📄 জাদুটোনা ও জাদুকর
আরবি শব্দ সিহর
আবু উবায়েদ বলেন: সিহর শব্দের অর্থ হলো—কোনো বস্তু যেভাবে থাকা উচিত বা যেভাবে থাকে তার বাইরে অন্য কোনো রূপে একে প্রদর্শন করা।
আল-লাইস বলেন: জাদু হলো এমন কর্ম যার দ্বারা এক ব্যক্তি শয়তানের ঘনিষ্ঠতা অর্জন করে এবং এর জন্য সে শয়তানেরই সাহায্য নেয়।
উমার বলেন: ইবনে আইশাহ বলেন, আরবিতে একে সিহর বলা হয়, কারণ এটা স্বাস্থ্যকে অসুস্থতায় পরিবর্তিত করে। যেমন সাহারাহ শব্দের অর্থ হলো—সে তার দৃষ্টিভঙ্গি ঘৃণা থেকে ভালোবাসায় পরিবর্তিত করল। অর্থাৎ সে তাকে আকৃষ্ট করল। সিহর শব্দটি বৈধ বা অনুমোদিত কোনো কিছুর বর্ণনা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন—আমার বিন আহতাম থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আল যাবাবরকান বিন বদর সম্পর্কে বলেন: “সুন্দর বাচনভঙ্গীতে উপস্থাপিত কথা অনেক সময় জাদুর মতো কাজ করে।” [৫৪]
শরীয়াহর পরিভাষায় সিহর
আল রাযী বলেন: শরীয়াহর দৃষ্টিতে সিহর দ্বারা ওইসব কর্মকাণ্ডকে বুঝায় যার কারণ লুকায়িত থাকে, যা কিছু এর স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অন্যভাবে কল্পনা করা হয় এবং যা কোনো কিছু গোপন করার অথবা প্রতারণার মাধ্যমে ঘটানো হয়। আর শব্দটি যখন সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং একে সংজ্ঞায়িত করা হয় না, তখন একে নেতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করা হয় এবং যিনি এ কাজ করেন তার নিন্দা করা হয়।
আল ক্বুরতুবী বলেন: জাদুটোনা হলো কৌশলভিত্তিক একটি পেশা। এটি এমন একটি গুণ যা শেখা যায়। কিন্তু জাদু শেখার বিষয়টি অতি সূক্ষ্ম ও নিগূঢ় হওয়ার কারণে খুব কমই লোকে এত দক্ষতা অর্জন করতে পারে। জাদু জ্ঞান মূলত বস্তুর বৈশিষ্ট্য, উপাদান ও সঠিক সময়ের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাদুর প্রভাব হয় কাল্পনিক, কোনো বাস্তবতা থাকে না, দৃষ্টিভ्रम তৈরি করে এবং ঘটনার কোনো প্রমাণ থাকে না। যারা এ সম্পর্কে জানেন না, সচেতন নন তারাই এর দ্বারা সম্মোহিত হন। যেমনটি আল্লাহ ফিরাওনের জাদুকরদের প্রসঙ্গে বলেছেন: “এবং তারা বড় ধরনের এক জাদু প্রদর্শন করল।” (আল-আ'রাফ ৭:১১VI) যদিও তাদের দড়ি ও লাঠিগুলোর দড়ি ও লাঠি হওয়া বন্ধ হলো না। তখন তিনি বললেন: কিছু জাদুর প্রভাব থাকে মানুষের মনের ওপর, ভালোবাসা ও ঘৃণার বিষয়ে, মানুষের মনে ভালো ও খারাপ চিন্তা গেঁথে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং কিছু জাদুর প্রভাব থাকে মানুষের শরীরের উপর যা দেহের বিভিন্ন অংশে ব্যথা তৈরি করে এবং অসুস্থ বানিয়ে দেয়। [৭৫] সত্যিকার অর্থে জাদু করাই হয় গোপন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে, অবশ্য এ বিদ্যা শেখা যায়; এগুলোর মধ্যে কিছু আবার বাস্তবও হয়, এগুলো আসে শয়তানের আত্মার সহযোগিতায় মন্দ আত্মা থেকে এবং বিভিন্ন মন্ত্রোচ্চারণ ও হাতিয়ার ব্যবহার করে তৈরি এ জাদু মানুষের স্বাস্থ্য, সম্পত্তি ও সম্পর্কের ক্ষতি করে। তবে এর বেশিরভাগই প্রতারণা ও ভ্রান্ত এবং এগুলো মোটেও সত্য নয়。
টিকা:
৫৪. কিসাতুল সিহর ওয়াল সাহরা, পৃ-২৫, ১৩৩, টীকা-২
৭৫. তাফসীরুল কুরতুবী, ২/৫৫
আরবি শব্দ সিহর
আবু উবায়েদ বলেন: সিহর শব্দের অর্থ হলো—কোনো বস্তু যেভাবে থাকা উচিত বা যেভাবে থাকে তার বাইরে অন্য কোনো রূপে একে প্রদর্শন করা।
আল-লাইস বলেন: জাদু হলো এমন কর্ম যার দ্বারা এক ব্যক্তি শয়তানের ঘনিষ্ঠতা অর্জন করে এবং এর জন্য সে শয়তানেরই সাহায্য নেয়।
উমার বলেন: ইবনে আইশাহ বলেন, আরবিতে একে সিহর বলা হয়, কারণ এটা স্বাস্থ্যকে অসুস্থতায় পরিবর্তিত করে। যেমন সাহারাহ শব্দের অর্থ হলো—সে তার দৃষ্টিভঙ্গি ঘৃণা থেকে ভালোবাসায় পরিবর্তিত করল। অর্থাৎ সে তাকে আকৃষ্ট করল। সিহর শব্দটি বৈধ বা অনুমোদিত কোনো কিছুর বর্ণনা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন—আমার বিন আহতাম থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আল যাবাবরকান বিন বদর সম্পর্কে বলেন: “সুন্দর বাচনভঙ্গীতে উপস্থাপিত কথা অনেক সময় জাদুর মতো কাজ করে।” [৫৪]
শরীয়াহর পরিভাষায় সিহর
আল রাযী বলেন: শরীয়াহর দৃষ্টিতে সিহর দ্বারা ওইসব কর্মকাণ্ডকে বুঝায় যার কারণ লুকায়িত থাকে, যা কিছু এর স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অন্যভাবে কল্পনা করা হয় এবং যা কোনো কিছু গোপন করার অথবা প্রতারণার মাধ্যমে ঘটানো হয়। আর শব্দটি যখন সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং একে সংজ্ঞায়িত করা হয় না, তখন একে নেতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করা হয় এবং যিনি এ কাজ করেন তার নিন্দা করা হয়।
আল ক্বুরতুবী বলেন: জাদুটোনা হলো কৌশলভিত্তিক একটি পেশা। এটি এমন একটি গুণ যা শেখা যায়। কিন্তু জাদু শেখার বিষয়টি অতি সূক্ষ্ম ও নিগূঢ় হওয়ার কারণে খুব কমই লোকে এত দক্ষতা অর্জন করতে পারে। জাদু জ্ঞান মূলত বস্তুর বৈশিষ্ট্য, উপাদান ও সঠিক সময়ের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জাদুর প্রভাব হয় কাল্পনিক, কোনো বাস্তবতা থাকে না, দৃষ্টিভ्रम তৈরি করে এবং ঘটনার কোনো প্রমাণ থাকে না। যারা এ সম্পর্কে জানেন না, সচেতন নন তারাই এর দ্বারা সম্মোহিত হন। যেমনটি আল্লাহ ফিরাওনের জাদুকরদের প্রসঙ্গে বলেছেন: “এবং তারা বড় ধরনের এক জাদু প্রদর্শন করল।” (আল-আ'রাফ ৭:১১VI) যদিও তাদের দড়ি ও লাঠিগুলোর দড়ি ও লাঠি হওয়া বন্ধ হলো না। তখন তিনি বললেন: কিছু জাদুর প্রভাব থাকে মানুষের মনের ওপর, ভালোবাসা ও ঘৃণার বিষয়ে, মানুষের মনে ভালো ও খারাপ চিন্তা গেঁথে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং কিছু জাদুর প্রভাব থাকে মানুষের শরীরের উপর যা দেহের বিভিন্ন অংশে ব্যথা তৈরি করে এবং অসুস্থ বানিয়ে দেয়। [৭৫] সত্যিকার অর্থে জাদু করাই হয় গোপন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে, অবশ্য এ বিদ্যা শেখা যায়; এগুলোর মধ্যে কিছু আবার বাস্তবও হয়, এগুলো আসে শয়তানের আত্মার সহযোগিতায় মন্দ আত্মা থেকে এবং বিভিন্ন মন্ত্রোচ্চারণ ও হাতিয়ার ব্যবহার করে তৈরি এ জাদু মানুষের স্বাস্থ্য, সম্পত্তি ও সম্পর্কের ক্ষতি করে। তবে এর বেশিরভাগই প্রতারণা ও ভ্রান্ত এবং এগুলো মোটেও সত্য নয়。
টিকা:
৫৪. কিসাতুল সিহর ওয়াল সাহরা, পৃ-২৫, ১৩৩, টীকা-২
৭৫. তাফসীরুল কুরতুবী, ২/৫৫
📄 জাদুটোনার অস্তিত্বের প্রমাণ
১. পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ
“এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা যা পাঠ করত, তারা তা অনুসরণ করত, মূলত: সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলের দু'জন ফেরেশতা হারুত ও মারুতের উপর পৌঁছানো হয়েছিল এবং ফেরেশतাদ্বয় কাউকেও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, 'আমরা পরীক্ষা স্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরী কর না,' এতদসত্ত্বেও তারা উভয়ের নিকট হতে এমন জিনিস শিক্ষা করত, যদ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করত, মূলত: তারা তাদের এ কাজ দ্বারা আল্লাহর বিনা হুকুমে কারও ক্ষতি করতে পারত না, বস্তুত: এরা এমন বিদ্যা শিখত, যদ্বারা তাদের ক্ষতি সাধিত হত আর এদের কোন উপকার হত না এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি এ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!” (আল বাকারা ২:১০২)
“তারা যখন নিক্ষেপ করল, তখন মূসা বলল, ‘তোমরা যা নিয়ে এসেছ তাতো যাদু, আল্লাহ এখনই তা ব্যর্থ করে দেবেন, আল্লাহ বিশ্বশৃঙ্খলকারীদের কাজকে সংশোধন করেন না’। আল্লাহ তাঁর বাণীর সাহায্যে প্রকৃত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেনই, অপরাধীদের কাছে তা যতই অপ্রীতিকর হোক না কেন。” (সূরা ইউনুস ১০:৮১-৮২)
“বল, 'আমি আশ্রয় চাচ্ছি সকাল বেলার রব-এর, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, আর অন্ধকার রাতের অনিষ্ট হতে যখন তা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এবং (জাদু করার উদ্দেশ্যে) গিরায় ফুঁৎকারকারিনীদের অনিষ্ট হতে, এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে。” (আল ফালাক ১১৩:১-৫)
২. হাদীস থেকে প্রমাণ
আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বুনা যুরায়ক গোত্রের লাবীদ বিন আল আ'সাম নামক এক ব্যক্তি জাদু টোনা করেছিল। একদিন অথবা এক রাতে—তিনি আমার সঙ্গে ছিলেন—দীর্ঘ সময় ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: ‘হে আয়শা আল্লাহ আমাকে আমার নিরাময়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন। দু’ জন লোক আমার কাছে আসল; একজন বসল আমার মাথার কাছে, অপর জন বসল পায়ের কাছে। অতঃপর একজন অন্যজনকে বলল, এ লোক আঘাত পাচ্ছেন কিসের দ্বারা? ওই লোকটি বলল: ‘তাকে জাদু টোনা করা হয়েছে’। সে বলল: কে তাকে জাদু টোনা করেছে? ওই লোকটি বলল: লাবিদ বিন আল আ’সাম। সে বলল: কিসের দ্বারা? অপরজন বলল: চুলে জড়ানো একটি চিরুনি এবং পুরুষ খেজুর বৃক্ষের পরাগার বাইরের ত্বক দিয়ে। লোকটি বলল: কোথায় আছে এটা? সে বলল: যারওয়ান নামে এক কূপে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কয়েকজন সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলেন, ফিরে এসে বললেন: আয়শা, কূপটির পানি অনেকটা মেহেদি পাতার নির্যাস এর মতো এবং ওই খেজুর গাছটির মাথা শয়তানের মাথার মতো। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি কি ওটা বের করে আনেননি? তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে সুস্থ করেছেন এবং আমি চাই না মন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ওই কূপটি মাটি দিয়ে ভরাট করার নির্দেশ দিলেন।’ [৭৬]
টিকা:
৭৬. ফাতহুল বারি, ১০/২২২।
১. পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ
“এবং সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা যা পাঠ করত, তারা তা অনুসরণ করত, মূলত: সুলায়মান কুফরী করেনি বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত এবং যা বাবিলের দু'জন ফেরেশতা হারুত ও মারুতের উপর পৌঁছানো হয়েছিল এবং ফেরেশतাদ্বয় কাউকেও (তা) শিখাতো না যে পর্যন্ত না বলত, 'আমরা পরীক্ষা স্বরূপ, কাজেই তুমি কুফরী কর না,' এতদসত্ত্বেও তারা উভয়ের নিকট হতে এমন জিনিস শিক্ষা করত, যদ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করত, মূলত: তারা তাদের এ কাজ দ্বারা আল্লাহর বিনা হুকুমে কারও ক্ষতি করতে পারত না, বস্তুত: এরা এমন বিদ্যা শিখত, যদ্বারা তাদের ক্ষতি সাধিত হত আর এদের কোন উপকার হত না এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি এ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!” (আল বাকারা ২:১০২)
“তারা যখন নিক্ষেপ করল, তখন মূসা বলল, ‘তোমরা যা নিয়ে এসেছ তাতো যাদু, আল্লাহ এখনই তা ব্যর্থ করে দেবেন, আল্লাহ বিশ্বশৃঙ্খলকারীদের কাজকে সংশোধন করেন না’। আল্লাহ তাঁর বাণীর সাহায্যে প্রকৃত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেনই, অপরাধীদের কাছে তা যতই অপ্রীতিকর হোক না কেন。” (সূরা ইউনুস ১০:৮১-৮২)
“বল, 'আমি আশ্রয় চাচ্ছি সকাল বেলার রব-এর, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, আর অন্ধকার রাতের অনিষ্ট হতে যখন তা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এবং (জাদু করার উদ্দেশ্যে) গিরায় ফুঁৎকারকারিনীদের অনিষ্ট হতে, এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে。” (আল ফালাক ১১৩:১-৫)
২. হাদীস থেকে প্রমাণ
আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূলকে (ﷺ) বুনা যুরায়ক গোত্রের লাবীদ বিন আল আ'সাম নামক এক ব্যক্তি জাদু টোনা করেছিল। একদিন অথবা এক রাতে—তিনি আমার সঙ্গে ছিলেন—দীর্ঘ সময় ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন, অতঃপর তিনি বললেন: ‘হে আয়শা আল্লাহ আমাকে আমার নিরাময়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন। দু’ জন লোক আমার কাছে আসল; একজন বসল আমার মাথার কাছে, অপর জন বসল পায়ের কাছে। অতঃপর একজন অন্যজনকে বলল, এ লোক আঘাত পাচ্ছেন কিসের দ্বারা? ওই লোকটি বলল: ‘তাকে জাদু টোনা করা হয়েছে’। সে বলল: কে তাকে জাদু টোনা করেছে? ওই লোকটি বলল: লাবিদ বিন আল আ’সাম। সে বলল: কিসের দ্বারা? অপরজন বলল: চুলে জড়ানো একটি চিরুনি এবং পুরুষ খেজুর বৃক্ষের পরাগার বাইরের ত্বক দিয়ে। লোকটি বলল: কোথায় আছে এটা? সে বলল: যারওয়ান নামে এক কূপে। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কয়েকজন সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলেন, ফিরে এসে বললেন: আয়শা, কূপটির পানি অনেকটা মেহেদি পাতার নির্যাস এর মতো এবং ওই খেজুর গাছটির মাথা শয়তানের মাথার মতো। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি কি ওটা বের করে আনেননি? তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে সুস্থ করেছেন এবং আমি চাই না মন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ওই কূপটি মাটি দিয়ে ভরাট করার নির্দেশ দিলেন।’ [৭৬]
টিকা:
৭৬. ফাতহুল বারি, ১০/২২২।
📄 জাদুটোনা প্রসঙ্গে বিখ্যাত আলিমগণের মতামত
আল কুরতুবী বলেন: কুরআনের একাধিক আয়াতে এবং রাসূলের (ﷺ) একাধিক হাদীসে জাদু টোনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, যাকে জাদু টোনা করা হয় তার উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যারা এটা অস্বীকার করবে তারা কাফির, তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের (ﷺ) কথাকে অবিশ্বাস করে এবং সর্বজনবিদিত সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে। যারা গোপনে এটা অস্বীকার করে, তারা খারেজি। আর যারা প্রকাশ্যে অস্বীকার করবে, তারা ধর্মত্যাগী বলে গণ্য হবে। মানুষের মনে জাদু টোনার বিশাল প্রভাব রয়েছে, এ প্রভাবের মাধ্যমে এটি মানুষের মনে ভালোবাসা ও ঘৃণা তৈরি করে, খারাপ চিন্তার খোরাক এনে দেয়, একপর্যায়ে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়, মানুষের মাঝে সৃষ্টি করে মানসিক জটিলতা, শারীরিক ব্যথা ও অসুস্থতা তৈরি করে। জাদু টোনার এ প্রভাব অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এর সবকিছুই মানুষের বাস্তব জীবনে ঘটে এবং একে অস্বীকার করা ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়। [১১]
ইবনে কাসীর বলেন: জাদু টোনার বিষয়টি সত্য। এবং আল্লাহ তা'আলা যে কোনো প্রভাব তৈরি করতে পারেন, তিনি যখনই এর ইচ্ছা করেন তখনই তা সংঘটিত হয়ে যায়। তবে তার এ মতামত মু'তাযিলাহ এবং শাফেয়ীদের মধ্যে আবু ইসহাক আল ইসফারাইনির মতামতের বিপরীত। তারা এ জাদু টোনাকে দৃষ্টিবিভ্রম ও কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন: কিছু জাদু হলো হাতের ভেল্কিবাজি, আর কিছু আছে মন্ত্র যা মুখস্থ করা যায় এবং আছে আল্লাহর নামসমূহ দিয়ে গঠিত রুকিয়া। এ জাদু শয়তান বা মন্দ লোকের কাছ থেকে শেখা যায় এবং এটা মেডিসিন ও ধূঁপও হতে পারে।
イবনে কুদামা বলেন: জাদু হলো একটি বাস্তব বিষয়; কিছু জাদু হত্যাকাণ্ড করতে পারে, আবার কিছু জাদু মানুষের অসুস্থতা তৈরি করে, আবার কিছু জাদু একজন স্বামীকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা করে দেয় এবং তাদের মধ্যে সহবাসে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। [১২]
টিকা:
১১. শরহ আল্লা কুরতুবি আলা সহিহ মুসলিম, ৬/৬
১২. আল মুগনি, ১০/১০৯
আল কুরতুবী বলেন: কুরআনের একাধিক আয়াতে এবং রাসূলের (ﷺ) একাধিক হাদীসে জাদু টোনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, যাকে জাদু টোনা করা হয় তার উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যারা এটা অস্বীকার করবে তারা কাফির, তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের (ﷺ) কথাকে অবিশ্বাস করে এবং সর্বজনবিদিত সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে। যারা গোপনে এটা অস্বীকার করে, তারা খারেজি। আর যারা প্রকাশ্যে অস্বীকার করবে, তারা ধর্মত্যাগী বলে গণ্য হবে। মানুষের মনে জাদু টোনার বিশাল প্রভাব রয়েছে, এ প্রভাবের মাধ্যমে এটি মানুষের মনে ভালোবাসা ও ঘৃণা তৈরি করে, খারাপ চিন্তার খোরাক এনে দেয়, একপর্যায়ে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়, মানুষের মাঝে সৃষ্টি করে মানসিক জটিলতা, শারীরিক ব্যথা ও অসুস্থতা তৈরি করে। জাদু টোনার এ প্রভাব অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এর সবকিছুই মানুষের বাস্তব জীবনে ঘটে এবং একে অস্বীকার করা ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়। [১১]
ইবনে কাসীর বলেন: জাদু টোনার বিষয়টি সত্য। এবং আল্লাহ তা'আলা যে কোনো প্রভাব তৈরি করতে পারেন, তিনি যখনই এর ইচ্ছা করেন তখনই তা সংঘটিত হয়ে যায়। তবে তার এ মতামত মু'তাযিলাহ এবং শাফেয়ীদের মধ্যে আবু ইসহাক আল ইসফারাইনির মতামতের বিপরীত। তারা এ জাদু টোনাকে দৃষ্টিবিভ্রম ও কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন: কিছু জাদু হলো হাতের ভেল্কিবাজি, আর কিছু আছে মন্ত্র যা মুখস্থ করা যায় এবং আছে আল্লাহর নামসমূহ দিয়ে গঠিত রুকিয়া। এ জাদু শয়তান বা মন্দ লোকের কাছ থেকে শেখা যায় এবং এটা মেডিসিন ও ধূঁপও হতে পারে।
イবনে কুদামা বলেন: জাদু হলো একটি বাস্তব বিষয়; কিছু জাদু হত্যাকাণ্ড করতে পারে, আবার কিছু জাদু মানুষের অসুস্থতা তৈরি করে, আবার কিছু জাদু একজন স্বামীকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা করে দেয় এবং তাদের মধ্যে সহবাসে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। [১২]
টিকা:
১১. শরহ আল্লা কুরতুবি আলা সহিহ মুসলিম, ৬/৬
১২. আল মুগনি, ১০/১০৯
📄 জাদুটোনার প্রকারভেদ
প্রখ্যাত আলেমগণ কয়েক ধরনের জাদু টোনার তালিকা করেছেন। আবু আবদুল্লাহ ফখর আল রাযী আট ধরনের জাদুর কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে খালদুন তার আল মুকদ্দিমা-তে কয়েক ধরনের জাদুর কথা লিখেছেন এবং আল রাগিব চার ধরনের জাদুর কথা বর্ণনা করেছেন, যা ইবনে হাজার তার আল ফাতহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এসব প্রকারভেদ ও শ্রেণিবিন্যাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করলে বলা যেতে পারে যে, জাদু আসলে এক ধরনের। এটাই সত্যিকারের জাদু এবং এ জাদুর চর্চার জন্য মানুষ জিন ও শয়তানের উপর নির্ভর করে। এ একধরনের জাদুর আবার কয়েক ধরনের রূপ রয়েছে। আর সাধারণ মানুষ যাকে জাদু বলে জানে, তা জাদুকরের হাতের কৌশল ব্যতীত আর কিছুই নয়।
প্রখ্যাত আলেমগণ কয়েক ধরনের জাদু টোনার তালিকা করেছেন। আবু আবদুল্লাহ ফখর আল রাযী আট ধরনের জাদুর কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে খালদুন তার আল মুকদ্দিমা-তে কয়েক ধরনের জাদুর কথা লিখেছেন এবং আল রাগিব চার ধরনের জাদুর কথা বর্ণনা করেছেন, যা ইবনে হাজার তার আল ফাতহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এসব প্রকারভেদ ও শ্রেণিবিন্যাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করলে বলা যেতে পারে যে, জাদু আসলে এক ধরনের। এটাই সত্যিকারের জাদু এবং এ জাদুর চর্চার জন্য মানুষ জিন ও শয়তানের উপর নির্ভর করে। এ একধরনের জাদুর আবার কয়েক ধরনের রূপ রয়েছে। আর সাধারণ মানুষ যাকে জাদু বলে জানে, তা জাদুকরের হাতের কৌশল ব্যতীত আর কিছুই নয়।