📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জিনের সংজ্ঞা

📄 জিনের সংজ্ঞা


আরবী 'জ্বিন' শব্দটির অর্থ হলো গোপন কিছু, অদৃশ্যমান কিছু। আল-জাওয়াহিরী¹ বলেন: জিন শব্দটির উদ্ভব ঘটেছে আল-জান থেকে, যার বহুবচন হল জিনাম। আল-ক্বামুস আল-মুহিত-এ বলা হয়েছে: জান্নাল লাইল মানে হলো, রাত তাকে আবৃত করেছে। আপনার কাছ থেকে যা কিছু অদৃশ্য তাই হলো জুন্না আনকা (আপনার থেকে অদৃশ্য)। আর জিন-উল-লাইল মানে হলো রাতের অন্ধকার। আল-মিজবাহ্ব মানে হলো ওই স্থান যেখানে অনেক জিন রয়েছে। আল-জান শব্দটি জিন শব্দের বহুবচন。

লিসানুল আরাব গ্রন্থে বলা হয়েছে: জানা না। মানে হলো-আবৃত করা অথবা লুকিয়ে ফেলা। জুন্না আনকা মানে হলো যা কিছু আপনার কাছ থেকে অদৃশ্য। জান্নাল লাইল মানে হলো- রাত তাকে আবৃত করেছে.... জিনরা আপনার কাছ থেকে অদৃশ্য ও গোপন বলেই তাদেরকে জিন বলা হয়। একইভাবে ভ্রুণকেও আল-জানিন বলা হয়, কারণ এটি এর মায়ের গর্ভে অদৃশ্যমান ও গোপন থাকে。

আবু উমর বিন আবদুল বার বলেন: আরবী ভাষার পণ্ডিতদের মতে জিন যদি লোকজনের সঙ্গে তাদের ঘরে বসবাস করে তবে তাকে বলা হয় জামীম (বসবাসকারী) যার বহুবচন হলো আওয়াম। ৩. যেসব জিন শিশুদের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে তাদেরকে বলা হয় আরওয়াহ্ (আত্মা)। ৪. খারাপ বা বদ জিনকে বলা হয় শয়তান। ৫. জিন যদি আরো খারাপ হয় তখন তাকে বলা হয় মারিদ (পিশাচ)। ৬. জিন যদি আরো খারাপ ও শক্তিশালী হয়, তখন তাকে বলা হয় ইফরিত।

টিকাঃ
১. আল-সুন্নাহ গ্রন্থের সংকলক
২. ফায়রোযাবাদী প্রণীত ক্বামুসুল মুহীত, পৃ. ২১৩
৩. ইবনুল মুনযিল প্রণীত লিসানুল মীয়ান পৃ. ১৩, ৪২, ৮০

আরবী 'জ্বিন' শব্দটির অর্থ হলো গোপন কিছু, অদৃশ্যমান কিছু। আল-জাওয়াহিরী বলেন: জিন শব্দটির উদ্ভব ঘটেছে আল-জান থেকে, যার বহুবচন হলো জিনাম। আল-ক্বামুস আল-মুহিত-এ বলা হয়েছে: জান্নাল লাইল মানে হলো, রাত তাকে আবৃত করেছে। আপনার কাছ থেকে যা কিছু অদৃশ্য তাই হলো জুন্না আনকা (আপনার থেকে অদৃশ্য)। আর জিন-উল-লাইล মানে হলো রাতের অন্ধকার। আল-মিজবাহ্ব মানে হলো ওই স্থান যেখানে অনেক জিন রয়েছে। আল-জান শব্দটি জিন শব্দের বহুবচন।

লিসানুল আরাব গ্রন্থে বলা হয়েছে: জানা না। মানে হলো-আবৃত করা অথবা লুকিয়ে ফেলা। জুন্না আনকা মানে হলো যা कुछ আপনার কাছ থেকে অদৃশ্য। জান্নাল লাইল মানে হলো- রাত তাকে আবৃত করেছে.... জিনরা আপনার কাছ থেকে অদৃশ্য ও গোপন বলেই তাদেরকে জিন বলা হয়। একইভাবে ভ্রুণকেও আল-জানিন বলা হয়, কারণ এটি এর মায়ের গর্ভে অদৃশ্যমান ও গোপন থাকে。

আবু উমর বিন আবদুল বার বলেন: আরবী ভাষার পণ্ডিতদের মতে জিন যদি লোকজনের সঙ্গে তাদের ঘরে বসবাস করে তবে তাকে বলা হয় জামীম (বসবাসকারী) যার বহুবচন হলো আওয়াম। ৩. যেসব জিন শিশুদের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে তাদেরকে বলা হয় আরওয়াহ্ (াত্মা)। ৪. খারাপ বা বদ জিনကို বলা হয় শয়তান ৫. জিন যদি আরো খারাপ হয় তখন তাকে বলা হয় মারিদ (পিশাচ) ৬. জিন যদি আরো খারাপ ও শক্তিশালী হয়, তখন তাকে বলা হয় ইফরিত।

টিকা:
১. আল-সুন্নাহ গ্রন্থের সংকলক
২. ফায়রোযাবাদী প্রণীত ক্বামুসুল মুহীত, পৃ. ২১৩
৩. ইবনুল মুনযিল প্রণীত লিসানুল মীয়ান পৃ. ১৩, ৪২, ৮০

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জিন ও শয়তান প্রসঙ্গে মানুষের তাওহীদ সংক্রান্ত বিশ্বাস

📄 জিন ও শয়তান প্রসঙ্গে মানুষের তাওহীদ সংক্রান্ত বিশ্বাস


জিন সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাস বিভিন্ন ধরনের। কেউ কেউ আদৌ জিনের অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেন না, অনেকে আবার জিনের অস্তিত্বের প্রতি জোর না দিয়েই জিন শব্দটির অর্থ করার চেষ্টা করেন, আবার অনেকে জিন ও শয়তান শব্দটির এমন ভুল ব্যাখ্যা করেন, যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।

শাইখুল ইসলাম বিন তাইমিয়্যাহ বলেন: সকল জাতিই জিনে বিশ্বাস করে, এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে অনেক দীর্ঘ গল্পও রয়েছে। কতিপয় অজ্ঞ দার্শনিক ও চিকিৎসক ছাড়া খুব কম লোকই জিনে অবিশ্বাস করে। অভিজাত শ্রেণীর লোকদের সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, হয় তারা জিনে বিশ্বাস করেন, নয়তো এ সম্পর্কে তাদের কোনো মতামত নেই।

ড. ইবরাহিম কামাল আদহাম তার মূল্যবান গ্রন্থ আল সিহ্‌র ওয়াল সাহারা-তে বলেন: সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জিন নিয়ে গবেষণা করা, বিশেষ করে যেহেতু এটি করতে হয় একটি গোপন জগত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার মাধ্যমে, যে জগত আসলে অদৃশ্যমান, ভৌতিকভাবে বা প্রায়োগিক উপায়ে যা পরিমাপও করা যায় না।

জিন বিষয়ে মানুষের মনে বিভিন্ন ধারণা রয়েছে, যা তাদের সংস্কৃতি, ব্যক্তিগত চিন্তা-চেতনা ও শিক্ষার পর্যায় অনুসারে বিভিন্ন হয়ে থাকে। জিন সম্পর্কে এমন অনেক গল্প লোকজন গ্রামে ও মরুতে একে অপরের কাছে বলে থাকেন, এসব স্থানে জাদুকর, প্রতারক ও হাতুড়ে বৈদ্যেরাও ব্যাপক বিকৃতি ঘটায়।

ড. ইবরাহিম কামাল আদহাম বলেন: যুবক-বৃদ্ধ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী ও পুরুষ সব ধরনের মানুষেরই জিন ও এদের গোপন বা অদৃশ্য জগত সম্পর্কে কিছু না কিছু বলার থাকে। জিন সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহকালে আমি যেসব লোকের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের মধ্যে আমি এমন কাউকে পাইনি, যিনি আমাকে জিন সম্পর্কে এক গাদা তথ্য দেননি।

জিন সম্পর্কে মানুষের বিশ্বাস আসে বিভিন্ন উৎস থেকে। কিছু আসে প্রাকৃতিক শক্তি সম্পর্কে মানুষের ভীতি থেকে সৃষ্ট আদিম বিশ্বাস থেকে। কিছু আবার মানব চিন্তা ও গোপনীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। কিছু আসে গণক, ডাকিনী ও হাতুড়ে বৈদ্যদের তৈরি পুরাণ ও রূপকথার গল্প থেকে, তারা এসব গল্প ফাঁদে মূলত তাদের দুর্বল শিকারকে প্রতারিত করার জন্য।

জিন সম্পর্কিত কিছু বিশ্বাসের জন্ম হয় শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা প্ররোচনা থেকে। আবার কিছু বিশ্বাসের উদ্ভব ঘটে ইসলামের শিক্ষা বা এর বিকৃতি থেকে। আমি যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছি তাতে দেখেছি, সাধারণ ও শিক্ষিত উভয় শ্রেণীর লোকেরাই জিনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন, এ বিষয়ে তাদের মাঝে প্রকাশ্য ঐকমত্যও রয়েছে। এসব বিশ্বাসের মাত্রা ততটুকু পর্যন্ত, যতটুকু ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ এই গোপনীয় বা অদৃশ্যমান জগত সম্পর্কে অনেক বিস্তৃত পরিসরে বলতে চেষ্টা করে, অনেক তথ্য উপস্থাপন করেন, যার জন্য আল্লাহ কোনো বিশেষত্ব প্রেরণ করেননি। এসব লোক এমনভাবে কথা বলেন, যেন তারা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট এসব দেখতে পান。

জিনে বিশ্বাস করেন এমন যাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে তাদের অধিকাংশই মনে করেন যে, জিনদেরকে দেখা সম্ভব, এরা বিভিন্ন আকার ধারণ করতে পারে, এসবের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ আকার হলো বিরাট সাপ, কালো বিড়াল, কালো কুকুর অথবা ভেড়া। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, অনেকে বলেন, জিন যখন কোনো মানুষের আকার ধারণ করে, তখন এদের পা ছাগলের পায়ের মতো দেখতে হয়।

আরেকটি বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে যে, জিনরা নেকড়েকে ভয় পায়, তাই এরা কখনো নেকড়ের রূপ ধারণ করতে পারে না। অনেকেই মনে করেন, জিন যখন ভৌঁত আকারে আবির্ভূত হয়, তখন নেকড়ে এদের উপর প্রভাব খাটাতে পারে এবং এ সময় তারা জিনদেরকে আক্রমণ ও গ্রাস করে ফেলে ফেলতে সক্ষম। তাদের আরো ধারণা যে, জিনরা নেকড়ের গায়ের গন্ধ পাওয়ামাত্রই পালাতে শুরু করে। এ কারণেই আমি পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামে যাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম তারা গলায় এক ধরনের কবচ ধারণ করত, এই কবচে থাকত নেকড়ের দেহের কিছু অংশ যেমন-চুল, দাঁত, হাড়ের টুকরো অথবা ত্বকের কিছু অংশ।

অনেক মানুষের মাঝেই জিন সম্পর্কে এবং জিনের নাম নেয়ার ব্যাপারে গভীর আতঙ্ক কাজ করে। তাই আপনি খেয়াল করে দেখবেন, যখন তারা জিন সম্পর্কে কথা বলে, তখন শুরুতেই আতঙ্কের সঙ্গে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে। আবার কখনো কারো যদি পিঠে ব্যথা হয় এবং এই ব্যথার জন্য যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো সমাধান না মেলে তাহলে সবশেষে ওই ব্যক্তি বলে বসবেন বা মনে করবেন এটা জিনের কাজ, জিন তার ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে; তিনি নিশ্চয়ই না বুঝে কখনো কোনো জিনকে আঘাত করেছেন অথবা অন্য কোনোভাবে বিরক্ত করেছেন, আর তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই জিন তার পিঠে আঘাত করেছে।

একইভাবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে জিনের সঙ্গে যাদের ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া রয়েছে তারা মনে করেন, জিন অনেক অনেক দিন বেঁচে থাকে। তাদের অনেকে নিশ্চিত যে, জিন হাজার হাজার বছর বাঁচে, এবং এই কথার সমর্থনে তারা বলে থাকেন, এখন তারা যে জিনকে ডাকেন, সেই একই জিনকে তাদের বাবা, দাদারাও তলব করেছিলেন….আসলে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এছাড়াও জিন সম্পর্কে মানুষের আরো অনেক বিশ্বাস রয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম আকিদার জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে বিশ্বাসটি প্রচলিত রয়েছে সেটি হল, জিন অদৃশ্য জগত বা গায়েব সম্পর্কে জানে, এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বিশ্বাস, অথচ এটি অধিকাংশ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আর এই বিশ্বাসের কারণেই তারা গণক ও ভাগ্য বর্ণনাকারীদের বাড়ির দরজায় হুমড়ি খেয়ে পড়েন, এসব গণক ও ভবিষ্যদ্বক্তা জিনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন। এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বিশ্বাস।

এছাড়াও অনেকে মনে করেন, জিনদেরকে বশ করা সম্ভব এবং তাবিজ, জাদুঘর ব্যবহার ও ধূপ জ্বালানোর মাধ্যমে জিনকে দিয়ে তাদের অনেক প্রয়োজনও পূরণ করা যায়। এ শ্রেণীর মানুষ জিনের শ্রেণীবিন্যাসও করেন, জিনদেরকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেন, যেমন-শ্রেষ্ঠ ও নিকৃষ্ট জিন অথবা শয়তানের হুকুম তামিলকারী জিন ও আল্লাহর হুকুম তামিলকারী জিন ইত্যাদি। এই প্রত্যেক ক্যাটাগরির জন্য আবার আলাদা আলাদা তাবিজ ও ধূপ রয়েছে এবং এগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এভাবে তারা শ্রেষ্ঠ জিনকে ব্যবহার করেন উত্তম উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য, যেমন- মানুষের মাঝে ভালোবাসা ও মিল তৈরি করা, অন্যদিকে নিকৃষ্ট জিনকে ব্যবহার করা হয় ক্ষতিকর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য, যেমন- মানুষের মাঝে শত্রুতা ও বিভাজন তৈরিতে। যেভাবে তারা জিনকে শ্রেষ্ঠ ও নিকৃষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ করেন, ঠিক একইভাবে তারা জিনকে এদের কাজের ধরণ ও বর্ণ অনুসারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেন। সুতরাং তাদের মতে লাল জিন, কালো জিন ও সবুজ জিন রয়েছে, আবার কিছু জিন আছে যারা আকাশে উড়ে, কোনো জিন আবার পানির নিচে চলাচল করে, আবার কোনো কোনো জিন মরুভূমি ও বন-জঙ্গলে বিচরণ করে।

আমি যে গ্রামে বড় হয়েছি সেখানে শৈশবে রাতের গল্পের আসরে যেসব গল্প শুনতাম তার অনেক গল্প আমার এখনো মনে আছে। এসব গল্প ছিল জিনদেরকে নিয়ে, মানুষের মাঝে জিন কোনো রূপ ধরে আবির্ভূত হয়, কিভাবে জিনরা পরপোশ, ছোট শিশু ও বিভিন্ন প্রাণীর আকার ধারণ করে গ্রামের রাস্তাঘাটে বিচরণ করে, এসব নিয়ে।

এর মধ্যে একটি গল্প ছিল বেশ প্রচলিত, অনেকেরই জানা এটি, এক লোক রাতে তার ক্ষেতে কাজ করতেন, এ সময় একজন এসে প্রায়ই তাকে সাহায্য করার প্রস্তাব করত, একদিন তিনি সাহায্যের প্রস্তাবকারী ওই লোকটির পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, তার পা দুটো গাধার পায়ের মতো। এটা দেখে আতঙ্কে শিউরে উঠলেন তিনি, এবং হন্যে হয়ে ছুটতে শুরু করলেন, থামলেন তার গ্রামের প্রান্তে গিয়ে। সেখানে তার দেখা হল আরেকজনের সঙ্গে। এই লোকটি তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করল, জানতে চাইল কী হয়েছে, তিনি ক্ষেতে কাজ করার সময় যা যা ঘটেছে সব খুলে বললেন, তিনি বললেন, সেখানে একটি জিন এসেছিল, যার পা দুটো দেখতে গাধার পায়ের মতো। এবার লোকটি বলল, ঠিক আমার পায়ে মতো, তাই না? এবার তিনি এই লোকের পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তার পাও গাধার পায়ের মতো...

লোকজ পুরাণ অনুসারে মনে করা হয়, মিসরের উঁচু এলাকায় যদি কোনো ব্যক্তিকে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হত্যা করা হয়-সেখানে এ ধরণের প্রথা প্রচলিত রয়েছে, কারণ সেখানে আল্লাহর শাসন কায়েম নেই-তাহলে যে স্থানে ওই লোককে হত্যা করা হবে, সেখানে একজন ইফরীতের আবির্ভাব ঘটবে।

প্রকৃতার্থে, এসব গল্প বেশ প্রচলিত ও ব্যাপক বিস্তৃত। ওঝা, জ্যোতিষী ও মৃত ব্যক্তিদের পুজারিদের প্রভাব যে স্থানগুলোতে বেশি, সেখানে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার কারণে এবং মানুষের মাঝে সঠিক ইসলামি জ্ঞান, তাওহীদের জ্ঞান ও সঠিক আকিদা না থাকায় এসব ভ্রান্ত ধারণা আরও প্রসারিত হয়। এই সুযোগে অশুভ শক্তিরা মানুষের মনে ভয়ের সৃষ্টি করে।

এই পরিস্থিতি থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: এসব বিশ্বাস ও গল্প প্রসঙ্গে মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত?

এ প্রশ্নের উত্তরে আমরা বলব, জিনের অস্তিত্ব এবং তাদের অদৃশ্য জগৎ সম্পর্কে একজন মুসলিমের মনে বিশ্বাস থাকতে হবে, এমনকি যদি তারা তার কাছে অদৃশ্যমানও হয়। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এ ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে একমত হয়েছেন যে, জিনের অস্তিত্ব যিনি অস্বীকার করবেন, তিনি কাফির বলে গণ্য হবেন, কারণ তিনি কুরআন ও হাদীসের কথাকে প্রত্যাখ্যান করছেন। পবিত্র কুরআনের চল্লিশটিরও বেশি আয়াতে জিন সম্পর্কে বলা হয়েছে, এসব বর্ণনা দশটি সূরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এছাড়া শুধু ‘জ্বিন’ নামে একটি সূরা রয়েছে।

একজন মুসলিমের মাঝে জিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে, এতে সন্দেহের লেশ মাত্র থাকতে পারবে না। যতটা সম্ভব পারা যায়, মুসলিমদের উচিত এসব প্রচলিত গল্প ও বিশ্বাসগুলোকে কুরআন ও হাদীসের আলোকে পরিমাপ করা। এ প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদীস যা বলবে, তাই আমাদের মেনে নিতে হবে, তা-ই গ্রহণ করতে হবে, এবং যা কিছু কুরআন ও হাদীসের বিপক্ষে যাবে সেগুলোকে বর্জন করতে হবে। যেহেতু এটি একটি অদেখা ও অদৃশ্য জগৎ, তাই আমরা সকল ধারণা ও বিশ্বাসকে সঠিক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি না।

সহীহ মুসলিমে এ বিষয়ে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীস রয়েছে, এই হাদীসে বর্ণিত আছে, জিনরা আল্লাহর রাসূলের (ﷺ) কাছে তাদের খাদ্য সংস্থানের কথা বলল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন:
'যেসব হাড়ের উপর আল্লাহ তা’আলার নাম নেয়া হয়েছে এবং যেগুলোতে পর্যাপ্ত গোশত রয়েছে সেগুলো তোমাদের খাবার, আর তোমাদের প্রাণীদের খাবার গোবর।'
অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: 'সুতরাং এ দুটি জিনিস দিয়ে তোমরা কখনো ইস্তিনজা করবে না, কারণ এগুলো তোমাদের ভাইদের খাবার।'

সে কারণেই আমরা হাড়ের ওপর কোনো গোশত দেখতে পাই না, আমরা শুধু হাড়টিকেই দেখতে পাই। তবে আমরা গোবর হারিয়ে যেতে দেখি না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের জানিয়েছেন যে, গোবর হলো জিনদের গবাদি পশুর খাবার। সুতরাং আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, যেসব হাড়ের ওপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে এবং যাতে পর্যাপ্ত গোশত আছে তা জিনদের খাবার, আর গোবর হলো তাদের পশুর খাবার।

আমাদের অবশ্যই এই গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাস করতে হবে, কারণ স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের এ কথা বলেছেন। মানুষ আমাদের কাছে জিন সম্পর্কিত যেসব গল্প ও বিশ্বাসের কথা বলবে, সেগুলোকে আমাদের অবশ্যই কুরআন ও হাদীসের আলোকে যাচাই করতে হবে। যদি সেগুলো কুরআন ও হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে আমরা তা গ্রহণ করব, অন্যথায় তা বর্জন করব। পরিশেষে, প্রত্যেক মুসলিমেরই জিনের অস্তিত্বে এবং এ সংক্রান্ত কুরআন ও হাদীসের দলিলে অবিচল বিশ্বাস থাকা আবশ্যক।

টিকা:
৬. ইব্রাহিম কামাল আদহাম প্রণীত আল সিহর ওয়াল সাহরা
৭. মিসরের একটি গ্রাম
৮. আশ-শিবলী প্রণীত আহকামুল মারজান পৃ. ২১
৯. ইবনু তাইমিয়্যাহ’র মাজমূয়া ফাতাওয়া, ১৯/৩২

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জিনের অস্তিত্বের প্রমাণ

📄 জিনের অস্তিত্বের প্রমাণ


১. পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণ
“স্মরণ কর, যখন জিনদের একটি দলকে তোমার প্রতি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম যারা কুরআন শুনছিল।” (আল আহকাফ: ২৯)
“বল, ‘আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর তারা বলেছে ‘আমরা এক অতি আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি।” (আল জিন: ১)

২. হাদীস থেকে প্রমাণ
ইমাম মুসলিম (রহ.) তার সহীহ কিতাবে বর্ণনা করেছেন, ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: এক রাতে আমরা রাসূল (সা.) এর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ আমরা দেখলাম রাসূল (সা.) আমাদের মাঝে নেই। পাহাড় ও উপত্যকার পথে পথে আমরা তাঁর খোঁজ করলাম। কিন্তু কোথাও তাঁকে পাওয়া গেল না। পরে আমরা ধরে নিলাম হয় তাঁকে জিনরা উঠিয়ে নিয়ে গেছে অথবা তাঁকে গোপনে হত্যা করা হয়েছে। আমরা একটি ভয়াবহ রাত অতিক্রম করলাম, এরকম ভয়াবহ রাত এর আগে কেউ কখনো পার করেনি। সকালে আমরা দেখতে পেলাম, রাসূল (সা.) হেরা পর্বতের দিক থেকে আসছেন। আমরা তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম, এবং অনেক খুঁজেছি, কিন্তু আপনাকে পাইনি। আমরা আপনাকে না পেয়ে এক ভয়াবহ রাত অতিক্রম করলাম, এরকম রাত এর আগে কেউ যাপন করেনি। তিনি বললেন: “জিনদের মধ্যে থেকে একজন আবেদনকারী বা পিটিশনার এসেছিল আমার কাছে, আমি তাদের সঙ্গে গেলাম এবং তাদেরকে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করে শোনালাম।”

অতঃপর তিনি আমাদেরকে সেখানে নিয়ে গেলেন এবং তাদের চলাচলের চিহ্ন ও প্রজ্জ্বলিত আগুনের চিহ্ন দেখালেন।
জিনরা তাঁর কাছে খাবারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বললেন:
“যেসব হাড়ের উপর আল্লাহ তা'আলার নাম নেওয়া হয়েছে এবং যেগুলোতে পর্যাপ্ত গোশত রয়েছে সেগুলো তোমাদের খাবার, আর তোমাদের প্রাণীদের খাবার গোবর।”
অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন:
“সুতরাং এ দুটি জিনিস দিয়ে তোমরা কখনো ইস্তিঞ্জा করবে না, কারণ এগুলো তোমাদের ভাইদের খাবার।”

ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর সহীহ কิตাবে বর্ণনা করেন, আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে বলেন:
“আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, তোমার ভেড়া ও নির্জনতা পছন্দ। যখন তুমি তোমার ভেড়ার পালের সঙ্গে নির্জনস্থানে অবস্থান কর, তখন তুমি উচ্চৈঃস্বরে সালাতের জন্য আযান দাও, এ আযান জিনের জন্য নয়, আযানের শব্দ যতদূর পৌঁছায় তা মানুষ বা অন্য কিছু মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ শুনতে পায় অথবা এটা তার জন্য পুনরুত্থানের দিবসে সাক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে।”

এসব প্রমাণ থেকে প্রমাণিত হয় যে, জিন জগতের অস্তিত্ব রয়েছে। জিন আছে এবং জীবিত অবশ্যই আছে; তাদেরও বোঝার ক্ষমতা রয়েছে, তারাও আদেশ ও নিষেধের অধীন। সুতরাং যে মুমিন তাওহীদের ঘোষণা দেবেন, তাকে অবশ্যই জিনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে হবে。

টিকা:
৯. (সহীহ মুসলিমের ভাষ্য নাওয়ারী ৪/১৭০)
১০. [সহীহুল বুখারী হা: ৬০৯]

📘 জিন এবং জিনকেন্দ্রিক অসুস্থতা ও প্রতিকার 📄 জিন সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে যা বলা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ

📄 জিন সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে যা বলা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ


(১) মানব সৃষ্টির আগেই জিনকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “আমি কালো শুষ্ক ঠনঠনে মাটির গাঁড়া থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছি। এর পূর্বে আমি জিনকে আগুনের লেলিহান আগুন থেকে সৃষ্টি করেছি।” (আল হিজর ১৫: ২৬-২৭)

(২) জিনরা খাদ্য গ্রহণ করে, বিয়ে করে এবং বাচ্চা জন্ম দেয়। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন: “হাড় অথবা গোবর দিয়ে তোমরা কখনো ইস্তিঞ্জा করবে না, কারণ এগুলো জিনদের খাবার।”

আল্লাহ তা'আলা বলেন: “স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, 'আদামকে সাজদাহ কর।' তখন ইবলিস ছাড়া তারা সবাই সাজদাহ করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সে তার প্রতিপালকের নির্দেশ লঙ্ঘন করল। এতদসত্ত্বেও তোমরা কি আমাকে বাদ দিয়ে তাকে আর তার বংশধরকে অভিভাবক বানিয়ে নিচ্ছ? অথচ তারা তোমাদের দুশমন। যালিমদের এই বিনিময় বড়ই নিকৃষ্ট!” (আল কাহফ ১৮:৫০)
এ আয়াতে আল্লাহ আমাদের বলছেন যে, জিনদের বাচ্চা রয়েছে, আর বাচ্চা একমাত্র বিয়ের মাধ্যমেই আসতে পারে。

(৩) জিন হলো অদৃশ্য সৃষ্টি। তারা আমাদেরকে দেখতে পায়, কিন্তু আমরা তাদের দেখতে পাই না। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “সে আর তার সাথীরা তোমাদেরকে এমনভাবে দেখতে পায় যে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। যারা ঈমান আনে না তাদের জন্য আমি শয়তানকে অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি।” (আল আ'রাফ: ২৭)

(৪) জিনরাও বুদ্ধিমানসম্পন্ন সৃষ্টি, সুতরাং তাদেরকেও জবাবদিহী করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন: “আমি জিন ও মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ‘ইবাদাত করবে।” (আল যারিয়াত ৫৬: ৫৬)

“(আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) হে জিন ও মানব সমাজ! তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য হতে কি রসূলগণ আসেনি যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াত বর্ণনা করত আর এ দিনের সাথে যে সাক্ষাৎ ঘটবে সে ব্যাপারে তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করত? তারা বলবে, আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি; মূলত: এ দুনিয়ার জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে, তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে তারা কাফির ছিল।” (আল আন'আম: ১৩০)

(৫) জিনদের মধ্যে মুসলিম, কাফির এর মত বিভিন্ন দল রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “আমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক (আল্লাহর প্রতি) আত্মসমর্পণকারী আর কিছু সংখ্যক অন্যায়কারী। যারা আত্মসমর্পণ করে তারা সঠিক পথ বেছে নিয়েছে। আর যারা অন্যায়কারী তারা জাহান্নামের ইন্ধন।” (সূরা জিন ৭২:১৪-১৫)

আল্লাহ আমাদের বলেছেন, জিন বলেছে: “আর আমাদের কিছু সংখ্যক সৎকর্মশীল, আর কতক এমন নয়, আমরা ছিলাম বিভিন্ন মত ও পথে বিভক্ত।” (সূরা জিন ৭২:১১)

(৬) জিনদের বিভিন্ন দৃশ্যমান রূপ ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে এবং তাদের অনেক ক্ষমতা ও জাদুকরদের মতো দক্ষতা রয়েছে। আল্লাহ জিনদেরকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা ও গুণ দান করেছেন, যেমন- তারা বিভিন্ন আকার ধারণ করতে পারে, বিভিন্ন প্রাণী যেমন-সাপ, বিড়াল ও কুকুরের রূপ ধারণ করে আবির্ভূত হতে পারে। এছাড়াও জিনদের দ্রুত গতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তারা মহাসাগরের নিচ দিয়েও দ্রুত গতিতে চলাচল করতে পারে, এছাড়াও তাদের রয়েছে বিভিন্ন শৈল্পিক ও নির্মাণ দক্ষতা।

আল্লাহ তা'আলা বলেন: “আর শয়তানদেরকেও (তারা বশীভূত করে দিলাম), সব ছিল নির্মাতা ও ডুবুরী।” (সূরা সাদ ৩৮:৩৭)

আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবীদেকে যে একটি অনন্য যোগ্যতা বা মু’জিযা দান করেছিলেন সে সম্পর্কে বলেছেন: তিনি তাঁর ক্ষমতা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে জিনদেরকে আল্লাহর নবী সুলাইমানের [আ.] আদেশ ও নিষেধের অধীন করে দিয়েছেন, বশীভূত করে দিয়েছেন। আল্লাহর আদেশে জিনদের এই বশীকরণ কার্যকর হয়েছে এবং এই জিন দ্বারা হযরত সুলাইমানের [আ.] কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, যেসব জিন তার আদেশ অমান্য ও বিরোধিতা করেছে, তাদেরকে তিনি দমন করেছেন, আল্লাহ বলছেন: “আর অন্যদেরকেও যারা ছিল শৃঙ্খলে আবদ্ধ।” (সূরা সাদ ৩৮:৩৮)

আল্লাহ আমাদের জিনদের নির্মাণ দক্ষতা সম্পর্কে বলেছেন, জিনরা সুলাইমানের (আ.) জন্য নির্মাণ করেছিল, আল্লাহ বলেছেন: “তারা সুলাইমানের ইচ্ছা অনুযায়ী তার জন্য প্রাসাদ, ভাস্কর্য, হাউজের ন্যায় বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশালকায় ডেগ নির্মাণ করত।” (সুরা সাবা ৩৪:১৩)

বিস্ময়কর গতিতে জিনদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার ক্ষমতা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন: “সুলাইমান বলল- 'হে সভাসদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে আসার আগে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসবে?'” (সুরা আন নামল ২৭:৩৮)

জিনদের দৈহিক আকার পরিবর্তনের ক্ষমতা সম্পর্কে সহীহ মুসলিমে এক আনসার যুবক থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, ওই হাদীসে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন: “মদিনায় কিছু জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুতরাং তোমাদের কারো সঙ্গে যদি কোনো মুসলিম জিনের দেখা হয়, তাহলে তাদেরকে তিনদিনের জন্য শহর ছেড়ে যেতে বলবে। তারপরও যদি কোনো জিনকে দেখা যায়, তাহলে তাকে হত্যা করবে, কারণ এটা হল শয়তান জিন।”

টিকা:
৩০. [সহীহ মুসলিম, তিরমিযী]

ফন্ট সাইজ
15px
17px