📄 শয়তানের আরেকটি জাল
হযরত, সাবিত বানানী (রহঃ) বলেছেন: একবার হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ)-এর সামনে ইবলীস আত্মপ্রকাশ করে। ইবলীসের পিঠে সব রকম জিনিসপত্রের বোঝা দেখে হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ) জিজ্ঞাসা করেন, ওরে ইবলীস, তোর পিঠে যে বোঝাটা দেখিছি, এটা কীসের বোঝা?
ইবলীস বলেম এগুলো হল কামনা-বাসনা। এগুলো দ্বারা আমি মানুষ শিকার করি।
হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) বলেন, আচ্ছা এগুলোর মধ্যে কোন জিনিসের বাসনা-আমি করেছি কি? ইব্ল্লীস বলে, না।
হযরত ইয়াহইয়া ফের প্রশ্ন করেন, তুই কি কখনও আমার বিরুদ্ধে সফল হয়েছিল? ইবলীস বলে, যখন আপনি তৃপ্তির সাথে পেট ভরে আহার করেন, সেই সময় আমি আপনাকে নামায ও যিক্ থেকে আটকানোর জন্য অলস করে দিই। হযরত ইয়াহইয়া জানতে চান, এছাড়া আর কিছু? ইল্লীস বলে, না আর কোনও সুযোগ পাইনি।
তখন হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম! আগামীতে আর কখনও আমি পেটভরে আহার করব না।
ইব্ল্লীস তখন বলে ওঠে, আমিও আর কখনও কোনও মুসলমানকে উপদেশ দিতে যাব না। (৬)
টিকাঃ
(৬) কিতাবুয যুহদ, ইমাম আহমাদ। শুআবুল ইমান, বায়হাকী।
📄 মানুষ কখন শয়তানের শিকার হয়
হযরত অহাব বিন মুনাব্বিহ (রহঃ) বলেছেন: এক ছিলেন সাধক পর্যটক। শয়তান তাঁকে বিপথগামী করার জন্য অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু কোনও বারেই সে সফল হয়নি। অবশেষে শয়তান সেই সাধকের কাছে গিয়ে বলে, আমি কি আপনাকে সেইসব বিষয়ে কথা বলব না, যেগুলোর দ্বারা আমি মানুষকে বিপথগামী করি?
সাধক বললেন, কেন বলবি না, অবশ্যই বল্, যাতে আমিও সেগুলো থেকে বাঁচতে পারি, যেগুলোর দ্বারা তুই মানুষকে বিপথগামী করিস।
শয়তান বলল- লোভ, ক্রোধ ও কৃপণতা। মানুষ যখন লোভী হয়, আমি তখন তার চোখে তার নিজের মাল সম্পদকে কম করে দেখাই এবং অপরের ধন-দৌলতকে বেশি করে দেখাই। আর মানুষ যখন ক্রুদ্ধ হয়, সেই সময় আমি তাকে নিয়ে এমনভাবে খেলি, যেভাবে বাচ্চারা বল নিয়ে খেলা করে। এমনকী সে দুআ করে মৃতকেও বাঁচিয়ে তোলার ক্ষমতা রাখলেও আমি তার কোনও পরোয়া করি না। এবং যখন মানুষ নেশাগ্রস্ত হয় সেই সময় আমি তাকে সকল রকমের কামনা-বাসনা-উত্তেজনার দিকে ঘুরিয়ে দিই, যেভাবে ছাগলের কান ধরে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। (৭)
হযরত উবাইদুল্লাহ বিন মুওয়াহহিব (রহঃ) বলেছেন: একবার জনৈক নবীর সামনে শয়তান আত্মপ্রকাশ করে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুই মানুষকে তোর খপ্পরে ফেলিস কোন্ পদ্ধতিতে?
শয়তান বলে, আমি মানুষকে কাবু করি তার ক্রোধ ও যৌন উত্তেজনার সময়। (৮)
টিকাঃ
(৭) মাকায়িদুش শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া।
(৮) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া।
📄 শয়তানের পছন্দ-অপছন্দের মানুষ
হযরত আবদুল্লাহ বিন খুবাইকু (রহঃ) বলেছেন: হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) একবার শয়তানকে তার আসল রূপে দেখেন। সেই সময় হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ) বলেন- ওরে ইল্লীস, মানুষের মধ্যে তোর সবচেয়ে পছন্দের কে এবং অপছন্দেরই বা কে?
ইবলীস বলল- আমার কাছে সবচেয়ে পছন্দের মানুষ সেই মুমিন, যে বখীল-কৃপণ এবং সবচেয়ে অপছন্দের মানুষ সেই ফাসিক-গুনাহগার, যে উদার-দানশীল।
হযরত ইয়াহইয়া প্রশ্ন করেন, এর কারণ কী?
শয়তান বলে, কৃপণের কৃপণতাই আমার পক্ষে যথেষ্ট কিন্তু দানী ফাসিকের বিষয়ে আমার আশঙ্কা হয় যে, আল্লাহ্ ওর উদারতা দেখে যদি তা কবুল করে নেন।
এরপর শয়তান একথা বলতে বলতে চলে যায়। আপনি যদি ইয়াহ্ইয়া না হতেন, তবে আপনার কাছে এই রহস্য কখনই ফাঁস করতাম না। (৯)
টিকাঃ
(৯) মাকায়িদুশ শায়ত্বান, ইব্ন আবিদ দুনইয়া। ইহ ইয়াউল উলুম, ৩ঃ৩৮।
📄 শয়তান সর্বদা মানুষের সর্বনাশে
কথিত আছে: শয়তান বলে থাকে- মানুষ কীভাবে আমার বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারে! যখন সে আনন্দিত হয়, তখন আমি তার অন্তরে চেপে বসি এবং যখন সে ক্রুদ্ধ হয়, তখন আমি উড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে সওয়ার হয়ে যাই। (১০)
টিকাঃ
(১০) মাকায়িদুশ শায়ত্বান, ইবনু আবিদ দুনইয়া।