📄 স্বপ্নেও শয়তানের হানা
(হাদীস) হযরত আবূ কতাদাহ (রহঃ) বলেছেন, আমি শুনেছি; জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
الرُّوَيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَالْحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا رَأَى احَدُكُمْ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَنْفُتْ حِينَ يَسْتَيْقِظُ عَنْ يَسَارِهِ ثَلَاثًا وَلْيَتَعَوَّذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا فَإِنَّهَا لَا تَضُرُّهُ
ভালো স্বপ্ন আল্লাহ্র পক্ষ থেকে এবং কুস্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখবে, তো জেগে উঠে বাঁ দিকে তিনবার থুথু ফেলবে এবং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে। (অমনটা করলে) ওই স্বপ্নের দ্বারা তার কোনও ক্ষতি হবে না। (২২)
টিকাঃ
(২২) বুখারী, তাত্মীরুর রুউউয়া, বাব- ৩,৪,১০,১৪। মুসলিম, ফির-রুইয়া, হাদীস ২০১। আবু দাউদ, কিতাবুল আদাব, বাব ৮৮। তিরমিযী, কিতাবুর, বাব ৫। ইবনু মাজাহ্, কিতবুর রুউইয়া, বাব ৫। দারিমী, কিতাবুর রুউইয়া, বাব ৫।
📄 স্বপ্ন মূলত তিন প্রকার
(হাদীস) হযরত আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
الرؤيا ثلاثة : مِنْهَا تَهَا وَيْلٌ مِنَ الشَّيْطَانِ لِيَحْزُنَ ابْنُ آدَمَ وَمِنْهَا مَا يَهُم بِهِ الرَّجُلُ فِي يَقْظَتِهِ فَيَراهُ مَنَامَهُ وَمِنْهَا جُزء من واربعين جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ -
স্বপ্ন তিন প্রকার: সেগুলোর মধ্যে এক প্রকার হয় শয়তানের তরফ থেকে, মানুষকে কষ্ট দেবার জন্য। আরেক প্রকার তাই, যার কথা মানুষ জেগে থাকার সময় ভাবনা-চিন্তা করে, ঘুমের মধ্যে তাই স্বপ্নে দেখে। এবং আরেক প্রকার স্বপ্ন হয় (আল্লাহর পক্ষ থেকে, যা উৎকর্ষতার বিচারে) নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ। (২৩)
টিকাঃ
(২৩) ইবনু মাজাহ্, কিতাবুর রুউইয়া, বাব ৩। তবারানী, কাবীর, ১৮: ৬৪। তামহীদ ইবনু আব্দুল বার। ফাতহুল বারী/ কানযুল উম্মাল।
📄 জালিম বিচারক শয়তানের আওতায়
(হাদীস হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আবী আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
اللهُ مَعَ الْقَاضِي مَا لَمْ يَجُرُ فَإِذَا جَارَ تَخَلَّى عَنْهُ وَلَزِمَهُ الشَّيْطَانُ
বিচারক জোর-যুলুম না করা পর্যন্ত তার সাথে আল্লাহ্ (-র সাহায্য থাকে; কিন্তু যখন সে জুলুম-অত্যাচার করে, তার থেকে ওই সুবিধা চলে যায় এবং শয়তান তাকে কাবু করে নেয়।
📄 মানুষের সাজদায় শয়তানের আক্ষেপ
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
إذا قرأ ابن آدمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي يَقُولُ يا ويلة أمر ابْنَ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَعَصَيْتُ فَلِيَ النَّارُ -
কোন মানুষ যখন সাজদার আয়াত পড়ার পর সাজদা করে, শয়তান তখন তার থেকে দূরে সরে যায় এবং কেঁদে কেঁদে বলে, হায় আফসোস! মানুষকে সাজদার নির্দেশ দেওয়া হলে, সে সাজদা করেছে, ফলে তার জান্নাত পাওনা হয়ে গেছে, কিন্তু আমাকে সাজদার নির্দেশ দেওয়া হলে, আমি অবাধ্যতা করেছি, ফলে আমার ভাগ্যে জাহান্নাম জুটেছে। (২৫)
* প্রসঙ্গত উল্লেখ্য: হযরত উবাইদুল্লাহ বিন মুকসিম্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় এরকম আছে যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
তুমি যখন শয়তানকে অভিশাপ দাও, শয়তান বলে, 'অভিশপ্তকে অভিশাপ দিলে!' যখন ওর থেকে আশ্রয় দাও, ও বলে আমার কমর ভেঙে দিলে!' আর যখন তুমি সাজদা করে, সেই সময় শয়তান বলে হায় আক্ষেপ! মানুষকে সাজদার হুকুম, দেওয়া হতে সে পালন করেছে এবং শয়তান সেই হুকুম পেয়ে অবাধ্যতা করেছে। সুতরাং মানুষের জন্য জান্নাত ঠিক হয়েছে আর শয়তানের জন্য হয়েছে জাহান্নাম। (২৬)
টিকাঃ
(২৫) মুস্লাদে আহমাদ, ২: ৪৪৩। ইবনু মাজাহ্, কিতাবুল ইকামাত, বাব ৭০, ১০৫২। মুসলিম, কিতাবুল ইমান, হাদীস ১৩৩। বায়হাকী, ২: ৩১২। সহীহ্ ইবনু খুযাইমাহ্, ৫৪৯। শারহুস্ সুন্নাহ্, ৩ঃ ১৭৪। মিশকাত, ৮৯৫। নাসুর রাইয়াহ, ২: ১৭৮। হিলইয়াহ্, ৫: ৬০। তারগীব, ২: ২৫৬। তাখরীজে ইহইয়াউল উলূম ইরাকী, ১ : ১৪৯। যুহূদে ইবনে মুবারক, ৩৫৩। ইবনে কাসীর, ৫: ৩৩৯। দুররুল মানসুর, ৩ঃ ১৫৮। তারীখে বাগদাদ, ৭ঃ ৩২৪। আহওয়াফুস্ সাদাতুল মুত্তাকীন, ৩: ১৯। কানযুল উম্মাল, ৩১০৮। আল-বিদায়াহ্ ওয়ান-নিহায়াহ্, ১৪৯১।
(২৬) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া। কানযুল উম্মাল, হাদীস ২১২৭।