📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ওই বিষয়ে আরেকটি ঘটনা

📄 ওই বিষয়ে আরেকটি ঘটনা


হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন : অভিশপ্ত ইবলীস একবার (ডাক্তার সেজে) পথের ধারে বসে, সিন্দুক খুলে, মানুষের চিকিৎসা করছিল। হযরত আইয়ুবের স্ত্রী সেই সময় তার কাছে গিয়ে বলেন, হে আল্লাহর বান্দা! এখানে একজন মানুষ এই এই অসুখে ভুগছেন। আপনি কি তাঁর চিকিৎসা করবেন?
শয়তান বলে, অবশ্যই করব, তবে শর্ত হল, আমার চিকিৎসায় রুগি সেরে উঠলে, আপনাকে শুধু বলতে হবে, আপনিই ওকে সারিয়ে দিয়েছেন, ব্যস, আর কোনও ফীস আমি নেব না।
তো হযরত আইয়ুবের কাছে তাঁর স্ত্রী এসে ওকথা উল্লেখ করলেন। শুনে হযরত আইয়ুব বললেন, আফসোস তোমার জন্য! ও তো শয়তান। আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আরোগ্যদান করলে (শয়তানের চালে পা দেওয়ার জন্য) তোমাকে ১০০ বেত মারব। (২৭)

টিকাঃ
(২৭) কিতাবুয যুহ্‌দ, ইমাম আহমাদ। আবদ ইবনু হামিদ। ইবনু আবী হাতিম।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত আইয়ুবকে (আঃ) বিপদে ফেলা শয়তানের নাম

📄 হযরত আইয়ুবকে (আঃ) বিপদে ফেলা শয়তানের নাম


হযরত নাউফ বুকালী (রহঃ) বলেছেন : যে শয়তান হযরত আইয়ুব (আঃ)-কে কষ্ট দিয়েছিল, তার নাম ছিল 'সিয়ত্ব'। (২৮)

টিকাঃ
(২৮) ইবনু আবী হাতিম।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত ইয়াহ্ইয়ার (আঃ) সামনে শয়তান

📄 হযরত ইয়াহ্ইয়ার (আঃ) সামনে শয়তান


হযরত ওয়াহাইব ইবনুল আরদ (রহঃ) বলেছেনঃ আমাদের কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে, অভিশপ্ত ইবলীস একবার হযরত ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া (আলাইহিমাস সালাম)-এর সামনে এসে বলে, আপনাকে আমি কিছু উপদেশ দিতে চাই। হযরত ইয়াহইয়া বলেন, মিথ্যুক কোথাকার! তুই কি আমাকে উপদেশ দিবি। তুই বরং মানুষদের সম্পর্কে আমাকে কিছু বল।

তখন শয়তান বলে, আমাদের কাছে মানুষ তিন প্রকারঃ (১) এক প্রকার মানুষ এমন আছে যারা আমাদের কাছে খুব কঠিন। আমরা তাদেরকে পাপের কাজে জড়িয়ে দিয়ে খুশি হই। কিন্তু তারা একসময় আমাদের জাল থেকে বেরিয়ে গিয়ে তাওবা ইসতিগফার করে নেয়। এভাবে তারা আমাদের সমস্ত মেহনত বেকার করে দেয়। ফের আমরা ওদের পেছনে লাগি এবং ফের ওদেরকে পাপের কাজে জড়িয়ে ফেলি। আবার ফের ওরা পাপকাজ ছেড়ে তাওবা করে। আসলে, আমরা ওদের ব্যাপারে যেমন কখনও নিরাশ হই না, তেমনি ওদের দিয়ে আমরা নিজেদের উদ্দেশ্যও পূরণ করতে পারি না। ওদের গুমরাহ্ করার কাজে আমাদের বেশ চিন্তা ভাবনা করতে হয়।

(২) আর একশ্রেণীর মানুষ এমন আছে, যাদের নিয়ে আমরা তেমনভাবে খেলা' করি, যেমনভাবে আপনাদের বাচ্চারা হাতে বল নিয়ে খেলা করে। আমরা যেভাবেই খুশি, ওদের শিকার করি। ওদের জন্য আমরা যথেষ্ট।

(৩) আর এক শ্রেণীর মানুষ এমন আছেন, যাঁরা যাবতীয় পাপ থেকে পুরোপুরি পবিত্র। তাঁদেরকে আমরা কাবু করতে পারি না একটুও।

একথা শুনে হযরত ইয়াহইয়া বলেন, আচ্ছা, আমার উপরেও তুই কি কখনও শয়তানী চাল চালতে পেরেছিস?

শয়তান বলে, হ্যাঁ, মাত্র একবার। আপনি তখন খানা খাচ্ছিলেন। আর আমি আপনার ক্ষিধে বাড়াতে থাকছিলাম। তাই খেতে খেতে আপনি অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। ফলে আপনার ঘুমের আবেগও বেশি হয়। সেজন্য অন্যান্য রাতে যেমন উঠে নামায পড়েন, সে-রাতে অমনভাবে উঠতে পারেননি।

হযরত ইয়াহইয়া বলেন, আমি এবার নিজের জন্য জরুরী করে নিলাম যে, আগামীতে আর কখনও পেটভরে আহার করব না।

শয়তান বলে, এরপর আমিও কখনও মানুষকে উপদেশ দেব না। (২৯)

টিকাঃ
(২৯) মাকায়িদুশ শায়তান (৫২), ইবনু আবিদ দুনইয়া।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত সুলাইমানের সাথে শয়তানের मुलाকাত

📄 হযরত সুলাইমানের সাথে শয়তানের मुलाকাত


সিরিয়ার জনৈক ব্যক্তির সূত্রে হযরত শুজাস্ বিন নাসর (রহঃ)-এর বর্ণনা: একবার হযরত সুলাইমান (আঃ) এক দুর্ধর্ষ জ্বিন (ইফরীত্ব)-কে বলেন, তুই ধ্বংস হ! বল, ইবলীস কোথায় থাকে?
সে বলে, হে আল্লাহর নবী! ওর বিষয়ে আপনি কোনও নির্দেশ পেয়েছেন কি?
হযরত সুলাইমান বলেন, নির্দেশ পাইনি। তুই বল না সে কোথায় থাকে!
তখন ইফরীত বলে, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমার সঙ্গে চলুন। (আমি আপনাকে ওর কাছে নিয়ে যাচ্ছি।)
সুতরাং ইফরীত্ব সামনে দৌড়ে দৌড়ে যেতে লাগল। আর হযরত সুলাইমান (আঃ) তার সাথে সাথে যেতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি একটা সমুদ্রে গিয়ে পৌছলেন। সেখানে দেখলেন, শয়তান বসে আছে, পানির উপরে। হযরত সুলাইমানকে দেখে শয়তান ভয়ের চোটে কাঁপতে লাগল। তারপর উঠে দাড়িয়ে হযরতের সাথে মুলাকাত করল এবং বলল, হে আল্লাহর নবী! আপনি কি আমার সম্বন্ধে কোনও নতুন নির্দেশ পেয়েছেন।
হযরত সুলাইমান বললেন, না! আমি তোর কাছে কেবল একথা জিজ্ঞাসা করতে এসেছি যে, তোর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় কাজ কী, যে কাজ আল্লাহর কাছেও সবচেয়ে অপ্রিয়?
ইবলীস বলে- আল্লাহর কসম! আপনি স্বয়ং যদি আমার কাছে না আসতেন, তবে আমি কক্ষণো একথা ফাঁস করতাম না। শুনুন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে খারাপ কাজ হল পুরুষের সাথে পুরুষের এবং নারীর সাথে নারীর কুকর্ম (সমকামিতা) করা। (৩০)

টিকাঃ
(৩০) তাহরীমুল ফাওয়াহিশ, তরতুসী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00