📄 হযরত জিবরাঈলের (আঃ) থাপ্পড় খেয়েছে শয়তান
হযরত সুফিয়ান বিন উয়াইনিয়া (রহঃ) বলেছেন: একবার ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে ইব্ল্লীস তাঁকে বলে, আপনার ব্যক্তিত্ব এত উন্নত যে আপনি প্রভুত্বের উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। আপনি শৈশবে, কোলে, থাকা-অবস্থায়, কথা বলেছেন। আপনার আগে কেউই ওই বয়সে কথা বলেনি।
হযরত ঈসা (আঃ) বলেন, প্রভুত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্ব-মাহাত্ম্য কেবল আল্লাহ্রই প্রাপ্য, যিনি আমার আবির্ভাব ঘটিয়েছেন, ফের মৃত্যু দেবেন, ফের জীবিত করবেন।
শয়তান বলে, আপনিই তো প্রভুত্বের উচ্চস্তরে পৌঁছেছেন, শুধু তাই নয়, আপনি মৃতকেও তো জীবিত করে দিয়েছেন।
হযরত ঈসা বলেন, না, বরং যাবতীয় প্রভুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব কেবল আল্লাহ্রই প্রাপ্য। যিনি আমাকেও মৃত্যু দেবেন এবং তাকেও মৃত্যু দেবেন, যাকে আমি (আল্লাহর হুকুমে) জীবিত করেছি। তারপর তিনি ফের আমাকে জীবিত করবেন।
শয়তান বলে আল্লাহর কসম! আপনি আসমানেরও খোদা এবং পৃথিবীরও খোদা!
সেই সময় হযরত জিব্রাঈল (আঃ) তাঁর ডানা দিয়ে শয়তানকে এমন থাপ্পড় মারলেন যে, সে সূর্যের কাছে গিয়ে পড়ে। তারপর হযরত জিব্রাঈল ফের এক থাপ্পড় মেড়ে তাকে সাত সমুদ্রের তলদেশে পাঁকের মধ্যে ঢুকিয়ে দেন।
সেখান থেকে শয়তান একথা বলতে বলতে বেরিয়ে আসে- (হযরত) ঈসার থেকে যে অপমান আমি পেয়েছি, এমন অপমান কেউ কখনও কারও কাছ থেকে পায়নি। (১)
টিকাঃ
(১) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া।
📄 শয়তানকে আরও একবার জিবরাঈলের (আঃ) প্রহার
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন: অহী নাযিল হবার সময় শয়তান তা শুনত। মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নুবুওয়ত দিয়ে পাঠানোর পর আল্লাহ্ তাআলা শয়তানদের অহী শোনা বন্ধ করে দেন। শয়তানরা তখন ইল্লীসের কাছে গিয়ে অহী শুনতে না পারার কথা জানায়। ইল্লীস বলে, নিশ্চয়ই কোন বড় ধরনের কিছু ঘটেছে। এরপর সে (মক্কায় আবূ কুবাইশ পর্বতে উঠে, নবী করীম (সাঃ)-কে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে দেখতে পেয়ে বলে, আমি এক্ষুণি গিয়ে ওর ঘাড় মটকে দিয়ে আসছি। সেই সময় হযরত জিব্রাঈল নেমে এসে এমন থাপ্পড় মারেন যে, সে বহুদূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। (২)
টিকাঃ
(২) দালায়িলুন নবুওত, আবূ নূআইম।
📄 শয়তান থেকে ওহী সুরক্ষার্থে ফিরিশতাদের অবতরণ
আল্লাহ বলেছেন:
إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا
(আল্লাহ্ তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারও নিকট প্রকাশ করেন না...) তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত। সেক্ষেত্রে আল্লাহ্ রসূলের সামনেও পিছনে প্রহরী নিয়োজিত করেন। (৩)
অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ অহী অবতীর্ণের সময় যাতে শয়তানরা তা শুনে নিয়ে কাউকে না বলে দিতে পারে কিংবা কোন অসৎসার প্রসার ঘটাতে না পারে সেজন্য আল্লাহ্ ওয়াহ্য়ীর সাথে পাহারাদার ফেরেশতাদের পাঠান। নবী করীম (সাঃ)-এর এরকম পাহারাদার ফেরেস্তা ছিলেন চারজন। (৪)
টিকাঃ
(৩) সূরা জ্বিন, আয়াত ২৯।
(৪) তাফসীরে বায়ানুল কোরআন, সূরা জ্বিন, আয়াত ২৯।
📄 জামায়াত বিচ্ছিন্ন মুসলমান শয়তানের শিকার
(হাদীস) হযরত উমর (রাঃ) বলেছেন, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের মধ্যে দণ্ডায়মান হয়ে এরশাদ করেছেন:
مَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ بِحُبُوحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مَعَ الْاثْنَيْنِ أَبْعَدُ
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের আরাম-আয়েশ পেতে চায়, সে যেন অবশ্যই জামাআত-বদ্ধ হয়ে হয়ে থাকে। কেননা একা থাকা-ব্যক্তির সাথে শয়তান থাকে, দু'জনের সাথে থাকে খুব। (৫)
(হাদীস) হযরত উত্তয়াহ্ (রাঃ) বলেছেন, আমি শুনেছি, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
يَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ وَالشَّيْطَانُ مَعَ مَنْ يُخَالِفُ الْجَمَاعَةَ
আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা থাকে জামাআতের সাথে, আর জামাআতের বিরোধিতা যে করে, তার সাথে শয়তন। (৬)
(হাদীস) হযরত উসামাহ বিন শারীক (রাঃ) বলেছেন, আমি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি:
يدُ اللهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ فَإِذَا أَشَدَّ الشَّاذُ مِنْهُمْ إِخْطَفَتْهُ الشَّيَاطِينُ كَمَا يَخْطَفُ الذِّنْبُ الشَّاةَ مِنَ الْغَنَمِ
আল্লাহ্ সাহায্য-সহযোগিতা থাকে জামাআতের সাথে; যখন কেউ জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন শয়তান তাকে পাকড়াও করে এমনভাবে, যেভাবে নেকড়ে বাঘ পাকড়াও করে দলছুটা ছাগলকে। (৭)
(হাদীস) হযরত ইবনু מסউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত: জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) একবার তাঁর পবিত্র হাত দিয়ে একটি সরল রেখা অঙ্কন করার পর বলেন-
هَذَا سَبِيْلُ اللَّهِ مُسْتَقِيْمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بكُمْ عَنْ سَبِيْلِهِ -
এই সোজা রাস্তাটি হল আল্লাহ্ পথ। তোমরা এর অনুসরণ করবে। অন্যপথে চলবে না। তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। (৮)
(হাদীস) হযরত মাআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
إنَّ الشَّيْطَانَ ذِنْبُ الإِنْسَانِ كَذِئْبِ الْغَنَمِ يَأْخُذُ الشَّيَاهَ الْقَاصِيَةَ وَالنَّاصِيَةَ فَإِيَّاكُمْ وَالشِّعَابَ وَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَالْعَامَّةِ وَالْمَسْجِدِ
শয়তান হল মানুষের নেকড়ে, যেমন আছে ছাগলের নেকড়ে, যে (দলছুট) ছাগলকে শিকার করে কাছ থেকেও দূরে থাকে। সুতরাং তোমরা নিজেদের বাঁচাও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়া থেকে এবং নিজেদের জন্য জরুরী করে নাও জামাআত, জনসমাজ ও মসজিদকে। (৯)
টিকাঃ
(৫) মুসনাদে আহমাদ, ১৪:২৬। তিরমিযী, কিতাবুল ফিতান, বাব। মুস্তাদরাকে হাকিম, ১: ১১৪। নাসুর রায়াহ্ ৪: ২৫০। কানযুল উম্মাল, ৩২৪৮৮। আশ্-শরীআহ্, ইমাম আজারী (রহঃ) হাদীস নং ৭। তাল্বীসুল ইবলীস, ৫।
(৬) ইবনু সায়িদ। তাল্বীসুল ইবলীস ৬। তবারানী, কাবীর, ১৭: ১৪৪।
(৭) দারেকুত্বনী। তিরমিযী। কাশফুল খিফা, ২৫৪৭, হাদীস ৩২২৩। তবারানী কাবীর, ১:১৫৩।
(৮) মুস্লাদে আহমাদ, ১৪: ৪৬৫। আশ-শারীআহ্, ইমাম আজারী, ১০, ১২। দুররুল মানসূর, ৩: ৫৬
(৯) মুস্লাদে আহমাদ, ৫: ২৩৩, ২৪৩। মাজমাউয্ যাইয়াঈদ, ২৪: ২৩, ৫: ২১৯। জামউল জাওয়ামিই, ২৬৩৮। কানযুল উম্মাল, ১০২৬, ২০৩৫৫। মিশকাত, ১৪৮। তাফসীর, ইবনু কাসীর, ৪: ৬২। তাল্বীসুল ইবলীস, ৭। হুলইয়াতুল আউলিয়া, ২: ২৪৭। আহাফুস্ সাদাতিল মুত্তাকীন, ৬: ৩৩৭। তারগীব অত তারহীব, ১: ২১৯। ইবনু মাজাহ্, মুকাদ্দমাহ্।