📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তান কর্তৃক ক্রন্দনকে ওমরাহ করার ঘটনা

📄 শয়তান কর্তৃক ক্রন্দনকে ওমরাহ করার ঘটনা


ইবনে আবুল হাওয়ারী বলেছেন: আমি আবূ সুলাইমান (রহঃ) প্রমুখের থেকে শুনেছি, অভিশপ্ত ইবলীস কারূনকে গুমরাহ করার জন্য যখন তার কাছে গিয়েছিল, তার আগে কারুন চল্লিশ বছর যাবৎ পাহাড়ে ইবাদত করেছিল এবং বনী ইস্রাঈল সম্প্রদায়ের মধ্যে ইবাদতের বিচারে সবাইকে টপকে গিয়েছিল। তাকে গুম্মাহ্ করার জন্য ইব্‌ল্লীস বহু শয়তান পাঠিয়েছিল। কিন্তু কেউই তাকে গুম্মাহ্ করতে পারেনি। শেষকালে খোদ ইবলীস যায় কারূনকে গুম্রাহ্ করার জন্য।
ইল্লীস গিয়ে কারুনের সাথেই একই পাহাড়ে ইবাদত করতে লাগল। কারূন রোযা করত, ইফতারও করত। কিন্তু ইব্‌ল্লীস ইস্তার না করে একটানা রোযা রেখে দেখাত এবং কারূনের সামনে ইল্লীসের কাছে নগণ্য হয়ে গেল। অবশেষে কারুন গিয়ে (ছদ্মবেশী সাধক) ইল্লীসের আস্তানায় হাজির হল।
ইল্লীস বলল, ওহে কারুন! তুমি এই ইবাদতেই আত্মতুষ্ট হয়ে বসে গেছ! তুমি বনী ইস্রাঈদের জানাযাতেও অংশ নাও না এবং তাদের সাথে জামাআতেও শরীক হও না। আশ্চর্য"!
এভাবে শয়তান তাকে প্রভাবিত করল এবং পাহাড় থেকে নামিয়ে এনে গীর্জাঘরে ঢুকিয়ে দিল। বনী ইস্রাঈলরা ওদের (কারূন ও শয়তানের) খাবার দাবার আনতে লাগল।
একদিন শয়তান বলল, ওহে কারুন! আমরা কি এতে সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। আমরা তো বনী ইস্রাঈলদের কাছে বোঝা হয়ে গেলাম।
কারুন বলল, তাহলে কী করা যায়?
শয়তান বলল, আমরা সপ্তাহে একদিন মেহনত (করে উপার্জন) করব এবং বাকি ৬ দিন ইবাদতে কাটাব।
কারন বলল, ঠিক আছে তাই হবে।
(কিছুদিন পরে) শয়তান ফের বলল, আমরা তো এতেই সন্তুষ্ট হয়ে বসে আছি! অথচ আমরা দান খয়রাত করছি না কেন! এবং দান খয়রাতের জন্য কেনই বা বেশি উপার্জন করছি না!
কারূন বলল, তা আপনি কী বলেন, আমরা কী করব?
শয়তান বলল, আমরা একদিন ব্যবসা করব এবং একদিন উপবাস করব।
কারুন যখন ওইরকম শুরু করল, শয়তান তাকে ছেড়ে চলে গেল। তারপর কারুনের সামনে দুনিয়ার ধন-দৌলত জড় হতে লাগল। (শেষ পর্যন্ত কারূন হযরত মুসা (আঃ)-এর মুকাবিলায় নেমে পড়ে এবং যাকাত দিতে অস্বীকার
করে। তাই আল্লাহ্ তাআলা ওকে ওর যাবতীয় ধন-দৌলত সমেত মাটির মধ্যে ধ্বসিয়ে দেন।)
আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে শয়তান থেকে এবং তার অনিষ্ট থেকে হিফাযত করুন। (৩৭)

টিকাঃ
(৩৭) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তান শিখিয়েছে খুন করার পদ্ধতি

📄 শয়তান শিখিয়েছে খুন করার পদ্ধতি


হযরত ইবনু জুরাইজ (রহঃ) বলেছেন: আদম (আঃ)-এর পুত্র তার ভাইকে খুন করার ইচ্ছা তো করেছিল, কিন্তু জানত না যে তাকে কীভাবে খুন করবে। সেই সময় শয়তান তার সামনে একটি পাখির রূপ ধরে আত্মপ্রকাশ করে। তারপর সে একটা পাখি ধরে তার মাথাটা দুটো পাথরের মাঝখানে রেখে ফাটিয়ে দেয়। এভাবে শয়তান তাকে খুন করার পদ্ধতি শেখায়। (৩৮)

টিকাঃ
(৩৮) ইবনু জুরাইজ।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হাইতোলা ও শয়তান

📄 হাইতোলা ও শয়তান


(হাদীস) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ وَيَكْرَهُ الشَّتَاؤُبَ فَإِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فحَمِدَ اللَّهَ كَانَ حَقًّا عَلَى كُلِّ مُسْلِم سَمِعَهُ أَنْ يَقُولَ لَهُ : يَرْحَمُكَ الله - وَأَمَّا التَّشَاؤُبُ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا تَشَاوِبَ احَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنَّ أَحَدُكُمْ إِذَا قَالَ : هَاءَ ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ -
আল্লাহ হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন হাঁচে এবং তারপর 'আল-হামদু লিল্লাহ্' (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্'রই জন্য) বলে, তখন প্রত্যেক মুসলমানের উপর জরুরী হয়ে যায়, যে তা শুনবে, তাকে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ্' (আল্লাহ্ তোমার উপর রহম করুন) বলা। আর হাই উঠে শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যখন কারও হাই উঠবে, সে যেন সাধ্যমতো তা আটকায়। কেননা তোমাদের মধ্যে কেউ (হাই তোলার সময় মুখ খুলে) 'হা' বললে, শয়তান খুশি হয়ে হাসে। (৩৯)

টিকাঃ
(৩৯) বুখারী, কিতাবুল আদাব, বাব ২৫, ১২৮। আবূ দাউদ, ৫০২৮। তিরমিযী, কিতাবুল আদাব, বাব ৭। মুস্লাদে আহমাদ, ২: ২৬৫, ৪২৮, ৫১৭। বায়হাকী, ২: ২৮৯। মুস্তাদ্রাক, ৪: ২৬৩, ২৬৪। জামিউল জাওয়ামিই, হাদীস ৫২০৩, ৫২০৪। কানযুল উম্মাল, ২৫৫১১, ২৫৫২৬, ২৫৫৪০। ইবনু খুযাইমাহ, ৯২২। মিল্কাত, ৩৭৩২। আল্-আফ্ফার, নাওবিয়াহ্। শারহুস্ সুন্নাহ্।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হাইওয়ালার পেটে শয়তান হাসে

📄 হাইওয়ালার পেটে শয়তান হাসে


(হাদীস) হযরত আবূ হুরইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
الْعَطَاسُ مِنَ اللهِ وَالتَّشَاؤُبُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا تَشَاوَبٌ أَحَدُكُمْ فلْيَضَعُ يَدَهُ عَلَى فِيهِ ، وَإِذَا قَالَ : أَهُ ، أَهُ ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَضْحَكُ مِنْ جَوْفِهِ ، وَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحِبُّ الْعَطَاسِ وَيَكْرَهُ التَّناوُبَ
হাঁচি আসে আল্লাহ্‌র তরফ থেকে এবং হাই ওঠে শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কারও যখন হাই উঠবে, সে যেন নিজের হাত মুখের উপর রেখে তা আটকায়। কেননা (হাই ওঠার সময়) কেউ 'আহ্-আহ্' বললে, শয়তান তার পেটের ভিতর থেকে হাসে। আল্লাহ্ হাচি পছন্দ করেন এবং হাই অপছন্দ করেন। (৪০)

টিকাঃ
(৪০) তিরমিযী, কিতাবুল আদাব, বাব ৭। মুস্তাদ্রাক, ৪: ২৬৪। মুস্লাদে হামিদী, ১১৬১। ইবনু খুযাইমাহ্, ৯২১। আতহাফুস্ সাদাহ্, ৬: ২৮৭। কানযুল উম্মাল, ২৫৫২৯। আমালুস্ ইয়ামি অল্-লাইলাহ্, ইবনুস সুন্নী ২৬০। কাশফুল খিফা, ২: ৯৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00