📄 ইবনু হানযালার সাথে শয়তানের সাক্ষাৎ
বর্ণনায় হযরত সফওয়ান বিন সালীম (রহঃ) : মদীনার বাসিন্দা হযরত আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বিন হানযালাহ্ (রাঃ)-র. সঙ্গে মসজিদের বাইরে একবার শয়তানের সাক্ষাৎ হয়। শয়তান বলে, হে হান্যালাহ্'র পুত্র! আমাকে চেনেন?
আবদুল্লাহঃ হ্যাঁ চিনি।
শয়তানঃ বলুন তো, আমি কে?
আবদুল্লাহঃ তুই শয়তান।
শয়তানঃ আপনি আমাকে কীভাবে চিনলেন?'
আবদুল্লাহঃ আমি মসজিদ থেকে বের হবার সময় আল্লাহর যিক্র করছিলাম। কিন্তু তোকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমার মনোযোগ তোর দিকেই ঘুরে যায়। এ থেকেই বুঝেছি যে, তুই শয়তান।
শয়তানঃ হে হান্যালাহ্'র পুত্র! আপনি ঠিকই বলেছেন। আপনাকে একটা কথা শিখিয়ে দিচ্ছি। আমার এই কথাটা স্মরণ রাখবেন।
আবদুল্লাহঃ তোর কথা শোনার আর স্মরণ রাখর কোন প্রয়োজন আমার নেই।
শয়তানঃ আগে তো কথাটা শুনুন। সঠিক হলে মানবেন। আর বেঠিক হলে ঠুক্রে দেবেন। হে ইবনে হান্যালাহ্! আপনার পছন্দের জিনিস মহিমান্বিত আল্লাহ্ ছাড়া আর কারও কাছে চাইবেন না। এবং এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখবেন যে, ক্রোধের সময় আপনার অবস্থা কেমন হয়। (৩)
টিকাঃ
(৩) মাকায়িদুশ শায়তান (৬৫), ইবনু আবিদ দুনইয়া। ইবনু আসাকির। ইহইয়াউল উলূম, ৩ঃ ৩৪। আল-ইসাবাহ, ৪:৫৯। মাসায়িবুল ইন্সান, পৃষ্ঠা ১৩৩।
📄 আলেম ও আবেদদের সাথে শায়তানের শিক্ষণীয় ঘটনা
জনৈক বাস্ত্রীর সূত্রে হযরত আলী বিন আসিন (রহঃ) বর্ণনা করেছেনঃ এক আলিম ও এক আবিদ (ইবাদতকারী) আল্লাহ্ ওয়াস্তে একে অপরকে ভালোবাসতেন। শয়তানরা ইব্ল্লীসের কাছে গিয়ে বলে, আমরা অনেক চেষ্টা করা সত্ত্বেও এ দুইজনের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারিনি।
অভিশপ্ত ইব্ল্লীস বলে, ওদের জন্যে আমিই যথেষ্ট। এরপর ইব্ল্লীস সেই আবিদের যাতায়াতের রাস্তায় গিয়ে পৌঁছল। আবিদ যখন কাছাকাছি এল, ইল্লীস তখন এক বয়স্ক মানুষের রূপ ধরে, কপালে সাজদার চিহ্ন নিয়ে, তার সঙ্গে দেখা করল। সেই সময় ইব্ল্লীস, আবিদকে বলল, আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগছে, তাই আমি চাইছি আপনার থেকে উত্তরটা জেনে নিতে।
আবিদ বলল, কী প্রশ্ন করতে চান করুন, আমার জানা থাকলে বলে দেব।
শয়তান বলল, একটা ডিমের মধ্যে আসমান-যমীন, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, সাগর-নদীকে ডিমকে বড় না করে এবং সৃষ্টিগুলোকে ছোট না করে ঢুকিয়ে দেবার ক্ষমতা কি আল্লাহ্ আছে?
আবিদ অবাক হয়ে জানতে চাইল, ছোট ডিমকে না বাড়িয়ে তার মধ্যে বিশাল সৃষ্টিকে না ছোট করে কীভাবে ঢোকানো যেতে পারে?- আবিদ সাহেব ভারি ভাবনায় পড়ে গেল।
শয়তান বলল, আপনি এবার যেতে পারেন।
এরপর শয়তান তার সাঙ্গপাঙ্গদের উদ্দেশে বলে, দেখলে তো, আল্লাহ্র অসীম ক্ষমতার বিষয়ে সন্দেহে ফেলে দিয়ে আমি ওই আবিদকে ধ্বংস করে দিলাম।
এরপর শয়তান আলিম সাহেবের পথে গিয়ে বসল। আলিম সাহেব কাছাকাছি আসতে শয়তান তাঁকে সম্মান দেখানোর উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়াল। তারপর বলল, হযরত! আমার মনে একটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। তাই আমি চাই, তার উত্তরটা আপনার কাছ থেকে জেনে নিতে।
আলিম সাহেব বললেন, কী প্রশ্ন করতে চাও, করো, জানা থাকলে উত্তর দেব।
শয়তান বলল, একটা ডিমের মধ্যে আসমান-যমীন, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, সাগর-নদীকে ডিমকে বড় না করে এবং ওই সৃষ্টিগুলোকে ছোট না করে ঢুকিয়ে দেবার ক্ষমতা কি আল্লাহ্'র আছে?
আলিম বললেন, অবশ্যই আল্লাহর ও ক্ষমতা আছে।
শয়তান অস্বীকারের সুরে বলল, ডিমকে বড় না করে এবং সৃষ্টিগুলোকে ছোট না করেও?
আলিম বললেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ অবশ্যই। এরপর আলিম সাহেব এই আয়াতটি উল্লেখ করেন-
إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ -
তাঁর সৃষ্টিকলা তো এই যে, যখন তিনি কোনও কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলেন 'হও'- আর অমনি তা হয়ে যায়। (৪)
এরপর ইবলীস তার সাঙ্গপাঙ্গদের সম্বোধন করে বলল, এই উত্তরটা শোনাবার উদ্দেশ্যে আমি তোমাদের এখানে এনেছি (অর্থাৎ আবিদ যে কোন মুহূর্তে ঈমানহারা হতে পারে কিন্তু আলিম নয়। (৫)
টিকাঃ
(৪) আল্-কোরআন, ৩৬:৮২।
(৫) মাকায়িদুশ শায়তান (৩০) ইবনু আবিদ দুনইয়া। মাসায়িবুল ইন্স্সান, ইবনু মুল্লিহুল মুকাদ্দাসী।
📄 শয়তানের মোকাবিলায় ফকীহ্ ও আবেদ
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
لَفَقِيهٌ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدٍ
ইসলামের যথার্থ জ্ঞানের অধিকারী একজন ব্যক্তি শয়তানের কাছে এক হাজার (মূর্খ) ইবাদতকারীর চাইতেও শক্তিশালী। (৬)
টিকাঃ
(৬) তিরমিযী, কিতাবুল ইল্ম, বাব ১৯। ইবনু মাজাহ, মুকদ্দামাহ্, বাব ১৭। জামিই বায়ান আল্-ইলম্ অফাদলিহ্, ১: ২৬। দুররুল মান্নুর, ১: ৩৫০। মাজমাউয যাওয়াঈদ, ১: ১২১। তারীখে বাগদাদ, ২:৪০২। আল্ আস্সারুল মারফুআহ্, ৩৫১। তাক্বিরতুল মাউযূআত। কাশফুল খিফা, ২: ২০৬।
📄 অলীদের বিরুদ্ধে শয়তানের শেষ চাল
বর্ণনা করেছেন হযরত ইবনু מסউদ (রাঃ): আল্লাহ্র যিক্র (স্মরণ, উল্লেখ, আলোচনা)-র মজলিসে অংশ নেওয়া মানুষকে ফিত্নায় লিপ্ত করার উদ্দেশ্যে শয়তান ওইসব মজলিসে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু ও কাজে সফল হতে না পারলে শয়তান সেইসব আড্ডায় যায়, যেখানে লোক দুনিয়ার যিকর করে। তাদেরকে শয়তান একে অপরের বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিতে থাকে। এবং শেষপর্যন্ত তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ বাধিয়ে দেয়। সেই সময় আল্লাহ্র যিক্রকারীরা বিবাদকারীদের মধ্যে এসে তাদেরকে আটকান। এভাবে শয়তান আল্লাহর যিক্রকারী মানুষজনকে বিক্ষিপ্ত করে দেয় (অর্থাৎ, ওরা যিক্ ছেড়ে মানুষের মন্দ থামাতে লেগে যান)। (৭)
টিকাঃ
(৭) কিতকাবুয যুহদ, ইমাম আহমাদ।