📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 পাগলামি ও মৃগী রোগ জিন দ্বারা সংঘটিত হয়

📄 পাগলামি ও মৃগী রোগ জিন দ্বারা সংঘটিত হয়


আল্লাহ তা'আলা বলেন: “যারা সুদ খায়, তারা সেই লোকের মত দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা বেহুঁশ করে দেয়।” (সূরা বাকারাহ ২:২৭五)

ইমাম কুরতুবী বলেন, এ আয়াতে দেখানো হয়েছে, মৃগী রোগ জিন দ্বারা সংঘটিত হয় যারা এ কথা অস্বীকার করেন, এবং মনে করেন এটা শুধুমাত্র শারীরিক কারণেই হয় এবং যারা মনে করেন শয়তান মানুষের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না অথবা পাগল বানাতে পারে না, তাদের ধারণা ভুল।

イমাম তাবারি উক্ত আয়াতে ব্যাখ্যায় বলেন: (যারা সুদ খায়) তাদেরকে পরকালে কবর থেকে ওঠানো হবে ওই ব্যক্তির মতো করে, যাকে শয়তান পৈশাচিক পোটাতো পাগল বানিয়ে দিয়েছে। এর মানে হলো, এই পৃথিবীতে শয়তান তাকে পিটিয়ে পাগল বানিয়ে দেয়।

আল হাফিজ বিন কাসীর (রহ.) বলেন: “যারা সুদ খায়....” এ আয়াতের মানে হলো, যারা সুদ খায় তাদেরকে কবর থেকে মৃগী রোগীর মতো করে ওঠানো হবে এবং তার অবস্থা হবে শয়তান কর্তৃক প্রহৃত ব্যক্তির মতো। অর্থাৎ সুদখোর ব্যক্তিকে খুবই নিকৃষ্ট অবস্থায় ওঠানো হবে。

ইমাম আলূসী বলেন: যারা সুদ খায় তাদেরকে পরকালে কবর থেকে উঠানো হবে দুনিয়ার মৃগী রোগীদের মতো করে। আরবী তখব্বুত শব্দের অর্থ হলো, শরীরের বিভিন্ন অংশে অবিরত আঘাত করা। আর শয়তানের স্পর্শ মানে হলো পাগলামি বা উন্মাদনা রোগ。

জিনদের অস্তিত্ব সম্পর্কে হাদীসের প্রমাণ
১. মুত’র বিন আবদুর রহমান আল আ’নাক্ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উম্মা আ’বান বিনতে আল ওয়াফি বিন ইয়ারি বিন আমীর আল আ’বাদি তার পিতা থেকে আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তার দাদা আল ইয়ারি তার অথবা তার বোনের এক ছেলেকে আল্লাহর রাসূলের (সা.) কাছে নিয়ে আসলেন। আমার দাদা বলেন, আমরা মদিনায় আল্লাহর রাসূলের (সা.) কাছে এসে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (সা.), আমার সঙ্গে আমার অথবা আমার এক বোনের ছেলে রয়েছে, তার মস্তিষ্ক বিকৃত। আমি তাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি, যাতে আপনি আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করতে পারেন।

আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন: “তাকে আমার কাছে নিয়ে এস।” “তাকে আমার কাছে নিয়ে আস” “তার মুখ খোল”
সে তার মুখ খুলল, এবং আল্লাহর রাসূল (সা.) তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করলেন, অতঃপর বললেন: “দূর হও, হে আল্লাহর শত্রু, কারণ আমি আল্লাহর রাসূল (সা.) বলছি।”
এ কথা তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর রাসূল (সা.) বললেন: “এবার তোমার ছেলেকে নিয়ে যাও, তার মধ্যে খারাপ কিছু নেই, এবং সে যে সমস্যায় ভুগছিল তা আর কখনো ফিরে আসবে না।”

আল হাসামী বলেন: হাদীসটি তাবারানী কর্তৃক আল আওসাতে বর্ণিত হয়েছে, আর আল বাযার এটির সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেন। হাদীসটির সনদের মধ্যে আব্দুল হাকিম বিন সুফিয়ান রয়েছেন, তাকে উল্লেখ করেছেন ইবনে আবূ হাতিম, তবে কেউ তার সমালোচনা করেননি, আর এ হাদীসের বাকি বর্ণনাকারীরাও সিকাত নির্ভরযোগ্য。

২. সাফিয়া বিন হুয়াই থেকে বর্ণিত, নাবী (ﷺ) বলেন: “শয়তান আদম সন্তানের মাঝে তার দেহের রক্তের মতো প্রবাহিত হয়।”

যৌক্তিক প্রমাণ:
শায়খ মুহাম্মাদ আল হামিদ বলেন, যেহেতু জিনদেরও হালকা দেহ রয়েছে, সেহেতু তাদের আদম সন্তানের দেহে প্রবেশের কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না, এবং এ কথা বা বক্তব্যের বিরোধিতা করবে এমন কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায় না। সে কারণে হালকা কোনো কিছু ঘন বা ভারী কোনো কিছুর মধ্য দিয়ে অনায়াসে প্রবাহিত হতে পারে, যেমন- মানুষের শরীরের ভিতরে বায়ু প্রবেশ করতে পারে অথবা কয়লার মধ্যে দিয়ে আগুন প্রবাহিত হয় অথবা তাদের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়。

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহঃ) বলেন: জিন মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে এ তথ্যটি আহলুস সুন্নাহ-এর সম্মতিক্রমে প্রমাণিত। যারা এর সত্যতা যাচাই করেছেন, এটা পরীক্ষা করেছেন তারা নিজ চোখে এ সত্য দেখেছেন এবং প্রত্যক্ষ করেছেন। জিন মৃগীরোগীর দেহে প্রবেশ করে এবং তার মুখ দিয়ে এমনসব কথা বলে যে সম্পর্কে ওই ব্যক্তি সচেতন নন এবং পরবর্তীতে তিনি তা স্মরণও করতে পারেন না।

টিকা:
১১. [তাফসীরে আল কুরতুবী, ৩/২৩৪]
১২. [তাফসীরে আল তাবারি, ৩/১৩১]
১৩. তাফসীর ইবনু কাসীর, ۱/৩২৬
১৪. ওয়াহিদ বালি, উইকাইয়াহ্ আল-ইনসান, ৫৭ থেকে উদ্ধৃত।
১৫. মাসماউত্ব জাওয়াঈদ, ৯/৯
১৬. ফাতহুল বারী, ৪/২৫২; মুসলিম বি শারহে আল নববী, ৪/১৫৫
১৭. ফাতহুল আল আরাবাতীন, ২/১০৫।
১৮. ইগাইছাল আল ইনসান মিনাল জিন ওয়াশ শায়তান, পৃ-৫৮-৫৮।
১৯. আত তিব্বুন-নাবাবী, ৫২。
২০. রিসালাত আল জিন, ৮。
২১. মুকতাসার আল ফাতাওয়া, ৫৬৪。

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জিন দ্বারা সংঘটিত রোগ ও ক্ষতির ধরণ

📄 জিন দ্বারা সংঘটিত রোগ ও ক্ষতির ধরণ


জিন মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি ও ক্ষতি করতে পারে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, মেজাজ, দেহ, সম্পদ, অবস্থান, ব্যবসা, সম্পর্ক ও পড়া-লেখার ক্ষতি করতে সক্ষম।

আমরা এখানে যে অসুস্থতার কথা আলোচনা করব, তা মানুষের ওপর জিনের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ অথবা ডাকিনিবিদ্যার কারণে সংঘটিত হতে পারে। আমরা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এসব রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব। এসব অসুস্থতা হলো নিম্নরূপ:
১. তীব্র ভয়
২. মানসিক ও স্নায়ু রোগ (উন্মাদ রোগ, বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, দুশ্চিন্তা, মৃগীরোগ, ওয়াসওয়াসা, ব্যক্তিত্বের ঘাটতি)
৩. শারীরিক অসুস্থতা (যেসব অসুস্থতা মানুষের তৈরি ওষুধ দ্বারা চিকিৎসা করা যায় না, এবং যার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানেও কোনো নিরাময় নেই)।
৪. হ্যালুسینেশন বা দৃষ্টিবিভ্রম
৫. মানুষের মাঝে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে শত্রুতা ও বিভাজন তৈরি করা, যেমন-স্বামী ও স্ত্রী, ব্যবসায়িক অংশীদার, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে।
৬. স্ত্রীরোগ (বন্ধ্যাত্ব, অতিরিক্ত রক্তপাত, অনিয়মিত রজচক্র, ইনফেকশন ইত্যাদি)
7. যৌন সমস্যা (অক্ষমতা, অপরিণত বয়সে বীর্যপাত)
8. মানুষের বাড়িঘর ও ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতি করা (ঘরের আসবাবপত্র চারদিকে ছুঁড়ে ফেলা, ঘরের চালে পাথর নিক্ষেপ করা)।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 যেসব কারণে মানুষ জিনকে ভয় পায়

📄 যেসব কারণে মানুষ জিনকে ভয় পায়


জিনের কারণে ভয় পাওয়ার দুটি দিক রয়েছে। একটি সঠিক, অন্যটি সঠিক নয়। সঠিক দিকটি হল, কিছু জিন মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, এর মাধ্যমে তারা মানুষকে বিভিন্ন কণ্ঠস্বর শোনায়, কিছু দেখায় এবং তার মধ্যে এমন একটি অনুভূতি তৈরি করে দেয় যে, তার মনে হবে কেউ যেন তার পিছু পিছু আসছে বা তাকে অনুসরণ করছে এবং এই অনুভূতি তৈরির মাধ্যমে তারা মানুষকে তার নিজ বাড়িতেও ভয় পাইয়ে দেয়। এই ভয় দূর করার জন্য নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে, সকালে ও সন্ধ্যায় আযকার করতে হবে, আর এই ভয়ের কারণে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য অনুসরণ করতে হবে বিশেষ কর্মসূচি。

আর ভুল দিকটি হল জিনকে নিয়ে মানুষের মনে প্রোথিত গভীর আতঙ্ক। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে এসব ভয় যাচাই করার কোনো উপায় নেই। তাই এখন আমরা একটি রূপরেখা তৈরি করব যে, কেন মানুষ জিনকে এত ভয় পায়, জিনের নাম উল্লেখ করলেই কেন তারা আতঙ্কে শিউরে ওঠে, তাহলেই আমরা এ সমস্যাটি ধরতে পারব এবং এর প্রতিকারও করতে পারব।

যেসব কারণে মানুষ জিনকে ভয় পায়:
১. ভয় পাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে প্রথম ও প্রধানতম হল তাওহীদ সম্পর্কে মানুষের অজ্ঞতা। কোনো স্থানে যদি তাওহীদ সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাব থাকে, তাহলে সেখানে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করে। পুরাণ বিজয়ী হয়, মন্দরা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। হাতুড়ে বৈদ্যরা তাদের মিথ্যা জ্ঞান চর্চার জন্য পাবে উর্বর ভূমি এবং শয়তানও তাদের কাজে সহায়তা করবে। আর এ কারণেই মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে, জিনরা অদৃশ্যর খবর জানতে সক্ষম, তারা সুবিধা বয়ে আনতে পারে এবং ক্ষতি প্রতিহত করতে পারে, অথচ এসব গুণাবলী একমাত্র আল্লাহ তা'আলার। এ কারণে জিনের নামোল্লেখ মাত্রই মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়ে যায়।
২. বানোয়াট গল্পের ব্যাপক প্রসার। লোকেরা এ ধরনের গল্প শুনতে বেশ পছন্দ করে এবং শোনার পর তারা এগুলোকে বিস্ময়কর গতিতে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। এসব গল্প নারী, শিশু ও দুর্বলচিত্তের মানুষের মাঝে সহজেই ভয় তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে。
৩. জাদুকররাও এ ভয়, এসব গল্প ও পুরাণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে。
৪. শরীয়াতে নির্দেশিত আয়াতগুলো তেলাওয়াত ও ব্যর্থতার কারণে অনেক সময় মানুষের মাঝে জিন অবস্থান নেয়, অনেক ক্ষেত্রে এর কারণে মানুষ জিনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়।

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জিন সম্পর্কে মানুষের অযৌক্তিক ভয়ের চিকিৎসা

📄 জিন সম্পর্কে মানুষের অযৌক্তিক ভয়ের চিকিৎসা


১. তাওহীদ
সকল ইবাদাত, ইসলামের বিভিন্ন প্রথা বা অভ্যাস পুনর্জাগরিত করা এবং সকল ভালো ও মন্দ একমাত্র আল্লাহর হাতে মানুষকে এ কথা শিক্ষা দেয়ার মূল ভিত্তি হলো মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান করা। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কোনো সৃষ্টি তা সে যত বড়ই হোক না কেন কারো জন্য কোনো উপকার বা ক্ষতি বয়ে আনতে পারে না, এ ক্ষমতা তার নেই। কারো ভালো করা বা ক্ষতি করার ক্ষমতা একমাত্র মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা'আলার হাতে।

উপকার ও ক্ষতি করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার হাতে কেউ যদি পবিত্র কুরআনের এ বিশুদ্ধ ও পবিত্র শিক্ষায় বিশ্বাস করে, এ বিশ্বাস যদি তাদের মনে গভীরভাবে প্রোথিত হয়, তাহলে তার মধ্যে থেকে জিন, মানুষ ও সকল সৃষ্টি সম্পর্কিত সকল ভয় দূর হয়ে যাবে। এ কারণেই কুরআন বিভিন্ন আয়াতে আমাদের একমাত্র আল্লাহ তা'আলাকেই ভয় পাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

এ কারণেই বিদ্বান ও ফকিহগণ বলেছেন, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় পাওয়া এক ধরনের শিরক, কুরআন ও হাদীসের আলোকে যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মুসলিমগণ প্রতিদিন কালিমা পাঠ করেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সুতরাং তাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, তারা আল্লাহর সৃষ্ট জীবকে ঘিরে যে সব ভয়ের মুখোমুখি হন, তার উপর এ কালিমার একটি প্রভাব রয়েছে। যিনি তাওহীদে বিশ্বাস করেন এবং এর উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্পর্কে সচেতন, তিনি কখনো আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় পেতে পারেন না, কারণ যখনই তিনি বলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো উপাস্য বা ইলাহ নেই, তখনই তিনি বুঝতে পারেন, আল্লাহ্ ব্যতীত ক্ষতির আর কোনো উৎস নেই, তিনি ব্যতীত আর কারো উপরে আস্থা রাখা যায় না, আর কারো কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা যায় না, তিনি একমাত্র সার্বভৌম, তাঁরই আনুগত্য করতে হবে, তিনি ব্যতীত আর কারো কাছেই প্রতিরক্ষার প্রার্থনা করা যাবে না, তিনি একমাত্র শাসক এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করা যাবে না। এ ঘোষণা, এ বিশ্বাস থেকে বিন্দুমাত্র নড়চড় বা বিচ্যুতি ঘটলে তা শিরক বলে গণ্য হবে। আর এ শিরক কুরআন ও হাদীসের আলোকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমনকি যদি কেউ নিয়মিত সালাত ও রোযা পালনও করে। আল্লাহর কাছে (রুবুবিয়্যাহ) নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ না করা পর্যন্ত, একমাত্র তাঁকেই ভয় না করা এবং জিন অথবা মানুষ অথবা অন্য যে কোনো সৃষ্ট জীবের ভয় থেকে নিজেকে মুক্ত না করা পর্যন্ত কেউ তাওহীদের প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে না。

২- এ উপলব্ধি অর্জন করা যে, শয়তানের ষড়যন্ত্র খুবই দুর্বল। আল্লাহ তা’আলা বলেন: "শয়তানের ফন্দি অবশ্যই দুর্বল।" (আন-নিসা ৪:৭৬)

৩- তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে, সকল জিনই দেখতে কুৎসিত ও কালো নয়, যেভাবে তাদেরকে বিভিন্ন গল্পে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে ভয় দেখানো হয়ে থাকে। কিছু জিন রয়েছে যারা মানুষের চেয়েও বেশি সতর্ক করে থাকে, আবার কিছু জিনের মাঝে বিশ্বাস, দয়া এবং অন্যদেরকে আল্লাহর পথে ডাকার মতো চমৎকার রেকর্ডও রয়েছে। কিছু জিন মানুষের চেয়েও অধিক খোদাভীরু ও ঈমানদার। কিছু জিন অন্যায়ের ব্যাপারে আল্লাহর পথে আহ্বান জানায়, আবার কিছু জিনের রাসূলের (ﷺ) হাদীস সম্পর্কে রয়েছে ব্যাপক জ্ঞান।

৪- মুসলিমদের বোঝা উচিত যে, মানুষের তুলনায় জিনের অবস্থান নিচে এবং কম মর্যাদাসম্পন্ন, এমনকি জিন যদি খোদাভীরুও হয়। শেখ আবূ বকর আল জাযায়ের বলেন: এমনকি খোদাভীরু ও সৎকর্মকারী জিনরাও মর্যাদার দিক থেকে মানুষের থেকে নিচু অবস্থানে, কারণ স্রষ্টা স্বয়ং বলেছেন, মানুষ হলো শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত জীব।

৫- এসব গল্পের প্রচার বা অন্যদের কাছে ছড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। ভালো হয়, এসব বিষয়ে কথা না বলেই, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের মাঝে এসব গল্প বলা যাবে না, কারণ এসব গল্প এমন এক জगतকে নিয়ে, যা আমাদের কাছে দৃশ্যমান নয়। জিনরাও অনেক মিথ্যা কথা বলে, তাই আমরাও নিশ্চিত হতে পারি না যে, আসলে জিন সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে। সুতরাং এসব গল্প মানুষের মাঝে না ছড়ানোই ভালো।

টিকা:
২০. ইবনে মুfলিহ আল হাম্বলি, মাসাইব আল ইনসান মিন মাকাইদুল শায়তান, ১০২-১০৩
২৬. আবু বকর জাবির আল জাযাইরী, আকীদাতুল মুমিন, পৃ ২১৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px