📄 হযরত যাকারিয়াকে (আঃ) শয়তান হত্যা করিয়েছে কীভাবে
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ): যে রাতে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে মিরাজ (প্রচলিত বানান 'মেরোজ') করানো হয়, সেই রাতে তিনি আসমানে হযরত যাকারিয়া (আঃ)-কে দেখেন। তিনি ওঁকে সালাম করেন এবং বলেন, হে আবু ইয়াহ্ইয়া! আপনাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সে ঘটনা শোনাবেন? এবং বানী ইস্রাঈলরা আপনাকে কেনই বা হত্যা করেছিল?
তিনি (হযরত যাকারিয়া) বলেন, হে মুহাম্মদ (সাঃ)! ইয়াহইয়া ছিল তার যুগের সবচেয়ে সজ্জন মানুষ এবং সে খুব সুন্দর ও সুদর্শন ছিল। সে ছিল এমন, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন وَكَانَ سَيِّدًا وَحَصُورًا সে ছিল দ্বীনের অনুসারী ও (অত্যন্ত সংযমী)। কিন্তু বনী ইস্রাঈলের (তৎকালীন) বাদশাহ'র স্ত্রী ইয়াহইয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল। সে ছিল ব্যাভিচারিণী। সে ইয়াহইয়ার কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ ইয়াহইয়াকে বাঁচিয়ে নিয়েছেন। সে ওর প্রস্তাবে সাড়া দেয় নি এবং ওর কাছে যেতে অস্বীকার করেছে। ও তখন ইয়াহ্ইয়াকে হত্যা করার পাক্কা সিদ্ধান্ত নেয়।
ওরা সে যুগে বছরে একবার ঈদ উৎসব উদ্যাপন করত। এবং ওদের বাদশাহ'র এই গুণ ছিল যে, সে কথা দিলে কথা রাখত। অর্থাৎ অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত না। এবং মিথ্যা কথাও বলত না।
একবার সেই বাদশাহ ঈদ-উৎসবে অংশ নেবার জন্য বের হয়, এমন সময় তার সেই স্ত্রী তাকে বিদায় জানাতে এল। তা দেখে বাদশাহ অবাক হল। কারণ বেগম কখনও অমন করত না। তো বিদায় জানাবার পর বাদশাহ তার বেগমকে বলে, আমার কাছে কী চাইবে, চাও। আজ যা চাইবে, তাই-ই দেব।
বেগম তখন বলে- আমি ওই যাকারিয়ার ছেলে ইয়াহইয়ার খুন চাই।
বাদশাহ বলে- আরও কিছু চাও।
বেগম বলে- আমি শুধু ইয়াহইয়ার খুন চাই।
বাদশাহ বলে- ঠিক আছে, ইয়াহইয়ার খুন তোমাকে উপহার দিলাম।
এরপর বাদশাহ কিছু সৈন্য পাঠাল ইয়াহইয়ার কাছে। ইয়াহইয়া তখন তার মিহ্রাবে নামায পড়ছিল। আমিও তার সাথে একদিকে নামায পড়ছিলাম। ওরা সেই সময় ইয়াহ্ইয়াকে ধরে নিয়ে গিয়ে একটা বড় পাত্রে কতল করে। তারপর তার রক্ত ও মাথা কেটে নিয়ে বেগমের সামনে পেশ করে।
জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রশ্ন করেন, সেই সময় আপনার ধৈর্য সবরের অবস্থা কীরূপ ছিল?
হযরত যাকারিয়া (আঃ) বলেন- আমি আমার নামায ভাঙিনি। ইয়াহইয়ার পবিত্র মাথা বেগমের সামনে পেশ করতে সে খুব খুশি হয়। কিন্তু সন্ধ্যা হতেই আল্লাহ তাআলা সেই বাদশাহকে পরিবার পরিজন ও চাকর বাকর সমেত মাটির মধ্যে ধ্বসিয়ে দেন।
সকাল হতে বণী ইসলাঈলরা বলাবলি করে, ওই যাকারিয়ার কারণে যাকারিয়ার খোদা রেগে গিয়ে শাস্তি দিয়েছেন। অতএব, এসো, আমরা বাদশাহর খাতিরে যাকারিয়াকে খুন করি।
সুতরাং ওরা আমাকে খুন করার জন্য বের হল। (ওদের আগে) আমার কাছে এসে একজন সতর্ক করে দিল। আমি ওদের থেকে পলায়ন করলাম। শয়তান ইবলীস ছিল ওদের সামনে। সে ওদের কাছে আমার খবর দিচ্ছিল। আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, ওদের থেকে নিজেকে লুকোতে পারব না, তখন এক (বড়) গাছকে আওয়াজ দিলাম। গাছ বলল- 'আমার মধ্যে চলে আসুন।' সুতরাং গাছটি ফেটে গেল। আমি তার ভিতরে ঢুকে গেলাম। ইবলীসও তখন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল এবং আমার চাদরের একটা কিনারা ধরে ফেলেছিল। সেই সময়ে গাছটা (আমাকে তার মধ্যে লুকিয়ে নিয়ে) সমান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমার চাদরের একটা কোনা গাছের বাইরে রয়ে গেল। বানী ইস্রাঈলরা সেখানে পৌঁছতে শয়তান তাদের বলল-তোমরা দেখতে পাওনি, যাকারিয়্যা এই গাছের মধ্যেই ঢুকে গেছে। এই দ্যাখো তার চাদরের কোণ। জাদুর জোরেই ও গাছের ভিতরে ঢুকে লুকিয়েছে।
ওরা বলল, গাছটাকে আমরা আগুনে পুড়িয়ে দেব।
ইবলীস বলল, না, বরং তোমরা ওকে করাত দিয়ে দু'টুকরো করে দাও। সুতরাং আমাকে গাছ সমেت করাত দিয়ে দু'টুকরো করে দেওয়া হয়। (৩১)
টিকাঃ
(৩১) আল মুবতাদা, ইসহাক ইবনু বাশার। ইবনু আসাকির।
📄 হযরত ঈসা (আঃ)-কে হত্যা করার শয়তানী চক্রান্ত
হযরত তাউস (রহঃ) বলেছেন: শয়তান একবার হযরত ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলে, হে মারইয়াম তনয়। আপনি যদি সাচ্চা (নবী) হন, তবে ওই উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ুন (এবং বেঁচে থেকে দেখান)। হযরত ঈসা (আঃ) বলেন, তুই ধ্বংস হয়ে যা! আল্লাহ কি মানুষকে বলেন নি, তুমি নিজেকে ধ্বংসের মধ্যে ছুঁড়ে দিয়ে আমার পরীক্ষা করো না; কারণ আমি যা চাই, তাই-ই করি। (৩২)
টিকাঃ
(৩২) মাকায়িদুশ শায়ত্বান (৫৬) ইবনু আবিদ দুনইয়া। মাসায়িবুল ইন্সান।
📄 হযরত ঈসার (আঃ) কাছে শয়তানের প্রশ্ন
হযরত আবূ উসমান (রহঃ) বলেছেন: হযরত ঈসা (আঃ) একবার এক পাহাড়ের উপরে নামায পড়ছিলেন। সেই সময় ইবলীস তাঁর কাছে এসে বলে, আপনি তো বলে থাকেন, সবকিছুই আল্লাহর কুদরতে ও আল্লাহর ইচ্ছায় সম্পন্ন হয়, তা আপনি এই পাহাড় থেকে নিচে পড়ুন এবং বলুন তো দেখি, হে আল্লাহ! আপনার কুদরতের নমুনা দেখান!
হযরত ঈসা (আঃ) বলেন-ওরে অভিশপ্ত! আল্লাহ তাআলা বান্দাদের পরীক্ষা করতে পারেন, কিন্তু, বান্দার এই অধিকার নেই যে, সে আল্লাহর পরীক্ষা নেবে। (৩৩)
টিকাঃ
(৩৩) মাকায়িদুশ শায়তান (৫৬), ইবনু আবিদ দুনইয়া। হুলইয়াহ্, আবু নুআইম, ৪ : ১২। מסায়িবুল ইনসান।
📄 শয়তানকে দেখে হযরত ঈসার (আঃ) উক্তি
হযরত সাঈদ বিন আবদুল আযীয (রহঃ) বলেছেন: হযরত ঈসা (আঃ) একবার শয়তানকে দেখে এ মর্মে বলেন- এই পৃথিবী হল শয়তানের সাম্রাজ্য। মানুষ জান্নাত থেকে নেমে এখানেই এসেছে এবং এর বিষয়েই (আখেরাতে) জিজ্ঞাসিত হবে। আমি তাই এই পৃথিবীর কোনও বস্তুর অংশীদার হব না। এখানকার কোনও পাথরও মাথার নিচে (বালিশ হিসেবে) ব্যবহার করব না এবং এখানে থেকে কখনও হাসবও না, যতক্ষণ না আমাকে এখান থেকে ডেকে নেওয়া হবে। (৩৪)
টিকাঃ
(৩৪) মাকায়িদুশ শায়তান (৫৭), ইবনু আবিদ দুনইয়া। যামুদ্দ দুনয়া, ইবনু আবিদ দুনইয়া।