📄 ভাগ্যদোষের মূলে শয়তান
হযরত সাহল বিন সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন :
الإِنَاةُ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَالْعُجْلَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ
(মানুষের পক্ষে কোন কাজ) ধীরে সুস্থে করা অত্যন্ত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং তাড়াহুড়া করা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। (৩৪
টিকাঃ
(৩৪) তিরমিযী, কিতাবুল বির, বাব ৬৬।
📄 মসজিদওয়ালাদের বিরুদ্ধে শয়তানের চক্রান্ত
(হাদীস) হযরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন :
إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا كَانَ فِي الْمَسْجِدِ جَاءَهُ الشَّيْطَانُ فَأَنسَ بِهِ كَمَا يَأْنَسُ الرَّجُلُ بِدَابَّتِهِ فَإِذَا سَكَنَ لَهُ رَ تَقَهُ أَوْ لَجَمَهُ
তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মসজিদে থাকে, সেই সময় শয়তান তার কাছে যায়। এবং এমনভাবে বশীভূত করে, যেভাবে মানুষ তার সওয়ারী পশুকে বশ করে। তারপর শয়তান যখন তার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন তার গলায় ফাঁস পরায় অথবা মুখে লাগাম লাগিয়ে দেয়। (৩৫)
হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেছেন: তোমরা তা প্রত্যক্ষও করতে পারো- গলায় ফাঁস ওয়ালারা মাথা নিচু করে ঝুঁকে থাকে, কিন্তু আল্লাহর যিক্র করে না, আর লাগامওলাদের মুখ খোলা থাকে, কিন্তু সে-মুখে আল্লাহ্র যিক্র থাকে না।
টিকাঃ
(৩৫) মুস্লাদে আহমাদ, ২: ২৩০। মাজমাউয যাওয়াঈদ, ১: ২৪২। জামিউল জাওয়ামিই, ৬১১৫। কানযুল উম্মাল ১৭৭২। তাফসীর ইবনু কাসীর, ৪: ৫৫৯।
📄 নামাযের কাতারে শয়তানের অনুপ্রবেশ
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত আনাস (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
رَاصُو صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا مِنْهَا وَحَاذُوا بَيْنَ الْأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خِلْلِ الصَّفِّ كَانَهُ الحذف .
তোমরা (নামাযের) কাতারে দাঁড়াবে পাশাপাশি গায়ে-গাঁ-ঘেঁষে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। যাঁর কব্জায় মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন, সেই সত্তা (আল্লাহ্)-র কসম! আমি দেখি, শয়তান নেকড়ে বাঘের বাচ্চার মতো কাতারের ফাঁক দিয়ে ভিতরে ঢোকে। (৩৬)
টিকাঃ
(৩৬) মুস্লাদে আহমাদ, ৩: ২৬০। নাসায়ী, ২ঃ ৯২। কানযুল উম্মাল, হাদীস ২০৫৮০।
📄 শয়তান কর্তৃক ক্রন্দনকে ওমরাহ করার ঘটনা
ইবনে আবুল হাওয়ারী বলেছেন: আমি আবূ সুলাইমান (রহঃ) প্রমুখের থেকে শুনেছি, অভিশপ্ত ইবলীস কারূনকে গুমরাহ করার জন্য যখন তার কাছে গিয়েছিল, তার আগে কারুন চল্লিশ বছর যাবৎ পাহাড়ে ইবাদত করেছিল এবং বনী ইস্রাঈল সম্প্রদায়ের মধ্যে ইবাদতের বিচারে সবাইকে টপকে গিয়েছিল। তাকে গুম্মাহ্ করার জন্য ইব্ল্লীস বহু শয়তান পাঠিয়েছিল। কিন্তু কেউই তাকে গুম্মাহ্ করতে পারেনি। শেষকালে খোদ ইবলীস যায় কারূনকে গুম্রাহ্ করার জন্য।
ইল্লীস গিয়ে কারুনের সাথেই একই পাহাড়ে ইবাদত করতে লাগল। কারূন রোযা করত, ইফতারও করত। কিন্তু ইব্ল্লীস ইস্তার না করে একটানা রোযা রেখে দেখাত এবং কারূনের সামনে ইল্লীসের কাছে নগণ্য হয়ে গেল। অবশেষে কারুন গিয়ে (ছদ্মবেশী সাধক) ইল্লীসের আস্তানায় হাজির হল।
ইল্লীস বলল, ওহে কারুন! তুমি এই ইবাদতেই আত্মতুষ্ট হয়ে বসে গেছ! তুমি বনী ইস্রাঈদের জানাযাতেও অংশ নাও না এবং তাদের সাথে জামাআতেও শরীক হও না। আশ্চর্য"!
এভাবে শয়তান তাকে প্রভাবিত করল এবং পাহাড় থেকে নামিয়ে এনে গীর্জাঘরে ঢুকিয়ে দিল। বনী ইস্রাঈলরা ওদের (কারূন ও শয়তানের) খাবার দাবার আনতে লাগল।
একদিন শয়তান বলল, ওহে কারুন! আমরা কি এতে সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম। আমরা তো বনী ইস্রাঈলদের কাছে বোঝা হয়ে গেলাম।
কারুন বলল, তাহলে কী করা যায়?
শয়তান বলল, আমরা সপ্তাহে একদিন মেহনত (করে উপার্জন) করব এবং বাকি ৬ দিন ইবাদতে কাটাব।
কারন বলল, ঠিক আছে তাই হবে।
(কিছুদিন পরে) শয়তান ফের বলল, আমরা তো এতেই সন্তুষ্ট হয়ে বসে আছি! অথচ আমরা দান খয়রাত করছি না কেন! এবং দান খয়রাতের জন্য কেনই বা বেশি উপার্জন করছি না!
কারূন বলল, তা আপনি কী বলেন, আমরা কী করব?
শয়তান বলল, আমরা একদিন ব্যবসা করব এবং একদিন উপবাস করব।
কারুন যখন ওইরকম শুরু করল, শয়তান তাকে ছেড়ে চলে গেল। তারপর কারুনের সামনে দুনিয়ার ধন-দৌলত জড় হতে লাগল। (শেষ পর্যন্ত কারূন হযরত মুসা (আঃ)-এর মুকাবিলায় নেমে পড়ে এবং যাকাত দিতে অস্বীকার
করে। তাই আল্লাহ্ তাআলা ওকে ওর যাবতীয় ধন-দৌলত সমেত মাটির মধ্যে ধ্বসিয়ে দেন।)
আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে শয়তান থেকে এবং তার অনিষ্ট থেকে হিফাযত করুন। (৩৭)
টিকাঃ
(৩৭) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া।