যে ও কিছু জادুকর রয়েছে
• জادুকর একটি জিনকেও জادুটোনা করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাকে ভিকটিমের কাছে পাঠায়, এক্ষেত্রে ভিকটিমের ওপর করা জادুটোনা অনেক জটিল হয়।

জادুটোনার চিকিৎসা ও প্রতিকারের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো শরীয়াহ্ নির্দেশিত পদ্ধতি। কারণ চিকিৎসার জন্য কোনো ভিকটিমকে জادুকরের কাছে পাঠানোর মানে হতে পারে তার সঙ্গে জিনদের দু' গ্রুপের ডাকার বা সেবক জিনকে কিছু সময়ের জন্য বিতাড়িত করার ব্যাপারে সমঝোতায় আসতে পারে, কিন্তু এ সময়ের পর ওই সেবক জিন আবার ফিরে আসবে এবং সে তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে। কিন্তু এর বিপরীতে কুরআন নির্দেশিত পন্থায় করা চিকিৎসাকে জিন অথবা জادুকর কেউই প্রতিরোধ করতে পারবে না। “আমি যদি এ কুরআনকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তুমি আল্লাহর ভয়ে তাকে বিনীত ও বিদীর্ণ দেখতে।” (আল হাশর ৫৯:২১)

জادুটোনার প্রভাব সীমিত সময়ের জন্য, কবচ নষ্ট হয়ে গেলে কিছু সময় পরেই আর এর কোনো কার্যকারিতা থাকে না। এ কারণেই কিছু জادুকর তাদের মন্ত্রের ফলোআপ করে এবং সময়ে সময়ে এসব কবচ নবায়ন করে।

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য একটি কর্মসূচি অনুসরণ করা এবং নিয়মিত সকাল সন্ধ্যায় আযকার তেলাওয়াতের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, আর যেসব আযকার তেলাওয়াত করতে হবে তারও একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে এ বইয়ে। এসব সুবিধা হলো—

১- জادুকর ও জিন্নের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর ফিরে আসার পথ বিচ্ছিন্ন করা, যা সেনাবাহিনী পরিভাষায় সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হিসেবে পরিচিত।
২- সেবক জিনকে হত্যা করে অথবা তাকে পালাতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাকে দুর্বল করে দেওয়া。
৩- জادুকর যদি তার কবচ নবায়ন করতে ইচ্ছুক হয়, সেক্ষেত্রে তার এ মিশন পরিচালনায় অনেক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

জادুটোনার প্রতিটি কাজের জন্য দরকার একজন জادুকর, একজন ভিকটিম, একটি কবচ, জادুটোনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জিনিসপত্র এবং ভিকটিম ও জادুকরের মাঝে কাজ করার জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী।

অনেক সময় জادুকর তার সেবক জিন্নের জিহ্বা বেঁধে দেয়, যার ফলে ভিকটিম কথা বলতে পারে না। অতি সম্প্রতি এ ধরনের একটি ঘটনায় এক মহিলার কথা ছয় মাস বন্ধ ছিল।
তিনি একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আর এ চিকিৎসার পরিসমাপ্তি ঘটে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদের মাধ্যমে। জادুকর তাকে সুস্থ করে তুলতে ব্যর্থ হয়, অবশেষে কুরআনের আলোকে তার চিকিৎসা করা হয়。

• জিনদের মধ্যে ও কিছু জادুকর রয়েছে
• জادুকর একটি জিনকেও জادুটোনা করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাকে ভিকটিমের কাছে পাঠায়, এক্ষেত্রে ভিকটিমের ওপর করা জادুটোনা অনেক জটিল হয়।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 নিম্নোক্ত প্রাকটিশনারদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন

📄 নিম্নোক্ত প্রাকটিশনারদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন


অনেক জادুকর মানুষকে মিথ্যা ধারণা দেন, যেমন: রোগীকে কুরআন নির্দেশিত পন্থায় চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। তাদের এ চুরি ও প্রতারণাকে আড়াল করার জন্য তারা শ্রবণযোগ্য স্বরে কুরআনের কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করেন অথবা কোথাও আয়াত লিখে দেখান। আমি এরকম একটি আশ্চর্যজনক লেখা পড়েছি, জادুকরদের সর্দার এটা লিখেছিল। তার নাম আবুল ফাতাহ আল তুথি। তার লেখা ‘তাসখীরুল শায়তান ফি উইসাল আশিকান’ (ভালোবাসা তৈরিতে শয়তানের ব্যবহার) নামক একটি বইয়ের সূচনায় তিনি বলেন: “তিনি আশা করেন আল্লাহ তাকে সফলতা ও সমৃদ্ধি দান করবেন—আল তুথি আল ফালকি আবুল ফাতাহ বিন আল সাইয়িদ মুহাম্মাদ আবদু (আল্লাহ তাকে ও তার কাছে যারা আসেন তাদের সবাইকে ক্ষমা করুন) বলেন: এটি খুবই মূল্যবান একটি বই, আমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জেনারেশনের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বইটি রচনা করেছি এবং আমি এর নামকরণ করেছি ‘তাসখীরুল শায়তান ফি উইসাল আশিকান’ (ভালোবাসা তৈরিতে শয়তানের ব্যবহার)।” আল্লাহর কাছে সফলতা ও সমৃদ্ধির জন্য এ খারেজি বা বিপথগামী সাহায্য প্রার্থনা করার পর তিনি মানুষকে শেখানোর চেষ্টা করেন যে, কুমারী নারীর হৃদয়ে ভালোবাসা তৈরির জন্য অভিশপ্ত শয়তান ইবলিসের কাছে কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়, কীভাবে আল্লাহর বাণীর প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা যায়, এমনকি তার এ কুফরি ও বিপথগামিতা এতটা মাত্রায় পৌঁছেছে যে, তিনি মানুষকে শেখাচ্ছেন যৌন মিলনকালে যোনিতে কীভাবে কুরআনের আয়াত লিখতে হয়। (নাউযুবিল্লাহ)

আল্লাহ তা’আলা অবশ্য এ সংক্রান্ত সত্য প্রকাশ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন: “ফেরেশতাদ্বয় কাকে ও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরি কর না,” (আল বাকারা ২:১০২)

টিকা:
৬৮. ড. ইবরাহিম কামাল আযম, আল সিহর ওয়াল সাহারা থেকে উদ্ধৃত

অনেক জادুকর মানুষকে মিথ্যা ধারণা দেন, যেমন: রোগীকে কুরআন নির্দেশিত পন্থায় চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। তাদের এ চুরি ও প্রতারণাকে আড়াল করার জন্য তারা শ্রবণযোগ্য স্বরে কুরআনের কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করেন অথবা কোথাও আয়াত লিখে দেখান। আমি এরকম একটি আশ্চর্যজনক লেখা পড়েছি, জادুকরদের সর্দার এটা লিখেছিল। তার নাম আবুল ফাতাহ আল তুথি। তার লেখা ‘তাসখীরুল শায়তান ফি উইসাল আশিকান’ (ভালোবাসা তৈরিতে শয়তানের ব্যবহার) নামক একটি বইয়ের সূচনায় তিনি বলেন: “তিনি আশা করেন আল্লাহ তাকে সফলতা ও সমৃদ্ধি দান করবেন—আল তুথি আল ফালকি আবুল ফাতাহ বিন আল সাইয়িদ মুহাম্মাদ আবদু (আল্লাহ তাকে ও তার কাছে যারা আসেন তাদের সবাইকে ক্ষমা করুন) বলেন: এটি খুবই মূল্যবান একটি বই, আমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জেনারেশনের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বইটি রচনা করেছি এবং আমি এর নামকরণ করেছি ‘তাসখীরুল শায়তান ফি উইসাল আশিকান’ (ভালোবাসা তৈরিতে শয়তানের ব্যবহার)।” আল্লাহর কাছে সফলতা ও সমৃদ্ধির জন্য এ খারেজি বা বিপথগামী সাহায্য প্রার্থনা করার পর তিনি মানুষকে শেখানোর চেষ্টা করেন যে, কুমারী নারীর হৃদয়ে ভালোবাসা তৈরির জন্য অভিশপ্ত শয়তান ইবলিসের কাছে কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়, কীভাবে আল্লাহর বাণীর প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা যায়, এমনকি তার এ কুফরি ও বিপথগামিতা এতটা মাত্রায় পৌঁছেছে যে, তিনি মানুষকে শেখাচ্ছেন যৌন মিলনকালে যোনিতে কীভাবে কুরআনের আয়াত লিখতে হয়। (নাউযুবিল্লাহ)

আল্লাহ তা’আলা অবশ্য এ সংক্রান্ত সত্য প্রকাশ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন: “ফেরেশতাদ্বয় কাকে ও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরি কর না,” (আল বাকারা ২:১০২)

টিকা:
৬৮. ড. ইবরাহিম কামাল আযম, আল সিহর ওয়াল সাহারা থেকে উদ্ধৃত

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 যেসব লক্ষণ দিয়ে জাদুকরকে চেনা যায়

📄 যেসব লক্ষণ দিয়ে জাদুকরকে চেনা যায়


১- সে কারো নাম ও মায়ের নাম জানতে চাইবে।
২- সে একটি প্রাণী অথবা পাখি যবেহ করতে বলবে, এ প্রাণীর বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য থাকুক বা না থাকুক অথবা এ প্রাণীর রক্ত শরীরে মালিশ করা হোক বা না হোক।
৩- সে রোগীকে একটি নির্দিষ্ট সময়কাল ধরে নির্দিষ্ট ধরনের খাবার অথবা পানীয় পান করার নির্দেশ দেবে এবং এ সময়কালে তাকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকার কক্ষে বসবাস করতে বলবে।
৪- সে রোগীকে কিছু কাগজ দেবে পোড়ানোর জন্য এবং তাকে এ কাগজ পোড়ানোর ধোঁয়ার গন্ধ শুঁকতে বলবে অথবা একে কোথাও ঝুলিয়ে অথবা পুঁতে রাখার পরামর্শ দেবে।
৫- যারা নামের অক্ষর বা সংখ্যা লেখে অথবা আল্লাহর বাণী সম্বলিত কাগজ ছিঁড়ে ফেলেন তারা প্রত্যেকেই জাদুকর।
৬- যারা দুর্বোধ্য সব শব্দ উচ্চারণ করে অথবা আরবী ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় মন্ত্র উচ্চারণ করে, তারা প্রত্যেকেই জাদুকর。

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জাদুকরের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা

📄 জাদুকরের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা


আমরা বুঝতে পারলাম যে, জাদুকররা কাফির এবং ইসলামে তাদের জন্য শাস্তির বিধান হলো তলোয়ার দিয়ে শিরচ্ছেদ। ইসলাম মুসলিমদেরকে জادুকরের কাছে যেতে নিষেধ করেছে, আমরা এখন এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করব। হাসান সনদে আল বায়ান থেকে বর্ণিত হয়েছে, ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যারা পাখির সংকেতকে শুভ অথবা অশুভ হিসেবে মেনে চলে, অথবা যারা ভবিষ্যৎ বলে অথবা নিজের ভবিষ্যৎ কাউকে দিয়ে বলায়, যারা জادুটোনা করে অথবা নিজের জন্য জادুটোনা করায়। যে ব্যক্তি জادুকরের কাছে যায় এবং তার কথা বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মাদের (ﷺ) কাছে অবতীর্ণ হওয়া আল্লাহর কিতাবকে অস্বীকার করে।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “তোমরা সাতটি পাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখ, যা মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে।” তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেই গুনাহগুলো কী কী? তিনি বললেন: “আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার করা, জادুটোনা করা, ইসলামী শারীয়াহ দ্বারা অনুমোদিত হওয়া ব্যতীত এমন আত্মাকে হত্যা করা যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন, সুদ খাওয়া, এতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা এবং নির্দোষ মু’মিন নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।”

এবং তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি ভবিষ্যতবক্তার শরণাপন্ন হবে এবং এবং তার কথা বিশ্বাস করবে, মুহাম্মাদের (ﷺ) প্রতি অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাব দ্বারা তার আর কিছু করার থাকবে না, অর্থাৎ এর মাধ্যমে সে কুরআনকেই অস্বীকার করবে। আর যে ব্যক্তি জادুকরের কাছে যাবে, কিন্তু তার কথা বিশ্বাস করবে না, তার চল্লিশ দিনের ইবাদাত কবুল হবে না।”

অনেকে বলতে পারেন: আমি তো কারো কোনো ক্ষতি করার জন্য জادুকরের কাছে যাই না, আমি যাই আমার ওপর যে জادুটোনা করা হয়েছে তা নিরাময়ের জন্য। আমরা তাদেরকে বলব: আপনাদের অবস্থা ওই ব্যক্তির মতো, যে নিজেকে আগুনে নিক্ষেপ করে মরুভূমির তাপদাহ থেকে বাঁচার প্রার্থনা করে।

অনেক সময় জিনরাও জادুকরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে এবং তাকে এমন অসুস্থ বানিয়ে দেয়, যার জন্য কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না. জিন ও শয়তান মিলে অনেক সময় জادুকরকে চরম বিপদে ফেলে দেয় এবং তাকে কোনো সাহায্য করে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন: “শয়তান মানুষের প্রতি বিশ্বাসঘাতক।” (সূরা আল ফুরকান ২৫:২৯)

জিনরা অনেক সময় জادুকরকে তার কাছে চিকিৎসার জন্য আসা নারীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করতে বলে অথবা ওই নারীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে রক্ত দিয়ে লেখাতে বলে। জادুটোনা অনেক সময় ঈপ্সিত ফলাফলের বিপরীত ফল এনে দেয়। তাই দেখা যায় অনেকে জادুটোনা করান নিজের উপকারের জন্য, কিন্তু এর পরিসমাপ্তি ঘটে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, সে নিজেই এ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যায়। অনেক নারী তাদের স্বামীদের ওপর জادুটোনা করান, যাতে স্বামীরা তাদেরকে ভালোবাসেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ না করেন, কিন্তু জادুটোনার ফল হয় বিপরীত, দেখা যায় জادুটোনার প্রভাবে স্বামী তাকে ভালোবাসার পরিবর্তে তালাক দিয়ে দেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “কু-চক্রও তাকেই ঘিরে ধরবে যে তা করবে।” (সূরা ফাতির ৩৫:৪৩)

অনেক সুস্থ সবল নারী-পুরুষও জادুকরের কাছে যান, আর তখন জادুকর জিনকে দিয়ে তাদের মাঝে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে, যাতে করে এর মাধ্যমে সে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে।

জিন ও শয়তানের দাবি থাকে অনেক এবং তাদের এসব দাবি মানুষকে নিঃশেষ করে দেয়। অনেক সময় তারা একটি নির্দিষ্ট প্রাণী উৎসর্গ করার দাবি করে, পোষা মোরগ অথবা কবুতর জবেহ করতে বলে, আবার এ জবহের ক্ষেত্রে থাকে কঠিন কিছু শর্ত, এ প্রাণীর রক্ত রোগীর দেহে মালিশ করতে বলা হয়। অথবা তারা অসুস্থ রোগীকে এমন এক নির্জন কক্ষে জনবিচ্ছিন্ন করে রাখার দাবি করে, যেখানে চল্লিশ দিনেও সূর্যের আলো প্রবেশ করবে না অথবা নির্দিষ্ট একটি সময় ধরে রোগীকে পানি স্পর্শ না করার পরামর্শ দেয়, এভাবে তাদের চাহিদার কোনো শেষ নেই। প্রত্যেক অঞ্চলে জিন তার নিজস্ব দাবি তুলে ধরে, ওই দাবি ওই এলাকায় অদ্বিতীয়। মিশরে আবু হাশিমাহ নামে একটি পরিত্যক্ত কূপ রয়েছে, জادুকররা বন্ধ্যা নারীদেরকে জুমআর দিন মাগরিবের পরে এখানে গোসল করার জন্য পাঠায়। এ পরিত্যক্ত কূপে অনেক জিন রয়েছে, যারা নারীদের গোসল করার দৃশ্য উপভোগ করে। এক্ষেত্রে কোনো জিন কোনো নারীর দ্বারা আকৃষ্ট হতে পারে এবং তার সঙ্গে यौन মিলনও করতে পারে। যে দরিদ্র লোকটি তার স্ত্রীকে বন্ধ্যাত্ব থেকে নিরাময়ের জন্য এ কূপে নিয়ে আসেন, তিনি আসলে ভুলে যান যে, প্রজনন ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই নিয়ন্ত্রণ করেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “যাকে চান কন্যা-সন্তান দেন, যাকে চান পুত্র সন্তান দেন। অথবা তাদেরকে দেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই। আর যাকে ইচ্ছে বন্ধ্যা করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বাধিক অবহিত ও ক্ষমতাবান。” (সূরা আল-শুরা ৪২:৪৯-৫০) শয়তান ও জিনের চাহিদা সীমাহীন। আল্লাহ তা'আলা এ প্রসঙ্গে বলেন: “আরো এ যে, কতক মানুষ কতক জিনের আশ্রয় নিত, এর দ্বারা তারা জিনদের গর্ব অহঙ্কার বাড়িয়ে দিয়েছে।” (সূরা জিন ৭২:৬) শায়খ হাফিজ আল হুকামি (রহ.) বলেন: জادুটোনা করে জাদুর ক্রিয়া নষ্ট করাও হারাম, কারণ এটা জادুটোনাকে সমর্থন ও সহায়তা করার শামিল, এবং ভিকটিমের ওপর থেকে শয়তানের কার্যকারিতা নষ্ট করার জন্য এভাবেই মানুষ শয়তানের আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। এ কারণেই আল হাসান বলেন: জادুকর ছাড়া আর কেউই জادুটোনাকে সমর্থন করেন না。

টিকা:
৬৬. ফাতহুল বারি, ৫/৩০. মুসলিম-১/১২২।
৬৭. আল তাবারানি, আল বাজার থেকে জায়িদ সনদে

ফন্ট সাইজ
15px
17px