📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 রূমী শয়তানের আধা বাহিনী

📄 রূমী শয়তানের আধা বাহিনী


হযরত হাসান বিন স্বালিহ্ (রহঃ) বলেছেন: আমি শুনেছি, শয়তান নারীকে সম্বোধন করে বলেছিল – তুই আমার আধাবাহিনী। তুই আমার এমন তীর, যা লক্ষ্যভেদ করে, ব্যর্থ হয় না। তুই আমার রহস্যভূমি এবং আমার সমস্যা-সঙ্কটে তুই হচ্ছিস বার্তাবাহী। (৩)ঃ

টিকাঃ
(৩) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া/তাল্বীসুল ইল্লীস। ইহইয়াউল উলূম, ৩:৯৭।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তানের জাল

📄 শয়তানের জাল


হযরত সাঈদ বিন দীনার (রহঃ) বলেছেন: দুনিয়ার মুহব্বত যাবতীয় অমঙ্গলের মূল এবং নারী শয়তানের জাল। শয়তানের পক্ষে নারীর চাইতে বেশি মজবুত জাল আর কিছু নেই। (৪)
হযরত মালিক ইবনুল মুসায়্যিব (রহঃ) বলেছেন: আল্লাহ্র পাঠানো কোনও নবীকে নারীর মাধ্যমে ধ্বংস করার ব্যাপারে শয়তান নিরাশ হয়নি (কিন্তু আল্লাহ্র ফযলে মান্যবর নবী-রসূলগণ নারীঘটিত শয়তানী ফিত্না থেকে সুরক্ষিত ছিলেন। (৫)

টিকাঃ
(৪) যামুদ দুনইয়া, ইবনু আবিদ দুনইয়া। শুআবুল ঈমান, বায়হকী। তারীখে মিসর, ইবনু ইয়ূনুস। মুসনাদ আল ফিরদাউস। তারীখে ইবনু আসাকির। হুলইয়াতুল আউলিয়া, ৬: ৩৮৮। জামিই সগীর, হাদীস ৩৬৬২। ইহইয়াউল উলূম ৩: ১৯৭. ৪০১। আত্-তাযকিরাহ, যারকাশী, বাব আয-যুহৃদ। আদ-দুররুল মুন্তাশিরাহ, হাদীস ১৮৫। ফাইযুল জাওযী কদীর, মুনাবী, ৩: ৩৬৮। আল-আস্সারুল মারফুআহ্, ১৬৩।
(৫) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনইয়া। তাল্লীসুল ইবলীস, ইবনুল জাওযী। ইহইয়াউল উলুম, ৩:৯৭।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তানের আরেকটি জাল

📄 শয়তানের আরেকটি জাল


হযরত, সাবিত বানানী (রহঃ) বলেছেন: একবার হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ)-এর সামনে ইবলীস আত্মপ্রকাশ করে। ইবলীসের পিঠে সব রকম জিনিসপত্রের বোঝা দেখে হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ) জিজ্ঞাসা করেন, ওরে ইবলীস, তোর পিঠে যে বোঝাটা দেখিছি, এটা কীসের বোঝা?

ইবলীস বলেম এগুলো হল কামনা-বাসনা। এগুলো দ্বারা আমি মানুষ শিকার করি।

হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) বলেন, আচ্ছা এগুলোর মধ্যে কোন জিনিসের বাসনা-আমি করেছি কি? ইব্‌ল্লীস বলে, না।

হযরত ইয়াহইয়া ফের প্রশ্ন করেন, তুই কি কখনও আমার বিরুদ্ধে সফল হয়েছিল? ইবলীস বলে, যখন আপনি তৃপ্তির সাথে পেট ভরে আহার করেন, সেই সময় আমি আপনাকে নামায ও যিক্ থেকে আটকানোর জন্য অলস করে দিই। হযরত ইয়াহইয়া জানতে চান, এছাড়া আর কিছু? ইল্লীস বলে, না আর কোনও সুযোগ পাইনি।

তখন হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম! আগামীতে আর কখনও আমি পেটভরে আহার করব না।
ইব্‌ল্লীস তখন বলে ওঠে, আমিও আর কখনও কোনও মুসলমানকে উপদেশ দিতে যাব না। (৬)

টিকাঃ
(৬) কিতাবুয যুহদ, ইমাম আহমাদ। শুআবুল ইমান, বায়হাকী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 মানুষ কখন শয়তানের শিকার হয়

📄 মানুষ কখন শয়তানের শিকার হয়


হযরত অহাব বিন মুনাব্বিহ (রহঃ) বলেছেন: এক ছিলেন সাধক পর্যটক। শয়তান তাঁকে বিপথগামী করার জন্য অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু কোনও বারেই সে সফল হয়নি। অবশেষে শয়তান সেই সাধকের কাছে গিয়ে বলে, আমি কি আপনাকে সেইসব বিষয়ে কথা বলব না, যেগুলোর দ্বারা আমি মানুষকে বিপথগামী করি?

সাধক বললেন, কেন বলবি না, অবশ্যই বল্, যাতে আমিও সেগুলো থেকে বাঁচতে পারি, যেগুলোর দ্বারা তুই মানুষকে বিপথগামী করিস।
শয়তান বলল- লোভ, ক্রোধ ও কৃপণতা। মানুষ যখন লোভী হয়, আমি তখন তার চোখে তার নিজের মাল সম্পদকে কম করে দেখাই এবং অপরের ধন-দৌলতকে বেশি করে দেখাই। আর মানুষ যখন ক্রুদ্ধ হয়, সেই সময় আমি তাকে নিয়ে এমনভাবে খেলি, যেভাবে বাচ্চারা বল নিয়ে খেলা করে। এমনকী সে দুআ করে মৃতকেও বাঁচিয়ে তোলার ক্ষমতা রাখলেও আমি তার কোনও পরোয়া করি না। এবং যখন মানুষ নেশাগ্রস্ত হয় সেই সময় আমি তাকে সকল রকমের কামনা-বাসনা-উত্তেজনার দিকে ঘুরিয়ে দিই, যেভাবে ছাগলের কান ধরে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। (৭)

হযরত উবাইদুল্লাহ বিন মুওয়াহহিব (রহঃ) বলেছেন: একবার জনৈক নবীর সামনে শয়তান আত্মপ্রকাশ করে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুই মানুষকে তোর খপ্পরে ফেলিস কোন্ পদ্ধতিতে?
শয়তান বলে, আমি মানুষকে কাবু করি তার ক্রোধ ও যৌন উত্তেজনার সময়। (৮)

টিকাঃ
(৭) মাকায়িদুش শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া।
(৮) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00