📄 হযরত আম্মার লড়াই করেছেন শয়তানের সাথে
(হাদীস) হযরত আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) বলেছেন: আমি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে মানুষের বিরুদ্ধে যেমন লড়েছি, তেমনি জ্বিনের বিরুদ্ধেও লড়াই করেছি।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, জ্বিনের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়েছেন?
তিনি বলেন, এক সফরে আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। (যেতে যেতে) এক জায়গায় যাত্রাবিরতি দিলাম। এবং আমি পানি আনার জন্য আমার মশক ও ডোল তুললাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, 'তোমার সামনে পানির কাছে কেউ আসবে। সে তোমাকে পানি নিতে মানা করবে। তুমি ওর থেকে সাবধান থাকবে। 'সুতরাং আমি কুয়োর বেড়ের কাছে পৌঁছতে এক কালো কুচকুচে লোককে দেখতে পেলাম। দেখতে ঘোড়ার মতো। সে আমাকে বলল, 'আল্লাহর কসম! আজ তুমি এই কুয়ো থেকে এ ডোল পানিও নিতে পারবে না।'
এভাবে তার ও আমার মাধ্যে সংঘর্ষ বাধল। আমি তাকে চিৎ করে ফেললাম এবং একটা পাথর তুলে নিয়ে তার নাক ও মুখ ভেঙে দিলাম। তারপর আমার মশক ভরে নিয়ে রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'পানির জায়গায় তোমার কাছে কেউ কি এসেছিল?' আমি নিবেদন করলাম, 'জী হ্যাঁ।' এরপর আমি পুরো ঘটনা তাঁকে শুনালাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, 'তুমি কি জান, ও কে ছিল?' বললাম, 'জী না।' তিনি বললেন, 'ও ছিল শয়তান।'(৬)
* হযরত আলী (রাঃ)-র বর্ণনাসূত্রে ওই ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে এভাবে: আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর জমানায় জ্বিন ও মানুষের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন। কেউ প্রশ্ন করে, উনি জ্বিনের সাথে যুদ্ধ করলেন কীভাবে? হযরত আলী (রাঃ) বললেন: আমরা রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তিনি হযরত আম্মার (রাঃ)-কে বলেন, 'যাও আমার জন্য খাবার পানি নিয়ে এসো।' সুতরাং তিনি চলে গেলেন। সেই সময় শয়তান এক কালো-নিগ্রো মানুষের রূপ ধরে এসে তাঁর ও পানির মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দু'জনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। হযরত আম্মার (রাঃ) তাকে চিৎ করে ফেলেন। শয়তান বলে, 'আমাকে ছেড়ে দাও, পানি নিতে আর বাধা দেব না।' তো হযরত আম্মার তাকে ছেড়ে দেন। কিন্তু শয়তান ফের পাঁয়তারা করে। ফলে হযরত আম্মার ফের তাকে চিৎ করে ফেলে দেন। শয়তান ফের কাকুতি-মিনতি করে। হযরত আম্মার আবার তাকে ছেড়ে দেন। কিন্তু আর তাঁর সাথে মুকাবিলার হিম্মৎ শয়তানের হয়নি। ওদিকে জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, শয়তান কালো হাবশীর রূপ ধরে আম্মার ও পানির মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আল্লাহ্ আম্মারকে বিজয়ী করে দিয়েছেন।
(হযরত আলী (রাঃ) বলেছেনঃ) এরপর আমরা আম্মারের কাছে গেলাম। এবং তাঁকে বললাম, হে আবুল ইয়াকজান! আপনি তো শয়তানের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন। রসূলুল্লাহ (সাঃ) আপনার সম্পর্বে এই এই কথা বলেছেন।'
হযরত আম্মার (রাঃ) বলেন, আমি যদি জানতাম যে, ও ছিল শয়তান, তবে আমি কতল করেই ছাড়তাম। আর ওর গা থেকে যদি প্রচণ্ড দুর্গন্ধ না বের হত, তবে অবশ্যই আমি ওর নাক কেটে দিতাম।(৭)
টিকাঃ
(৬) তবাকত, ইবনু সাদ, ৩: ১৭৯। মুস্লাদে ইস্হাক বিন রাজইয়াহ্। মাকায়িদুশ্ শায়তান (৬৪), ইবনু আবিদ দুনয়া। מסায়িবুল ইন্সান।
(৭) কিতাবুল আযاماه্, ابوশ শাইখ। দালায়িলুন্ নবুঅত, ابو নুআইম।
📄 সাহাবীদের ক্ষেত্রে শয়তানের চাল চলে না
হযরত সাবিত বানানী (রহঃ) বলেছেন: জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে নবী করার পর শয়তান তার সাঙ্গপাঙ্গদেরকে সাহাবীদের কাছে পাঠায়। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেলে, শয়তান প্রশ্ন করে, 'ব্যাপারটা কী, তোমরা ওদের গুমরাহ করলে না কেন?' শয়তানবাহিনী বলে, 'আমরা এমন কুওমের পাল্লায় কক্ষণো পড়িনি।' শয়তান বলে কিছু কাল অপেক্ষা করো, এমন এক সময় কাছাকাছি আসছে যখন ওরা দুনিয়া জয় করবে, সেই সময় তোমরা শয়তানী কাজে সফলতা অর্জন করতে পারবে। (৮)
টিকাঃ
(৮) মাকায়িদুশ শায়তান (৩৯), ইবনু আবিদ দুনয়া। তাল্লীসুল ইল্লীস। ইহয়াউল্ উলুম, ৩: ৩৩। যাম্মদ দুনইয়া, ইবনু আবিদ দুনয়া (১৭০)।