📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জাদুকর যেভাবে জাদুটোনা করেন

📄 জাদুকর যেভাবে জাদুটোনা করেন


জাদুকর যার ওপর জادুটোনা করানো হবে তার ও তার মায়ের নাম জিজ্ঞেস করেন এবং তার পরিচয় কাপড়, মাথার চুল অথবা তার ছবি নিয়ে আসতে বলেন।

কিন্তু জادুকর পিতার নামের স্থলে মায়ের নাম জিজ্ঞেস করেন কেন? এর কারণ হলো, ওই জادুকর এবং তার সঙ্গে থাকা জিন হলো কাফির, তারা সকল ধর্ম ও ঐশী নিয়ম-কানুন অস্বীকার করেন এবং এগুলো নিয়ে উপহাস করেন। তাই তারা বিধিসম্মত বৈবাহিক যুক্তিও স্বীকার করেন না। জادুকরের মতে, তার কাছে যারা আসেন তারা প্রত্যেকেই অবৈধ এবং যিনার মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছেন—যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। এরপর জادুকর উভয়ের নামের অক্ষর গণনা করেন। যদি তিনি মনে করেন, তার নাম মাটির (আল-তীন) কাছাকাছি, তাহলে তিনি তার জাদুমন্ত্র মাটিতে পুঁতে দেন, আর নাম যদি হয় পানির (আল-মা') কাছাকাছি, তাহলে তিনি তার মন্ত্র পানিতে ডুবিয়ে দেন—যেমন কূপে ফেলে দেয়া। যেভাবে ইহুদি লাবিদ বিন আয়াম আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) জادুটোনা করার সময় করেছিলেন। লাবিদ যখন মুহাম্মাদের (ﷺ) নামের অক্ষর গণনা করে পেল যে, মুহাম্মাদের ও তার মায়ের নাম আমিনায় আলিফ ও মীম বর্ণের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং ওটা পানির (আল-মা') কাছাকাছি, তাই সে তার জাদুমন্ত্র যারওয়ান নামক কূপে ফেলে দিল।

নাম পানির কাছাকাছি হলে জادুকর তার কবচ কূপে অথবা সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়। আর নাম যদি বাতাসের কাছাকাছি হয় তাহলে তারা এ কবচ কোনো গাছে অথবা খেজুর বৃক্ষে অথবা উঁচু দেয়ালে ঝুলিয়ে দেয়। এর পর সে জিনের প্রতি উৎসর্গস্বরূপ ধূপ জ্বালায়, কারণ জিনেরা তাদের উপর উৎসর্গকৃত ধূপ খেয়ে থাকে। ধূপ जलानेর পাশাপাশি জادুকর জিনদের নেতাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে কুফরি ও শিরক্ যুক্ত কালাম পাঠ করে। প্রত্যেক জাদুর জন্য আলাদা আলাদা ধূপ রয়েছে। এরপর জادুকর তার মন্ত্র বা কবচ লেখা শুরু করে, এটা অনেকটা জিনদের নেতাদের প্রতি দাসত্ব প্রকাশ করে এবং জিনদের নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং আল্লাহর বাণীর প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে লেখা চিঠির মতো। এরপর জিনেরা জادুকরের কাছে তাদের শর্তাবলী তুলে ধরে, আর জادুকর এ শর্তাবলী তার কাছে তাবিজ-কবচ নিতে আসা রোগীর ওপর চাপিয়ে দেয়, রোগীকে ঘর চক্রে অংশ নিতে বলা হয়, শর্তানুসারে একটি নির্দিষ্ট প্রাণী জবেহ করা, নির্দিষ্ট ধরনের খাবার খাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে কোনো অন্ধকার রুমে নির্জনবাস করার আদেশ দেয়া হয়। আর এ মন্ত্র বা কবচ যদি পড়ানো হয়, অথবা নষ্ট বা বাতিল হয়ে যায় তাহলে ভিকটিমের জন্য বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। এজন্য অনেক জادুকর তাদের তাবিজ রক্ষার্থে তামার কৌটার ভেতরে তাবিজ রেখে সীসা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। এ পদ্ধতিকে অনেক সাধারণ মানুষ হিজাব বলে। এরপর জادুকর জিনকে ডাকে ভিকটিমের বিরুদ্ধে তার মিশন পরিচালনা করার জন্য। এ মিশন হলো ভিকটিমকে অসুস্থ করে দেয়া, তার মধ্যে দৃষ্টিবিভ্রম সৃষ্টি করা এবং তার ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ তৈরি করা。

এ জিনকে বলা হয় জادুকর সেবক। এ সেবক জিন আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মালামাল, কাপড়ের ঘ্রাণ শুঁকে ও তার ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করে। এরপর সে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে থাকে এবং তার বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে। অনুসন্ধানে যদি সে বুঝতে পারে যে, আক্রান্ত ব্যক্তি সবসময় আল্লাহর আদেশের প্রতি অবিচল থাকে না, তখন তার মিশন সহজ হয়ে যায়; তখন জিন ওই ব্যক্তির ওপর আছর করে অথবা তার মধ্যে দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করে ভয়ংকর কিছু দেখিয়ে তাকে নিদারুণ যন্ত্রণা ও বিষণ্ণতায় ফেলে দেয়। কিন্তু জিন যদি দেখে যে, তার আক্রান্ত ব্যক্তি সবসময় আল্লাহর আদেশের প্রতি অবিচল থাকে এবং ভিকটিম অনেক আল্লাহভীরু, তখন জিন তাকে ভয় পায় এবং তাকে অনুসরণ করতে থাকে, যখনই ভিকটিম একটু আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয় অথবা খুব রাগান্বিত হয়ে যায় সেই মুহূর্তটা জিন কাজে লাগায়। এ সুযোগে সে ভিকটিমের ওপর আঘাত করে বসে।

এরপর জادুকর তার ও সেবক জিনের মধ্যবর্তী একজনের সহায়তায় তার জادুটোনা চালিয়ে যেতে থাকে, এ মধ্যস্থতাকারী দৈনিক ফলাফলের খবর এনে দেয় এবং জادুকরের নির্দেশাবলী সেবক জিনের কাছে পৌঁছে দেয়।

ভিকটিম যদি হয় আল্লাহভীরু ও ধার্মিক এবং দৈনিক যদি বিরদ ও যিকির পাঠ করেন, তাহলে জادুকরের সেবক জিন তাকে ভয় পায় এবং ভিকটিমের এ খোদাভীরু জিনকে নিঃশেষ করে দেয়, যাতে করে জادুটোনা তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে। মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি যদি এ চাকার জিনকে ধৈর্য ধারণের পরামর্শ না দিত এবং শয়তানের পক্ষ থেকে পুরস্কারের লোভ না দেখাত অথবা তাকে হত্যা করার হুমকি না দিত, তাহলে এ জিন পালিয়ে যেত। কিন্তু ভিকটিমের ঈমান যদি হয় দুর্বল, আল্লাহর সঙ্গে যদি সত্যিকারের কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এটিই তার জন্য সমস্যা হয়ে যায়, কারণ এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জادুকর তার দেহের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়, যার প্রতিফলন ভিকটিমের জীবনে দেখা যায় এবং এ জادুটোনার সঙ্গে সে এমন দুঃসাহসিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে যার কোনো শেষ নাও থাকতে পারে এবং তার এ সমস্যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এখানে আমরা দু' ধরনের মন্ত্র বা কবচের সঙ্গে পরিচিত হব; একধরনের কবচ অসুস্থ রোগীর দেহের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে অথবা সুগন্ধির মাধ্যমে অথবা রোগীর সঙ্গে করমর্দন করার মাধ্যমে; আরেক ধরনের কবচ রাখা হয় বাইরে, হয়তো কোথাও পুঁতে রাখা হয় অথবা কোনো গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

জাদুকর যার ওপর জادুটোনা করানো হবে তার ও তার মায়ের নাম জিজ্ঞেস করেন এবং তার পরিচয় কাপড়, মাথার চুল অথবা তার ছবি নিয়ে আসতে বলেন।

কিন্তু জادুকর পিতার নামের স্থলে মায়ের নাম জিজ্ঞেস করেন কেন? এর কারণ হলো, ওই জادুকর এবং তার সঙ্গে থাকা জিন হলো কাফির, তারা সকল ধর্ম ও ঐশী নিয়ম-কানুন অস্বীকার করেন এবং এগুলো নিয়ে উপহাস করেন। তাই তারা বিধিসম্মত বৈবাহিক যুক্তিও স্বীকার করেন না। জادুকরের মতে, তার কাছে যারা আসেন তারা প্রত্যেকেই অবৈধ এবং যিনার মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছেন—যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। এরপর জادুকর উভয়ের নামের অক্ষর গণনা করেন। যদি তিনি মনে করেন, তার নাম মাটির (আল-তীন) কাছাকাছি, তাহলে তিনি তার জাদুমন্ত্র মাটিতে পুঁতে দেন, আর নাম যদি হয় পানির (আল-মা') কাছাকাছি, তাহলে তিনি তার মন্ত্র পানিতে ডুবিয়ে দেন—যেমন কূপে ফেলে দেয়া। যেভাবে ইহুদি লাবিদ বিন আয়াম আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) জادুটোনা করার সময় করেছিলেন। লাবিদ যখন মুহাম্মাদের (ﷺ) নামের অক্ষর গণনা করে পেল যে, মুহাম্মাদের ও তার মায়ের নাম আমিনায় আলিফ ও মীম বর্ণের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং ওটা পানির (আল-মা') কাছাকাছি, তাই সে তার জাদুমন্ত্র যারওয়ান নামক কূপে ফেলে দিল।

নাম পানির কাছাকাছি হলে জادুকর তার কবচ কূপে অথবা সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়। আর নাম যদি বাতাসের কাছাকাছি হয় তাহলে তারা এ কবচ কোনো গাছে অথবা খেজুর বৃক্ষে অথবা উঁচু দেয়ালে ঝুলিয়ে দেয়। এর পর সে জিনের প্রতি উৎসর্গস্বরূপ ধূপ জ্বালায়, কারণ জিনেরা তাদের উপর উৎসর্গকৃত ধূপ খেয়ে থাকে। ধূপ जलानेর পাশাপাশি জادুকর জিনদের নেতাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে কুফরি ও শিরক্ যুক্ত কালাম পাঠ করে। প্রত্যেক জাদুর জন্য আলাদা আলাদা ধূপ রয়েছে। এরপর জادুকর তার মন্ত্র বা কবচ লেখা শুরু করে, এটা অনেকটা জিনদের নেতাদের প্রতি দাসত্ব প্রকাশ করে এবং জিনদের নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং আল্লাহর বাণীর প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে লেখা চিঠির মতো। এরপর জিনেরা জادুকরের কাছে তাদের শর্তাবলী তুলে ধরে, আর জادুকর এ শর্তাবলী তার কাছে তাবিজ-কবচ নিতে আসা রোগীর ওপর চাপিয়ে দেয়, রোগীকে ঘর চক্রে অংশ নিতে বলা হয়, শর্তানুসারে একটি নির্দিষ্ট প্রাণী জবেহ করা, নির্দিষ্ট ধরনের খাবার খাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় ধরে কোনো অন্ধকার রুমে নির্জনবাস করার আদেশ দেয়া হয়। আর এ মন্ত্র বা কবচ যদি পড়ানো হয়, অথবা নষ্ট বা বাতিল হয়ে যায় তাহলে ভিকটিমের জন্য বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। এজন্য অনেক জادুকর তাদের তাবিজ রক্ষার্থে তামার কৌটার ভেতরে তাবিজ রেখে সীসা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। এ পদ্ধতিকে অনেক সাধারণ মানুষ হিজাব বলে। এরপর জادুকর জিনকে ডাকে ভিকটিমের বিরুদ্ধে তার মিশন পরিচালনা করার জন্য। এ মিশন হলো ভিকটিমকে অসুস্থ করে দেয়া, তার মধ্যে দৃষ্টিবিভ্রম সৃষ্টি করা এবং তার ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ তৈরি করা。

এ জিনকে বলা হয় জادুকর সেবক। এ সেবক জিন আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মালামাল, কাপড়ের ঘ্রাণ শুঁকে ও তার ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করে। এরপর সে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে থাকে এবং তার বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে। অনুসন্ধানে যদি সে বুঝতে পারে যে, আক্রান্ত ব্যক্তি সবসময় আল্লাহর আদেশের প্রতি অবিচল থাকে না, তখন তার মিশন সহজ হয়ে যায়; তখন জিন ওই ব্যক্তির ওপর আছর করে অথবা তার মধ্যে দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করে ভয়ংকর কিছু দেখিয়ে তাকে নিদারুণ যন্ত্রণা ও বিষণ্ণতায় ফেলে দেয়। কিন্তু জিন যদি দেখে যে, তার আক্রান্ত ব্যক্তি সবসময় আল্লাহর আদেশের প্রতি অবিচল থাকে এবং ভিকটিম অনেক আল্লাহভীরু, তখন জিন তাকে ভয় পায় এবং তাকে অনুসরণ করতে থাকে, যখনই ভিকটিম একটু আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয় অথবা খুব রাগান্বিত হয়ে যায় সেই মুহূর্তটা জিন কাজে লাগায়। এ সুযোগে সে ভিকটিমের ওপর আঘাত করে বসে।

এরপর জادুকর তার ও সেবক জিনের মধ্যবর্তী একজনের সহায়তায় তার জادুটোনা চালিয়ে যেতে থাকে, এ মধ্যস্থতাকারী দৈনিক ফলাফলের খবর এনে দেয় এবং জادুকরের নির্দেশাবলী সেবক জিনের কাছে পৌঁছে দেয়।

ভিকটিম যদি হয় আল্লাহভীরু ও ধার্মিক এবং দৈনিক যদি বিরদ ও যিকির পাঠ করেন, তাহলে জادুকরের সেবক জিন তাকে ভয় পায় এবং ভিকটিমের এ খোদাভীরু জিনকে নিঃশেষ করে দেয়, যাতে করে জادুটোনা তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে। মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি যদি এ চাকার জিনকে ধৈর্য ধারণের পরামর্শ না দিত এবং শয়তানের পক্ষ থেকে পুরস্কারের লোভ না দেখাত অথবা তাকে হত্যা করার হুমকি না দিত, তাহলে এ জিন পালিয়ে যেত। কিন্তু ভিকটিমের ঈমান যদি হয় দুর্বল, আল্লাহর সঙ্গে যদি সত্যিকারের কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এটিই তার জন্য সমস্যা হয়ে যায়, কারণ এ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জادুকর তার দেহের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়, যার প্রতিফলন ভিকটিমের জীবনে দেখা যায় এবং এ জادুটোনার সঙ্গে সে এমন দুঃসাহসিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে যার কোনো শেষ নাও থাকতে পারে এবং তার এ সমস্যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এখানে আমরা দু' ধরনের মন্ত্র বা কবচের সঙ্গে পরিচিত হব; একধরনের কবচ অসুস্থ রোগীর দেহের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে অথবা সুগন্ধির মাধ্যমে অথবা রোগীর সঙ্গে করমর্দন করার মাধ্যমে; আরেক ধরনের কবচ রাখা হয় বাইরে, হয়তো কোথাও পুঁতে রাখা হয় অথবা কোনো গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর জাদুটোনার প্রভাব

📄 আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর জাদুটোনার প্রভাব


দুভাবে ভিকটিমের ওপর জادুটোনার প্রভাব পড়ে; হয় জادুটোনা রোগীর দেহের ভেতরে অভ্যন্তরীণ প্রভাব ফেলবে; অথবা বাহ্যিক প্রভাবও পড়তে পারে, যেমন: জادুটোনা যদি বাহ্যিকভাবে অথবা দূর থেকে রোগীর ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে সেক্ষেত্রে এ জাদু রোগীর মাঝে দৃষ্টিভ্রম ও উদ্বিগ্নতা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ জادুকর যেভাবে তার জাদু পরিচালনা করবে এর প্রভাবও সেভাবে হবে। জادুটোনার কবলে পড়ে জীবন যাদের বিপর্যস্ত এ তথ্য তাদের জন্য এখানে উপস্থাপন করছি, যাতে করে তারা নিজেরাই এর চিকিৎসা করতে পারে অথবা যাতে এ তথ্য রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকটিশনারদের উপকারে আসে।

দুভাবে ভিকটিমের ওপর জادুটোনার প্রভাব পড়ে; হয় জادুটোনা রোগীর দেহের ভেতরে অভ্যন্তরীণ প্রভাব ফেলবে; অথবা বাহ্যিক প্রভাবও পড়তে পারে, যেমন: জادুটোনা যদি বাহ্যিকভাবে অথবা দূর থেকে রোগীর ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে সেক্ষেত্রে এ জাদু রোগীর মাঝে দৃষ্টিভ্রম ও উদ্বিগ্নতা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ জادুকর যেভাবে তার জাদু পরিচালনা করবে এর প্রভাবও সেভাবে হবে। জادুটোনার কবলে পড়ে জীবন যাদের বিপর্যস্ত এ তথ্য তাদের জন্য এখানে উপস্থাপন করছি, যাতে করে তারা নিজেরাই এর চিকিৎসা করতে পারে অথবা যাতে এ তথ্য রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকটিশনারদের উপকারে আসে।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জাদুটোনা সম্পর্কিত কার্যকর তথ্য

📄 জাদুটোনা সম্পর্কিত কার্যকর তথ্য


জادুটোনার চিকিৎসা ও প্রতিকারের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো শরীয়াহ্ নির্দেশিত পদ্ধতি। কারণ চিকিৎসার জন্য কোনো ভিকটিমকে জادুকরের কাছে পাঠানোর মানে হতে পারে তার সঙ্গে জিনদের দু' গ্রুপের ডাকার বা সেবক জিনকে কিছু সময়ের জন্য বিতাড়িত করার ব্যাপারে সমঝোতায় আসতে পারে, কিন্তু এ সময়ের পর ওই সেবক জিন আবার ফিরে আসবে এবং সে তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে। কিন্তু এর বিপরীতে কুরআন নির্দেশিত পন্থায় করা চিকিৎসাকে জিন অথবা জادুকর কেউই প্রতিরোধ করতে পারবে না। “আমি যদি এ কুরআনকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তুমি আল্লাহর ভয়ে তাকে বিনীত ও বিদীর্ণ দেখতে।” (আল হাশর ৫৯:২১)

জادুটোনার প্রভাব সীমিত সময়ের জন্য, কবচ নষ্ট হয়ে গেলে কিছু সময় পরেই আর এর কোনো কার্যকারিতা থাকে না। এ কারণেই কিছু জادুকর তাদের মন্ত্রের ফলোআপ করে এবং সময়ে সময়ে এসব কবচ নবায়ন করে।

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য একটি কর্মসূচি অনুসরণ করা এবং নিয়মিত সকাল সন্ধ্যায় আযকার তেলাওয়াতের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, আর যেসব আযকার তেলাওয়াত করতে হবে তারও একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে এ বইয়ে। এসব সুবিধা হলো—

১- জادুকর ও জিন্নের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর ফিরে আসার পথ বিচ্ছিন্ন করা, যা সেনাবাহিনী পরিভাষায় সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হিসেবে পরিচিত।
২- সেবক জিনকে হত্যা করে অথবা তাকে পালাতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাকে দুর্বল করে দেওয়া。
৩- জادুকর যদি তার কবচ নবায়ন করতে ইচ্ছুক হয়, সেক্ষেত্রে তার এ মিশন পরিচালনায় অনেক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

জادুটোনার প্রতিটি কাজের জন্য দরকার একজন জادুকর, একজন ভিকটিম, একটি কবচ, জادুটোনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জিনিসপত্র এবং ভিকটিম ও জادুকরের মাঝে কাজ করার জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী।

অনেক সময় জادুকর তার সেবক জিন্নের জিহ্বা বেঁধে দেয়, যার ফলে ভিকটিম কথা বলতে পারে না। অতি সম্প্রতি এ ধরনের একটি ঘটনায় এক মহিলার কথা ছয় মাস বন্ধ ছিল।
তিনি একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আর এ চিকিৎসার পরিসমাপ্তি ঘটে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদের মাধ্যমে। জادুকর তাকে সুস্থ করে তুলতে ব্যর্থ হয়, অবশেষে কুরআনের আলোকে তার চিকিৎসা করা হয়。

• জিনদের মধ্যে ও কিছু জادুকর রয়েছে
• জادুকর একটি জিনকেও জادুটোনা করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাকে ভিকটিমের কাছে পাঠায়, এক্ষেত্রে ভিকটিমের ওপর করা জادুটোনা অনেক জটিল হয়।

জادুটোনার চিকিৎসা ও প্রতিকারের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো শরীয়াহ্ নির্দেশিত পদ্ধতি। কারণ চিকিৎসার জন্য কোনো ভিকটিমকে জادুকরের কাছে পাঠানোর মানে হতে পারে তার সঙ্গে জিনদের দু' গ্রুপের ডাকার বা সেবক জিনকে কিছু সময়ের জন্য বিতাড়িত করার ব্যাপারে সমঝোতায় আসতে পারে, কিন্তু এ সময়ের পর ওই সেবক জিন আবার ফিরে আসবে এবং সে তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে। কিন্তু এর বিপরীতে কুরআন নির্দেশিত পন্থায় করা চিকিৎসাকে জিন অথবা জادুকর কেউই প্রতিরোধ করতে পারবে না। “আমি যদি এ কুরআনকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তুমি আল্লাহর ভয়ে তাকে বিনীত ও বিদীর্ণ দেখতে।” (আল হাশর ৫৯:২১)

জادুটোনার প্রভাব সীমিত সময়ের জন্য, কবচ নষ্ট হয়ে গেলে কিছু সময় পরেই আর এর কোনো কার্যকারিতা থাকে না। এ কারণেই কিছু জادুকর তাদের মন্ত্রের ফলোআপ করে এবং সময়ে সময়ে এসব কবচ নবায়ন করে।

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য একটি কর্মসূচি অনুসরণ করা এবং নিয়মিত সকাল সন্ধ্যায় আযকার তেলাওয়াতের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, আর যেসব আযকার তেলাওয়াত করতে হবে তারও একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে এ বইয়ে। এসব সুবিধা হলো—

১- জادুকর ও জিন্নের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর ফিরে আসার পথ বিচ্ছিন্ন করা, যা সেনাবাহিনী পরিভাষায় সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হিসেবে পরিচিত।
২- সেবক জিনকে হত্যা করে অথবা তাকে পালাতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাকে দুর্বল করে দেওয়া。
৩- জادুকর যদি তার কবচ নবায়ন করতে ইচ্ছুক হয়, সেক্ষেত্রে তার এ মিশন পরিচালনায় অনেক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

জادুটোনার প্রতিটি কাজের জন্য দরকার একজন জادুকর, একজন ভিকটিম, একটি কবচ, জادুটোনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জিনিসপত্র এবং ভিকটিম ও জادুকরের মাঝে কাজ করার জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী।

অনেক সময় জادুকর তার সেবক জিন্নের জিহ্বা বেঁধে দেয়, যার ফলে ভিকটিম কথা বলতে পারে না। অতি সম্প্রতি এ ধরনের একটি ঘটনায় এক মহিলার কথা ছয় মাস বন্ধ ছিল।
তিনি একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আর এ চিকিৎসার পরিসমাপ্তি ঘটে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদের মাধ্যমে। জادুকর তাকে সুস্থ করে তুলতে ব্যর্থ হয়, অবশেষে কুরআনের আলোকে তার চিকিৎসা করা হয়。

• জিনদের মধ্যে ও কিছু জادুকর রয়েছে
• জادুকর একটি জিনকেও জادুটোনা করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাকে ভিকটিমের কাছে পাঠায়, এক্ষেত্রে ভিকটিমের ওপর করা জادুটোনা অনেক জটিল হয়।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 নিম্নোক্ত প্রাকটিশনারদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন

📄 নিম্নোক্ত প্রাকটিশনারদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন


অনেক জادুকর মানুষকে মিথ্যা ধারণা দেন, যেমন: রোগীকে কুরআন নির্দেশিত পন্থায় চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। তাদের এ চুরি ও প্রতারণাকে আড়াল করার জন্য তারা শ্রবণযোগ্য স্বরে কুরআনের কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করেন অথবা কোথাও আয়াত লিখে দেখান। আমি এরকম একটি আশ্চর্যজনক লেখা পড়েছি, জادুকরদের সর্দার এটা লিখেছিল। তার নাম আবুল ফাতাহ আল তুথি। তার লেখা ‘তাসখীরুল শায়তান ফি উইসাল আশিকান’ (ভালোবাসা তৈরিতে শয়তানের ব্যবহার) নামক একটি বইয়ের সূচনায় তিনি বলেন: “তিনি আশা করেন আল্লাহ তাকে সফলতা ও সমৃদ্ধি দান করবেন—আল তুথি আল ফালকি আবুল ফাতাহ বিন আল সাইয়িদ মুহাম্মাদ আবদু (আল্লাহ তাকে ও তার কাছে যারা আসেন তাদের সবাইকে ক্ষমা করুন) বলেন: এটি খুবই মূল্যবান একটি বই, আমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জেনারেশনের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বইটি রচনা করেছি এবং আমি এর নামকরণ করেছি ‘তাসখীরুল শায়তান ফি উইসাল আশিকান’ (ভালোবাসা তৈরিতে শয়তানের ব্যবহার)।” আল্লাহর কাছে সফলতা ও সমৃদ্ধির জন্য এ খারেজি বা বিপথগামী সাহায্য প্রার্থনা করার পর তিনি মানুষকে শেখানোর চেষ্টা করেন যে, কুমারী নারীর হৃদয়ে ভালোবাসা তৈরির জন্য অভিশপ্ত শয়তান ইবলিসের কাছে কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়, কীভাবে আল্লাহর বাণীর প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা যায়, এমনকি তার এ কুফরি ও বিপথগামিতা এতটা মাত্রায় পৌঁছেছে যে, তিনি মানুষকে শেখাচ্ছেন যৌন মিলনকালে যোনিতে কীভাবে কুরআনের আয়াত লিখতে হয়। (নাউযুবিল্লাহ)

আল্লাহ তা’আলা অবশ্য এ সংক্রান্ত সত্য প্রকাশ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন: “ফেরেশতাদ্বয় কাকে ও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরি কর না,” (আল বাকারা ২:১০২)

টিকা:
৬৮. ড. ইবরাহিম কামাল আযম, আল সিহর ওয়াল সাহারা থেকে উদ্ধৃত

অনেক জادুকর মানুষকে মিথ্যা ধারণা দেন, যেমন: রোগীকে কুরআন নির্দেশিত পন্থায় চিকিৎসা করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। তাদের এ চুরি ও প্রতারণাকে আড়াল করার জন্য তারা শ্রবণযোগ্য স্বরে কুরআনের কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করেন অথবা কোথাও আয়াত লিখে দেখান। আমি এরকম একটি আশ্চর্যজনক লেখা পড়েছি, জادুকরদের সর্দার এটা লিখেছিল। তার নাম আবুল ফাতাহ আল তুথি। তার লেখা ‘তাসখীরুল শায়তান ফি উইসাল আশিকান’ (ভালোবাসা তৈরিতে শয়তানের ব্যবহার) নামক একটি বইয়ের সূচনায় তিনি বলেন: “তিনি আশা করেন আল্লাহ তাকে সফলতা ও সমৃদ্ধি দান করবেন—আল তুথি আল ফালকি আবুল ফাতাহ বিন আল সাইয়িদ মুহাম্মাদ আবদু (আল্লাহ তাকে ও তার কাছে যারা আসেন তাদের সবাইকে ক্ষমা করুন) বলেন: এটি খুবই মূল্যবান একটি বই, আমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জেনারেশনের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে বইটি রচনা করেছি এবং আমি এর নামকরণ করেছি ‘তাসখীরুল শায়তান ফি উইসাল আশিকান’ (ভালোবাসা তৈরিতে শয়তানের ব্যবহার)।” আল্লাহর কাছে সফলতা ও সমৃদ্ধির জন্য এ খারেজি বা বিপথগামী সাহায্য প্রার্থনা করার পর তিনি মানুষকে শেখানোর চেষ্টা করেন যে, কুমারী নারীর হৃদয়ে ভালোবাসা তৈরির জন্য অভিশপ্ত শয়তান ইবলিসের কাছে কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়, কীভাবে আল্লাহর বাণীর প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা যায়, এমনকি তার এ কুফরি ও বিপথগামিতা এতটা মাত্রায় পৌঁছেছে যে, তিনি মানুষকে শেখাচ্ছেন যৌন মিলনকালে যোনিতে কীভাবে কুরআনের আয়াত লিখতে হয়। (নাউযুবিল্লাহ)

আল্লাহ তা’আলা অবশ্য এ সংক্রান্ত সত্য প্রকাশ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন: “ফেরেশতাদ্বয় কাকে ও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরি কর না,” (আল বাকারা ২:১০২)

টিকা:
৬৮. ড. ইবরাহিম কামাল আযম, আল সিহর ওয়াল সাহারা থেকে উদ্ধৃত

ফন্ট সাইজ
15px
17px