📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত ইয়াহ্ইয়ার (আঃ) সামনে শয়তান

📄 হযরত ইয়াহ্ইয়ার (আঃ) সামনে শয়তান


হযরত ওয়াহাইব ইবনুল আরদ (রহঃ) বলেছেনঃ আমাদের কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে, অভিশপ্ত ইবলীস একবার হযরত ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া (আলাইহিমাস সালাম)-এর সামনে এসে বলে, আপনাকে আমি কিছু উপদেশ দিতে চাই। হযরত ইয়াহইয়া বলেন, মিথ্যুক কোথাকার! তুই কি আমাকে উপদেশ দিবি। তুই বরং মানুষদের সম্পর্কে আমাকে কিছু বল।

তখন শয়তান বলে, আমাদের কাছে মানুষ তিন প্রকারঃ (১) এক প্রকার মানুষ এমন আছে যারা আমাদের কাছে খুব কঠিন। আমরা তাদেরকে পাপের কাজে জড়িয়ে দিয়ে খুশি হই। কিন্তু তারা একসময় আমাদের জাল থেকে বেরিয়ে গিয়ে তাওবা ইসতিগফার করে নেয়। এভাবে তারা আমাদের সমস্ত মেহনত বেকার করে দেয়। ফের আমরা ওদের পেছনে লাগি এবং ফের ওদেরকে পাপের কাজে জড়িয়ে ফেলি। আবার ফের ওরা পাপকাজ ছেড়ে তাওবা করে। আসলে, আমরা ওদের ব্যাপারে যেমন কখনও নিরাশ হই না, তেমনি ওদের দিয়ে আমরা নিজেদের উদ্দেশ্যও পূরণ করতে পারি না। ওদের গুমরাহ্ করার কাজে আমাদের বেশ চিন্তা ভাবনা করতে হয়।

(২) আর একশ্রেণীর মানুষ এমন আছে, যাদের নিয়ে আমরা তেমনভাবে খেলা' করি, যেমনভাবে আপনাদের বাচ্চারা হাতে বল নিয়ে খেলা করে। আমরা যেভাবেই খুশি, ওদের শিকার করি। ওদের জন্য আমরা যথেষ্ট।

(৩) আর এক শ্রেণীর মানুষ এমন আছেন, যাঁরা যাবতীয় পাপ থেকে পুরোপুরি পবিত্র। তাঁদেরকে আমরা কাবু করতে পারি না একটুও।

একথা শুনে হযরত ইয়াহইয়া বলেন, আচ্ছা, আমার উপরেও তুই কি কখনও শয়তানী চাল চালতে পেরেছিস?

শয়তান বলে, হ্যাঁ, মাত্র একবার। আপনি তখন খানা খাচ্ছিলেন। আর আমি আপনার ক্ষিধে বাড়াতে থাকছিলাম। তাই খেতে খেতে আপনি অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। ফলে আপনার ঘুমের আবেগও বেশি হয়। সেজন্য অন্যান্য রাতে যেমন উঠে নামায পড়েন, সে-রাতে অমনভাবে উঠতে পারেননি।

হযরত ইয়াহইয়া বলেন, আমি এবার নিজের জন্য জরুরী করে নিলাম যে, আগামীতে আর কখনও পেটভরে আহার করব না।

শয়তান বলে, এরপর আমিও কখনও মানুষকে উপদেশ দেব না। (২৯)

টিকাঃ
(২৯) মাকায়িদুশ শায়তান (৫২), ইবনু আবিদ দুনইয়া।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত সুলাইমানের সাথে শয়তানের मुलाকাত

📄 হযরত সুলাইমানের সাথে শয়তানের मुलाকাত


সিরিয়ার জনৈক ব্যক্তির সূত্রে হযরত শুজাস্ বিন নাসর (রহঃ)-এর বর্ণনা: একবার হযরত সুলাইমান (আঃ) এক দুর্ধর্ষ জ্বিন (ইফরীত্ব)-কে বলেন, তুই ধ্বংস হ! বল, ইবলীস কোথায় থাকে?
সে বলে, হে আল্লাহর নবী! ওর বিষয়ে আপনি কোনও নির্দেশ পেয়েছেন কি?
হযরত সুলাইমান বলেন, নির্দেশ পাইনি। তুই বল না সে কোথায় থাকে!
তখন ইফরীত বলে, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমার সঙ্গে চলুন। (আমি আপনাকে ওর কাছে নিয়ে যাচ্ছি।)
সুতরাং ইফরীত্ব সামনে দৌড়ে দৌড়ে যেতে লাগল। আর হযরত সুলাইমান (আঃ) তার সাথে সাথে যেতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি একটা সমুদ্রে গিয়ে পৌছলেন। সেখানে দেখলেন, শয়তান বসে আছে, পানির উপরে। হযরত সুলাইমানকে দেখে শয়তান ভয়ের চোটে কাঁপতে লাগল। তারপর উঠে দাড়িয়ে হযরতের সাথে মুলাকাত করল এবং বলল, হে আল্লাহর নবী! আপনি কি আমার সম্বন্ধে কোনও নতুন নির্দেশ পেয়েছেন।
হযরত সুলাইমান বললেন, না! আমি তোর কাছে কেবল একথা জিজ্ঞাসা করতে এসেছি যে, তোর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ কী, যে কাজ আল্লাহর কাছেও সবচেয়ে অপ্রিয়?
ইবলীস বলে- আল্লাহর কসম! আপনি স্বয়ং যদি আমার কাছে না আসতেন, তবে আমি কক্ষণো একথা ফাঁস করতাম না। শুনুন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে খারাপ কাজ হল পুরুষের সাথে পুরুষের এবং নারীর সাথে নারীর কুকর্ম (সমকামিতা) করা। (৩০)

টিকাঃ
(৩০) তাহরীমুল ফাওয়াহিশ, তরতুসী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত যাকারিয়াকে (আঃ) শয়তান হত্যা করিয়েছে কীভাবে

📄 হযরত যাকারিয়াকে (আঃ) শয়তান হত্যা করিয়েছে কীভাবে


(হাদীস) বর্ণনায় হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ): যে রাতে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে মিরাজ (প্রচলিত বানান 'মেরোজ') করানো হয়, সেই রাতে তিনি আসমানে হযরত যাকারিয়া (আঃ)-কে দেখেন। তিনি ওঁকে সালাম করেন এবং বলেন, হে আবু ইয়াহ্ইয়া! আপনাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সে ঘটনা শোনাবেন? এবং বানী ইস্রাঈলরা আপনাকে কেনই বা হত্যা করেছিল?
তিনি (হযরত যাকারিয়া) বলেন, হে মুহাম্মদ (সাঃ)! ইয়াহইয়া ছিল তার যুগের সবচেয়ে সজ্জন মানুষ এবং সে খুব সুন্দর ও সুদর্শন ছিল। সে ছিল এমন, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন وَكَانَ سَيِّدًا وَحَصُورًا সে ছিল দ্বীনের অনুসারী ও (অত্যন্ত সংযমী)। কিন্তু বনী ইস্রাঈলের (তৎকালীন) বাদশাহ'র স্ত্রী ইয়াহইয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল। সে ছিল ব্যাভিচারিণী। সে ইয়াহইয়ার কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ ইয়াহইয়াকে বাঁচিয়ে নিয়েছেন। সে ওর প্রস্তাবে সাড়া দেয় নি এবং ওর কাছে যেতে অস্বীকার করেছে। ও তখন ইয়াহ্ইয়াকে হত্যা করার পাক্কা সিদ্ধান্ত নেয়।
ওরা সে যুগে বছরে একবার ঈদ উৎসব উদ্যাপন করত। এবং ওদের বাদশাহ'র এই গুণ ছিল যে, সে কথা দিলে কথা রাখত। অর্থাৎ অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত না। এবং মিথ্যা কথাও বলত না।
একবার সেই বাদশাহ ঈদ-উৎসবে অংশ নেবার জন্য বের হয়, এমন সময় তার সেই স্ত্রী তাকে বিদায় জানাতে এল। তা দেখে বাদশাহ অবাক হল। কারণ বেগম কখনও অমন করত না। তো বিদায় জানাবার পর বাদশাহ তার বেগমকে বলে, আমার কাছে কী চাইবে, চাও। আজ যা চাইবে, তাই-ই দেব।
বেগম তখন বলে- আমি ওই যাকারিয়ার ছেলে ইয়াহইয়ার খুন চাই।
বাদশাহ বলে- আরও কিছু চাও।
বেগম বলে- আমি শুধু ইয়াহইয়ার খুন চাই।
বাদশাহ বলে- ঠিক আছে, ইয়াহইয়ার খুন তোমাকে উপহার দিলাম।
এরপর বাদশাহ কিছু সৈন্য পাঠাল ইয়াহইয়ার কাছে। ইয়াহইয়া তখন তার মিহ্রাবে নামায পড়ছিল। আমিও তার সাথে একদিকে নামায পড়ছিলাম। ওরা সেই সময় ইয়াহ্ইয়াকে ধরে নিয়ে গিয়ে একটা বড় পাত্রে কতল করে। তারপর তার রক্ত ও মাথা কেটে নিয়ে বেগমের সামনে পেশ করে।
জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রশ্ন করেন, সেই সময় আপনার ধৈর্য সবরের অবস্থা কীরূপ ছিল?
হযরত যাকারিয়া (আঃ) বলেন- আমি আমার নামায ভাঙিনি। ইয়াহইয়ার পবিত্র মাথা বেগমের সামনে পেশ করতে সে খুব খুশি হয়। কিন্তু সন্ধ্যা হতেই আল্লাহ তাআলা সেই বাদশাহকে পরিবার পরিজন ও চাকর বাকর সমেত মাটির মধ্যে ধ্বসিয়ে দেন।
সকাল হতে বণী ইসলাঈলরা বলাবলি করে, ওই যাকারিয়ার কারণে যাকারিয়ার খোদা রেগে গিয়ে শাস্তি দিয়েছেন। অতএব, এসো, আমরা বাদশাহর খাতিরে যাকারিয়াকে খুন করি।
সুতরাং ওরা আমাকে খুন করার জন্য বের হল। (ওদের আগে) আমার কাছে এসে একজন সতর্ক করে দিল। আমি ওদের থেকে পলায়ন করলাম। শয়তান ইবলীস ছিল ওদের সামনে। সে ওদের কাছে আমার খবর দিচ্ছিল। আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, ওদের থেকে নিজেকে লুকোতে পারব না, তখন এক (বড়) গাছকে আওয়াজ দিলাম। গাছ বলল- 'আমার মধ্যে চলে আসুন।' সুতরাং গাছটি ফেটে গেল। আমি তার ভিতরে ঢুকে গেলাম। ইবলীসও তখন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল এবং আমার চাদরের একটা কিনারা ধরে ফেলেছিল। সেই সময়ে গাছটা (আমাকে তার মধ্যে লুকিয়ে নিয়ে) সমান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমার চাদরের একটা কোনা গাছের বাইরে রয়ে গেল। বানী ইস্রাঈলরা সেখানে পৌঁছতে শয়তান তাদের বলল-তোমরা দেখতে পাওনি, যাকারিয়‍্যা এই গাছের মধ্যেই ঢুকে গেছে। এই দ্যাখো তার চাদরের কোণ। জাদুর জোরেই ও গাছের ভিতরে ঢুকে লুকিয়েছে।
ওরা বলল, গাছটাকে আমরা আগুনে পুড়িয়ে দেব।
ইবলীস বলল, না, বরং তোমরা ওকে করাত দিয়ে দু'টুকরো করে দাও। সুতরাং আমাকে গাছ সমেت করাত দিয়ে দু'টুকরো করে দেওয়া হয়। (৩১)

টিকাঃ
(৩১) আল মুবতাদা, ইসহাক ইবনু বাশার। ইবনু আসাকির।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত ঈসা (আঃ)-কে হত্যা করার শয়তানী চক্রান্ত

📄 হযরত ঈসা (আঃ)-কে হত্যা করার শয়তানী চক্রান্ত


হযরত তাউস (রহঃ) বলেছেন: শয়তান একবার হযরত ঈসা (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলে, হে মারইয়াম তনয়। আপনি যদি সাচ্চা (নবী) হন, তবে ওই উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ুন (এবং বেঁচে থেকে দেখান)। হযরত ঈসা (আঃ) বলেন, তুই ধ্বংস হয়ে যা! আল্লাহ কি মানুষকে বলেন নি, তুমি নিজেকে ধ্বংসের মধ্যে ছুঁড়ে দিয়ে আমার পরীক্ষা করো না; কারণ আমি যা চাই, তাই-ই করি। (৩২)

টিকাঃ
(৩২) মাকায়িদুশ শায়ত্বান (৫৬) ইবনু আবিদ দুনইয়া। মাসায়িবুল ইন্সান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00