📄 কিভাবে অসুস্থতা সনাক্ত করা হয়?
জিন দ্বারা সংঘটিত অসুস্থতার ক্ষেত্রেও চিকিৎসা বিজ্ঞানে যেভাবে রোগ সনাক্ত করা হয়, ঠিক সেভাবে সমস্যা নির্ণয় করতে হবে, কী কারণে এমনটা হলো তা খুঁজে বের করতে হবে। প্র্যাকটিশনার একবার যদি জানতে পারেন যে, কেন তাকে জিন এ ক্ষতি করেছে, তাহলেই তিনি এর ভিত্তিতে তার চিকিৎসা করতে পারবেন।
কারণ নির্ণয় করার জন্য অবশ্যই তাকে স্থান নির্বাচন করতে হবে, যেসব স্থান আল্লাহর অবাধ্যতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেসব স্থান পরিহার করতে হবে। চিকিৎসার স্থানে দেওয়ালে যদি কোনো ছবি টাঙানো থাকে, তাহলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে, বাদ্যযন্ত্র থাকলে তা সরিয়ে নিতে হবে। অতঃপর রোগীকে সংক্ষেপে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান করার মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। আর রোগী মহিলা হলে তাকে অবশ্যই হিজাব পরাতে হবে এবং সঙ্গে মাহরাম পুরুষ রাখতে হবে。
সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্র্যাকটিশনারের অভিজ্ঞতাই প্রধান ভূমিকা পালন করে। আর এ রোগ নির্ণয়ের কাজটি করা হয় রোগীর পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়ার মাধ্যমে। রোগীর অবস্থা বা তার যে ক্ষতি হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন বিভিন্ন হবে, তবে কিছু সাধারণ প্রশ্ন সব রোগীকেই করার দরকার হবে।
এসব প্রশ্ন করার পর প্র্যাকটিশনার হয় সমস্যার কারণ দ্রুত নির্ণয় করতে পারবেন অথবা বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্বিধা-সংশয়ে পড়তে পারেন। যদি সমস্যা নির্ণয় করতে পারেন, তবে উপযুক্ত পদ্ধতিতে চিকিৎসা করবেন। আর যদি সংশয়ে থাকেন তবে রুকইয়া (ঝাড়ফুঁকের বিভিন্ন দোয়া ও আয়াত) তেলাওয়াত করবেন।
📄 যেসব আয়াত জিনকে শাস্তি দেয়
এসব চেষ্টার পরও যদি জিনকে আবির্ভূত হওয়ার ব্যাপারে রাজি করানো না যায়, তাহলে প্র্যাকটিশনার নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করতে পারেন, এর ফলে জিনের ওপর একটি প্রভাব পড়বে এবং এ আয়াত জিনকে শাস্তি প্রদান করবে ও নিদারুণ যন্ত্রণা দেবে। সম্পূর্ণ কুরআনই মানুষের জন্য নিরাময় ও রহমত।
আয়াতসমূহ:
১- সূরা আল ফাতিহা ۱: ১-৭
২- আয়াতুল কুরসী (বাকারা ২:২৫৫)
৩- সূরা আন-নিসা ৪:১৭১-১৭৩
৪- সূরা আল মায়েদাহ ৫:৩৩-৩৪
৫- সূরা আল আনআম ৬:৯৩
৬- সূরা আল-আ‘রাফ ৭:৪৪-৫১
৭- সূরা আল আনফাল ৮:১২-১৩
৮- সূরা আত-তাওবা ৯:৭
৯- সূরা ইবরাহিম ১৪:১৫-১৭
১০- সূরা আল হিজর ১৫:১৬-十八
১১- সূরা আল-ইসরা ১৭:১১০-১১১
১২- সূরা আল-আম্বিয়া ২১:৯৭
১৩- সূরা আদ-দুখান ৪৪:৪৩-৫২
১৪- সূরা আল-আহকাফ ৪৬:২৯-৩৪
১৫- সূরা আল-হজ ২২:১৯-২২
১৬- সূরা মারিয়াম ১৯:৬৮-৭২
১৭- সূরা আল-মুলক ৬৭:৫-১১
১৮- সূরা আল জিন ৭২:১-৯
১৯- সূরা আল ফালাক ও সূরা আন-নাস
📄 ভারতীয় কস্টাস (সুগন্ধীযুক্ত বৃক্ষ) বৃক্ষের তৈরি নাকের ড্রপ
ধূর্ত জিনকে বিরক্ত করার জন্য ভারতীয় কস্টাসের তৈরি বিশেষ নাকের ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগী এ ড্রপ এমনভাবে গ্রহণ করবে, যাতে এটা সরাসরি মস্তিষ্কে চলে যায়, যেখানে জিন অবস্থান করে। আর এভাবে ড্রপ গ্রহণ করার ফলে জিন এতটাই বিরক্ত হবে যে, এ বিরক্তি আর সহ্য করতে না পেরে দ্রুত পালাবার পথ খুঁজবে। অথবা জিন প্র্যাকটিশনারের সঙ্গে কথা বলবে এবং দ্রুত চলে যাওয়ার ও আর কখনো ফিরে না আসার প্রতিজ্ঞা করবে। ভারতীয় এ কস্টাস বা কস্তুরির কথা হাদীসেও উল্লেখ রয়েছে, যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারী (র.) তাঁর সহীহ গ্রন্থে।
টিকা:
৮২. ফাতহুল বারী, কিতাবুত তিব্ব।
📄 ভারতীয় কস্টাসের তৈরি নাকের ড্রপ প্রয়োগ পদ্ধতি
ভারতীয় কস্টাসের একটি উকিয়াকে প্রথমে গুড়া করে পাউডারে পরিণত করতে হবে। ফাথুল বারীতে ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন, কিভাবে কস্টাস ব্যবহার করতে হয়। তিনি বলেন, প্রথমে রোগীকে পিঠ নিচের দিকে দিয়ে চিৎ করে শোয়াতে হবে। কাঁধের নিচে কিছু একটা দিয়ে তার দেহের উপরের অংশকে একটু উঁচু করতে হবে। এতে তার মাথা পিছনের দিকে ঝুঁকে থাকবে। এবার কস্টাস মিশ্রিত জলপাইয়ের তেল তার নাক দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় ঢালতে হবে, এ তেল যেন তার মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে রোগীর হাঁচি তৈরি হবে এবং যে কোনো ধরনের অসুস্থতা এর মাধ্যমে বের হয়ে যাবে。
টিকা:
৪০. ফাতহুল বারি, কিতাবুল তিব্ব